page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

অল ঘোড়া কন্ট্রোল (১)

অধ্যায় ১

‘সাঁই সাঁই, ঘোড়া সাঁই
ঘণ্টার খবর সেকেন্ডে পাই’

১.

দেবপাহাড়ের রাস্তা ধরে উপরে উঠছি, যেখানে রাস্তা শেষ সেখানে একটা বৌদ্ধ মন্দির, মন্দিরের পাশে লিলি খালার বাড়ি।

লিলি খালা আমার আপন খালা না—ডাকা খালা। লিলি খালা দুবাইতে বসে হুন্ডি ব্যবসা করে। আমি দেশে তার ব্যবসা দেখাশোনা করি। কিন্তু তিন বছর ধরে আমার চাকরি নাই। আমার কোম্পানি লিলি খালা তিন বছর ধরে জেলে। আজ সকাল নয়টায় আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল লিলি খালাকে। উকিল আমাদের এইবারও আশা দিয়েছিল জামিন হবে। কিন্তু লিলি খালার জামিন হয় নাই।

আদালত থেকে লিলি খালাকে আবার জেলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রিজন ভ্যানে করে। প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে লিলি খালা আমাকে বলে, “রিয়াজুদ্দিন বাজারে নূর আলমের দোকান থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে একটু আমার ছেলেরে দিয়ে আসবে?”

আমি বলি, “ইয়েস, বস।”

প্রিজন ভ্যানে চলে যায় পাথরঘাটার দিকে, চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল জেলে। আমি একটা রিকশা নিয়ে চলে আসি রেয়াজুদ্দিন বাজার। রেয়াজুদ্দিন বাজার থেকে টাকা নিয়ে বাসে উঠে চলে এসেছি দেবপাহাড়ে। আমি দেবপাহাড়ে এসেছি লিলি খালার ছেলে বাবলুকে টাকা দিতে।

tanvir-2

প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে বস লিলি খালা আমাকে বলে, “রিয়াজউদ্দিন বাজারে নূর আলমের দোকান থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে একটু আমার ছেলেরে দিয়ে আসবে?”

বাবলুকে কিন্তু বাবলু ডাকা যায় না। সে নিজের নাম রেখেছে জন। জনের টাকা দরকার হয় কেন? লিলি খালা কখনো ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে না যে কেন তার ছেলের টাকার দরকার হয়। খালুতো কবরে—তার জিজ্ঞাসা করার কোনো সুযোগ নাই। আমি তার দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই ও বয়সে দুই/তিন মাসের বড় হলেও বন্ধুর মতো। তবু তাকে ডিরেক্ট জিজ্ঞাসা করি না কিছু। আগে ভাব বুঝি। জন কি বুঝতে পারে তার আম্মু মানে লিলি খালার মানে তার নিজের উপরও কী গজব বয়ে চলেছে?

জনের এইসব নিয়ে কোনো বিকার দেখা যায় না। মা জেলে, মায়ের ব্যবসা বন্ধ। কিন্তু জনের ফুটানি সীমা ছাড়িয়ে যায়। লিলি খালার বাসার কলিং বেল চাপি। অনেকক্ষণ পর দরজা খুলে দেয় জন।

জন পাঁচ লাখ টাকা প্রায় পাঁচ বার গুণে দেখে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, “খালারে দেখতে যাবা না, জন?”

জন বলে, “নট জন, নট জন, ব্রো, আমার নাম স্যামুয়েল। একদমই টাইম নাই আমার। খুব্বি বিজি স্ক্যাজুয়্যাল, ব্রো।”

তার মানে জন এখনো বুঝতে পারছে না তার জীবনের উপর দিয়ে কী আজাব বয়ে যাচ্ছে। তার মা জেলখানায় ক্ষয় হয়, কিন্তু স্যামুয়েল আছে অন্য ওয়েদারে, যেখানকার আবহাওয়া তার নাম বদলে দেয় যখন তখন। প্রতি বার নাম বদলে বলে—”এটা ফিক্সড। আর কোনো নাম নিব না, আস্রাফ আস্রাফ নাম চেইন্জ।”

আমিও আছি অন্য ওয়েদারে, আমি এই নভেল লিখতে চেষ্টা করছি। আমি স্যামুয়েলকেকে বলি, “জন, ও স্যরি, স্যামুয়েল, আমার ফার্স্ট নভেলে আমি তোমারে নায়ক হিসাব কাস্ট করছি।”

স্যামুয়েল আমাকে বলে, “তুমি আমাকে কীভাবে কাস্ট করবা? আমিই তোমারে আমার নভেলে রাইটার হিসাবে কাস্ট করলাম। লিখতে থাকো, ব্রো।” স্যামুয়েলের এই রগট্যারা বিহেভ আমি ভালোবাসি। এই ভালোবাসা আমাকে আমার চাকরি হারিয়ে ফেলার বেদনা থেকে বের করে নভেলের দিকে নিয়ে আসে। আমি হিরোকে জিজ্ঞাসা করি, “পাঁচ লাখ টাকা দিয়া কী করবা, খালাতো ভাই?”

খালাতো ভাই আমাকে উত্তর দেয়, “ঘোড়া কিনবো ব্রো, ঘোড়া।”

ঘোড়া তো সারে জাহান ঘোড়া, দুনিয়ার সব ইন্জিনে ইন্জিনে ঘোড়া, আমি, তুমি, সে, চাঁদ, পাখি, খুন, থিওরি, বিপ্লব সবই তো ঘোড়া। বাবলুর মেটাফোর থেকে আমি কোনো উত্তর বের করে আনতে পারি না। বাবলু উত্তর দিবে না।

 

২.

মাহতাবউদ্দিন বাবলু ওরফে স্যামুয়েল প্রেস্টন তার সাতাশ বছর বয়সী জীবনে ইসলামি বিপ্লব, মিউজিক, ঝুট কাপড়ের ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, গণযুদ্ধ, বিজনেস, মডেলিং, অ্যানার্কি সহ আটাশ পদের ঘটনা ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে একটাও ঘটায় নাই। গিটার কিনেছে—শিখে নাই, ব্যবসায়ীদের সাথে ঘুরাফিরা করেছে—ব্যবসা করে নাই, মাওয়িস্ট অ্যানার্কিস্ট-টাওয়িস্ট সবার সাথে মিশেছে, তাদের কোনো কামে আকামে অংশ নেয় নাই, ড্রাগ অ্যাডিক্টের সাথে মিশেছে—ড্রাগস নেয় নাই। ইভেন সিগারেটও খায় না সে। যার সাথে মিশে সে মজা পেয়েছে খালি তার স্ক্রিপ্ট ফলো করে পারফর্ম করে গেছে। এক বছর পর পর তার নাম, লাইফ স্টাইল, কথা, দর্শন বদলায়। এক বছর পর পর তার গান শোনার রুচিও বদলায়। এখন সে শুনছে ‘অর্ডিনারি বয়েজ’ এর গান। তাই এখন তার নাম স্যামুয়েল প্রিস্টন।

আমি জিজ্ঞাসা করি, “সেক্স পিস্তল শোনো না  আর, খালাতো ভাই?”

স্যামুয়েল জবাব দেয়, “সেক্স পিস্তল ক্ষ্যাত, বোগাস, স্ট্যান্ডবাজ, ফেইক।”

কিছু দিন পর সে ‘অর্ডিনারি বয়েজ’কে বলবে ক্ষ্যাত, বোগাস, ফেইক। এক সময় সেক্স পিস্তল শোনা স্যামুয়েল প্রিস্টন পছন্দ করতো আসিফ আকবরের ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’।

বাবলুর রুচি কেন বদলায়?

বাবলুর মা লিলি খালা হুন্ডি লাইনে ঢুকেছে খুব বেশি দিন না। লিলি খালা এই লাইনেই আসতোই না যদি না তার টেক্সি ড্রাইভার জামাই দুবাইতে রোড অ্যক্সিডেন্টে মারা না যেত। জামাই মারা যাবার পর হাউসওয়াইফ লিলি খালা চাকরির সন্ধানে দুবাই চলে যান। দুবাই গিয়ে তিনি হয়ে যান নাইটক্লাবের ড্যান্সার। নাইটক্লাবে তার সাথে পরিচয় হয় তার গ্রাম মানে ফটিকছড়ির এক হুন্ডিঅলার সাথে। হুন্ডিঅলা খালাকে ড্যান্সিং এর চেয়েও অনেক বেশি লাভজনক রাস্তা দেখায়। রাস্তাটা হালকা রিস্কি। খালা ওই হুন্ডিঅলার গোল্ড বিস্কুট বহন করা শুরু করেন। এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে লিলি খালা এই দেশে নিয়ে আসতেন গোল্ড বিস্কুটের চালান।

একদিন গোল্ড বহন করা বন্ধ করে দিয়ে নিজেই ব্যবসা করা শুরু করেন লিলি খালা। আস্তে আস্তে দুবাই বেইজড একটা হুন্ডি সিন্ডিকেট কন্ট্রোল করতে শুরু করেন তিনি। দুই বছরের মধ্যে দেবপাহাড়ে একটা জমি কিনে তাতে এক তলা একটা ঘর করে ফেলেন। ছেলে বাবলুকে ফটিকছড়ির গ্রাম থেকে এনে ভর্তি করিয়ে দেন চট্টগ্রাম শহরের বড়লোকের ছেলেমেয়েরা পড়ে এমন স্কুল মাস্টার মাইন্ডে।

গ্রামের বাবলু শহরের স্কুলে এসে প্রথমে সে তার নাম নিয়ে ক্রাইসিসে পড়ে যায়। সে তার মায়ের সাথে ঝগড়া করে তার নাম এত ক্ষ্যাত রাখা হলো কেন। একদিন সে তার নাম বদলে রাখে বাবেল। কিন্তু তাকে বাবেল ডাকতে কেউ রাজি হয় না। শহরের বন্ধুদের সাথে তার কালচারাল গ্যাপ আরো বাড়ে। গ্যাপ কমাতে সে নতুন চাল খেলে। এক দিন বন্ধুদের দেখাদেখি শোনে মেটালিকা, শুনতে খুব বিরক্ত লাগে, তবু সে ধৈর্‍্য ধরে শোনে। এক দিন সে দেখে টারান্টিনো’র  ‘কিল বিল’। দেখতে খুব বিরক্ত লাগে তার, তবু সে দেখে। শুনতে শুনতে সে শুনে ফেলে মেটালিকা, লিনকিন পার্কদের বাপের গান, দেখতে দেখতে সে দেখে ফেলে টারান্টিনোর বাপের সিনেমা।

এখন তার বন্ধুরাই তাকে জিজ্ঞাসা করে—কী গান শোনা যায়, কী সিনেমা দেখা যায়? আর স্যামুয়েল তার বন্ধুদের বলে, “কী ক্ষ্যাত, বোগাস গান শুনস, ব্রো।”

বন্ধুরা নিজেদের ক্ষ্যাতামি ঢাকতে চায়। তাই স্যামুয়েল যা শোনে, পুরা ফ্রেন্ড সার্কেল সেই গান শোনে। স্যামুয়েল যে গানকে ক্ষ্যাত বলে বন্ধুরাও সবাই একযোগে সেই গানকে ক্ষ্যাত বলে। আর বাবলু বাবেল নামও পাল্টায় ও ব্র্যাড পিটের মহিমা প্রচার করে। একদিন ‘পিট’ নামও পাল্টে দেয়, নাম রাখে ‘সিড’ ও সিড ব্যারেটের মহিমা প্রচার করে। তিন/চার মাস পর পর সে নিজের নাম পাল্টায়। সে নাম পাল্টানো ব্যাপারটাকে এত হালকা, এত তুচ্ছ করে ফেলে যে তার বন্ধুরা বাধ্য হয় ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি ডিল করতে।

 

৩.

বাবলু হিট খেয়ে যায় সারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন নেটওয়ার্কে। বাবলুর নাম শুনে তারা তাদের রুচি টিউন করে। তারা বাবলুকে দেখে ঠিক করে নেয় কোন ওয়েদার বয়, কোন প্লেইসে কোন রুচি শো করতে হয়।

কালচারাল গ্যাপ দূর হয়। কালচারাল ভঙ্গি দিয়ে সে ইকোনোমিক্যাল গ্যাপও আড়াল করে রাখতে পারে। কিন্তু একদিন বাবলু প্রেমে পড়ে যায়—ট্রু লাভ। মেয়েটা অনেক ধনীর মেয়ে এরকম না। তবু রুচি, গেটাপ, চাপাবাজি কিছু দিয়েই মেয়েটাকে পটাতে পারে না। ফলে বাবলুর টাকার দরকার হয়। বাবলু মেয়েটার বার্থডে উপলক্ষে পার্টি থ্রো করে মেয়েটাকে ইনভাইট করে, মেয়েটা পার্টিতেই আসে না। বাবলু মেয়েটাকে দেখাতে একটা গাড়ি কিনবে। ফলে তার টাকার দরকার হয়। লিলি খালার মন সায় দেয় না ছেলেকে গাড়ি কিনে দিতে, তার এত পয়সা নাই একটা গাড়ি এফোর্ড করার, তবু একমাত্র ছেলের আবদার ফেলতে পারে না বলে কিনে দেয়।

গাড়ি নিয়ে সে মারজিয়ার সামনে পিছনে ঘোরে তবু মেয়েটা পাত্তা দেয় না। বাবলুর রূহ থেকে শান্তি উঠে যায়, একদিন সে রোড অ্যাক্সিডেন্টে একটা লোককে মেরে ফেলে। ফলে বাবলুর টাকার দরকার হয়। আমাকে দেবপাহাড় এসে বাবলুকে টাকা দিয়ে যেতে হয়। অনেক টাকা দিয়ে এই কেইস থেকে সে নাজাত পায়।

বাবলু অ্যাক্সিডেন্ট করার পর সেই তেমন বড়লোক-না মেয়েটা বাবলুকে জানায় যে এখন থেকে মেয়েটার রূহের কন্ট্রোল বাবলুর। ফলে বাবলুর আবার টাকার দরকার হয়। যে বাবলু জীবনে বন্ধুদের এক পয়সা খাওয়ায় নাই সে মেয়েটার পিছনে লাখ লাখ টাকা উড়াতে থাকে।

আমি আবার বাবলুকে জিজ্ঞাসা করি, “খালাতো ভাই, বুঝলাম, ঘোড়া কিনবা। তো এই ঘোড়া কোন ঘোড়া? মহিন বাবুর ঘোড়া না আরবের ঘোড়া, নাকি পিস্তলের ঘোড়া?”

বাবলু বলে, “এইসব ভাবের ঘোড়ার পিছে স্যামুয়েল ছুটে না, ব্রো। ঘোড়া একটাই—চাকরি।”

“চিটাগঙের ছেলেরা চাকরি করে, খালাতো ভাই? তুমি তো স্ক্রিপ্টের বাইরে চলে যাচ্ছো। খবরদার, স্ক্রিপ্টের বাইরে যাবা না, স্ক্রিপ্টের বাইরে গেলে কাস্টিং বাতিল।”

বাবলু বলে, “ব্রো, আমি তো কারো স্ক্রিপ্ট ফলোই করতে পারবো না জীবনে। আমার স্ক্রিপ্ট আমার ফিঁয়াসে লিখে ফেলছে।”

চার বছর হয়ে গেল মারজিয়ার সাথে বাবলুর প্রেম হয়েছে। চার বছর ধরেই মারজিয়া স্যামুয়েলকে বলে আসছে একটা ঠিকঠাক চাকরি জোগাড় করতে। চাকরি জোগাড় করে স্যামুয়েল যেন মারজিয়ার বাপের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়।

যতবার মারজিয়া চাকরি করার কথা বলতো ততবার সে উত্তর দিত—”বাবুটা, জাস্ট একটা মাস টাইম দাও, নেক্সট মান্থেই চাকরিতে ঢুকে যাবো।” কিন্তু চার বছর চলে যায়, বাবলু কোথাও চাকরির জন্য অ্যাপ্লাই করে নাই। এদিকে মারজিয়ার অনার্স কমপ্লিট হয়ে যায়। অনার্স কমপ্লিট হবার আগে থেকেই মারজিয়ার জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতো। কিন্তু মারজিয়ার ফ্যামিলির সিদ্ধান্ত ছিল অনার্স শেষ হবার পরেই মারজিয়ার বিয়ের কথা ভাবা হবে। অনার্স শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং এখন মারজিয়ার পরিবার মারজিয়ার বিয়ের কথা ভাবতে শুরু করেছে। মারজিয়াকে বিয়ে করার জন্য লাইন ধরেছে টাকা পয়সা খানদান কালচার সব দিক দিয়ে হাই প্রোফাইল ফ্যামিলির সব হাই প্রোফাইল নওজোয়ান। একের পর এক পাত্র আসছে—পাত্র পছন্দ হচ্ছে না বলে বিয়ে ঠেকিয়ে রাখছে মারজিয়া।

স্যামুয়েলের হুঁশ হয় যে অনেক লেইট করে ফেলেছে সে। আরো আগে চাকরি জোগাড় করে ফেলা দরকার ছিল। যা হয় নাই তা নিয়ে ভেবে লাভ নাই। যা করার এখন করতে হবে। অবশেষে জীবনে প্রথমবার স্যামুয়েল দৌড় শুরু করেছে। জীবনে অনেক কিছু করবে করবে বলেছে সে, কিচ্ছু করে নাই। এই প্রথম স্যামুয়েল কিছু করার চেষ্টা করে। স্যামুয়েল চাকরির জন্য দৌড়ায়। আসলে সে চাকরির জন্যও দৌড়ায় না। সে দৌড়ায় মারজিয়ার জন্য। সে একটার পর একটা সরকারি চাকরির জন্য অ্যাপ্লাই করে, ইন্টারভিউ দিয়ে যায়, কিন্তু চাকরি হয় না।

এইভাবে ব্যর্থ হতে হতে হঠাৎ একদিন দিব্যজ্ঞান হয় স্যামুয়েলের। সরকারি চাকরি লিংক ছাড়া হয় না। সে লিংক খুঁজে বের করে ফেলে। লিংক খুঁজে পেলেও হচ্ছে না, চাকরি পেতে দরকার টাকা। পাঁচ লাখ টাকা সে এক লোককে দিবে যে স্যামুয়েলকে সরকারি আমলার চাকরিতে ঢুকিয়ে দিবে। স্যামুয়েলের মা জেলে বসেই ছেলেকে টাকা ম্যানেজ করে দেন।

আমি হিরোকে কনফিউজড করার জন্য বলি, “কখন চাকরি ধরবা? কখন টাকা জমাবা? আর কখন বিয়া করবা? অন্য রাস্তা দেখো। এই রাস্তায় গেলে তুমি তো ঘোড়ারে বাঁধতে পারবা না। তখন সব ঘোড়াই তো হাত থেকে ছুইটা যাবে, খালাতো ভাই।”

স্যামুয়েল প্রশ্ন করে, “কোন রাস্তা?”

কোন রাস্তা? আমিও জানি না। টাকা নেয়ার সাথে সাথে স্যামুয়েল বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আমিও তার পিছে পিছে নামতে থাকি দেবপাহাড়ের রাস্তা ধরে। আমি ফলো করি স্যামুয়েলকে। কিন্তু স্যামুয়েল এত জোরে হাঁটে যে দৃষ্টিসীমা থেকে তাকে আমি হারিয়ে ফেলি। ফলে আমার গল্পের, আমার ঘোড়ার লাগাম আমার হাত থেকে ছুটে যায়। আমি ঘোড়ার পিছে পিছে দৌড়াই। পারি না ধরতে আর। এক সময় দৌড়ানো বন্ধ করে দিই। যদি ঘোড়া ধরা পড়ার কথা থাকে তাহলে আপনা-আপনিই ধরা পড়বে।

এই কিসসা সাচ্চা বল এই কিসসা মিছা বল
আলী কালী র‍্যাঁবো দালি অল ঘোড়া কন্ট্রোল!

(কিস্তি ২)

About Author

তানভীর আহম্মদ চৌধুরী
তানভীর আহম্মদ চৌধুরী

জন্ম. চট্টগ্রামে। কবি, গল্পকার, চিত্রনাট্যকার ও শর্টফিল্ম নির্মাতা। 'ডিয়ার ট্রটস্কি (২০১৬)' ও 'লাইফ ফ্রম অ্যাকুরিয়াম (২০১১)' দুটি শর্টফিল্ম বানিয়েছেন।