page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

আদর্শ লিপি’র শুটিং থেকে – ৪

বলতেছিলাম অপর্ণা থাকলে ডিরেক্টর চার্মে থাকে, আমরাও। কারণ আছে, ছিল, এখন উপসর্গ আরো বাড়ছে। যেমন, অপর্ণা যখন তখন অকারণে খাওয়াচ্ছে। ডিরেক্টর গরম হচ্ছে, অপর্ণা খাওয়াচ্ছে। তারা বেশি খাচ্ছে, তাতে সবার লাভ হচ্ছে।

একবার আমি, মোশাররফ ভাই, আর্টিস্ট মম মোর্শেদ ভাই, ইন্তেখাব দিনার ভাই আরো কারা কারা চেতায়া এলিয়ে বসে চুটায়া গল্প করতেছি। শুটিং-এ দেখি হঠাৎ আমি আর মোর্শেদ ভাই ছাড়া আর কেউ নাই।

কীরে শুটিং চলে অথচ হঠাৎ ফাঁকা—কেউ নাই!

whomayuns logo

কই গেল সব? জানলাম সবাই মিলে বাইরে খেতে গেছে, আমাদের নিতে ভুলে গেছে। আগেও গেছে, কিন্তু মোশাররফ ভাই থাকলে এই ভুল হবে না।

mosharrof

মোশাররফ করিম।

ঠিকই একটু পর ফোন এলো, আমরা যারা আছি তারা যাতে গুলশান এক গ্লোরিয়া জিন’স চলে যাই।

গিয়া দেখি সবাই কেক টেক লইয়া একটা হুলস্থূল কারবার। আমি ভাবলাম কারো বার্থডে! এখন তো সারপ্রাইজের জামানা। যার বার্থডে সেই কয়, কীরে তোরা আমাকে সারপ্রাইজ পার্টি দিবি না। আমি সে রকম কিছু ভাইবা শরমে আছি! কার বার্থডে! গিফটও আনি নাই।

মোর্শেদ ভাই কইতেই আছে, আমার বার্থডে তো না তোর বার্থডে।

না তো, আমার বার্থডেও না।

না কারো বার্থডে না। খাবার দাবার সহ সেলফি টেলফি তোলা হল (একেকটা খাবার আসে আর মোর্শেদ ভাই জিগায় এটা কী দিয়ে খায়? সবাইকে মোটামুটি খবর করে দিল)।

এভাবে অপর্ণা সারপ্রাইজ ট্রিট দিয়েই যাচ্ছে। মাইয়াটার ভালো একখান বিয়া হোক, দোয়া করি।

মম মোর্শেদ , সোনিয়া রেজা

মম মোর্শেদ , সোনিয়া রেজা

২.
সব ঠিকাছে, কিন্তু ডিরেক্টরের কী জানি হইছে। খুব হাইপার, অল্পতে রাইগা মাইগা টং, চিল্লাফাল্লা করে একটা সিনক্রিয়েট করতেছে, একে তাকে সেট থেকে বের করে দিতাছে। ওজু করে নামাজ পড়তে যাবে এর মধ্যে কোন বিষয়ে রাইগা ফায়ার হয়া আরজে-দের মত আরবি-ইংলিশ-বাংলায় মিলায়া গাইল, শুট প্যাক করে দিতাছে, জিনিস-পত্তর ভাং-চুর করে ম্যাসাকার অবস্থা।

প্রসঙ্গক্রমে আইতাছি। আমাদের আরেকজন এন্টারটেইনমেন্ট হচ্ছেন সদ্য ইন করা সোনিয়া আপা। বিদেশ করা লোক, খুব সুন্দর, স্মার্ট, বিজনেসম্যান, মাই ডিয়ার হানি টাইপ। তিনি থাকা মানে ঠা ঠা করে হাসা। মিঠু আপার মতো।

একদিন উত্তরায় শুটিং। স্পটে যাবার সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট সবুজের প্রপস হিসাবে কিছু ছবি নিয়ে যাবার কথা। ডিরেক্টর বলে দিছে। সবুজের আইডিয়া নাই। নেট থেকে ছবি নিয়ে প্রিন্ট করবে। আমারে কইল। আমি কইলাম, লইয়া লও। ডিরেক্টর যেমনে যেমনে কইছে তেমনে তেমনে বেশ কয়েকটা লিয়ে লাও।

উত্তরা পৌঁছে দেখি আমাদের আর্টিস্ট প্রিয় বড় ভাই ডিকন নূর আগেই হাজির। তিনি ধনী, জব করেন তারপরেও এসব ব্যাপারে সিনসিয়ার।

সবুজ ও হায়দার চাচা

সবুজ ও হায়দার চাচা

এর মধ্যে আলাপ হতে না হতে মেকাপ রুমে সোনিয়া আপা আর ড্যাশিং ডিকন ভাই বেশ জমায়া ফেলছেন। ডিকন ভাই পুরা ফ্লোর নিয়া বেশ ফর্মে। আমাদের ভাত নাই। আমরা আশেপাশে আছি আর কি! তিনি একটার পর একটা জোক কইয়া ছক্কা মারতাছেন আর সোনিয়া আপা গগনবিদারি হাসিতে তাল-মাতাল করে দিচ্ছেন। বাইরে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাক আমরা এখানে আছি। তারা সেলফি-গলফি তুলছেন। আমি মেকাপ রুমের বাইরে আইসা দেখি মোর্শেদ অ্যাসিস্ট্যান্ট সবুজরে ধুইতাছে—এগুলা কী ছবি আনছো? সেন্স নাই? কন্টিনিটি জানো না? এগুলা যায় সিনের লগে? বলে আর তুলে তুলে ছবির ফ্রেম আছাড় মারে। কাচে ভরপুর।

আর বিলাপের মত করে, আমি শুটিং করব না, প্যাক আআআপ। আমার মাথার ঠিক নাই… এগুলারে নিয়া কেমনে কাম করব… আমারে কে কইছে সিরিয়াল করতে! বলে আর ফ্রেম তুলে তুলে আছাড় মারে। আর হাউজের লোক এসে ঝাঁট দিয়ে কাচ পরিষ্কার করে।

যেন তারা আগে থেকে জানে বা অভ্যস্ত, যেন এটাই নাটকের সিন। ডিওপি আমাকে ইশারায় মোর্শেদকে শান্ত করার দায়িত্ব দিয়া গেল। শুট তো হবেই, আমি সুন্দরভাবে যাতে হয় কুল থাকার লাইগা সবাইরে বোঝাইলাম। এর মধ্যে মেকাপ রুম থেইকা ডিকন ভাই বাইর হইলেন। চারপাশে কাচকুচ দেইখা পুরনো রীতিতে তিনিও অভিভূত হইয়া গেলেন।

তিনি এসে ঘোষণার মত করে বললেন, যেহেতু কাচ ভেঙেছে সো সিরিয়াল মাস্ট বি হিট।

পাশে ডিরেক্টর নাক-মুখ ফুলায়া আহত সিংহের মত গোঙ্গাইতেছে। ডিকন ভাই কারো সাড়া না পাইয়া আমারে কইলেন, ফ্যাক্ট কিন্তু। আসলেই কিন্তু হিট হয়। ইটস ট্রু।

আমি কইলাম, জানি রে ভাই। এবং কেন দুর্ঘটনা ঘটলে হিট বলা হয় তার সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যাও দিলাম। তারপরে কইলাম, এর আগে এই সিরিয়ালেই আমরা ব্যাপক ভাঙচুর কইরা অলরেডি হিটলিস্টে উইঠা গেছি। তবে আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন।

ইজিট?—উনি আমার দিকে একবার মোর্শেদের দিকে একবার ঘাড় ঘুরাইয়া দেইখা লইয়া কী জানি মনে পড়ল আবার বেহেস্তখানা মেকাপ রুমে ঢুইকা পড়লেন।

মোর্শেদের শুরুয়াত কাফি আচ্ছা থা। আস্তে আস্তে বিগড়াইছে মনে হইছে। কীসের চাপ জানি না। মাঝে মাঝে মোর্শেদের লগে শেয়ারিং হইছে। পরিবারের চাপ লইতে হয় না তার। আর তার পরিবার খুব অমায়িক দেখছি। সদ্য বিয়া করার একটা সাইড ইফেক্ট হইতে পারে! কিন্তু বিয়ে করলে তো পয়লা পয়লা বেশ ফুর্তি থাকে তারপর নাকি অভ্যাস হয়া যায় জানি। টিভিসি করা পোলা সিরিয়ালের প্যানা লইতে আইছে। কই টিভিসি আর কই সিরিয়াল! আমার বাপ কইত, কই এম্রিকার রকেট আর কই আম্বিয়ার মার পকেট। সিরিয়াল করতে এসে আমগোর মত অমাইনষের পাল্লায় পইড়া আউলায়া গেছে। আরো কোনো চাপ থাকতে পারে, আছেও।

৩.
আমাদের পুরান ম্যাডাম মোহিনী ক্যারেক্টার করা অতি প্রিয় সদালাপি মিঠু আপা, উনিও পুরা দিলখোলা। একদিন আমি কইলাম, মিঠু আপা, আপনার অ্যাক্টিং দেইখা দেইখা বড় হইছি। এখন আপনারে দেখে আরো মুগ্ধ হইতেছি। প্রাণ ফ্রুটোর মত খাঁটি হাসি।

শুনেই মিঠু আপা স্বভাবসুলভ জিভ বাইর কইরা চেয়ার টেবিল উল্টায়া হাসতে হাসতে উল্লাসে ফাইটা যায় যায় অবস্থা। কয়, মাইচ্ছেরে আমারে মাইচ্ছে। আমারে দেইখে দেইখে বড় হইছো! চাপা মারতে গিয়া আমার বয়স কই নিয়া গিয়া ঠেকাইছো? আমার এত বয়স না।

সুজন সরকার, বিপ্লব মানব, রতন ভাই, নয়ন, হাফিজ

সুজন সরকার, বিপ্লব মানব, রতন ভাই, নয়ন, হাফিজ।

আমি আরো বিনয়ী হইতে গিয়া ব্যান্ডেল মাইরা দিলাম, না আপা, আপনি অনেক ইন্সপায়ার করেন।

উনি কইলেন, হ, আমি সবসময় সবাইরে ইন্সপায়ার করার চেষ্টা করি।

মিঠু আপার সাথে প্রথম সিনে একটা শট দেবার পর, মিঠু হঠাৎ বলল, সাধু, তোমার তো অনেক মায়া। এত মায়া কোত্থেকে?

আমি আরো বিগলিত হয়ে গেলাম। আমাদের সিরিয়ালের ছাত্রী কাম বুয়া চরিত্রে রূপদানকারী ভদ্রের শিরোমণি শামিমা নাজনীন। যারা মিশছে তারা জানে। আচার ব্যবহারে উনারে একশোতে একশো দেওন যায়। ডিরেক্টর মোর্শেদও খুব পছন্দ করত। সেই শামিমা আপার লগে একদিন খিঁচ। বিনয়ের দেবী শামীমা আপা একদিন বিদ্রোহ করে বসলেন।

শরীর খারাপ করছে উনি যাইব গা। সেদিনকার একটা মজার ঘটনা আমি ভুলতে পারি না। শামীমা আপা গেছে গা। শুট প্যাক আপ। আমরা সবাই ঝিম মেরে বসে আছি। মনে মনে সবাই খুশি।

ডিরেক্টর তার রাগ, ক্ষতি, আঘাত বোঝাইতে পারতেছে না, ঘাড়ের মুখের রগ ফুলায়া ঝিম মাইরা আছে। ডিরেক্টরকে ঘিরে সবাই বসা। এরমধ্যে কাবিলতি দেখায়া তারেক ভাই আহ্লাদি করে আবৃত্তির সুরে কইতে গেছে, আচ্ছা মোর্শেদ এমন কেন হচ্ছে!শুটিং-এর এ হাল কেন? এমন হচ্ছে কেন?

সে সেফ সাইডে, খুশিতে কিন্তু তার মুখ দিয়া ফেনা বের হইতেছে। মোর্শেদ আস্তে তার মুখের দিকে চাইল। একজনরে কইল, দরজাটা বন্ধ কর। তারপর হালকার উপর ঝাপসা খেপতে খেপতেও না খেইপা কঠিন মুখে শুরুটা করল এমন, তারেক ভাই, সব আপনার জন্য।

তারেক ভাই বিস্মিত! আমরাও গভীর মনোযোগ দিলাম। “আপনি দয়া করে ঠিক হোন।” এ ঘটনার আগে পিছেও তারেক ভাই নাই। আর শুটিংয়ে ঝামেলা হইতাছে, প্যাক আপ হইছে তারেক ভাইয়ের জন্য!

মোর্শেদ কইল, হ্যাঁ, আপনের জন্য। আপনি দয়া করে মাইয়াগো লেঞ্জি ছাড়েন। ছাড়েন। এসব বাদ দেন। লাইফটা সাজান। ডিসিপ্লিনড্‌ হন। আপনার জন্যই সব হচ্ছে।

তারেক ভাই আচমকা তার উপর আসা তোপটা নিতে না পাইরা কইল, আচ্ছা কী ব্যাপার কী বলো তো। আমার প্রবলেম কী? কী করা যায় বলো তো?

মোর্শেদ সুন্দর কইরা কইল, হুম সময় আছে, সমাধানও আছে। খানার দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়া অ্যাক্টিং-এ মনোযোগ দেন দয়া করে, আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে। ডেলি ব্যায়াম করেন, কচি মাইয়াগো লগে ইটিশ-পিটিশ বাদ দেন, তাদের জীবনটা বরবাদ কইরেন না ভাই। পয়েন্ট দিয়ে এমন আরো কী কী কইতাছিল। আমার তখন হাসি চাপাইতে চাপাইতে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুসসহ বের হয়ে যাবার জোগাড়।

momo3

মম মোর্শেদ ও সোনিয়া রেজা।

খেলা কইত্থেইকা কই ঘুরল। তারেক ভাই মন দিয়া শুনল। তারপর কইল এগুলা ঠিক করলে সব স্মুথলি চলবে?

মোর্শেদ—জি, আর দয়া করে আজাইরা পেইন দিয়েন না। বইলা বের হয়ে গেল।

তারেক ভাইর মাথায় কয়েকটা চুল আছে সেগুলা হাতাইতে হাতাইতে কইল, আমি আজাইরা পেইন দেই? আমার দিকে তাকাইল, কী বলে গেল। আমি কিছু কইতে ধরছিলাম, কিন্তু আর পারি নাই হাসি আটকাইতে।

এই ফ্যাকড়াগুলাও সুন্দর ট্যাকল দিছে মোর্শেদ। নগদে রুমে এসি লাগায়া দিল, এসি আছিল না। তাজা কিছু ক্যারেক্টার ঢুকাইলো। হ্যাঁ, নয়া আরেকটা ক্যারেক্টার ঢুকছে হালের হটকেক মোহনীয় সাবিলা নূর। অ্যানাদার সিটিজিয়ান। আমাদের নায়িকা অপর্ণার লগে দহরম মহরম। দুজনে খালি কুটুর ফুটুর কুটুর ফুটুর। সিটিজি টান আছে সাবিলার, যদিও সিটিজি ভাষা কইতে পারে না। তারে দেখলেই গানটা মনে আসে, ও মেরা বাবু সেল সাবেলা ম্যায়তো নাচুঙ্গি। সাবিলা ভাঙচুর নাচ নাচে। স্পেশালি কত্থক। ইংলিশ সাহিত্যপ্রিয় সাবিলা ইংলিশ মাধ্যম থেকে আসা বলে বাংলায়ও প্রব আছিল। আমরা তার কাছে ইংলিশ শেখা শুরু করলাম। chicanery (সিকেনারি) মানে বাজে বা ধোঁকা দেয়া।

সাবিলার সাথে শটে গেলেই সাবিলা হাসাহাসি শুরু করে দিত। শেষে আমারে ধমক দিয়া সাবিলার হাসি থামাইতে হইছে। একটা দৃশ্যে আমি তার হাত টেনে ধরব। এমনিতে মেয়েটার হাসি ব্যারাম তার উপর আমার আইতাছে হাসি, আমি আর হাত ধরতে পারি না। সে হেল্প করতে গিয়া আমারে হাত আগায়া দেয়, আমার আরো হাসি পায়।

আমি বেসিক্যালি লাজুক। আর বেশ কদিন পরে আমরা হীরাসহ সবাই বইসা আছি, ডিরেক্টর সিন বুঝাইব। সাবিলা কোনা দিয়া বসল। আমার পাশে সিট আছিল, হীরা ডাকল সেখানে বসার জন্য, সাবিলা কইল, না, উনি লজ্জা পায়, পরে উঠে দৌড় দিবে।

হীরা কয়, না না আমরা পাটা দিয়া পুইতা লজ্জা ভাইঙ্গা দিছি। আরেকটা মেয়ে ঢুকছে হীরা। র‍্যাম্পের। আমরা বিলাই’র কাছে শিখছি হাঁটা আর কুত্তার কাছে… থাক ভুইলা গেছি। হীরার খোমার মইধ্যে কারিনা+ক্যাট্রিনা+মর্জিনার একটা মিক্সিং আছে। চেহরা যেমন সুন্দর ক্যামেরায় সেটা আসে না। দেখে কিচ্ছু বোঝার উপায় নাই। সবসময় স্টিফ। তার লগে আগেও কাজ হইছে, এখন অনেক নরমাল, ইজি হইছে। সেই হীরার লগেই মোর্শেদ ঠিক করছে আমার একটা আইটেম সং করব। সিরিয়ালে? আইটেম সং? খাইছে রে!

বিপ্লব, আমি আর হীরা

বিপ্লব, আমি আর হীরা

গরম গান ছাইড়া দেবার পর দেখা যায় পুরা ইউনিট কোমর দোলায় হীরার কোমর আর দোলে না। কয়, আমার কোমর দোলে না তো। আমি তার কোমরের দিকে তাকাইলাম। সেই আয়োজন নিয়া আরেক ফর্দ লেখন যাইব। মম মোর্শেদ ভাই থাকলে আমাদের তিনজনের ভালো জমে। মোর্শেদ ভাই ভালো আর্টিস্ট, নিজেরে গরীব আর্টিস্ট ডিক্লেয়ার দিছেন। এই তরিকাটা আবার সবার মধ্যে হান্দায়ে দিছেন। কারো টাকা পয়সার লাগলে, কার না লাগে, থালার মত হাতখান কইরে ডিরেক্টরের সামনে খাড়ায়া যায়, ভাই আমরা গরীব, আজকে কিছু দিবেন।

ইদানিং মোর্শেদ ভাই নির্লিপ্ত থাকার ব্রত লইছেন। সব কিছু থেইকা। শুটিং-এ আইসাই জামা কাপড় খুইলা এক খণ্ড তোয়ালে জড়াইয়া শুইয়া পড়েন। ঘুমের মধ্যে তোয়ালের পজিশান সইরা যায় কিন্তু উনি উনার কর্তব্য থেইকা সরেন না। নিজেকে বেশি জ্ঞানী জ্ঞানী করেন না। আমিও যেহেতু মোটামুটি জ্ঞানী, তিনি মনে করেন, তাই আমরা কিঞ্চিৎ জটিল মনঃস্তাত্ত্বিক বিষয় লইয়া বিস্তর মহাজাগতিক আলাপ ঝাড়ি। সেটে নারী আর্টিস্ট থাকলে ভিন্ন।

সর্বশেষে, আমার সবচাইতে প্রিয় চরিত্র মনা। মনা চরিত্রে কাজ করতেছে শরিফুল। চমৎকার একটা পোলা। গাজীপুরের। পুরো পরিবারের ইনকাম তার উপর। তারপরেও তার নিজের ইচ্ছায় পড়াশোনা চালায় নিচ্ছেন। এইসব কারণে না, তার ভঙ্গি, গাজীপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার স্টাইল, ইন্সট্যান্ট বুদ্ধি—তার গান ভাসায়া দেয় যে কাউরে। সবাই তারে পাগলের মত আদর করে। এমনিতে কোলা ব্যাঙের মত, আদর লাগে। বিশেষ করে সেটে মেয়েরা তার গাল টানবেই। টাইনা টাইনা তার গাল আলুখোরের মত ফুলায়ে ফেলছে। এইটা তার অভিযোগ।

সে আগে গাজীপুরে আলু, বরই বেচতো। রবির “বেসম্ভব” হিট বিজ্ঞাপনটা করার পর মাইনষে তার লগে ছবি তোলে। সে শর্ত দিয়া দিছিল, ছবি তুলতে হইলে বরই কিনতে হইব, নাইলে প্রতি ছবি দশ টাকা। এ হচ্ছে আমগো শরিফুল। সাবিলা তারে দেখলেই চুম্মা দিতে তেড়ে আসে। সে দিতে দিবে না, অনেক জোর করে আমরা কজন মিলে বলপ্রয়োগ করে চাইপা ধরলাম, সাবিলা জোরপূর্বক ঘইষা চুম্মা দিল এবং আমরা তার ফটোও খিঁচলাম।

ডিকে দেব, সুজন সরকার, রতন ভাই, বিপ্লব, আমি আর শরিফুল

ডিকে দেব, সুজন সরকার, রতন ভাই, বিপ্লব, আমি আর শরিফুল

"এরপর থেকে সাবিলা ডাকলে সে পলায়া পলায়া থাকে।"

“এরপর থেকে সাবিলা ডাকলে সে পলায়া পলায়া থাকে।”—শরিফুল ও সাবিলা নূর

এরপর থেকে সাবিলা ডাকলে সে পলায়া পলায়া থাকে।

এখানে আরো ছিলেন দিনার ভাই, ফারুক আহমেদ। তাদের বিশেষ পাই নাই। দিনার ভাই বিশিষ্ট পোলাইট যাকে বলে, ফার্স্ট ক্লাস হ্যান্ডসাম চমৎকার মানুষ। ফারুক আহমেদ অ্যাক্টিংয়ে যেমন বাস্তবেও কথা বলার ভঙ্গি তাই। মজা মাইরা কথা কন একই ভঙ্গিতে।

মোশাররফ ভাইরে লইয়া আরেক দিন, আলাদা কইরে লিখতেছি, তার সেরকম কিছু গান আছে শুনলে উদাস না হইয়া যায় না। বাসায় আইসা আবার খুঁজতে হয় শোনার লাইগা। এত গান জানে কেমনে আর এত মনেও থাকে! তার নিজের কবিতা আছে, সং গ্রহ করতেছি। টাইম লাগবো।

আমাদের সিরিয়াল শেষ করে দিতাছে। শুটিং প্রায় শেষ। শেষে সবাই পিকনিকে গেলাম। পিকনিক+শুট।

About Author

হুমায়ূন সাধু
হুমায়ূন সাধু