page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

অবিশ্বাস্য!—নিউ ইয়র্কের ‘লিটল সাইবেরিয়া’ থেকে পালিয়েছে দুই দাগী আসামী

সিনেমায় সব কিছু অনেক লোমহর্ষক দেখায়। বাস্তব তার চেয়ে মোটেও কম কিছু নয়।

আমি খুব মুভি ফ্রিক। জেল ভেঙে দাগী আসামীর পালানোর ঘটনা নিয়ে তৈরি অনেক ছবি আছে। আমার কাছে সেরা মনে হয়েছে শশাঙ্ক রেডেম্পশন (The Shawshank Redemption, 1994) ও প্রিজন ব্রেক (Prison Break: 2005-2008)। প্রথমটা রেগুলার মুভি, পরেরটা অনেক পার্টের সিরিয়াল।

murad hai 3 logo

দুটোই খুব ভাল ছবি। এছাড়া ইউ. এস. মার্শালস (U.S. Marshals, 1998) নামের ছবিতে জেল পালানো কয়েদি ধরার ঘটনাও শ্বাসরুদ্ধকর।

বাস্তবে জেল ভেঙে পলানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের নিউইয়র্কের এক ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি জেল ভেঙে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া দুইজন আসামী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সর্বকালের সব মুভিকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

কানাডার বর্ডার থেকে মাত্র ২৫ মাইল দূরে আপ স্টেইট নিউইয়র্কের ‘ক্লিন্টন’ নামের কারাগারকে বলা হয় ‘লিটল সাইবেরিয়া’। শহর থেকে বহু দূরে একদম নির্জন স্থানে বানানো এই সুরক্ষিত কারাগার ১৭০ বছরের বেশি পুরনো। এই প্রথম এই কারাগারের দুর্ভেদ্য আবরণ ভেদ করে দু’জন দাগি আসামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

jail 1

সেলের স্টিলের দেয়াল কেটে পালিয়েছেন কয়েদি দুজন

পালিয়ে যাওয়া আসামীদের একজন পুলিশ খুন করে ২৫ বছর, আরেকজন কর্মস্থলে তার বসকে হত্যা করে আজীবন কারাবাসে দণ্ডিত ছিল। এরা দুই জনেই শ্বেতাঙ্গ। জেলখানার সব নিয়ম মেনে চলার কারণে এরা সেখানে অনেক প্রিভিলেইজড ছিল। সেই প্রিভিলেজ তাদের পালানোর কাজে অনেক কাজে লেগেছে।

জানা গেছে, একজন নারী কর্মচারীর সহায়তায় এদের একজন একটা ব্যাটারি চালিত করাতের ব্যবস্থা করে। তারপর রাতের অন্ধকারে ঘুমের জন্য পাওয়া সাত ঘণ্টা সময় কাজে লাগিয়ে করাত দিয়ে লোহার গ্রিল কেটে নিজেদের সেল থেকে বের হয়ে পয়ঃনিষ্কাষনের পাইপে ঢুকে একের পর এক পাইপ কেটে শেষ পর্যন্ত জেল খানার বাইরে এক ম্যানহোল দিয়ে বের হয়ে পালাতে সক্ষম হয়।

jail 2

এই ম্যানহোল দিয়ে বের হয়ে গেছেন কয়েদি দুজন।

ভাবনার বিষয় হল, শুধু করাত পেলেই হবে না। পেতে হবে জেলখানার নিচ দিয়ে কোন পাইপ কোথায় গেছে সেটার লে আউট ম্যাপ। তারা যেভাবেই হোক এই ম্যাপ জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেই অনুযায়ী ৭ ঘণ্টায় এত প্রহরীর প্রখর দৃষ্টি এড়িয়ে বের হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় নাথিং ইস ইম্পসিবল ইনডিড। নিউইয়র্কের গভর্নর কয়েদি ধরার জন্য লক্ষ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। এও জানি, এরা যেখানেই পালাক, খুব অল্প সময়েই ধরা পড়ে যাবে, কোনো সন্দেহ নাই।

jail cov 1

জেলপলাতকদের ছবি।

শুনেছি, কয়েদিদের একজন প্রেমে খুব পটু। সে তার এই অভিজ্ঞতা দিয়ে জেলের নারী কর্মচারীকে হাতে নিয়ে এসেছিল। সেই নারী কর্মচারীও ধরা পড়ে গেছে।

হলিউডের বাঘা ডিরেকটররা এবার তাদের জেল ভাঙা নিয়ে বানানো ছবির নতুন প্লট খুঁজে পাবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সেই নতুন মুভির জন্য।

About Author

মুরাদ হাই
মুরাদ হাই

জন্ম হাতিয়ায়। ১৯৬০ সালের ৯ অক্টোবর। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পড়তেন মার্কেটিং বিভাগে। থাকতেন সূর্যসেন হলে। ১৯৮৯ সালে পাড়ি জমান নিউইয়র্কে। সে অবধি সেখানেই আছেন। দুই ছেলে রেশাদ ও রায়ান ছাত্র, স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্কুলের শিক্ষিকা।