পুরুষ শাসিত অফিসে মেয়েদের এমনিতেই সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনের একটা গবেষণা থেকে আরো নতুন খবর পাওয়া গেছে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, পুরুষশাসিত পেশায় কাজ করা বেশির ভাগ মেয়েই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থাকেন। এতে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে। ঘন ঘন সামাজিক চাপের মুখোমুখি হলে শরীরের চাপ সহ্য করার ক্ষমতায় সমস্যা দেখা দেয়। ফলে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে এবং আয়ু কমে যায়।

সমাজবিজ্ঞানের ডক্টরাল স্টুডেন্ট বিয়ানকা মানাগো বলেছেন, আমরা দেখেছি নারীরা সাধারণত কাজের ক্ষেত্রে আন্তঃব্যক্তিগত এবং কাজের জায়গায় চাপের মুখোমুখি হয়ে থাকেন।

আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নারীদেরকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পারফরম্যান্সের চাপ, যৌন হয়রানি, চলাফেরার ক্ষেত্রে সমস্যা, অতিরিক্ত দেখা যাওয়া অথবা একেবারেই দেখা না যাওয়া, কাজের দক্ষতা সম্পর্কে সহকর্মীর সন্দেহ এবং কাজের জায়গায় খুব কম সামাজিক সমর্থন ইত্যাদির মোকাবেলা করতে হয়।

মানাগো এবং সোশিওলজি এবং জেন্ডার স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক কেট টেইলর শতকরা ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি পুরুষ সহকর্মী আছে এমন জায়গায় কাজ করা নারীদের দেহের চাপ সংক্রান্ত কর্টিসল নামের হরমোন বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। সারা দিনে স্বাভাবিকভাবেই কর্টিসলের মাত্রার তারতম্য ঘটে, কিন্তু যারা অন্যান্য স্বাভাবিক চাপে বেশি থাকে তাদের তুলনায় যারা আন্তঃব্যক্তিগত চাপে বেশি থাকে তাদের তারতম্য ঘটার প্যাটার্ন বা ধরন আলাদা। মানাগো বলেন, আমরা দেখেছি পুরুষ শাসিত পেশায় যারা কাজ করেন সেসব নারীর কর্টিসলের ধরন কম হেলদি বা তাতে সমস্যা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর্টিসলের অবস্থার সাথে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার সম্পর্ক আছে। ২০১৫-এর আগস্টের শেষদিকে শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোশিওলজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের ১১০তম বার্ষিক মিটিং-এ তারা এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করেন।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here