page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

আমির খানের সঙ্গে আলাপ — ‘দাঙ্গাল’ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে

আর অল্প কয়দিন পরেই আমির খান অভিনীত ‘দাঙ্গাল’ ছবিটি মুক্তি পাবে।  এই অভিনেতা নিজের ছবির প্রচারণা নিজের মত করে করতে পছন্দ করেন। দাঙ্গাল ছবি সম্পর্কে, দাঙ্গালের প্রচারণা সম্পর্কে এবং আরো অনেক কিছু সম্পর্কে এক শীতের সন্ধ্যায় আমির খান কথা বললেন।

আমি পারফেকশনিস্ট না। বাস্তব জীবনে পারফেকশনের অস্তিত্ব নাই। — আমির খান

সাক্ষাৎকার গ্রহণ:  দীপ্তি শর্মা


মি. পারফেকশনিস্ট নামে ডাকার ব্যাপারে

আমি পারফেকশনিস্ট না। বাস্তব জীবনে পারফেকশনের অস্তিত্ব নাই। আমার জন্য এটা ভুল একটা টাইটেল। আমি যখন কোনো দৃশ্যে অভিনয় করি তখন আমি ‘হার্ট অব দ্য মোমেন্ট’ বা ওই মুহূর্তের হৃদয়টা খুঁজি। একটা দৃশ্যের সেই জাদুটা থাকা উচিৎ। আমি যদি সেই ম্যাজিকটা পাই, আমার দিক থেকে ওই শট সম্পূর্ণ। আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাব না। আমি অভিনয়ের ব্যাপারে খুব প্যাশনেট। সুতরাং, আমাকে মি. প্যাশনেট ডাকা উচিৎ, মি. পারফেকশনিস্ট না।

আমির খানের সিনেমাগুলির জন্য কি ডিসেম্বর সৌভাগ্যপূর্ণ সময়?

আমি আশা করছি যে আমার আগের ছবিগুলি চলেছে আমার সৌভাগ্যের কারণে না। সেগুলি চলেছে কারণ মানুষ সেগুলিকে ভালোবেসেছে। আসলে আমার সিনেমাগুলি বছরের শেষে রেডি হয়। ছুটির দিনগুলির কথা বিবেচনা করলে, দিওয়ালি এবং ক্রিসমাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডেট। এটা অনেকটাই কাকতালীয় যে আমার ছবিগুলি বড়দিনে মুক্তি পায়, কিন্তু এটা একটা আনন্দের কাকতাল। আমি বড়দিন পছন্দ করি।

দাঙ্গালের পরিচালক নিতেশ তিওয়ারিকে ছবিটি তৈরির সময় ক্রিয়েটিভ বুদ্ধি দিয়েছেন কিনা?

আসলে, একটা সিনেমার ক্রিয়েটিভ হেড হলেন সেই সিনেমার পরিচালক। সব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকে পরিচালকের কাছে। এটাই হওয়া উচিৎ। এবং পরে দলের অন্যান্যরাও ক্রিয়েটিভ বুদ্ধি দিতে পারেন। দাঙ্গালে এমন একটি মুহূর্তও  ছিল না যেখানে নিতেশের সিদ্ধান্তের উপর দিয়ে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, বা তার সাথে আমার তীব্র মতবিরোধ হয়েছে। আশার ব্যাপার যে আমার এবং নিতেশের সংবেদনশীলতা প্রায় একই।

যে কারণে বেশি জাঁকজমক ছাড়া দাঙ্গালের ট্রেলার মুক্তি দেওয়া হল

আমি মনে করতে পারছি না কেন আমি দাঙ্গালের ট্রেলার ভালোভাবে মুক্তি দেই নি। আমি অবশ্যই ব্যস্ত ছিলাম।

আলাদাভাবে দাঙ্গালের প্রচারণা চালানো প্রসঙ্গে

এটা একটা গুজব যে আমি আমার ছবিগুলির প্রচারণা আলাদাভাবে চালাই। মার্কেটিং সিনেমার খুব বেশি প্রয়োজনীয় একটি অংশ। আমার উদ্দেশ্য হল মানুষকে মেসেজ দেওয়া যে আমরা খুব সৎভাবে একটা ছবি বানিয়েছি, এবং ছবিটার বিষয় এই। একটা সিনেমার নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী আমি মার্কেটিং করি। যেমন, ‘থ্রি ইডিয়টসে’র জন্য আমি ছদ্মবেশে সারাদেশে ভ্রমণ করেছি। এই কনসেপ্ট সিনেমার গল্প থেকে এসেছে। দুজন বন্ধু তাদের অন্য বন্ধুকে খুঁজছে এটাই ছিল সিনেমার গল্প। এই কারণে লোকজন মার্কেটিং-এর আইডিয়াটাকে নতুন মনে করলেও এটা তা না।

দাঙ্গালের মুক্তির আগে আমির খান কি চিন্তিত?

আমি সবসময়ই চিন্তিত। আমি পাঁচ-ছয়দিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। আমি ভোর চারটার দিকে এক ঘণ্টার জন্য অথবা কাজে বের হওয়ার আগে ঘুমাতে যাই। আমি অনেক আশা নিয়ে দিল্লীতে এসেছি। আশা করছি আজ রাতে ভালো ঘুম হবে।

যে কারণে টুইটারে কম সক্রিয়

আপনার দর্শকদের সাথে এনগেজ হতে পারবেন, এমন একটা প্ল্যাটফর্ম টুইটার। অভিনেতারা টুইটারের মাধ্যমে যেভাবে দর্শকদের সাথে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিনিময় করে সেটা তাদের ব্যক্তিত্বের অংশ। সুতরাং আমি যদি কম ইন্টার‍্যাক্ট করি, সেটা আমার ব্যক্তিত্বের অংশ। আসলে আমি আমার জগতে হারিয়ে গেছি। আমাকে নিয়ে আশেপাশে কী হচ্ছে আমি সেটা নিয়ে সচেতন না। টানা কয়েকদিন আমি সংবাদপত্র পড়ি না। আমি আমার জগতে গুটিয়ে আছি। আমি যোগাযোগহীন হয়ে যাই। এবং, আমাকে ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীতে ফেরত পাঠাতে কিরণকে বিরাট ভূমিকা পালন করতে হয়। এমন না যে আমি টুইটার বা ফেসবুককে প্ল্যাটফর্ম হিসাবে মূল্য দেই না। আমি কম বলি।  এটাই আমি।

সানা শেখ ও সানিয়া মালহোত্রার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা

‘দাঙ্গাল’ খুব চাহিদাপূর্ণ ছবি। আর এটা যদি আপনার প্রথম ছবি হয় তাহলে এটা চ্যালেন্জিং হতে পারে। আমি যখন ইন্ড্রাস্ট্রিতে এসেছিলাম তখন আমার যে প্যাশন ছিল, সেই একই ধরনের প্যাশন এই চারটা মেয়ের মধ্যে দেখে আমি খুশি হয়েছি। এই মেয়েরা শহরে বড় হয়েছে। সানিয়া দিল্লীর মেয়ে, ফাতিমা মুম্বাইতে বড় হয়েছে। তাদেরকে বালালির মেয়েতে রূপান্তরিত হতে হয়েছে। তাদের নিজেদেরকে আলাদা একটি জগতে নিয়ে যেতে হয়েছে। তারা রোমান্টিক কমেডি ছবি করছে না। প্রথম ছবি করা সহজ যখন আপনি কমফোর্ট জোনে আছেন। ‘কায়ামাত সে কায়ামাত তাক’ করার সময়ে আমি কমফোর্ট জোনে ছিলাম।  তাদেরকে নির্বাচন করার সময় তাদেরকে কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা তাদেরকে কুস্তি খেলার পরীক্ষাও নিয়েছিলাম। আমি ভয়ে থাকতাম যে তারা হয়ত চাপ সহ্য করতে পারবে না। তারা খুব প্যাশন নিয়ে কাজ করেছে এবং কঠোর পরিশ্রম করেছে। তাদেরকে সময় মত সেটে আসার ব্যাপারে আমার কখনো বলতে হয় নি। আপনি যখন সিনেমাটা দেখবেন, দেখবেন যে তারা আমার চেয়ে দশ কদম আগানো।

দাঙ্গাল শুরুর আগে ডেইলি রুটিন কী ছিল?

আমরা দুই ঘণ্টা ধরে কুস্তির ট্রেনিং করতাম, এর পরে ৩-৪ ঘণ্টা হরিয়ানার ভাষার ট্রেনিং করতাম। এরপর আমরা দুই ঘণ্টা ভারত্তোলনের ট্রেনিং করতাম। এটাই ছিল আমাদের রুটিন।

যে কারণে সিনেমাটি বেছে নিলেন?

একটা বড় ছবির পর একটা ছোট ছবি করাটা আমার জন্য আরামদায়ক। আমি সংখ্যা নিয়ে চিন্তার দিকে যাই না। সৌভাগ্যবশত, আমি যা করতে চাই তা করা থেকে ভয় আমাকে থামাতে পারে নি। আমি সবসময় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কাজ করে গেছি।

সাক্ষী তানওয়ারের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা?

সাক্ষীর সাথে কাজ করা ছিল স্বপ্ন সত্যি হওয়া। তিনি একজন ওয়ান-টেক অভিনেত্রী। অভিনেত্রী হিসেবে আবেগ ও দক্ষতার দারুণ সংমিশ্রণ আছে তার।

দিল চাহতা হ্যায়’র ফিমেল ভার্সনে আপনি কাদেরকে অভিনেত্রী হিসাবে নির্বাচন করতেন?

আপনার উচিৎ সিনেমাটিতে তরুণ মেয়েদের কাস্ট করা, তিনজনের মধ্যে দুজন অবশ্যই ফাতিমা এবং সানা। দুজনেই মেধাবী অভিনেত্রী। আমাকে ওই ছবির জন্য কাস্ট করাটা তাদের ভুল ছিল, একজন ৩৬ বছর বয়সী লোককে ওই সিনেমায়। আমাদের একই ভুল আবার করা উচিৎ না। বিশের প্রথম ভাগে আছে (আর্লি টুয়েন্টিজ) এমন কাউকে ফারহানের কাস্ট করা উচিৎ।


দাংগাল ছবির ট্রেলার – ইউটিউব

পাঞ্জাবে ছবির শ্যুটিং করা প্রসঙ্গে?

শ্যুট করার জন্য পাঞ্জাব অসাধারণ একটা প্রদেশ। আমাদের ‘রাং দে বাসন্তী’র অভিজ্ঞতা ভাল ছিল। লোকজনের সাহায্য ছাড়া পাবলিক প্লেসে শ্যুটিং করা খুব কঠিন। সেই দিক থেকে, পাঞ্জাবের মানুষ খুব সহায়তাপ্রবণ ও অতিথিপরায়ণ। আমরা যখন লুধিয়ানায় শ্যুটিং করছিলাম তখন সকালে এবং বিকালে লোকজন আমাকে হ্যালো বলার জন্য রাস্তার ধারে ভিড় করত। টানা ৯০ দিন এটা হয়েছে। আপনি কোথায় এটা দেখতে পাবেন? একবার যখন আমার এক বন্ধু আমার সাথে দেখা করতে সেটে এসেছিল, একজন সর্দারজি তাকে বলেছিল ডিস্টার্ব করবেন না, তারা শ্যুটিং করছে। পরে সেই সর্দারজি একজন নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে আমাদের দলের অংশ হয়ে যায়।

এই বছর যেসব ছবি পছন্দ করেছেন?

আমি ‘সুলতান’ এবং ‘অ্যা দিল হ্যায় মুশকিল’ পছন্দ করেছি। ‘অ্যা দিল হ্যায় মুশকিলে’ আমি রানভির কাপুর ও আনুশকা শর্মার কাজ পছন্দ করেছি। গানগুলি আমি ভালোবেসেছি।

দীপ্তি শর্মা

লাগানের স্মৃতি নিয়ে

ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রত্যেকেই বলেছিল যে সিনেমাটি চলবে না। আমরা আভাধি ভাষায় কথা বলেছি ছবিতে, ধুতি পরে ক্রিকেট খেলেছি। ক্রিকেটের সিনগুলি ছিল অনেক বড় বড়, শেষ হচ্ছিল না। আমার স্ত্রী রীমা আমাকে বলেছিল যে আমরা সিনেমায় কোন ভাষায় কথা বলছি তা সে বুঝতে পারছে না, দর্শকরা কীভাবে সিনেমাটি বুঝবে? সিনেমায় একটা দৃশ্য আছে যেখানে আমি বলি, “মা য়ে বেড়া উঠাকে ম্যায়নে কউনো গালতি তো নেহি কার দি হ্যায়?” একদিন আমি এবং আশু (পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর) বসে ছিলাম এবং আমি আপনা-আপনিই বলি, “আশু, ইয়েহ বেড়া উঠাকে হামনে কউনো গালতি তো নেহি কার দি?” আমার এই লাইনটি সবসময়ই মনে আছে। সুতরাং, ভয় সবসময়ই আছে। আর, আমার ছবি এত নতুন এবং ইউনিক যে আমি জানি না শেষপর্যন্ত কী হবে। ভয় আমাকে সতর্ক রাখে। এবং এটা একটা উত্তেজনারও অংশ।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক