page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

অর্গাজম যেভাবে স্বাস্থ্যের উপকার করে—ঘন ঘন বীর্যঙ্খলন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

এই বছর (২০১৫) নিউ অরলেনসে আমেরিকান ইউরোলোজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক মিটিংয়ের সময় গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন ঠিক কোন ব্যাপারটি প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়—তা হল বীর্যপাত।

যেমন এক্ষেত্রে বলা যায়, হৃদরোগ হলে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে পৃথিবীতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু দুই লাখ কমে যাবে। কিন্তু প্রোস্টেট ক্যান্সারের বেলায় কী ঘটে? প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি মূলত জিনগতভাবে এবং পারিবারিকভাবে আসে। তাহলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমার রিস্ক ফ্যাক্টর কী?

২০০৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল ঘন ঘন ইজাকুলেশন বা বীর্যপাত ঘটলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে।

বর্তমানের গবেষণাটিতে আরো বেশি পরিমাণের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই গবেষণায় ৩২ হাজার পুরুষ অংশগ্রহণ করে এবং তাদেরকে সর্বমোট ১৮ বছর সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ব্যাপারটি একটু স্পষ্ট করা যাক।

এই গবেষণা ২০ থেকে ২৯ এবং ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের নিয়ে করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসের এবং আগের বছরের গড় বীর্যপাতের তথ্য নেওয়া হয়েছে। তা থেকে গবেষকরা সারাজীবনে কতবার বীর্যপাত হয়েছে তার গড় বের করেছেন।

ফলাফল থেকে দেখা গেছে, যাদের মাসে ২১ বার বীর্যপাত হয়েছে তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি যাদের ৪ থেকে ৭ বার বীর্যপাত হয়েছে তাদের থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে।

হার্ভার্ডের টি এইচ ক্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড. জেনিফার রাইডার বলেন, আমাদের শুধু সংখ্যা দেখলে চলবে না, কী পরিমাণে কী প্রতিক্রিয়া হয় তা দেখা উচিৎ।

রাইডার জানান, এই গবেষণার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে।

এক, অতীতে অনুমান থাকলেও এবার প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া গেছে। দুই, বীর্যপাত ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির আশঙ্কা নিয়ে এটি সবচেয়ে দীর্ঘ গবেষণা। তিন, এই গবেষণায় বীর্যপাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। এটি থেকে বেশ ভালোভাবে বোঝা যায় নিরাপদ যৌন মিলন প্রোস্টেটের জন্য ভালো।

সত্তুরের দশকের শেষের দিকে ব্যারি আর, জিনুসায়র্জম কার্লোস বেয়ার-ফ্লোরস এবং বেভারলি হুইপলের লেখা ‘দ্য সায়েন্স অব অর্গাজম’ নামের গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, যাদের বার বার অর্গাজম ঘটে (সপ্তাহে দুই বা বেশি) তাদের মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ কম, এমনকি তারা ধূমপান করলেও বা তাদের বয়স বেশি থাকলেও।

কিন্তু বীর্যপাত ঠিক কীভাবে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়? ড. রাইডার বলেন, অর্গাজমের নিজস্ব কিছু প্রোটেক্টিভ সুবিধা আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিটোসিন ও ডিহাইড্রোপিয়ান্ড্রোস্টেরয়েন (DHEA) হরমোন দুইটি অর্গাজমের সময় নিঃসৃত হয়। অক্সিটোসিন নারীদের রক্তচাপ কমায় ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, আর দ্বিতীয় হরমোনটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

যদিও পুরুষের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সার ব্যাপারটি সাধারণত ঘটে না। তবে বিবিসি’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিক গবেষকরা দেখেছেন, যেসব পুরুষের মাসে ৬ বারের কম অর্গাজম ঘটে তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাছাড়া DHEA হরমোন বেশি নিঃসৃত হলে স্মৃতিশক্তি ভালো হয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। সুতরাং অর্গাজমের সময় এই হরমোনের নিঃসরণ নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসাবে কাজ করে। তবে মনে রাখা ভালো, ঘন ঘন বীর্যপাত সাধারণ প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, লেথাল বা মারাত্মক ধরনের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর কথা বলা হয় নি।

প্রোস্টেট ক্যান্সারের হার বেশি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে এটি। দি আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি ধারণা করছে, ২০১৫ সালে ২২০,৮০০ লোক প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে এবং এ বছর ২৭,৫৪০ জন প্রোস্টেট ক্যান্সারে মারা যাবে। তবে প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য ডায়াগনোসিস করা নিরাপদ, কারণ পরে এটি মারাত্মক অবস্থায় যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ২.৯ মিলিয়ন লোক শুধু ডায়াগনোসিস করার কারণে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়েও বেঁচে আছে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক