page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

আপনার বাচ্চাকে লম্বা হতে সাহায্য করবেন যেভাবে

আপনার বাচ্চা সর্বোচ্চ কতটুকু লম্বা হবে তা জেনেটিকস দ্বারা নির্ধারিত, অর্থাৎ লম্বা হওয়ার ব্যাপারটি জিনগতভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে।

বাচ্চারা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সাধারণত বাবা-মায়ের গড় উচ্চতার সমান লম্বা হয়। অথবা ছেলে হলে বাবার সমান এবং মেয়ে হলে মায়ের সমান লম্বা হয়ে থাকে।

একেকজনের বেড়ে ওঠা বা উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার ধরনও আলাদা আলাদা হয়। কেউ অনেক অল্প বয়সেই অনেকটা বেড়ে ওঠে আবার কেউ ১৩-১৯ বছর বয়সের মধ্যে বেড়ে ওঠে।

আপনার বেড়ে ওঠার ধরন আপনার সন্তানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ আপনার উচ্চতার প্রধান অংশ যে বয়সে বৃদ্ধি পেয়েছে, আপনার সন্তানের ক্ষেত্রেও সেটি হবে।

তবে আপনার সন্তান যাতে তার সর্বোচ্চ উচ্চতা পর্যন্ত বেড়ে ওঠে, সে ব্যাপারে আপনি সাহায্য করতে পারেন বা বাবা-মা হিসেবে খেয়াল রাখতে পারেন।

children-height-5

বয়সন্ধিতে বেড়ে ওঠা

বাচ্চারা সাধারণত ৪ বছর বয়স থেকে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত প্রতি বছরে ২ ইঞ্চি করে লম্বা হয়। মেয়েরা ১০ বছর বয়স বা বয়ঃসন্ধির শুরু থেকে বছরে ২.৫ থেকে ৪.৫ ইঞ্চি করে লম্বা হয়।

ছেলেদেরও মূল বৃদ্ধি এই বয়ঃসন্ধি কালেই শুরু হয়। ছেলেরা ১২ বছর বয়স বা বয়ঃসন্ধির শুরু থেকে বছরে ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি করে লম্বা হয়।

 

সঠিক খাবার

বাচ্চাদের লম্বা হওয়া বা উচ্চতার পরিপূর্ণ বিকাশের পিছনে পুষ্টির ভূমিকা অপরিসীম।

আপনার বাচ্চা যাতে সঠিক মিনারেল বা খনিজ পদার্থ, ভিটামিন, শর্করা, আমিষ, ফ্যাট ইত্যাদি পায় তা নিশ্চিত করুন।

এই সকল খাদ্য উপাদান শরীরের বৃদ্ধির জন্য পাওয়ার হিসেবে কাজ করে।

নিশ্চিত করুন, আপনার বাচ্চা যাতে দিনে যথাযথ পরিমাণ পানি পান করে।

উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্যালসিয়াম দেহের হাড়ের বৃদ্ধি ঘটায় এবং হাড় মজবুত করে।

১ থেকে ৩ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম, ৪ থেকে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের ১০০০ মিলিগ্রাম এবং ৯ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ১৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম দরকার।

 

পর্যাপ্ত ঘুম

আপনার বাচ্চার পর্যাপ্ত ঘুম দরকার কারণ ঘুমের সময়ে তার শরীর রিচার্জড হয়, অভ্যন্তরীণ ভাবে সেরে ওঠে এবং বেড়ে ওঠার হরমোন উৎপন্ন হয়।

স্কুলে যেতে শুরু করেছে এবং এখনো টিনএজে পড়ে নি এমন বাচ্চাদের জন্য প্রতি রাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার।

টিনএজে যারা পড়েছে তাদের জন্য সাড়ে আট থেকে সাড়ে নয় ঘণ্টা ঘুম দরকার।

আপনার বাচ্চার বয়স যাই হোক না কেন, তার মধ্যে এমন অভ্যাস গড়ে তুলুন যাতে সে প্রতি রাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যায় এবং প্রতিদিন সকালে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠে।

এমনকি ছুটির দিনগুলিতেও।

 

যথেষ্ট পরিমাণে নড়াচড়া বা খেলাধুলা করতে হবে

সঠিক পরিমাণ ব্যায়াম বা খেলাধুলা করলে তা আপনার বাচ্চার উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং অবেসিটি বা অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করবে।

আপনার বাচ্চার প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ব্যায়াম বা খেলাধুলা করা দরকার।

আপনার বাচ্চাকে হেঁটে স্কুলে যেতে বা হেঁটে গিয়ে দোকান থেকে এটা-ওটা কিনে আনতে উৎসাহিত করুন।

যদি আপনার বাচ্চাকে প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ খেলাধুলার সুযোগ দিতে না পারেন তাহলে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলিতে বেশি করে খেলতে দিন।

বিকালে বা সন্ধ্যায় বাসার কাজে তাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখুন।  

 

আপনার বাচ্চার বৃদ্ধি যদি ধীরে ঘটে

আপনার বাচ্চার বৃদ্ধি থেমে আছে কিনা বা খুব ধীরগতিতে হচ্ছে কিনা তা খেয়াল করুন।

সন্দেহ হলে এর পিছনের স্বাস্থ্যগত কারণ কী তা বের করুন।

আপনার বাচ্চার বৃদ্ধি যদি তার বয়স অনুযায়ী ৫ শতাংশের নিচে হয় অথবা ৯৫ শতাংশের উপরে হয় তাহলে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

কোনো অসুখ বা জেনেটিক সমস্যার কারণে বেড়ে ওঠাতে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।

চিকিৎসক আপনার বাচ্চার জন্য কোনো ওষুধ দিলে সেগুলির সাইড এফেক্টস বা পার্শ্বপতিক্রিয়া নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক