আমার স্ত্রী মনে করে না আমি ভাল অভিনেতা—শাহ রুখ খান

  • শুরুতেই একটা  নিয়ম তৈরি করেছি, বছরে ৫টার বেশি ছবি করব না
  • প্রচারণাই যদি সবকিছু হয়, তাহলে যেসব অভিনেতারা দুর্দান্ত ইন্টারভিউ দিয়েছে তারাই সুপারস্টার হত
  • আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালবাসি এবং এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই

শাহ রুখ খানের প্রথম সাক্ষাৎকার

এটি ১৯৯২ সালে ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনকে দেওয়া শাহ রুখ খানের প্রথম ইন্টারভিউ। ১৯৯২ সালে, তার প্রথম ছবি ‘দিওয়ানা’ তখন মাত্র মুক্তি পেয়েছে। তার সে সময়ের কথায় কাজের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সততা বোঝা যায়। তার কথায় আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে—এ কারণেই শুরু থেকে তিনি প্রচারের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। 

ফিল্মফেয়ার

আপনার প্রথম ছবি দিওয়ানা হিট হওয়ায় কেমন লাগছে?

শাহ রুখ খান

আমি অনেক আনন্দিত যে আমার ছবি খুব ভাল করেছে। পরিচালক এবং প্রযোজকের জন্য খুশি লাগছে। ইন্ডাস্ট্রির জন্যও একটা হিট জিনিস। তবে আমি মনে করি না এটার সাফল্যে আমি কোনো অবদান রেখেছি। আমার পারফরমেন্স ভয়ঙ্কর ছিল — লাউড, অশ্লীল ও নিয়ন্ত্রণহীন। মারাত্মক রকমের ওভার অ্যাক্টিং করেছি এবং সেটার পুরোপুরি দায় অামি নিচ্ছি। তবে কোনো ডিজাইন ছাড়া কাজ করেন যখন তখন এরকমই হয়। আমার কাছে স্ক্রিপ্টও ছিল না। অনেক পরে শ্যুটিং শুরু করার কথা ছিল, কিন্তু আমার অন্য কিছু শিডিউল বাতিল হয়ে যায় এবং সেই সময়গুলি এই ছবিতে  বরাদ্দ করি। নিজের সবচেয়ে খারাপ সমালোচক আমিই এবং পর্দায় যখন নিজেকে দেখি আতঙ্কিত হয়ে যাই। মানুষ আমাকে ছবিতে পছন্দ করেছে এটা কি অসাধারণ ব্যাপার না? সম্ভবত এর কারণ হল আমি নতুন মুখ। এমন কোনো পারফরমেন্স এটা না যে রিপিট করব বা মনে রাখব।

ফিল্মফেয়ার

তাহলে কি বলতে চান, এই সাফল্যের কারণ সিনেমার মিউজিক?

দিওয়ানা ছবিতে শাহ রুখ ও দিব্যা ভারতী

শাহ রুখ

অবশ্যই। আমার মন চায় মানুষ যদি বলত মিউজিক ভাল তবে শাহ রুখ তার চেয়েও ভাল। কিন্তু দিওয়ানায় মিউজিক সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। বাকি কৃতিত্ব দেওয়া উচিৎ পরিচালক রাজ কাওয়ারকে, যেভাবে গানের চিত্রায়ন করেছেন তার জন্য। ঋষি ভাই অনেক ভাল পারফরমেন্স করেছে, দিব্যা ভারতী, দেভেন ভার্মা ও অমরিশ পুরিও তাই। তবে এই ছবিকে যদি মনে রাখা হয় সেটা হবে নাদিম-শ্রাবণের কারণে। তাদের মিউজিকের কারণে অনেক ছবি চলছে। আমি এখন তাদের জুতায় পা গলাতে চাই—তারা মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে যেমন সফল, আমি অভিনেতা হিসেবে সে রকম সফল হতে চাই।

 

ফিল্মফেয়ার

শুরুটা এরকম হলে অধিকাংশ নিউকামারই অনেক খুশি হবে। আপনি কেন নিজের কৃতিত্ব কমিয়ে দিচ্ছেন?

শাহ রুখ

আমাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও প্রযোজক আমার কাপড়-চোপর, আমার মেক আপ, আমার যাতায়াত, আমার খাবারের পিছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। আমার উচিৎ ছিল ছবিটাতে আমার সেরাটা দেওয়া, তাহলে বিষয়টা যথাযথ হত। আমার সিনেমার কারণে আমি সফল হতে চাই না, আমার কারণেই সিনেমার ভাল করা উচিৎ। যদি কোনো বেবুন বা অন্য কেউ ছবি করে তাহলে এটার হিট হওয়া উচিৎ না।

ফিল্মফেয়ার

আপনার সাফল্যে আপনার স্ত্রী কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? সে কি খুশি?

শাহ রুখ

(হেসে) আমার স্ত্রী মনে করে না আমি একজন ভাল অভিনেতা। গৌরী বলে আমি সবসময় ওভার অ্যাক্টিং করি এবং পর্দায় আমাকে ভালোও দেখায় না। সাধারণত সে আমার কাজ নিয়ে মাথা ঘামায় না, তবে এটার ব্যাপারে সে ব্যতিক্রম হয়েছে। যতদূর বলতে পারি কোনো থিয়েটারে গিয়ে সিনেমাটা দেখার সাহস আমি অর্জন করতে পারি নি।

ফিল্মফেয়ার

আপনাকে পর্দায় দেখে দর্শকরা যে উল্লাস করেছে, তা দেখে বলা যায় আপনার শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনার ভক্তরা আপনার পারফরম্যান্সে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?

 

(পাশে বসা বিবেক ভাসওয়ানি তার হয়ে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন) সে নতুন বাসায় উঠেছে, সে কারণে তার সব চিঠি আমার বাড়িতে পড়ে আছে। তিনটা ব্যাগ ইতোমধ্যে ভর্তি হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন আরো আসছে। প্রতিদিন গড়ে সে ১৫০টি চিঠি পায়। চিঠিগুলির উত্তর দেওয়ার জন্য এর মধ্যে কোনো একদিন তাকে আলাদাভাবে বসতে হবে।

ফিল্মফেয়ার

আপনি কি নতুন অনেক ছবি সাইন করেছেন?

শাহ রুখ

দিওয়ানার পর আমি আরো পাঁচটি ছবি নিয়েছিলাম, সেগুলির কাজ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি আমি পাওয়ান কাউলের জাদু’তে সাইন করেছি। তারপরে রমেশ সিপ্পির সাথে একটা ছবি আছে এবং মনমোহন দেশাই’র সাথে আরেকটা আছে। আগামী মে’র মধ্যে এগুলি শেষ হবে আশা করছি, তারপরে আরো দুটি ছবি হাতে নিব। ‘৯৩ সাল শেষ হতে হতে আমার হাতে মুক্তির জন্য আরো পাঁচটি ছবি থাকবে। এটাই হবে আমার কাজের স্ট্র্যাটেজি। প্রতি বছরে চারটা-পাঁচটা সিনেমা করলে মাঝে মাঝে অফবিট ছবি করার মত যথেষ্ট সময় থাকবে আমার হাতে। আমার রোল যদি ভাল হয়, আমি সবসময়ই ইন্টারেস্টেড।

ফিল্মফেয়ার

ফৌজি সিরিয়ালের সিক্যুয়েল কেন বাতিল করে দিলেন? এর কারণ কি কর্ণেল কাপুর আপনাকে পারিশ্রমিক দিতে পারে নি?

শাহ রুখ

একেবারেই তা না। কর্ণেল সাহেব যদি আমাকে মধ্যরাতে ফোন করে এবং একটা রোল অফার করে, আমি সেটা গ্রহণ করব। ফৌজির সময়ে আমি কখনো তার সাথে অথবা আজিজ মির্জার (সার্কাস) সাথে অথবা লিখজির (দিল দরিয়া, দুসরা কেওয়াল) সাথে টাকা নিয়ে আলোচনা করি নি। আমি প্রতি বছর বিনা পারিশ্রমিকে একটা ছবি করি এবং আমি ভালবাসি ও সম্মান করি এমন কারো সাথে আমার কাজ করতে হলে কখনোই টাকার প্রশ্ন উঠবে না।

ফিল্মফেয়ার

তাহলে আপনি ফৌজি-টু প্রত্যাখ্যান করলেন কেন?

শাহ রুখ

কারণ আমি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে চাই নি। যদিও আমি যে চরিত্রটি করছিলাম, অভিমন্যু রায়—বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল, আমি সিক্যুয়েলের ব্যাপারে রাজি হতে পারি নি। আমি নিশ্চিত যে আমার ভক্তরা আমাকে একই জিনিস আবার করতে দেখতে চাইবে না।

ফিল্মফেয়ার

এর অর্থ কি এই যে আপনি আর কোনো সিরিয়াল করবেন না?

শাহ রুখ

আমি মনি কাউলের টেলিফিল্ম ইডিয়ট (আগের নাম আহমাক) করছি, সেখানে নেগেটিভ রোল করছি। যদি চরিত্র ইন্টারেস্টিং হয়, আমি সিরিয়ালও করব। ফৌজি যখন শুরু হয় তখন আমি কেউ ছিলাম না, টেলিভিশনে মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টা এবং আমি একজন সুপারস্টার হয়ে গেলাম। আজকে আমি যে সামান্য সাফল্য দেখছি এটা টেলিভিশনের কারণে। যদি একটি সিরিয়াল করে আমি ২০ জন মানুষকেও টিভি অন করাতে পারি, আমি দূরদর্শনে আমার পাওনা শোধ করব। কর্ণেল কাপুর, লেখ ট্যান্ডন, আজিজ মির্জা ও মনি কাউলের মত পরিচালকদের সাথে কাজ করে আমি অনেক কিছু শিখেছি।

ফিল্মফেয়ার

ছোট পর্দায় অবিশ্বাস্য রকম জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও অরুন গোভিল, রূপা গাঙ্গুলী, দীপিকা, মুকেশ খান্না, নীতিশ ভারদ্বাজের মত মানুষেরা বড় পর্দায় সে রকম হতে ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি কি ভয় পান নি যে আপনার ক্ষেত্রেও একই জিনিস হতে পারে?

শাহ রুখ

তারা ছিলেন তারকা। আমি একজন অভিনেতা এবং একজন অভিনেতাই ভিড় টেনে নেয়। তাছাড়া, আমি মনে করি সিনেমায় জনপ্রিয় হওয়ার জন্য তারা একটা তাড়াহুড়ার মধ্যে ছিলেন এবং খুব তাড়াতাড়ি টেলিভিশন ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের কাছে আসা যে কোনো চরিত্রই তারা করেছেন এবং সুযোগ নষ্ট করেছেন। কিন্তু কোনো প্রযোজক আমাকে চাইলে আমার কাছেই আসবেন এটা মনে করে আমি দিল্লীতেই ছিলাম। ফৌজির পরে আমি কয়েকটা সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছিলাম, কিন্তু আমি তার বদলে একটা সিরিয়ালের প্রস্তাব গ্রহণ করি, সেটার নাম সার্কাস। অভিনয় আমার খাবার জোগায় না, সে কারণে আমি অপেক্ষা করে আমার শর্তানুযায়ী ছবিতে সাইন করেছি।

ফিল্মফেয়ার

একজন নিউকামার হিসেবে আপনার মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখা যায়। আপনি নিজেকে নিয়ে এতটা নিশ্চিত কীভাবে?

শাহ রুখ

আমার ট্যালেন্ট। কিছু কিছু অভিনেতা তাদের চেহারা অথবা তাদের শারীরিক যোগ্যতা দিয়ে পার হয়ে যায়, কেউ কেউ তাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে টিকে থাকে; আমার সম্পদ হল আমার স্বতঃস্ফূর্ততা, বিভিন্ন ধরনের চরিত্র করতে পারার ক্ষমতা। আমি যদি কোনো একটি ছবিতে পাগল হয়ে যাবে যাবে এমন একজনের চরিত্রে অভিনয় করি, আরেকটাতে আমি কারো ছোট ভাই। প্রতিটা চরিত্রে আমি কঠোর পরিশ্রম করি—আমার অভিব্যক্তি, আমার চেহারা এবং আমার আচরণ নিয়ে। এটা আমাকে কয়েকবার বিপদেও ফেলেছে, প্রযোজক ও পরিচালকদের সাথে। তারা আমাকে নির্দিষ্ট কোনো অভিনয় করাতে চায় কিন্তু আমার যুক্তি হল তারা আমাকে সাইন করিয়েছে কারণ তারা মনে করে আমি একজন ভাল অভিনেতা, তাদের উচিৎ আমাকে শুধু আমার মত করে কাজ করতে দেওয়া। আমি একটি রোমান্টিক নায়কের চরিত্র করছি তার মানে এই না যে আমাকে নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। আমার হয়ত মাত্র একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু ক্যামেরায় আমি নতুন না, আমি জানি কীভাবে অভিনয় করতে হয়, সুতরাং আমাকে আমার মত অভিনয় করতে দিন।

ফিল্মফেয়ার

বেশিরভাগ ছবিতেই আপনাকে একজন অভিজ্ঞ অভিনেতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়, রাজু বান গেয়া জেন্টলমেন-এ আছেন নানা পাটেকর। চমতকার-এ আছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, কিং আংকেল-এ আছেন জ্যাকি শ্রফ, আবার দিল অ্যাশনা হ্যায়-তে আপনাকে জিতেন্দ্র এবং মিঠুন দুজনের সাথেই প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। এটা কি আপনাকে পিছিয়ে রাখছে না?

শাহ রুখ

এটা কেন তা করবে? আমি মনে করি না কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী আমার চেয়ে ভাল। কেউই মনে করে না যে আরেকজন তার চেয়ে ভাল। কেউ যদি এই কথা অস্বীকার করে তাহলে সে মিথ্যা বলছে। আপনি যদি ভাল হন, তাহলে আপনার বিপরীতে ৩৫ জন তারকা থাকলেও আপনার কোনো সমস্যা থাকবে না, কিন্তু আপনার যদি ট্যালেন্ট না থাকে তাহলে আপনি একা থাকলেও হারবেন। আমি ভেবেচিন্তে এইসব ট্যালেন্টেড অভিনেতাদের সাথে নিজের দক্ষতা খাপ খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারণ আমি জানি আমি নজরে পড়ব। যদি আমি না পড়ি, তাহলে আমি স্বীকার করব যে আমি একটা ভুল করেছি। (শ্রাগ করে) সবাই ভুল করে।

ফিল্মফেয়ার

কোনো ছবি আছে যেটা নিয়ে আপনি বিশেষভাবে উত্তেজিত?

শাহ রুখ

না আসলে। একটা হিন্দী সিনেমায় চরিত্র আর কত ইন্টারেস্টিং হতে পারে? আমি এক বছরে পাঁচটা ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার চেষ্টা করছি কিন্তু আগামি বছর সবগুলিকে হয়ত অত আলাদা মনে হবে না। আমি যে চরিত্রে অভিনয় করি সেটাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, সেগুলিকে আলাদা আলাদা করার চেষ্টা করছি যাতে দর্শকরা চিনতে পারে। রাজু বান গ্যায়া জেন্টলম্যান এবং চমতকার-এ আমার চরিত্র বেশ ভালভাবেই একটা আকার পেয়েছে।

আমির খান ও শাহ রুখ খান

কুন্দন শাহ’র কাভি হা কাভি না ছবির দিকেও আমি তাকিয়ে আছি, সেখানে আমার চরিত্রটি ভালভাবে তৈরি করা এবং আমি মনে করি আমি সেখানে অসাধারণ কাজ করেছি। কিং আঙ্কেল এবং দিল অ্যাশনা হ্যায়-তেও আমি যথেষ্ট সন্তোষজনক। প্রচুর অফার আসছে এবং আমি চাইলে এরই মধ্যে ২৫ টি ছবিতে সাইন করতে পারতাম। কিন্তু যেসব প্রযোজকেরা আমার একটা হিট ছবি আছে বলে আমার কাছে আসে তাদের সাথে আমার কেন কাজ করা উচিৎ? তাদের কাছে আমি একটা রেসের ঘোড়া—যতক্ষণ পর্যন্ত আমি জেতার জন্য এগিয়ে থাকব ততক্ষণ তারা আমাকে সমর্থন দিবে। একটা ফ্লপ হলে তারা দূরে সরে যাবে। যাদের আমার ট্যালেন্টের উপর আস্থা আছে, যারা বিশ্বাস করে আমি দেশের সবচেয়ে সেরা অভিনেতাদের একজন আমি শুধু তাদের সাথে কাজ করব।

ফিল্মফেয়ার

কাকে আপনি আপনার সবচেয়ে কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন?

শাহ রুখ

বেশ, আমির খান, আমি তাকে প্রতিযোগী বলতে পারব না, সে অনেক ভাল একজন অভিনেতা। দেশে যদি এখন একজন অসাধারণ অভিনেতা থেকে থাকে সেটা আমির খান। আমি শুনেছি যে সে ৩০ এর পর অবসর নিতে চায় এবং পরিচালক হয়ে যেতে চায়। আমিও ৩০ বছর বয়সে বাদ দিয়ে দিব।

ফিল্মফেয়ার

আপনিও কি পরিচালনা করতে চান?

শাহ রুখ

আমি পরিচালনার ব্যাপারে কিছু জানি না। তবে আমি হয়ত এটাতে হাত দিয়ে চেষ্টা করতে পারি। আসলে আমি খুব অলস একজন মানুষ। এমনকি এখন আমি বছরে পাঁচটার বেশি ছবি হ্যান্ডেল করতে পারি না। আমি আরো তিন-চার বছর ধীর গতিতে চলতে চাই এবং বসে এটাকে সহজভাবে নিতে চাই। তারপরও যদি আমি ভাল চরিত্র পাই, আমি হয়ত বছরে একটা ছবি করব। নাহলে আমি সবকিছু বন্ধ করে দিব এবং থিয়েটার অথবা সিনেমার সাথে সম্পর্কিত এমন কিছু করব।

ফিল্মফেয়ার

এটা থেকে আপনার মিডিয়ার প্রতি আচরণের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অন্য নিউকামাররা যখন প্রচারণার জন্য লালায়িত থাকে, আপনি তখন সব ফিল্ম-ম্যাগাজিনকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং এমনকি ফটোসেশনও ত্যাগ করেছেন?

শাহ রুখ

আমার সিনেমা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমি কোনো ফিল্ম ম্যাগাজিনের সাথে কথা বলতে চাই নি। আমি চেয়েছি যে আমার কাজ দেখার পর সাংবাদিকরা আমার কাছে আসুক। তাছাড়া, আমাকে কিছু আড়ম্বরপূর্ণ সাংবাদিক যারা বিশ্বাস করে যে তারা নিজেরাই কোনো স্টার তৈরি করতে পারে বা ভাঙতে পারে তারা প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রচারণাই যদি সবকিছু হয়, তাহলে যেসব অভিনেতারা দুর্দান্ত ইন্টারভিউ দিয়েছে তারাই সুপারস্টার হত। কিন্তু না, মি. বচ্চন, যাকে সংবাদমাধ্যম অনেক বছর হল পরিত্যাগ করেছেন, তিনি এখনও এক নাম্বার হিসেবে শাসন করছেন। ভাল কাজের কোনো বিকল্প নেই। ইন্টারভিউ এবং ম্যাগাজিন কভার আপনাকে ভাল অভিনেতা বানায় না। ছবি তোলার জন্য কাপড় খোলা কি আপনার পৌরুষ প্রমাণ করে? পাঁচটা মেয়ে আপনাকে জড়িয়ে ধরা অবস্থায় ম্যাগাজিন কভারের জন্য পোজ দিলেই কি আপনি একজন মাচো হিরো? কেউ যদি এটা করতে চায় তাদেরকে স্বাগতম, আমি আমার কাজে লেগে থাকব এবং আমার প্রাইভেট জীবনকে যতটা প্রাইভেট রাখা সম্ভব ততটা প্রাইভেট রাখব।

শাহ রুখ ও স্ত্রী গৌরী খান

ফিল্মফেয়ার

আমরা আপনার অনুভূতিকে সম্মান করি, তবে একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার আছে। আপনার শৈশবের ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করা কি আপনার জীবন বা ক্যারিয়ারে কোনো পরিবর্তন এনেছে?

শাহ রুখ

আমার ক্যারিয়ার নিয়ে যেখানে কথা, সেখানে কোনো পার্থক্য নেই। আমি এর আগে শুরুতেই একটা  নিয়ম তৈরি করেছি, বছরে ৫টার বেশি ছবি করব না এবং আমি এটাতে অটল থাকব। আমি টাকার জন্য কাজ করব না এবং আমি কঠোর পরিশ্রম করব। ব্যক্তিগতভাবে বিয়ে খুব সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা। আমার জন্য যা কিছু হতে পারত তার মধ্যে সবচেয়ে সেরা এটা। আমি দিল্লী অনেক মিস করি এবং প্রতি সপ্তাহে দিল্লী যাই। তবে এখন আমি আর গৌরী দুজনে মিলে বোম্বেকে আবিষ্কার করছি। আমাদের খুব চমৎকার সময় কাটছে। আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালবাসি এবং এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।

আরো পড়ুন: একজন খান হিসাবে (বিং এ খান) — শাহ রুখ খান এর আত্মজীবনী মূলক রচনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here