page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

আপনি দিনে ঘুমান, না রাতে?

আপনি কি রাতে আগে আগে ঘুমিয়ে পড়েন, নাকি রাত জাগতে পছন্দ করেন?

সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর আপনার বয়সের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ধীরে ধীরে জানা যাচ্ছে এটি নির্ভর করে আপনার জিনের উপরও। আগে ঘুমানো কিংবা রাতে জাগা একেক পরিবারে একেক ভাবে দেখা যায় এবং এই ব্যাপারটির মধ্যে জেনেটিক সম্পর্ক আছে।

বর্তমানে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলছেন কোন জিনিসটির কারণে আপনি সকাল বেলায় ওঠেন অথবা রাতে পেঁচার মত জেগে থাকেন।

ফলের মাছির ওপর করা নতুন একটা গবেষণা মানুষের ঘুমের ঘড়ির ব্যাপারে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায়, ফলের উপর যেসব মাছি বসে তাদের জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে এর মাধ্যমে জানা যাবে কোনো ব্যক্তি রাত বেশি জাগেন নাকি সকালে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে পড়েন। এই ধরনের প্রাণীগুলির ‘জেনেটিক ক্লক’ যেহেতু মানুষের মতই, তাই গবেষকেরা মনে করেন যে-সকল জিন ঐ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে সেই একই জিন আমাদের বেলাতেও একই কাজ করবে। কিন্তু তাদের জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তারা প্রায় ৮০টি ভিন্ন আচরণের জিন খুঁজে পেয়েছেন।

গবেষণাটির সহ লেখক ড. এরান তৌবার বলেন, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বেশিরভাগ লোকেরই কর্মক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। শরীর এবং আচরণের ওপর এই ব্যাপারটির প্রভাব দেখা গেছে, কিন্তু কী কারণে এটি হয় বা এর আণবিক ফাংশন এখনো অনেকটাই অজানা ।

ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের একটি গবেষণা দলের কর্মীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন দিনের কোন সময়টাতে গুটিপোকা তার খোলস থেকে বের হয়। তার ওপর ভিত্তি করে তাদের মধ্যে দুটি আচরণগত পার্থক্য চিহ্নিত করেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে তারা ভোরের দিকেই বের হয়, কিন্তু কিছু সংখ্যক বের হয় দিনের পরবর্তী ভাগে অথবা রাতে। পরবর্তীতে এই গবেষণার উপর ভিত্তি করেই গবেষকরা একই ধরনের জেনেটিক গঠন তৈরি করার জন্য পরে জন্ম নেওয়া মাছিদের বংশবৃদ্ধি করিয়েছেন এবং এবং এই জিনগত কারণেই পরবর্তী মাছিগুলিও পূর্বের মাছির মত একই ধরনের আচরণ করে।

আরো পড়ুন: প্রতিদিন আপনার কত ঘণ্টা ঘুম দরকার

পরবর্তীতে ঐ সকল মাছির বের হবার সময় থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ভেতর একটি ডিএনএ টেস্ট করেছেন। তাতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে আগের মাছি এবং পরবর্তী মাছিদের মধ্যে একই জিন কার্যকর থাকে, শুধু তাই নয়, জিনগুলি নিজেরাও আলাদা আলাদা আচরণ করে।

ড. তৌবার আরো বলেন যে, গবেষণায় আমাদের একমাত্র কাজ ছিল, ভিন্ন ভিন্ন জিনের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে পেঁচা এবং ভরতপক্ষীর ভিন্ন ভিন্ন আচরনের জন্য কী দায়ী? এই পার্থক্যের অনেকটা কারণই হল, প্যাঁচা এবং ভরতপক্ষীর ডিএনএ বিন্যাসের মধ্যে ভিন্নতা—তাদের ভেতর অবস্থিত জিনের ভার্সনের ভিন্নতা।

তৌবার বলেন, জিনের অভিব্যক্তি দেখাটাই আমাদের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল। একটি প্রশ্ন অবশ্যই আসে যে কী কারণে জিনগুলি পেঁচা ও ভরতপাখিতে আলাদা আলাদা আচরণ করে। এই পার্থক্য আসলে ঘটে তাদের ডিএনএ সিকোয়েন্সে জিনগত বৈচিত্র্যের ফলে—পেঁচা এবং ভরতপাখিতে আলাদা আলাদা জিনের ধরন রয়েছে।

ড. এরান তৌবার

এ থেকে বোঝা যায় আগে যেমন মনে করা হয়েছিল তা ঠিক নয়, ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠে তাদের তুলনায় যারা দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে তাদের জেনেটিক ক্লকে জিনগত অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া দেরিতে ঘটে না। কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ঘটে। তৌবার বলেন, একবার যদি ভরতপাখির জিনে কোনো অভিব্যক্তি দেরিতে হয়, তাহলে জিনের আণবিক প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কিছু ব্যাপার ঘটবে। শেষ পর্যন্ত হয়ত মিল থাকবে কিন্তু পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা আলাদা আণবিক গঠন তৈরি হবে।

তবে এই গবেষণাটি আগ্রহোদ্দীপক কারণ, গবেষকদের মতে, আমরা আমাদের স্বাভাবিক ছন্দের ব্যাপারে জানতে পারছি এবং বুঝতে পারছি আমরা কীভাবে জীবন যাপন করি এবং কাজ করি তাতে জেনেটিক ক্লক কীভাবে সাহায্য করে। আধুনিক যুগে আমরা ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজ করি, এবং ধীরে ধীরে এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে সবার জন্য এই সময়টিই কাজের উপযুক্ত সময় নয়, কেউ কেউ অন্য সময়ে তাদের সর্বোচ্চ কাজ করার ক্ষমতা রাখে।

About Author

রাইয়্যান আহমেদ অর্ক
রাইয়্যান আহমেদ অর্ক

একাডেমিক নাম জাওয়াদ আহমেদ। ঢাকায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে নৃবিজ্ঞান পড়ছেন।