এই মস প্রয়োগ করার মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই পানিতে থাকা আর্সেনিকের মাত্রা এত কমে যায় যে সেই পানি আর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর থাকে না।

পানিকে আর্সেনিক মুক্ত করার ক্ষমতাসম্পন্ন এক ধরনের মস আবিষ্কার করেছেন সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। এই মস প্রয়োগ করার মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই পানিতে থাকা আর্সেনিকের মাত্রা এত কমে যায় যে সেই পানি আর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর থাকে না। “এনভায়রনমেন্টাল পল্যুশন” নামের একটি জার্নালে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

Warnstofia fluitans নামের জলজ এই মস উত্তর সুইডেনে পাওয়া যায়। এটি খুব দ্রুত পানি থেকে আর্সেনিক শুষে নিতে পারে। নতুন এ আবিষ্কারের ফলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে আর্সেনিক দূর করা সম্ভব হবে৷ সেক্ষেত্রে যেসব জলপ্রণালী বা খালে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি, সেখানে এই মস উৎপাদন করা যেতে পারে। গবেষণা দলটির রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট আরিফিন সান্ধি বলেন, পানি থেকে প্রায় ৮০ ভাগ আর্সেনিক দূর করতে মসটির এক ঘন্টার বেশি লাগে না।

সুইডেনে ২০০৪ সালে কাঠের তৈরি পণ্যে আর্সেনিক কম্পাউন্ডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তারপরও নানা রকম খনন কাজের কারণে আর্সেনিক ভূপৃষ্ঠ ও পানির উৎস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কারণ সুইডেনের কিছু অঞ্চলের মাটি ও এর ঠিক নিচের স্তরে প্রাকৃতিকভাবেই আর্সেনিক থাকে। ফলে খাবার পানি ও ফসল উৎপাদনের জন্য সেচ কাজে ব্যবহার করা পানিতে অনেক বেশি পরিমাণে আর্সেনিক সংক্রমিত হয় । তাছাড়া গাছও মাটি থেকে আর্সেনিক শোষণ করে নেয়, যা শেষ পর্যন্ত খাবারে ছড়িয়ে পড়ে।

সুইডেনে বিভিন্ন মূল জাতীয় সবজি, শাক ও গমে উচ্চ মাত্রার আর্সেনিক রয়েছে। আর অন্যান্য দেশে খাবারের মধ্যে চালে আর্সেনিকের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

সুইডেনের গবেষণা দলটির প্রধান স্টকহোম ইউনিভার্সিটির ইকোলজি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক মারিয়া গ্রেগার জানান, তারা উদ্ভিদ ভিত্তিক জলাভূমি তৈরির পরিকল্পনা করছেন। এতে পানি খাবার উপযোগী হওয়ার আগেই সেখান থেকে আর্সেনিক ফিল্টার করে অালাদা করা যাবে।

সূত্র. ইউরেকা অ্যালার্ট