page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
আন্তর্জাতিক

“অনেক অভিজ্ঞতাই আমি সরাসরি ফেইস করতে পারি না, কবিতার আশ্রয় নিতে হয়।”—সিদ্ধার্থ হক

কামরুল হাসনাত: কী করছেন বর্তমানে?

সিদ্ধার্থ হক: কিছু করছি না।

কামরুল: এই মেলায় আপনার কোনো বই হয়েছে?

সিদ্ধার্থ: হ্যাঁ, এই মেলায় একটা কবিতার বই এসছে।

কামরুল: কী নাম?

সিদ্ধার্থ: বইটার নাম হচ্ছে, ‘শূন্যের ভিতরে’।

কামরুল: ‘শূন্যের ভিতরে’। কোন প্রকাশনী থেকে?

সিদ্ধার্থ: অন্যপ্রকাশ।

কামরুল: অন্যপ্রকাশ। আচ্ছা আপনার এই কবিতার বইটা বের হলো, এটা মূলত কোন বিষয়বস্তুর উপর ফোকাস করেছে?

boimela-logo-2016

সিদ্ধার্থ: ‘শূন্যের ভিতরে’ নামটার মধ্যেই এক ধরনের ইঙ্গিত আছে। শূন্য—শূন্যতা, মূলত জীবনের নানারকম ঘাত-প্রতিঘাত অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা পেইন, জয় দুটাই বোধহয় আছে। তবে মনে হয় পেইন কিংবা শূন্যতার অংশই বেশি।

কামরুল: মানে কি এটা বাস্তব জীবনের উপর ভিত্তি করে লেখা, না কাল্পনিক?

সিদ্ধার্থ: আসলে কবিতা কি ওইভাবে ডিফাইন করা যায় যে এটা কি বাস্তব জিনিস কিনা, নাকি কল্পনা।

কামরুল: কীভাবে কবিতাগুলি লিখছেন আপনি?

সিদ্ধার্থ: কবিতা লেখার প্রসেসটা বেশ জটিল। অনেক কিছুর সংমিশ্রণ। সেখানে ভয়… আমার কবিতার লেখা স্টাইলটা হচ্ছে, ইচ্ছা হলো একটা কবিতা লিখলাম সেইভাবে আমি কবিতা লিখতে আমি পারি না। আমাকে আসলে কবিতার জন্যে অপেক্ষা করতে হয়। তো সেই অপেক্ষাটা আসলে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কবিতা লেখার ইগজাক্ট প্রসেসটা কী… আর যে সমস্ত লাইন আমরা লিখি সেগুলো লেখার আগে তো কোনদিন ভাবি না ওইভাবে লিখবো। যখন একটা লাইন আসে, যখন আমরা লিখতে শুরু করি তখন হয়তো সব কিছু আসতে থাকে। কোনো কোনো কবিতা হয়তো একবারে লেখা হয়ে যায়। কোনো কোনো কবিতার কাছে বার বার ফেরত যেতে হয়। অনেক কাটাছেঁড়া করেতে হয়। আমার জন্য খুবই ইম্পর্টেন্ট আসলে কবিতা লেখাটা। অনেক অভিজ্ঞতাই আমি সরাসরি ফেইস করতে পারি না।  সেগুলো ফেইস করার জন্যে আমার কবিতার আশ্রয় নিতে হয়।

কামরুল: এই বইটা লিখাতে আপনার কেমন সময় লেগেছে?

shiddhartha-haq-book2

প্রকাশক: অন্যপ্রকাশ। প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ। দাম: ২৫০ টাকা।

সিদ্ধার্থ: এর আগের বইটা আমি বের করেছিলাম সম্ভবত তিন-চার বছর আগে। তো তিন-চার বছর লেগেছে আর কি।

কামরুল: সেটাও কি কবিতার বই?

সিদ্ধার্থ: সেটাও কবিতার বই ছিল।

কামরুল: আর এবারও কবিতার বই।  মানে কবিতার বাইরে কি যাওয়ার ইচ্ছা আছে?

সিদ্ধার্থ: আমার একটা উপন্যাস আছে, সেটার নাম হচ্ছে ‘ভাসমান’।

কামরুল: সেটা কত সালে?

সিদ্ধার্থ: সেটা প্রায় ১০-১৫ বছর আগের হবে। সেটাও অন্যপ্রকাশ থেকেই বেরিয়েছিল। আর এটা হচ্ছে আমার ৬ নাম্বার কবিতার বই।

কামরুল: এর আগে উপন্যাস লিখেছেন।

সিদ্ধার্থ: হ্যাঁ, বললাম।

কামরুর: কয়টা?

সিদ্ধার্থ: একটাই।

কামরুর: আর কবিতার বই ছয়টা?

সিদ্ধার্থ: কবিতার বই ছয়টা। এই মুহূর্তে একটি উপন্যাস আমি লিখতে শুরু করেছি।

কামরুল: এটা কি এই বইমেলায় আসবে?

সিদ্ধার্থ: না, মনে হয় না। এটা লিখতে একটু সময় লাগবে।

কামরুল: নেক্সট-এ কি আপনি কবিতায় থাকবেন না উপন্যাসে? কবিতাও লিখবেন না পাশাপাশি উপন্যাস লিখবেন। নাকি শুধু কবিতাতেই থাকতে চান?

সিদ্ধার্থ: দুটাই লিখবো।

কামরুল: দুটাই লিখবেন। এছাড়া, উপন্যাস কবিতা ছাড়া?

সিদ্ধার্থ: উপন্যাস কবিতাই মূলত। মূলত কবিতাই লিখবো। হয়ত উপন্যাসও লিখবো। প্রয়োজন হলে প্রবন্ধ লিখবো, অল্প,  তেমন বেশি না। এই।

কামরুল: আচ্ছা, আপনার লেখালিখিতে কীভাবে আসা অাসলে? মানে কীভাবে মনে করলেন আপনি বই ছাপবেন, আপনার একটা বই হবে?

সিদ্ধার্থ: এটার সেরকম কোনো ধরাবান্ধা নিয়ম নেই।

কামরুল: হঠাৎ করেই চলে আসছেন?

সিদ্ধার্থ: হঠাৎ করেও আসছি বলে আমার মনে হয় না। আমি ছোটবেলা থেকেই লিখতাম। কিন্তু পড়াশুনা শুরু করার পর একসময় আর লিখি নাই। তারপর একসময় আমার মনে হলো যে আবার লেখালিখি আরম্ভ করি।

কামরুল: মানে কেন মনে হলো জিনিসটা?

সিদ্ধার্থ: মনে হলো কারণ, আপনাকে বললাম একটু আগে, যে, লিটারেচার অ্যাজ এ হোল আমার বেঁচে থাকার অংশ—বন্ধু—এক ধরনের অক্সিজেন বলা যায়। তো লেখালিখিটাও সেরকম। ওইভাবেই আর কি। মানুষ কেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে, সেটা মানুষকে জিজ্ঞেস করলে তো সেরকম কোনো সদুত্তর পাওয়া যাবে না। বেঁচে থাকার জন্যে নিচ্ছে, বলতে হবে। এটা অবশ্য লেখালিখির ক্ষেত্রে বললে হয়তো একটু বাড়াবাড়ি হতে পারে। কিন্তু জিনিসটা আসলে ওই বেঁচে থাকারই একটা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বিষয়। এরকমই। তো এখন লেখা যখন হয়, তখন একটা প্রকাশ করার ইচ্ছাও আসে। সেই ভাবেই বই প্রকাশ করার ইচ্ছা।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ১০/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

কামরুল হাসনাত
কামরুল হাসনাত

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন। ‌'রেডিও আমার' এ নিউজ প্রেজেন্টার ও রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।