page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

অল ঘোড়া কন্ট্রোল (২)

(শুরুর কিস্তি)

অধ্যায় ২

১.

আমাকে ফেলে স্যামুয়েল একটা রিকশা নিয়ে চলে যায় আসকারদীঘির পারে। সেইখানে দৌলত সাহেবের বাসা। দৌলত সাহেবের ড্রইংরুমের সোফায় বসে স্যামুয়েল মনে মনে ভাবে এই দৌলত মালটাকে কীভাবে ডিল করা যায়। মালটা ছোটখাটো হলেও লাইন-ঘাট খুব ভালো। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় যারা চান্স পায় না তাদের মধ্যে যাদের একটু টাকা পয়সা আছে তারা দৌলত সাহেবের কাছে আসে। পরীক্ষায় চান্স না পেলেও ইভেন পরীক্ষা না দিলেও দৌলত সাহেব চাকরি দিতে পারে।

এক এক চাকরির জন্য এক রেইট। অফিসারের চাকরির রেইট পাঁচ লাখ টাকা। দৌলত সাহেব ড্রয়িং রুমে ঢোকে। স্যামুয়েল বলে, “ব্রো, কেমন আছেন?”

দৌলত সাহেব উত্তর দেয় না, বলে, “টাকা আনছো?”

দৌলত মালটা ছ্যাঁচড়ার ছ্যাঁচড়া। টাকা ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। স্যামুয়েল ব্যাগ থেকে টাকা বের করে টেবিলের উপর রাখে। দৌলত গুণে গুণে টাকা নেয়। পাঁচ লাখ টাকা। দৌলত বলে, “আসেক, তাহলে, আজকে আসেক।”

স্যামুয়েল জিজ্ঞাসা করে, “চাকরি কত দিনের মধ্য হবে?”

দৌলত বলে, “জানায়েক, পরে জানায়েক, এখন আসেক। আমি বিজি।”

বাবলুর ইচ্ছা করে দৌলতের নুনুতে ইলেকট্রিক শক দিতে। বাবলু মনে মনে বলে, “খানকির পোলা, টাকা দিতেছি। চাকরি না পাইলে তোরে পাইছি।” মুখে বলে, “ব্রো, আমার একটু আর্জেন্সি আছে তো, তাই, একটু কাইন্ডলি বলবেন কত দিনের মধ্যে চাকরি হবে?”

দৌলত সাহেব বলে, “এই দশ দিন, এগারো দিন।”

বাবলু বলে, “ওকে, ব্রো।” বলে সে বের হয়ে যায়।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সে মারজিয়াকে কল করে বলে, “আমাল বাবুটা কী কলে?”

মারজিয়া বলে, “কিছু কলে না, আমার টাট্টুঘোড়াটা কী কলে?”

বাবলু বলে, “আমি তো এক সপ্তাহের মধ্যে জয়েন করতেছি সোনালী ব্যাংকে। এক সপ্তাহ পরেই আমি তোমার আব্বুর সাথে দেখা করতেছি। ঠিক আছে, বাবু?”

মারজিয়া খুব খুশি হয়, তার এই গাধাটা শেষ পর্যন্ত একটা চাকরি জোগাড় করতে পারলো। সে যে খুশি হয়েছে এটা সে কোনো ভাবেই বাবলুকে বুঝতে দিবে না। বয়ফ্রেন্ডকে সব সময় বুঝিয়ে দিতে হবে যে সে যত বড় চাকরি পাক, দুনিয়া উল্টায় ফেলাক, তবু সে কিছুই না। গার্লফ্রেন্ডের প্রধান কাজ বয়ফ্রেন্ডকে হিউমিলেট করা। এই দিব্যজ্ঞান মারজিয়ার আছে। মারজিয়া তাই বাবলুকে বলে, “আমাল ঘোড়াটা কি সোনালী ব্যাংকের দালোয়ান হবে?”

বাবলুও জানে গার্লফ্রেন্ড তাকে একটু ছোট করবে। করুক। বাবলু কেয়ার করে না, “অফিসার হবে, অফিসার।”

অফিসার মানে? মারজিয়া বোঝে বাবলুরে ছোট করার কিছু নাই, সে এমনিতেই ছোট হয়ে আছে। এই গাধাটা শেষ পর্যন্ত যে চাকরি জোগাড় করেছে সেইটা সোনালি ব্যাংকের সামান্য অফিসারের চাকরি। মারজিয়া বলে, “কুত্তার বাচ্চা, অফিসারের চাকরি নিয়ে তুই আমার বাপের কাছে আমারে বিয়ার প্রস্তাব নিয়া আসলে আমিই তোর কইলজা খায়া ফেলবো।”

বাবলু বলে, “মানে? সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার হইতে হবে! ডিরেক্ট ম্যানেজারও তো হওয়া যায় না!”

মারজিয়া বলে, “আমি তো ম্যানেজার হতে বলতেছি না। সিনিয়র অফিসারের পোস্ট যে দিন ম্যানেজ করতে পারবা সে দিন তুমি আমাকে কল দিবা। ঠিকাছে?” মারজিয়া ফোন রেখে দেয়। অফিসার ও সিনিয়র অফিসারের এই দুই পোস্টের দূরত্বে পাক খায় বাবলুর জীবন।

বাবলু আবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে। দৌলত সাহেবের ড্রইং রুম। দৌলত সাহেব দরজা খুলে বাবলুকে দেখে একটু বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে, “আবার কী?”

দরজায় দাঁড়িয়ে বাবলু দৌলত সাহেবকে জানায় তার দরকার সিনিয়র অফিসারের পোস্ট।

দৌলত সাহেব জানায়, “ওকে, কোনো ব্যাপার না, বড় পোস্ট, রেইট বেশি, পনেরো লাখ টাকা লাগবে, তোমার পাঁচ লাখ জমা থাকলো, বাকি দশ লাখ দিয়া যাও, আজ কাল পরশু।”

বাবলুর মাথা খারাপ হয়ে যায়, সে মনে মনে দৌলতকে বলে, “খানকির পোলা, আগে কস নাই ক্যান বিশ লাখ টাকা লাগবো?” মুখে বলে, “ব্রো, আমি এখন কই পাবো এত টাকা?”

চাকুরিদাতা চাঁটগাইয়া টোনে বলে, “মিয়া এত কিপটামি করতেছো! তোমরা তো রয়েল ফ্যামিলির পোলা।”

এই ছ্যাঁচড়াও মনে করে বাবলু লাট সাবের পোলা! পাঁচ টাকার মালিক হয়ে পাঁচশো টাকার ফুটানি দেখাইলে তো এ রকমই হয়! নিজের উপর রাগ হয় তার। তার মায়ের উপরও তার রাগ হয়। তার মা যদি জেলে না থাকতো তাইলে বাকি পনেরো লাখ টাকা ম্যানেজ করতে পনেরো সেকেন্ডও লাগতো না। কিন্তু তার মা জেলে, তার মায়ের নেটওয়ার্ক একদম ধসে গেছে।

 

২.

বাবলু বাসায় ফেরে। দশ লাখ টাকা কই পাবে ভাবে। তার মায়ের সব ব্যাংক একাউন্ট ব্লকড করে দেয়া হয়েছে। সে ফোন করে যায় তার মামা-চাচা-খালাকে। কেউ বাবলুকে টাকা দিতে রাজি না। স্যামুয়েল ফোন করে যোগাযোগ করে তার মায়ের হুন্ডি সিন্ডিকেটের সাথে। তারা আজকাল লিলি খালাকে চিনতেই পারে না। একে একে বিট্রে করা শুরু করেছে সবাই, সব কিছু। শো অফ করে স্যামুয়েল কীভাবে মুকাবিলা করবে শয়তান খুব শয়তান এই সময়ের সাথে?

বাবলু ধিপ করে আসমান থেকে ডিরেক্ট পড়ে গেছে জমিনে। জমিনেও বাবলু দাঁড়াতে পারে না। বাবলু ওর্ফে স্যামুয়েলের পা জমিন থেকে নেমে যায় পাতালে, গভীর পাতালের দিকে। অসহায় বাবলু কল করে মারজিয়াকে। মারজিয়া ফোন অফ করে দিয়েছে। মেয়েটা কোনো দিন তারে বোঝে নাই। এমন দুঃসময়ে মেয়েটা আছে তার জেদ নিয়ে, সে বোঝে না মেয়েটার ফোন অফ থাকলে বাবলুর মাথা ব্লকড হয়ে যায়। প্রতিশোধ। বাবলুও ফোন অফ করে দেয়, ফেইসবুক ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেয়।

 

৩.

আমি তখন আমার বাসায়। আমি আবার দেবপাহাড়ে এসে দেখি বাবলু বাসায় আছে। বাবলুকে জিজ্ঞাসা করি, “ফোন অফ করে রাখছো কেন খালাতো ভাই? তোমার গার্লফ্রেন্ড আমারে কল দিয়া তোমারে খুঁজতেছে।” বাবলুকে খুঁজে বের করার জন্য আমাকে কল দেয়। আমাকে আসতে হয় দেবপাহাড়ে বাবলুর কাছে। আমি বাবলুকে বলি, “খালাতো ভাই, তোমার ঘোড়া তো তোমাকে খুঁজতেছে।”

বাবলু আমাকে বলে, “আমার গার্লফ্রেন্ডরে ঘোড়া-টোড়া দাকা যাবে না, ব্রো। লিমিট ক্রস কইরো না।”

আমি তাকে বলি, “আমি খারাপ অর্থে বলি নাই তো।”

বাবলু বলে, “এক্সপ্লেইন কইরো না, ব্রো। বলবা না বলছি, বলবা না। ওকে?”

আমি বলি, “ঠিকাছে।”

বাবলু ফোন অন করে। মারজিয়া কল করে, “ঐ লুজারের বাচ্চা, ফোন অফ করে রাখছস ক্যান? চাকরি জুটাইতে পারছ নাই এখনো? তুই যদি তিন দিনের মধ্যে চাকরি জোগাড় কইরা আমার বাপের কাছে বিয়ার প্রস্তাব নিয়া হাজির হইতে না পারছ, তাইলে আমি তোরে জবাই করে ফেলবো।”

এই চাপ নিতে পারে না স্যামুয়েল। স্যামুয়েল মারজিয়ার অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারবে না। না, মারজিয়াকে হারানো যাবে না। খেলা ছেড়ে দেয়া যাবে না। স্যামুয়েল মনে মনে গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারিকে স্মরণ করে—”গুরু ব্রো, এই মুসিবত থেকে আমারে তুমি বের করে নিয়া যাও, প্লিজ, ব্রো, আমি যে আর এই প্রেসার নিতে পারি না।”

তিন দিন চলে যায়।

আমি এর মধ্যে চিটাগং এর বিভিন্ন গুপ্ত, ডার্ক নেটওয়ার্কগুলার সাথে যোগাযোগ করি।

হুন্ডি লাইনের এক বন্ধু আমাকে জানায় রেয়াজুদ্দিন বাজার থেকে আঠারো লাখ টাকার একটা হুন্ডি চালান যাচ্ছে রাউজান অভিমুখে। আমি স্যামুয়েলকে বুদ্ধি দিই, চলো চালানটা মেরে দিই, খালাতো ভাই।

স্যামুয়েল আমারে বলে, জীবনে খারাপ বুদ্ধি ছাড়া একটা ভালো বুদ্ধি দিতে পারো না তুমি?

স্যামুয়েল নাও অ্যা ডেজ মাইজভাণ্ডারি। সে কোনো মতেই সো কল্ড ইলিগাল রাস্তায় যাবে না। আমার ধারণা সে অবৈধ রাস্তায় যাবে না এই জন্য না যে সে সুফিবাদের রাস্তা ধরেছে। আসলে স্যামুয়েল অবৈধ রাস্তার রিস্ক ভয় পায়।

এই কথা তাকে বলতেই সে আমাকে বলে, ‘ঐ মিয়া, আল্লার নূর আমার কইলজায় সেট হয়ে আছে। স্যামুয়েল কাউরেই ভয় পায় না।’

মারজিয়া আবার স্যামুয়েলকে বলে, “লুজারের বাচ্চা, যদি তিন দিনের মধ্যে চাকরি জোগাড় করে আমার বাপের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসে হাজির হইতে না পারছ তাইলে আমি তোরে জবাই করে ফেলবো।”

স্যামুয়েল আমাকে বলে, “ব্রো, লিগ্যাল ইলিগ্যালে কোনো ভেদ আছে?”

আমি জিজ্ঞাসা করি, “তাইলে কি আমরা হুন্ডি ডাকাতিতে যাইতেছি, খালাতো ভাই?”

স্যামুয়েল বলে, “তুমি আমারে হিরো কইরা নভেল লিখতেছো বলে কি তোমার ওয়্যে ধরে আমারে হাঁটতে হইবো, ব্রো?”

আমি কিছু কই না। আমি বুঝতে চেষ্টা করি সে কার স্ক্রিপ্ট ফলো করছে তাইলে? নিশ্চয় এই স্ক্রিপ্ট মারজিয়ার না। এই স্ক্রিপ্ট কার? স্যামুয়েল বলে, “আমরা এখন বাইর হবো, ব্রো। লেটস মুভ।”

আমরা বাসা থেকে বের হয়ে যাই।

 

৪.

দেবপাহাড়ের নিচে নেমে আসি। দেবপাহাড়ে ওঠার মুখে র‍্যাব লিখা একটা নীল প্রাইভেট কার থেমে আছে দেখে কলিজা নগদে আরব মরুভূমি হয়ে যায়। গাড়ির ভিতরে দেখার চেষ্টা করি—প্রাইভেট কারের মধ্যে ওয়ার্লেস মুখের সামনে নিয়ে কথা বলছে এক র‍্যাব সদস্য। আমি স্যামুয়েলকে র‍্যাবের গাড়ি দেখাই। গাড়ির কাছে গেলে আমি এক র‍্যাব সদস্যকে চিনতে পারি—নোমান। নোমানকে দেখে আমার মাথার মধ্যে সব ক্লিয়ার হয়ে যায়। এখন তাহলে নোমানের স্ক্রিপ্টে আমাদের অ্যাক্টিং করে যেতে হবে!

নোমান খুলশির ঝাউতলার পোলা। স্যামুয়েল আমাকে সাইড করে তাহলে ছাদে গিয়ে নোমানকে কল করেছে? কেন? আমার রাস্তায় সে চলবে না বলে? অথচ স্যামুয়েলকে নোমানের সাথে আমিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। মেজাজ হালকা বিলা হয়ে যায় আমার। মেজাজ খারাপ করা চলবে না। মেজাজ কন্ট্রোল করে আমি নীল রঙের প্রাইভেট কারের সামনে উঠে যাই। কিন্তু স্যামুয়েল আমাকে বলে সেই সামনে বসবে। ফলে আমি বের হয়ে পিছনের সিটে যাই। স্যামুয়েল টুটুলের পাশে বসে। টুটুল গাড়ি টান দেয়। গাড়ি দেবপাহাড় থেকে চলে যায় গোলপাহাড় মোড়।

গোলপাহাড়ের এক বাসার নিচে এসে গাড়ি থামে। আমরা পাঁচজন বাসায় উঠি। বাসায় ঢুকে আমাকে ও স্যামুয়েলকে দেয়া হয় র‍্যাব লিখা দুইটা জ্যাকেট। আমি আমার সিভিল ড্রেসের উপর পরে ফেলি র‍্যাব লিখা জ্যাকেট। স্যামুয়েল এই জ্যাকেট গায়ে দিবে না। কেন? “ক্ষ্যাত জ্যাকেট একটা। র‍্যাব লিখে রাখছে! সি আই এ বা এফ বি আই লিখা কোন জ্যাকেট থাকলে দাও নোমান ব্রো। র‍্যাব লিখা কোনো জ্যাকেট স্যামুয়েল পরবে না।”— বলে স্যামুয়েল। নোমান আমার দিকে তাকায়, বলে—”বদ্দা, এই ফুলা তোমার হালাতো ভাই না হইলে এক লাথি দিয়ে দইজ্জাতে ফালাই দিতাম।”

কাজ হয়। স্যামুয়েল জ্যাকেট পরে নেয়। জ্যাকেট পরার পর একটা বৈঠক বসে।

প্ল্যান। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোডের সি ইউ এফ এল ঘাটের ফেরি পার হয়ে আসা ট্রাকগুলা নিয়ে আসে সিমেন্ট, সার, লোহা, তেল। অবশ্য মাঝে মাঝে এই সবের সাথে আসে ইয়াবা। র‍্যাবের স্পেশাল উইং পরিচয় দিয়ে আমরা ট্রাক থামাবো ইয়াবার সন্ধানে। ট্রাক থামলে অফিসার সেজে থাকা নোমান বলবে: আমাদের কাছে ইনফর্মেশন আছে, এই ট্রাকে করে এক লাখ পিস ইয়াবা যাচ্ছে। ইয়াবা চেক করতে করতে আমরা ড্রাইভার ও হেল্পারকে বেঁধে ফেলে দিবো রাস্তায়। তারপর মালপত্র সহ ট্রাক নিয়ে চলে আসবো আমরা। একটা ট্রাক সিস্টেম করতে পারলেই হবে।

ঝাউতলার ক্রেইজিয়েস্ট পোলা নোমান, বক্কর ও টুটুল এই অপারেশন চালাচ্ছে জাস্ট ইমোশনাল কারণে। তাদের সবার হাতে ছুরি দিয়ে খোদাই করে লেখা—’নিগার’। নিগার তাদেরকে ভালোবাসে নাই কোনো দিন। নিগার ছাড়া আর কাউকে তারা ভালোবাসতে পারে নাই, কোনো দিন পারবেও না। এই অনন্য প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে কি ভুলে থাকতে তারা দুনিয়ার সব প্রেমিকের বিপদে আপদে গিয়ে দাঁড়ায়। এই শহরের যত পোলাপান মেয়ে নিয়ে গেঞ্জামে পড়ে তারা নোমানদের কাছে যায়। পরের প্রেম বাঁচাতে খুন করতেও দ্বিধা করে না এই তিন ব্যর্থ প্রেমিক। অন্য প্রেমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রেমিকাদের পাইয়ে দিয়ে তারা হয়তো নিগারকে একটু একটু পায়। মিটিং এর পরে খাবার পালা। আমরা লান্চ করে নিই। লান্চ শেষে বক্কর ও টুটুল এক সাথে ইয়াবা টানে। নোমান ড্রাগস নেয় না। আমি ও নোমান সিগারেট খাই। স্যামুয়েল সিগারেট খায় না। সে মারজিয়াকে কল দেয়, “একটা সমবায় সমিতির সাথে যোগাযোগ করছি, জান। তারা আজকের ভিতরে পনেরো লাখ টাকা লোন দিবে।”

প্রেমিকা প্রশ্ন করে, লোন কয় কিস্তিতে কয় বছরের ভিতর পরিশোধ করতে হবে। উত্তর দিতে গিয়ে একটু থমকে যায় স্যামুয়েল। মিথ্যা কথা গুছিয়ে বলা খুব টাফ। এই টাফ কাজ সে কোনো মতেই করতে পারে না। সে উত্তর দেয় এখনো ঠিক হয় নাই এইসব।

দুপুর গড়িয়ে যায়। পৌনে পাঁচটায় আমাদের লিডার নোমান ঘোষণা দেয়—”রেডি।” বিকাল হয়। ঠিক পাঁচটায় আমরা গোলপাহাড়ের আস্তানা ত্যাগ করে চলে যাই সি ইউ এফ এল ঘাটের দিকে যেখানে হরিণের মতো চরে মালবাহী ট্রাক।

ছয়টা পনেরো। আমরা চিটাগং এয়ারপোর্ট রোডে। সন্ধ্যা নামছে। মাগরিবের আযান ভেসে আসে। সিইউএফএল ঘাটে এসে ভিড়ে একটা ফেরি। ফেরি থেকে নেমে আসে একটা ট্রাক। খালি ট্রাক। আমরা খুঁজছি মালবাহী ট্রাক। আরো একটা ফেরি আসে। কোনো ট্রাক আসে না। পরের ফেরিতে ট্রাক আসে—খালি ট্রাক। রাত বাড়ে। আজব! আমরা র‍্যাবের অ্যাক্টিং করতে করতে ক্লান্ত হই। ক্লান্তি দূর করতে দুই ড্রাগ এডিক্ট বক্কর ও টুটুল ইয়াবা টানে। রাত দশটা বেজে যায়। আমি স্যামুয়েলকে বলি, “আমার কথা তো জীবনে শোনো নাই, খালাতো ভাই। হুন্ডির অপারেশনটাতে গেলে এতক্ষণে আমরা আঠারো লাখ টাকার মালিক হয়ে যেতাম। অথেন্টিক কোনো ইনফর্মেশন ছাড়া এই রকম অপারেশনে কোনো ফায়দা নাই।”

ghora-2a

চিটাগং এয়ারপোর্ট রোডে।… সিইউএফএল ঘাটে এসে ভিড়ে একটা ফেরি।

স্যামুয়েল বলে, “চলো, ব্রো, তাইলে আমরা হুন্ডির কামটাই করি।”

স্যামুয়েলকে জানাই, “খালাতো ভাই, হুন্ডি মাইরা দেয়ার টাইম আর নাই। হুন্ডির টাকা অলরেডি রাউজান পৌঁছে গেছে।“

স্যামুয়েলের ফোনে মারজিয়ার কল আসে। মারজিয়া জানতে চায়, স্যামুয়েল টাকা হাতে পেয়েছে কিনা। স্যামুয়েল প্রতি বার উত্তর দেয়—”এক ঘণ্টার মধ্যে পেয়ে যাবো, জান।” আর আমি মনে মনে ভাবি মালবাহী ট্রাক যেহেতু পাচ্ছি না সো খালি ট্রাক লুট করে পিস পিস করে বেচে দিবো নাকি? কিন্তু খালি ট্রাক পিস পিস করে বেচলে পনেরো লাখ টাকা পাওয়া যাবে না। পাওয়া গেলেও লাভ নাই—এখন খালি ট্রাকও দেখা যাচ্ছে না। আরো এক ঘণ্টা পাস হয়ে যায়। এগারোটা বাজে। স্যামুয়েল আমাকে বলে, “ওকে এই অপারেশন প্যাক আপ।”

স্যামুয়েল নোমানকে বলে, “ব্রো, অনেক কষ্ট করছো আমার জন্য। তোমারে এবং তোমাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নাই। এখন চলো অপারেশন প্যাক আপ করে ফিরে যাই।” নোমান বলে, “ফিরা যাবা? এই তোমাদের যুগের ফ্রেম? খুব অল্পতেই সব ফেয়ে যেতে চাও!” আমি নোমানকে বলি, “বদ্দা, কালকে আর একটা অপারেশন করবো আমরা একদম অথেন্টিক ইনফর্মেশন নিয়া। ওইটাতেও আপনেরে লাগবে। আজকে বাদ দেন।”

নোমান হাল ছেড়ে দিতে রাজি না। সে বলে, “বদ্দা, যদি থাকে নসিবে, পাছার তলা দি আসিবে।”

এমন সময় একটা মালবাহী ট্রাক ফেরি থেকে নেমে এয়ারপোর্ট রোডে উঠে। বক্কর ও টুটুল থামানোর সিগন্যাল দেয়। কিন্তু ট্রাক থামে না। আমরা নগদে গাড়িতে উঠে ট্রাকটির পিছে পিছে ধাওয়া করি। টুটুল ও বক্করের মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এই ট্রাকে নিশ্চিত ইয়াবার চালান আছে। সিমেন্ট, লোহার চালান থাকলে তো ট্রাক থামার কথা। যেহেতু ট্রাক থামে নাই এটাতে নিশ্চয় ইয়াবা আছে। এই গাড়িতে কত পিস ইয়াবা থাকতে পারে এই হিসাব কষে দুই ড্রাগ এডিক্ট ও তাদের হিসাব মিলে। নোমান কোমর থেকে রিভলবার বের করে আমাদের গাড়ির সামনে ধাবমান ট্রাকের চাকা লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। লক্ষ্য ভেদ হয়, ঝাউবনের নিস্তব্ধতা ভেঙে ট্রাকের চাকা ফাটে। ট্রাক থেমে যায়। ট্রাক থামার সাথে সাথে ট্রাক থেকে নেমে দৌড় দেয় এক হেল্পার। আমরা নগদে গাড়ি থেকে নামি, দৌড়ে ধরে ফেলি ট্রাকের ড্রাইভারকে। আমরা ট্রাক তল্লাশি করি কী মাল আছে দেখার জন্য। বক্কর ও টুটুল ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করে, “বাবা কই?”

ড্রাইভার জানায় যে কোনো ইয়াবা নাই। কী আছে তাহলে? আমরা ট্রাক ঢেকে রাখা ত্রিপল খুলে ফেলি। ত্রিপল খুলে আমরা একদম টাসকি খেয়ে যাই। এ কী?

পুরা ট্রাকভর্তি সব রাইফেল আর রাইফেল আর রাইফেল আর রাইফেল। কিছুক্ষণ বোকা হয়ে দাঁড়িয়ে আমরা পরস্পরের মুখে তাকাই। বিস্ময় সামাল দিয়ে কয়েক সেকেন্ড পরে আমরা ড্রাইভারকে আমাদের প্রাইভেট কারের ভিতর তুলে ফেলি। নোমান ড্রাইভারের পেটে রিভলবার ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে, “বদ্দা, এই মাল কার?”

ড্রাইভার উত্তর দেয় না। নোমান গলার সুর ও স্বর বদলায়, “বদ্দা, এই মাল তো তোর না। আরেকজনের মালের জন্য জীবন দিয়া দিবি?”

ড্রাইভার মুখ খোলে। ড্রাইভার আস্তে আস্তে মুখ খুলতে শুরু করে। এই অস্ত্র যাচ্ছে আসামের স্বাধীনতাকামী গেরিলাদের জন্য। ড্রাইভারের ফোনে কল আসে। নোমান ড্রাইভারকে এমনভাবে কথা বলতে নির্দেশ দেয় অ্যাজ ইফ কিছুই ঘটে নাই। ড্রাইভার কথা বলে, লাউডস্পিকারে। ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে একটা তথ্য ভেসে আসে।

 

৫.

নোমান ড্রাইভারকে বলে, “ও বদ্দা, তুই চলি যা।” এতক্ষণ সাইলেন্ট থাকা স্যামুয়েল কথা বলে ওঠে, সে ড্রাইভারকে নির্দেশ দেয় যে ফোন থেকে কল আসছে সেই নম্বরে ড্রাইভারকে আবার কল দিতে। নোমান ড্রাইভারকে স্যামুয়েলের হাতে ছেড়ে দিয়ে ট্রাকের ড্রাইভিং সিটে উঠে যায় ও স্যামুয়েলকে ডাক দেয়, “বদ্দা, ড্রাইভারকে ছাড়ি দাও। দেরি করলে মুশকিলে ফড়ি যাবো তো। চলি আসো, বদ্দা।”

স্যামুয়েল বলে, “ব্রো, জাস্ট পাঁচ মিনিট।”

ড্রাইভার ফোনে কথা বলে। স্যামুয়েল জেনে নেয় বাকি নয়টা ট্রাকের গাড়ির নম্বর। আরো নয়টা অস্ত্রবাহী ট্রাক পার হবে এই ঘাট দিয়ে। স্যামুয়েল ড্রাইভারের সেলফোন রেখে ড্রাইভারকে ছেড়ে দেয়। ড্রাইভারকে ছেড়ে সে ট্রাকের সামনে উঠে যায়। নোমান ভুলে যায় সেই তো গুলি করে ফুটা করে দিয়েছে ট্রাকের চাক্কা। খুব দ্রুত নষ্ট চাকা খুলে নতুন চাকা লাগানো হয়।

রাত পৌনে বারোটা। আমাদের প্রাইভেট কার ও ট্রাক চলে আসি খুলশির ঝাউতলা—নোমান বদ্দার ঘাঁটিতে। খুলশির পাহাড়ের ভিতর একটা দোতলা বাড়ি। আমরা বাড়িতে ঢুকে যাই। ঘটনার ঘোর এখনো কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। এত বিস্ময়ের মধ্যেও ক্ষিধা লাগে! আমরা খেতে বসে যাই। শুধু আমাদের হিরো খায় না। তার নাকি ক্ষিধা লাগে নাই।

স্যামুয়েল মারজিয়াকে কল করে, “টাকা পেয়ে গেছি, জানটা, বাবুটা।”

খাওয়া শেষ হয়। আমি ও নোমান সিগারেট ধরাই। খাবারের পর বক্কর ও টুটুল হতাশ। তাদের হতাশার কারণ এই যে তাদের পকেটে ইয়াবা পিল আছে মাত্র তিন পিস। এই তিন পিস দিয়ে কীভাবে রাত পার করবে এইটা নিয়ে তাদের টেনশনের কোনো সীমা নাই। নোমান তাদের বলে, “যে মাল পাইছি এই মাল বেচলে যে ফয়সা ফাবা এগুলা দিয়ে তোমাদের নাতি-নাতনি ইয়াবা না কোকেন খেয়েও শেষ করতে ফারবে না।” কিন্তু ড্রাগ এডিক্টরা নাতি-নাতনি নিয়া ভাবে না—তারা ভাবে এই মূহুর্তে তারা ফিলিংসে আছে কিনা। বক্কর নোমানকে বলে, “বাট পিনিকে ঘাটতি পরা যাবে না, ওস্তাদ।”

নোমানও জানে। বক্কর ও টুটুল পিনিকে না থাকলে সুইসাইডাল হয়ে যায়, কারণ তখন তারা কোনো ভাবেই নিগারের বিরহ কন্ট্রোলে রাখতে পারে না। নোমান বদ্দা তাই তার সহযোদ্ধার জন্য সব ঠিকঠাক করে রাখে। নোমান বদ্দা জানায় বক্কর ও টুটুলের জন্য ইনাফ ইয়াবা মজুদ আছে। এখন মিটিং শুরু হবে। কিন্তু বাবেল এখনো মারজিয়ার সাথে ফোনে কথা বলে যাচ্ছে। আমি বিরক্ত হয়ে ডাক দিই স্যামুয়েলকে। স্যামুয়েল ফোন রাখে।

মিটিং। নোমান বলে—”বদ্দা, আমি এক অস্ত্র ডিলারের সাথে কানেকশন করছি। আগামিকাল যোহরের আগেই আমরা মাল সেল দিতে ফারবো। একটা সফল অফারেশন করলাম। শুকরিয়া।”

নোমানের কথা শুনে বিস্মিত হয় বাবলু ওর্ফে স্যামুয়েল—”অপারেশন শেষ মানে?”

নোমান জবাব দেয়—”শেষ মানে কমফ্লিট। আমাদের মিশন কমফ্লিট।”

স্যামুয়েল শুধায়, “মানে ব্রো? বাকি নয় ট্রাক অস্ত্রের কী হবে?” নোমান বলে, “বদ্দা, তুমি আমারে বলছিলা যে তোমার ফ্রেমিকার বিয়া হয়ে যাচ্ছে। এইজন্য তোমার চাকরি দরকার, চাকরির জন্য ফনেরো লাখ টাকা দরকার। তাও শোকর নাই। আমি তোমারে কথা দিছি। আমি তোমারে সকালে টাকা ম্যানেজ করে দিবো। আমি আর কোনো অফারেশনে নাই।”

স্যামুয়েল নোমানকে বলে, “আপনে অপারেশনে নাই মানে আমিও নাই। এক ট্রাকই শোকর আলহামদুলিল্লাহ।”

স্যামুয়েলকে আমি বলি, “আরে খালাতো ভাই, আমি আছি, চলো কামটা করি। দশ অস্ত্র ট্রাক—মানে বোঝো?

স্যামুয়েল মুখের উপর আমাকে বলে, “তোমার উপর কোনো আস্থাই নাই আমার, ব্রো। নোমান বদ্দা থাকলে আমি আছি। নাইলে আমি নাই।”

স্যামুয়েলের কথা শুনে আমি একটু ইনসাল্ট ফিল করি। বাকি নয় ট্রাকের নম্বর, রুট ও কোন সময়ে যাবে ডিটেইল ইনফর্মেশন আমার কাছেই আছে। চার ঘণ্টা পর পর পার হবে বাকি নয়টা ট্রাক। প্রথম ট্রাকটা আমরা পেয়েছি রাত এগারোটায়। এখন একটা বাজে। তিনটার দিকে আরেকটা ট্রাক সি ইউ এফ এল ফেরি ঘাট পার হবে।

পেন্টিয়াম ফাইভ সব পলিটিক্যাল পার্টিগুলার সাথে লিংক রেখে হেডাম দেখায় সারা চট্টগ্রামে। এটা চট্টগ্রাম শহরের বড়লোক, উঠতি বড়লোক, হঠাৎ বড়লোকদের পোলাপানের গ্রুপ।

মঞ্জুকেই দরকার আমার। তার ফোনে কল দিতে থাকি আমি। সে বোধহয় ঘুমাচ্ছে। কল রিসিভ করে না। আমি একটা টেক্সট লিখি—”ইমার্জেন্সি।” সাথে সাথে মঞ্জু কল ব্যাক করে। জিজ্ঞাসা করে, “কী ভায়া, এত রাতে?” আমি তারে সব ভেঙে বলি। মঞ্জু আমারে বলে, “ওকে। আপনে ঝাউতলাতেই থাকেন। আমি আসতেছি।” আর বিশ মিনিটের মধ্যে ঝাউতলাতে হাজির হয়ে যায় একটা মাইক্রোবাস। মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসে মঞ্জু। মাইক্রোবাসের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় স্যামুয়েলের, নোমানের। আমি তাদের থেকে বিদায় নিই—”তোমরা এক ট্রাক নিয়া বসে থাকো, খালাতো ভাই। বদ্দা, খালাতো ভাইরে দেখে রাইখেন।” নোমান আমারে জিজ্ঞাসে, “বদ্দা, কোথায় যাচ্ছো যে?”

আমি বলি, “বাকি নয় ট্রাক ধরতে।” আমার যাওয়া দেখে স্যামুয়েল আবার খেলায় ফিরে আসে, “ব্রো, আমারে ফেলে কই যাও তুমি?” স্যামুয়েল হঠাৎ মঞ্জুর বাহিনীর উদ্দেশ্যে হাঁক দেয়—”অল ঘোড়া কন্ট্রোল। লেটস মুভ।”

কিন্তু মঞ্জু ঠাট্টা করে বাবেলকে বলে—”বাসায় জানে?”

হিরো জিজ্ঞাসে—”কী জানে?”

মঞ্জুর বাহিনীর সবাই একসাথে হেসে সবাই একসাথে আবার হিরো স্যামুয়েলকে জিজ্ঞাসা করে—”বাসায় জানে?”

নার্ভাস হয়ে যায় হিরো। মঞ্জু স্যামুয়েলকে বলে, “শোনো। হিরো সাজতে যাবা না। যেইখানে আমি থাকি সেইখানে টম ক্রুজ থাকলেও তারে মুততে যাবার আগে আমারে জিগায়া যাইতে হবে—মুততে যাবে কিনা। ক্লিয়ার?”

ঝাউতলার ক্রেইজিয়েস্ট পোলা নোমান চুপ করে থাকতে পারে না। মঞ্জুকে দেখিয়ে মামুন আমাকে জিজ্ঞাসা করে, “বদ্দা, এই মালটা কে?”

মঞ্জু বলে, “বদ্দা, আঁই মঞ্জু, অঁরে আঁরে নঁ চিননদে?”

মঞ্জুও সাইকো নোমানকে দেখি কেয়ার করে। আমি এই তথ্য আগে জানতাম না।

নোমান বলে, “মঞ্জু, তোমার বা কই?”

মঞ্জু জবাব দেয়, “ব্যাটারি গলি।”

নোমান বলে, “চাঁটগাইয়া বাসা বলে আমারে ফটাইতে ফারবে না, মঞ্জু। শোনো। যে অফারেশন আমরা করেছি ও আরো যে অফারেশন করবো সব আমরা শুধু বাবেলের জন্য করবো। আমরা সবাই বাবেলের সহযোগী। বাবেল যে মুহূর্তে বলবে খেলা শেষ, নগদে খেলা শেষ হয়ে যাবে। ক্লিয়ার, বদ্দা?”

মঞ্জু বলে, “টিক আছে তো বদ্দা, আঁই একখানা ফান গইজ্জিলামদে।”

নোমান বলে, “শুদ্ধু ভাষায় কথা বলো। চিটাইঙ্গা ভাষা কথা বলা আমি একদম পছন্দ করি না।”

নোমানের নিগারও চাঁটগাঁইয়া ভাষা একদম সহ্য করতো না। নোমানের প্রশ্রয় পেয়ে আমাদের নার্ভাস হিরো বাবলু আবার ফিরে আসে খেলায়। বাবলু আবার হাঁক দেয়—”অল ঘোড়া কন্ট্রোল। লেটস মুভ।”

এবার নোমান হেসে উঠে—”কই যাবে, বদ্দা?”

স্যামুয়েল ফাঁপড়ে পড়ে যায়? কই যাবো আমরা?

নোমান বলে, ‘আমরা তো যাবোই, কিন্তু ফরিকলফনা ছাড়া গিয়ে কিছু হবে?”

এই মূহুর্তে স্যামুয়েলের একটু ড্রামা করাই লাগবে। সে হঠাৎ নোমানকে জড়িয়ে ধরে বলে, “ব্রো, তুমি আমার মায়ের পেটের ব্রো’র চেয়ে ও বেশি কিছু। প্লিজ প্লিজ ব্রো আমার মাথায় একটু হাত রাইখা দুয়া দাও।” বলে মাথা নিচু করে বাড়িয়ে দেয় নোমানের দিকে। নোমান বদ্দা বাবলুর মাথায় হাত রাখে, বলে—”বদ্দা, আমি আছি।”

(কিস্তি ৩)

 

About Author

তানভীর আহম্মদ চৌধুরী
তানভীর আহম্মদ চৌধুরী

জন্ম. চট্টগ্রামে। কবি, গল্পকার, চিত্রনাট্যকার ও শর্টফিল্ম নির্মাতা। 'ডিয়ার ট্রটস্কি (২০১৬)' ও 'লাইফ ফ্রম অ্যাকুরিয়াম (২০১১)' দুটি শর্টফিল্ম বানিয়েছেন।