page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল

“আমি একজন লিবারেল গণতান্ত্রিক।”— মিজানুর রহমান চৌধুরী

প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ মিজানুর রহমান চৌধুরীর ইন্টারভিউ আমরা নিয়েছিলাম ১৯৯৫ সালে। ওনার গুলশান ২ এর বাসায়। মিজান চৌধুরী নামে তিনি বেশি পরিচিত। চাঁদপুরের মানুষ। ১৯৪৫ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পর ‘৮৪ সালে জাতীয় পার্টিতে জয়েন করেন। জাতীয় পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ‘৮৬-‘৮৮ সালে। ২০০১ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগে উপদেষ্টা হিসাবে যোগ দেন। ২০০৬ সালে মারা যান। চৌধুরী সাহেবের জন্ম ১৯২৮ সালে। শেখ মুজিবুর রহমানের কাছের মানুষ হিসাবে ১৯৭৩ সালের মন্ত্রীসভায় মিজান চৌধুরী তথ্যমন্ত্রী ছিলেন।

সাক্ষাৎকারটি  ‘দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা’য়  ছাপা হয়েছিল।

মিজানুর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার: রাজু আলাউদ্দিন ও ব্রাত্য রাইসু


রাজু আলাউদ্দিন

আপনার এলাকায় আপনার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। বরাবরই আপনি এখান থেকে পাশ করেছেন। এবার এই ব্যতিক্রমটা কেন ঘটল?

মিজানুর রহমান চৌধুরী

মূলত দুইটা কারণ। একটা হলো, আমি আমার নিজের এলাকার দিকে খুব একটা খেয়াল করি নাই। যতটা ওরা করেছে আমি তুলনামূলকভাবে খেয়াল কম করেছি। আমি এলাকায় যাই-ই নাই।

রাজু

ফিন্ডওয়ার্ক বলতে যেটা বোঝায় সেটা করেন নাই?

মিজান

ফিল্ডওয়ার্ক যেটা করার দরকার ছিল তার কিছুই করি নাই।

ব্রাত্য রাইসু

আপনি ভাবছেন নিজের এলাকায় এমনিতেই পাশ করবেন?

মিজান

না, তা নয়। এদিকে এমন ব্যস্ত ছিলাম। সারা দেশ নিয়া এত! বোঝেন না, ৫ দিন সময়ের মধ্যে ২৯০টা নমিনেশন আমি দিয়েছি। অলমোস্ট সিঙ্গেল হ্যান্ড। কেউ তো ছিল না তখন। কেউ ছিল না। একটা প্যাডের কাগজ ছিল না। রাত্রে আড়াইটার সময় প্রেসে ম্যাটার পাঠাইছি, মালিক নিজে তার প্রেসের লোক সরাইয়া দিয়া লুকাইয়া ছাপছে। পরের দিন রাত্র আড়াইটায় ডেলিভারি দিছে। কারণ রাস্তা দিয়া আনা যাবে না। আমি একা একা এই নমিনেশন দিয়েছি। তারপর টাকা-পয়সা সংগ্রহ করা। অনেক জায়গায় সামান্য কিছু কিছু করে দিয়েছি। টোকেন হিসেবে। টাকা যদি আমি দিতে পারতাম তাহলে বিএনপি গভমেন্ট ফর্ম করতে পারে না।

“এরশাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পেছনে আমার তার সঙ্গে একটা অলিখিত চুক্তি ছিল।”—মিজানুর রহমান চোধুরী

রাইসু

গভমেন্ট ফর্ম করতে পারত না?

মিজান

গভমেন্ট ফর্ম করতে পারত না। তারা বেশি পাইত হয়তো কিন্তু গভমেন্ট ফর্ম করতে পারত না। তারপর টাকা-পয়সা জোগাড় করা, এই করা সেই করা, এখানে বসে—তার মধ্যে প্রতি মুহূর্তে মেরে ফেলবে, বাড়িঘর আক্রমণ করবে, মিছিল আসতেছে—‍“তৈরি হন! কাফনের কাপড় তৈরি করেন!”

রাজু

এইটা কারা হুমকি দিয়েছিল?

মিজান

নাম… যারা দিছে এটা তো বলার আর দরকার নাই। তখন তো কেয়ারটেকার গভমেন্ট। কেয়ারটেকার গভমেন্ট যারা গঠন করাইছে তারাই আর কি। তারাই এই হুমকিগুলা দিছে। নিশ্চয়ই জাতীয় পার্টির লোক তো আর আমারে এই হুমকি দেয় নাই।

রাইসু

দেশবাসী দিয়েছে বলবেন?

মিজান

না, দেশবাসী হুমকি দিলে বাঁচলাম কী করে? দেশবাসী হুমকি দিলে এই বাড়িঘর আক্রমণ করল না, এইটা কেমন কথা।

রাজু

যারা আক্রমণ করতে চেয়েছে তাদের তাহলে দেশবাসী বলা যাবে না?

মিজান

তারা তো দেশবাসী বটেই। তবে ব্যাপক অর্থে দেশবাসী বলা যাবে না। একটা সেকশান। এবং যে সমস্ত রাজনৈতিক দল এই কাজ করেছে বলে সন্দেহ করি, তাদেরও সকলে না।

রাজু

সেক্ষেত্রে আমরা ওদেরকে ‘দুষ্কৃতকারী’ বলতে পারি?

মিজান

‘দুষ্কৃতকারী’ বলাটা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। আমি তো কথাবার্তা খুব হিসাব করে বলি। এগোরে দুষ্কৃতকারী বলা যাবে না। এটা আমাদের স্বভাব হয়ে গেছে, কারো দুর্বলতার সুযোগ নিয়া তারে হেনস্তা করার প্রবণতা। জাতিগতভাবে আমরা কীভাবে এই গুণ অর্জন করে ফেললাম আমি বুঝি না।

রাজু

এইখানে নিরাপত্তা নাই তো মানুষের।

মিজান

একদম, আমার এইখানে কেন জানি না, ওরা হুমকি-ধামকি দিছে, এক দুইবার প্রসেশন নিয়া আগাইছে, সামান্য বাধা পাইয়া আবার চলে গেছে।

রাইসু

আচ্ছা, এরশাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়, জাতীয় পার্টির একজন নেতা হিসেবে আপনি কীভাবে দেখেন?

মিজান

এটাও আমাদের বড় দুর্ভাগ্য। কে অভিযোগের বাইরে আছে—বঙ্গবন্ধু বলেন, জিয়াউর রহমান বলেন?

রাইসু

তাদের বিরুদ্ধে তো এ রকম কোনো ব্যক্তিগত, মানে চরিত্রগত অভিযোগ নাই।

মিজান

চরিত্রটা তো আবার বড় কথা। চরিত্রেরও নানান দিক আছে।

রাজু

আপনি একটু বিশদ করেই বলেন না।

মিজান

যেমন কেউ যখন কোনো খারাপ চিন্তা করে তখনও তার চরিত্র খারাপ। তারপরে খারাপ মানে কী? আমি আপনের একটা ক্ষতি করব চিন্তা যখন করি তখনই আমি মানুষ থাকি না। ইট বিকাম অ্যান এজেন্ট অভ দ্যা ডেভিল। যে মোমেন্টে এই মাথায় আরেকটা মানুষের ক্ষতি করার চিন্তা আসবে তখন হি বিকাম এ এজেন্ট অভ দ্যা ডেভিল। ইবলিশের প্রতিনিধি হয়ে যায়। ‘চরিত্র’ সম্পর্কে যদি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেন, সেই হিসাবে অভিযোগ তো অনেকের বিরুদ্ধেই আছে। অন্তত আমি জানি। ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার নিয়া কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে—ব্যক্তিগত, বংশগত, কোত্থেকে আসছে—ওভারলুক করা ভাল। যাই হোক, আপনারা যেটা জানতে চাইছেন, আমি আপনাদের ইঙ্গিত বুঝতে পেরেছি।

রাইসু

আমরা কোনো ইঙ্গিত করি নাই, আমরা জিজ্ঞেসই করেছি।

মিজান

যাই হোক, আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো ব্যক্তিগত দোষকে দোষ মনে করি না। জাতির উদ্দেশ্যে যদি কেউ কোনো দোষ করে, সমাজের প্রতি যদি কেউ কোনো দোষ করে সেই ক্ষেত্রে আমি তাকে দোষী বলি। ব্যক্তিগত জীবনে কারো দোষ থাকলে সেই দোষটা জনগণের জন্য ক্ষতিকর হলে জনগণ সেটার বিচার করবে। তবে ব্যক্তি হিসাবে সেটা বলা সঙ্গত হবে না। আমার আরেকটা পয়েন্ট যেটা—আমার অনুপস্থিতিতে যাদেরকে আমি নির্বাচনের কাজ করতে দিয়েছিলাম তাদের কেউ কেউ—শব্দটা শুনতে হবে, কেউ কেউ—অসন্তোষ অথবা কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে সূক্ষ্মভাবে নির্বাচনের ক্ষতি করেছে।

রাইসু

আপনার দলের লোক?

মিজান

আমার দলের লোক মানে যাদেরকে আমি নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত করেছিলাম। আমি যাদের কথা বলছি—এখন আমি মাগরিব পড়ব—অত্যন্ত অথেনটিসিটি নিয়া আমি কথা বলতেছি। আর কিছু ছিল—মিজান চৌধুরীর ইলেকশান কিছু খরচ-টরচ পাইছি। কী দরকার আবার রাস্তাঘাটে গিয়া। কেউ আবার ঢিল দেয় কিনা! কোথায় আবার “স্বৈরাচার আসতেছে” বইলা শ্লোগান হয় কিনা।—এই ধরনের একটা নিস্পৃহতা, এইটাও কাজ করেছে। অল দি কম্বাইন্ড টুগেদার।

চানপুরের মানুষ আমাকে রিজেক্ট করেছে এটা আমি কিছুতেই স্বীকার করব না। চানপুর শহর বলে নয় বা চানপুর থানা বলে নয় চানপুর অ্যানটায়ার ছয়টা সিট। এর কোনো না কোনো জায়গা থেকে আমি কখনো না কখনো নির্বাচন করেছি এবং পাশ করেছি। তাছাড়া ধরেন দীর্ঘদিন তারা আমারে ভোট দিয়েছে। এই দীর্ঘদিনে তাদের যা কিছু প্রত্যাশা আমার কাছে ছিল ততখানি আমি করতে পারি নাই।

তাছাড়া বেশি ক্ষতি আমার করেছে একটা পুলিশ অফিসার। আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা ব্যক্তিকে গুলি করেছে। একটা ছাত্রকে গুলি করেছে। যেটা আমি মনের থেকে তাদেরকে ক্ষমা করতে পারি নাই। আমাদের ফল-এর কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের একটা ছেলেকে গুলি করেছে। এটার অন্তর্নিহিত ব্যাপার আমি জানি না। কিন্তু আই ফেল্ট ভেরি ব্যাড অ্যাবাউট ইট। আমার লজ্জা হইতে ছিল যে আমি মুখ দেখাব কেমন করে। এরা অন্য দল করতেছে, তাদের বাপ-মা আত্মীয়স্বজন সকলের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তখন আবার এরশাদ সাহেবের উপর আমার অভিমান। আমাকে উনি প্রধানমন্ত্রী থেকে সরিয়ে দিলেন। বললেন, স্পিকার হন। বললেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। আমি চিন্তা করলাম, তিনি এখন আমাকে কিছুটা হলেও অবিশ্বাস করেছেন কাজেই আমি আর ওনার সঙ্গে থাকব না। অভিমান যে কোনো মর্যাদাশীল লোকেরই হয়। এরপর উনি দু’তিনবার লোক পাঠাইছেন—আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নাজিউর রহমান মঞ্জু, এর আগে ড. মতিন—আমি বলছি, না, আমি আর যাব না। কারণ একবার যখন আমি বুঝতে পারছি যে উনি যে কোনো কারণে আমাকে ভুল বুঝেছেন কাজেই ওনার সঙ্গে আমার ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়া উচিত হবে না। আমি যাই নাই। কিন্তু শেষ যেদিন উনি রিজাইন করবেন বলে ঘোষণা দিলেন সেদিন আমি ওনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি।

রাইসু

কী কথা বললেন?

মিজান

বলেছি, কার সঙ্গে, কার পরামর্শে আপনি ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন বলে বলেছেন আমি জানি না। তবে এটা সাংবিধানিক নয়। এটা সাংবিধানিক নয়—এটা এক্সট্রা কন্সটিটিউশন। যেমন আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার যে সমস্ত বিধানগুলি লেখা আছে, এই ধরনের ছেড়ে দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এক, কার সঙ্গে পরামর্শ করে আপনি ক্ষমতা ছাড়ছেন আমি জানি না, তো কালকে যদি আপনার বিরুদ্ধে কতগুলি অভিযোগ এনে মামলা আসে সেগুলো থেকে আপনি কী করে নিজেকে রক্ষা করবেন?

রাইসু

তখনই আপনি বুঝে গিয়েছেন?

মিজান

বুঝে গিয়েছি। এগুলা তো বোঝার কিছু নারে ভাই। রাজনীতিই তো এটা। তো বললাম, কালকে যদি প্রসেশন করে বলে যে অমুক জায়গায় গুলি হয়েছে আপনার হুকুমে, আপনি খুনের আসামি তখন আপনি কী করবেন। কার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, কী কন্ডিশনে করেছেন তা তো আমি জানি না। তবে যাই হোক, যেহেতু আপনার সঙ্গে আমি একবার আসছিলাম শেষ লোকটা পর্যন্ত আমি আপনার সঙ্গে থাকব। আপনি যত বিপদেই থাকেন আর সংকটেই থাকেন। এরপরে তো আমার কমিটমেন্ট হয়ে গেল। একবার ওনার সাথে জয়েন্ট করার সময় কমিটমেন্ট হয়েছিল। হয়ে তো ফার্দার…। কাজেই ওনার সঙ্গে আমার অভিমানেরই কী আছে আর খুশি থাকারই কী আছে। এটা তো কমিটমেন্ট আমার।

রাজু

কমিটমেন্ট টু ওনার আদর্শ?

মিজান

কমিটমেন্ট টু হিম।

রাজু

পার্সোনাল কমিটমেন্ট?

মিজান

আহ্ হাঃ, পার্সোনাল তো হবেই। পার্সোনাল হয়েই তো পাবলিকের কাছে গেলে এটা পলিটিক্যাল ব্যাপার হয়।

রাইসু

একটা সময় তো ছিল এরশাদ মানেই জাতীয় পার্টি।

মিজান

এখনও তাই।

রাইসু

আপনাদের পার্টির জন্যে কি এটা ক্ষতিকর হবে না?

মিজান

না। আমি মনে করি, না। কারণ বাংলাদেশের পলিটিক্সে একজন দিয়েই পার্টি হয়। ভারতবর্ষেও দেখেন গিয়া।

রাজু

মানে আদর্শ বা এগুলো দিয়ে না?

মিজান

নাহ্। একটা লোক তার নীতি এবং আদর্শের কারণে মানুষের জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এবং তাকে কেন্দ্র করেই রাজনীতি চলে। না হলে বলেন বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়া আওয়ামী লীগ চলে কিনা, জিয়াকে বাদ দিয়া বিএনপি চলে কিনা। একটা মানুষ দিয়াই আদর্শ হয়। একটা মানুষ একটা আদর্শ প্রচার করে। সেই আদর্শ প্রচার করার পরে সেই আদর্শের অনুসারীরা থেকে যায়, মানুষ যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, মানুষ চলে যায়। তারপরে যে আসে সেই আদর্শের মধ্যেই সে কথা বলে। এবং তারপরেও ঐ লোকটাকে মানুষ ভোলে না।

রাইসু

আচ্ছা, আওয়ামী লীগ আপনি ছাড়লেন কেন?

মিজান

আওয়ামী লীগ ছাড়ার মূল কারণ যেটা সেটা হল আমার সঙ্গে নীতিগত পার্থক্য। নীতিগত পার্থক্য মানে আওয়ামী লীগ যখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে তখনই আমার সঙ্গে ডিফারেন্স হয়। বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিং-এ যখন ভোট চাওয়া হলো আমি ভোট দেই নাই বাকশালের পক্ষে। হাত তুলতে বলেছেন বঙ্গবন্ধু নিজে, আমি তুলি নাই। তারপরে অবশ্য আমি ওনার সঙ্গে দেখা করেছি, ওনাকে বলে এসেছি কেন তুলি নাই। উনিই আমাকে বলেছেন যে, দেখো এখন যেই অবস্থা দেশের, অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো এখনও সমাধান করতে পারি নাই, আগামিতে যদি ’৭৮-এর নির্বাচনে অপর কোনো লোক পাস করে তখন স্বাধীনতা বিরোধীরা তোমাদের কচুকাটা করবে। কাজেই এই রাস্তা আমি নিলাম।

আবার আমি বিধান রেখেছি এখান থেকে আবার বহুদলীয় ব্যবস্থায় চলে আসার। অথবা এর থেকে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত আমার একার ওপর রেখেছি। উনি আমাকে এইভাবে বলেছেন। তো এটা হলো ওনার জীবদ্দশার ঘটনা।

“বঙ্গবন্ধুর আমলে কিছুটা জাতীয় ঐক্য আমরা সৃষ্টি করতে পারছিলাম কিন্তু সেটা আমরা ধরে রাখতে পারি নাই।” – মিজানুর রহমান চৌধুরী

তার মৃত্যুর পরে আওয়ামী লীগের কোনো অফিস নাই, কিছু নাই—কোথাও কিছু নাই আওয়ামী লীগ রিভাইভ করলাম আমি। কাউন্সিল করলাম আমার বাসায়। আমার ভাড়াটিয়া বাসার ছাদের ওপরে। তো ১৬০০ কাউন্সিলার আসল। তারপরে কমিটি হলো। তারপর জুলাই মাসের ১৬ তারিখ ছাত্রলীগের সভায় একটা রেজ্যুলেশন হলো—বাকশাল তখনও সঠিক ছিল আজও সঠিক, ভবিষ্যতের জন্যেও সঠিক। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্রই আমাদের কাম্য। এই রেজ্যুলেশনের বিরুদ্ধে বিশেষ করে আমি রিঅ্যাক্ট করলাম। ৯১ নওয়াবপুর রোডে আমাদের মিটিং হলো। মিটিং-এ সাব্যস্ত হলো ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করা। সেখানে আমাদের অনেকেই কথা দিলেন এই রেজ্যুলেশনের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এটা বলা হবে। তো বিশেষ সিদ্ধান্ত হলো না। যে কারণেই হোক আমি নাম বলবো না… তখনই আমি বললাম, তাহলে আপনাদের সঙ্গে আমার আজকেই সালামালাইকুম, কারণ আমি বাকশালে বিশ্বাস করি না। এবং আমার সঙ্গে যারা আসছিলেন এই সবগুলি লোক আমার সঙ্গে থাকলে এইটাই সত্যিকার আওয়ামী লীগ হইত। তো রাখতে পারলাম না। হাসিনা আসলো। হাসিনার সঙ্গে চলে গেল মানুষ।

আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব, নামকরা বন্ধু-বান্ধব বিএনপিতে যোগ দিলেন, মন্ত্রী হলেন। তারপরও আমি রইলাম। ইলেকশান আসলো, ইলেকশানে তো আমরা মাত্র দুইটা সিট পাইলাম। যে-কোনোভাবেই হোক ওইদিকের সিট বেশি গেল। তারপরে লোক কিছু আমার থেকে গিয়ে বিএনপিতে যোগ দিল। বিএনপিতে যাওয়ার পরে আবার আমাদের আওয়ামী লীগের একটা কাউন্সিল করলাম। সেখানে আমি ভোট দিলাম। দেখা গেলো ময়েজউদ্দিন সাহেব প্রার্থী, নুরে আলম সিদ্দিকী প্রার্থী। নুরে আলম সাহেব অনেক বেশি ভোট পেয়ে গেলেন, ময়েজউদ্দিন সাহেব কম পেলেন। পরে ময়েজউদ্দিন সাহেব, মোজাফফর হোসেন পল্টু এরা গিয়ে হাসিনার সঙ্গে জয়েন করলেন। ইত্যাদি বহু ঘটনা ঘটে গেছে। এর মাঝ দিয়া। ছোট্ট দেশ, অনেক ঘটনা। যাই হোক, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ির মূল কারণ হইল বাকশাল। আমি বাকশালে বিশ্বাস করি না—এখনও করি না। আমি একজন লিবারেল গণতান্ত্রিক।

রাইসু

তাহলে ‘স্বৈরাচারী’ এরশাদের সঙ্গে ছিলেন কীভাবে?

মিজান

‘স্বৈরাচারী’ তো একটা টাইটেল দেওয়া হইছে।

রাইসু

তো উনি স্বৈরাচারী ছিলেন না?

মিজান

না আমি অ্যাগ্রি করি না।

রাইসু

‘অ্যাগ্রি’টা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

মিজান

একমত না। অ্যাগ্রি করি না মানে একমত না।

রাইসু

এটা তো আপনার কৌশলী উত্তর হইল।

মিজান

না কৌশলী উত্তর নয়, এটা যথার্থ উত্তর।

রাইসু

এমন হয়তো আপনি বলতে পারেন যে স্বৈরাচার দরকার ছিল সে সময়?

মিজান

না, তা বলি না আমি।

রাইসু

আপনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী?

মিজান

অবশ্যই বিশ্বাস করি।

রাজু

যদি তাই হয় বেশিরভাগ মানুষই তো তাকে স্বৈরাচারী বলে আখ্যায়িত করেছে। সেক্ষেত্রে আপনার ধারণার সাথে বেশির ভাগ মানুষের…?

মিজান

না, বেশিরভাগ মানুষ না, যেসব মানুষের কথাগুলো খবরের কাগজে ছাপে তাদের বেশিরভাগ লোক এই কথা বলে।

রাজু

এবং খবরের কাগজ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধি।

মিজান

না না কথাটা যা বলেছি কথাটা ওইখানেই। যেইসব লোকের কথাবার্তা খবরের কাগজ ছাপে সেইসব লোকের মধ্যে বেশিরভাগ লোক ওনাকে স্বৈরাচারী বলে। ‘স্বৈরাচারী’ যেই যেই কারণে বলে সেই সেই কারণগুলা যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করি তাহলে জিয়াউর রহমান এরশাদের ডাবল স্বৈরাচারী। তবে অফেন্স অফ জিয়া ক্যান নট বি ডিফেন্স ফর এরশাদ। সেইটাও ঠিক।

রাজু

সেক্ষেত্রে?

মিজান

সেইক্ষেত্রে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির বাইরে কোনো নীতি নাই।

রাজু

এটা তো হল কৌশলের কথা।

মিজান

কৌশল বলেন আর যাই বলেন। পরিস্থিতির বাইরে কোনো নীতি নাই।

রাইসু

আপনি কি কখনো আইনজীবী ছিলেন?

মিজান

না, আইন পড়াশোনা করেছিলাম ছাত্রজীবনে।

রাইসু

আইন ব্যবসায় আপনি ভাল করতেন; তবে রাজনীতিতেও যথেষ্ট ভাল করেছেন।

মিজান

ভালো মন্দ তো বিচার হবে আমি মরার পরে। মরার পরে সমাধিতে উৎকীর্ণ করা হবে—

রাইসু

“ইনি ভালো লোক ছিলেন”—?

মিজান

একজন ইংরেজ কবি বলে গেছেন যে আমি মরার পরে—দুই ছত্র কবিতা রেখে গেলাম, যেটা আমি স্যুট করি, ডিজার্ভ করি, আমার সমাধিতে উৎকীর্ণ করে দিও। সেটা কী? সেটা হলো: হেয়ার লাই এ কার্কাস অফ এ কার্স্ট ডিনার/ডোন্ট টুবি রোস্টেড ফর ডেভিলস ডিনার।—এই সমাধিতে এক অভিশপ্ত পাপিষ্ঠের মৃতদেহ সংরক্ষিত আছে, যেটা আল্লাহ এখানে মজুদ রাখছেন যেদিন শয়তানের ডিনার দেবেন, এটা দিয়া রোস্ট করে খাওয়াবেন সেদিন। অথবা যদি আমি ডিজার্ভ করি এ-ও লেখা চলবে। সেটা কী? হিয়ার লাইজ এ পিস অফ ক্রাইস্ট, এ স্টার ইন ডাস্ট, এ চায়না ডিশ দ্যাট মাস্ট বি ইউজড হোয়েন গড শ্যাল ফিস্ট দ্যা জাস্ট। অর্থাৎ এই সমাধিতে যীশু খ্রীস্টের একটা অঙ্গ সমাহিত আছে, অথবা এ-ও লিখতে পারো, এই সমাধির মধ্যে ধুলার তারকা অবস্থান করিতেছে, অথবা এ-ও লিখতে পারো, ওই সমাধিতে কতগুলো বেলোয়ারি বাসন-কোসন সংরক্ষিত হয়েছে, যে দিন আল্লাহ পুন্যবাণদেরকে ভোজ দেবেন সেই দিনের জন্যে।

রাইসু

কবিতার প্রতি তাহলে আপনারও বেশ ঝোঁক আছে?

মিজান

ঝোঁক না, মানে ভালো লাগে আর কি। ঝোঁক কই, যেই লাইফ আমাদের, আমাদের তো সমস্ত জীবনটাই গদ্যময়।

রাইসু

আপনি তো যথেষ্টই ছন্দোময়?

মিজান

এইটাও মতামতের ব্যাপার। ‘স্বৈরাচার’ কথাটা যেমন একটা মতামতের ব্যাপার—এই যে আমাকে আপনি ছন্দোময় বললেন এইটাও একটা মতামতের ব্যাপার।

রাইসু

এরশাদ মনে হয় আপনাকে পছন্দ করেছিলেন আপনার এই ছন্দের কারণে।

মিজান

আমি আজকে আপনাদেরকে বলবো না, এরশাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পেছনে আমার তার সঙ্গে একটা অলিখিত চুক্তি ছিল।

রাইসু

সেটা কী?

মিজান

সেটা আমার জীবন বৃত্তান্ত যদি কোনোদিন লিখি সেখানে লিখব। নিজের জীবনের কিছু ঘটনা লিপিবদ্ধ রাখা দরকার। কারণ এই যে একটা কথা বললেন, আপনি এরশাদের সঙ্গে কেন গেলেন। অনেক ডিপ্লোম্যাট আমাকে বলে, আপনি কেন গেলেন! এই কথাগুলোর তো আমাকে উত্তর দিতে হবে।

রাইসু

বঙ্গবন্ধুকে যদি স্বীকার করে নিত তাহলে কি বিএনপি কিংবা এরশাদ সরকার অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেত?

মিজান

এটা নিয়ে সরাসরি মতামত দেওয়া ঠিক না ‘যদি’র ওপরে। তবে আমি এখনও মনে করি আমাদের জাতীয় বীর যারা আছে, বঙ্গবন্ধুর যে অবদান এটাকে যে রকম বিকৃত করে বলা হচ্ছে বিএনপির তরফ থেকে যে, জিয়া সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান দেখানো হচ্ছে এবং জিয়া যাহা নন তাহা বলিয়া তাহাকেও অসম্মান করা হইতেছে। আমি বলবো, বঙ্গবন্ধুর যে অবদান আসুন আমরা অকপটে স্বীকার করি, জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান আসুন আমরা তা স্বীকার করি। এরশাদের মন্দ যেটা সেটা থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি। শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা সংশোধিত হই। আর এরশাদ যেটা ভাল করেছেন সেটা স্বীকার করে নেই।

রাইসু

যদি এগুলি করা হয়….?

মিজান

একটা স্বাধীন দেশে কিন্তু এগুলো খুব প্রয়োজন। জাতীয় ঐক্যের জন্যে। যার যা প্রাপ্য সেটা দেওয়া একটা স্বাধীন দেশে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্যে প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য।

রাইসু

এটা হলে আর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো তফাৎ থাকে কি?

মিজান

নিশ্চয়ই থাকবে। সেটা হলো আদর্শের কথা। এটা তো আচরণগত বা দৃষ্টিভঙ্গিগত।

রাইসু

কোনো কোনো বাম দল তো বলে যে এই বুর্জোয়া পার্টিগুলোর মধ্যে কোনো মৌলিক তফাৎ নাই।

মিজান

এখন বামপন্থীদের কথা কী বলবেন, ওনাদের যে গুরু সোভিয়েত ইউনিয়নই তো বামপন্থী নাই।

রাইসু

ওনারা তো কেউ কেউ বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে সেইভাবে বামপন্থা ছিলও না। ছিল আমলাতান্ত্রিক বামপন্থা।

মিজান

আমলাতান্ত্রিক বামপন্থা! ওনাদের বামপন্থার কী থিওরি এটা দেখানোর সুযোগ এই দেশে ওনারা কোনোদিন পাবেন না। এই পর্যন্ত বামপন্থা দেখানোর জন্যে যত লোক মারা-টারা হইতে আরম্ভ করে জায়গায় জায়গায় এখনো কিছু সর্বহারা দিয়ে-টিয়ে কিছু করতে-টরতে আছে। এই দেশে ওনাদের ওইসব থিওরি কোনোদিন কিছুই করতে পারবে না।

রাইসু

এই দেশ কি বুর্জোয়া পার্টিগুলির মাধ্যমে কোনো উন্নতির দিকে যাচ্ছে?

মিজান

দেখেন, বুর্জোয়া পার্টির মাধ্যমে পৃথিবীর যা উন্নতি ঘটেছে আর এই বামপন্থার মাধ্যমে পৃথিবীর যা ক্ষতি করা হয়েছে এইটা তো চোখের সামনেই আমাদের। ‘বুর্জোয়া!’—এইটাও তো বামপন্থীদের দেওয়া একটা টাইটেল, ‘স্বৈরাচার’-এর মতো। ওনারা নিজেরা কী? ব্রেজনেভ সাহেবের কতগুলা গাড়ি ছিল এবং এখনও চীনে গিয়া দেখুন যে তাদের নেতাদের পেছনে খরচ কত আর একজন শ্রমিকের বেতন কত। যে জন্য আমি আমার ছোটমুখে সমস্ত কিছু স্টাডি করে সমাজতন্ত্রের একটা ডেফিনেশন দিয়েছিলাম। এটাকে সমাজতন্ত্র না বলে আর একটু বাড়িয়ে কথাটা বলি। আমি বলতাম, “দরিদ্র দেশে সীমাবদ্ধ সম্পদে দেশের সকল সম্পদ সকলে মিলিয়া ভাগ করিয়া ভোগ করি যোগ্যতা এবং প্রয়োজন অনুসারে। এবং তার জন্যে সম্পদ সৃষ্টি করার প্রয়াস নিরত রাখি।”

রাইসু

এটা কাদের জন্য?

মিজান

জনগণের জন্য, পার্টির জন্য। এটা আমার চিন্তাধারা।

রাইসু

আচ্ছা একটা কথা, জনগণের ইচ্ছাটা আপনারা কীভাবে বুঝতে পারেন যে জনগণ এটা চায়? এটা তো নিশ্চয়ই কেবল ভোটের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব না?

মিজান

এছাড়া তো অন্য কোনো মাধ্যমও নাই। আর কী আছে বলেন?

রাইসু

জনগণের সঙ্গে কাজ করা!

মিজান

সেইখানটায়ও তো সমস্যা আছে। একজন কবে এইদিকে, একজনে কবে ওইদিকে।

রাইসু

তাহলে ডিসিশনটা আপনারা নেন কীভাবে?

মিজান

ডিসিশন নিতে হলে যে পর্যন্ত ভোটের চেয়ে উৎকৃষ্ট কোনো পন্থা আমরা উদ্ভাবন করতে না পারি সে পর্যন্ত এটাকেই ব্যবহার করতে হবে। বেটার কিছু করতে গেলে এক্সপেরিমেন্ট—কার্ল মার্ক্সও তো এক্সপেরিমেন্ট করেছেন তাদের দিয়ে। ৭০ বছরে দেখা গেল ওইটা আরো খারাপ। এখন আবার যদি কেউ এরকম কোনো থিওরি নিয়া আসে সেটা দেখা যেতে পারে।

রাইসু

মানে, আপনি বেশ উদার আছেন সবকিছুর ব্যাপারে। অন্যান্য রাজনীতিকদের মতামত কী এক্সপেরিমেন্টের ব্যাপারে?

মিজান

তাদেরটা তো আমি বলতে পারি না।

রাজু

মেলামেশা করেন না তাদের সাথে?

মিজান

না, মেলামেশা করলেও এই ধরনের আলোচনা আমাদের রাজনীতিকরা করেন না।ৱ

রাজু

আপনারা সাধারণত কী ধরনের আলোচনা করেন একসাথে হলে?

মিজান

একসাথে হলে কেমন আছেন, ওইখানে মিটিংটা তো ভালোই হইছিল, অমুকখানে আপনে দৌড়ানি খাইলেন কেন। ইত্যাদি নানান কথাবার্তা, যা ঘটে এগুলার ওপরে!

রাজু

তার মানে আলেচনার স্তর এইখানে!

মিজান

ব্যক্তিগত পর্যায়ের বাইরে গেলে তো আলোচনায় ঝগড়া হইয়া যায় গা।

রাইসু

পরনিন্দা হয় না?

মিজান

হয় কিছুটা। বাঙালি পরনিন্দা করবে না এটা তো, এমনকি তিনজন বন্ধু, তারা প্রতিদিন সন্ধ্যায় একখানে বসে আড্ডা দেয়, কোনো কারণে যদি একজন সেইদিন অনুপস্থিত থেকে দুইজন থাকে, তাহলে অনুপস্থিত ব্যক্তির গুণ সম্পর্কে অন্তত আলোচনা করে না বাকি দুইজন।

রাইসু

আর একটা কথা শোনা যায়, রাজনীতিকরা নারীবিমুখ?

মিজান

যে পুরুষ সে নারীবিমুখ হইতে পারে না। এইটা হেডলাইন করতে পারেন। এই প্রকৃতি—ইউ ক্যান্ট ডিনাই নেচার। ইউ ক্যান্ট ডিনাই বায়োলজি। ইউ ক্যান নট। আর পুরুষ নারীবিমুখ হবে কেন? নারী এবং পুরুষের মিলিত প্রচেষ্টায়ই একটা সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে। ইউ বিলিভ ইট অর নট, আই সয়্যার, মাই হাউজ ইজ মাই হেভেন। স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা, আমি কী চাই সেটা বুঝতে পারা এবং ছেলে মেয়ে নাতনি নিয়ে এই যে ভালোবাসা-প্রেম-প্রীতি এইটা একটা স্বর্গীয় পরিবেশ।

রাইসু

আপনি তার ভয়ে বলতেছেন না তো?

মিজান

তিনি নাই এখানে এবং সামনে তো কোনোদিন তার প্রশংসা করি না আমি। বরং উল্টাপাল্টা কথা বলে ক্ষেপাই।

রাইসু

জাতীয় পার্টির আর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা আছে কি?

মিজান

আমি কোনো রাজনৈতিক পয়গম্বর না, অ্যাস্ট্রলজারও না, তবে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় এবং আমি যদি সব দিক বজায় রাখতে পারি—সব দিকে যদি আমি মিনিমাম লজিস্টিক দিতে পারি, আমার কেন যেন মনে হয় ইনশাল্লাহ আমরা মেজরিটি পাব। আমি আগেই বলে রেখেছি, যদি সব দিক ঠিক রাখতে পারি।

রাজু

আপনি কবিতা পড়েন তো? এরশাদের কবিতাও তো পড়তেন নিশ্চয়ই?

মিজান

আমি আধুনিক কবিতা খুব কম পড়ি।

রাজু

তো, এরশাদ তো আধুনিক কবি। ওনার কবিতা পড়েন নাই আপনি?

মিজান

খুব কম।

রাজু

কিঞ্চিৎ পড়েছেন তাহলে বোঝা যায়।

মিজান

কিছু কিছু পড়েছি।

রাজু

তো, ওনার কবিতার সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?

মিজান

কবি হিসেবে মোটামুটি খারাপ ছিলেন না।

রাইসু

ওনার কবিতাগুলি নাকি অন্য কেউ লিখে দিতেন?

মিজান

নাহ্। জেলখানা থেকে যে কবিতাগুলি বের হয় এগুলি কে লিখে দেয়? আমাদের দেশে যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা।

রাজু

আচ্ছা, আর একটা জিনিস, এরশাদ কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে তার মুক্তির ব্যাপারে কারো সহযোগিতার দরকার নেই।

মিজান

এইটা উনি বলেন নাই। আমি যতটুকু জানি আর কি, তার সম্বন্ধে কে কোন কথা আইসা বলে সেটাকে আমি অথেনটিক মনে করি না। যে পর্যন্ত আমি এবং আমাদের পার্টির কারো কাছে কোনো কথা না বলেন বা আমাদের বিশ্বস্ত কোনো ল’ইয়ার যারা তার সাথে দেখা করেছে তাদের কারো কাছে না বলেন সে পর্যন্ত আমি এটাকে অথেনটিক মনে করি না।

রাইসু

জেলখানায় ওনার ওপর যে কিছু অত্যাচারের অভিযোগ পাওয়া যায় এ ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য কী?

মিজান

আমরা তো এগুলি কিছু দেখি নাই, তবে আমরা যা শুনেছি এগুলি সমস্তই সত্য।

রাইসু

এ ব্যাপারে আপনাদের অ্যাকশান কী?

মিজান

অ্যাকশান আমরা গণতান্ত্রিকভাবে যেটুকু প্রতিবাদ করার তা করেছি।

রাইসু

আচ্ছা রাজনৈতিক সততা বলতে আপনি কী বোঝেন? রাজনৈতিক সততার মাধ্যমে কোনো মিথ্যা কথা বলা সম্ভব কিনা?

মিজান

সত্য অপ্রিয়। সকল অপ্রিয় কথাই বলিতে নাই।

রাজু

এখন এই অবস্থান থেকে রাজনীতিবিদদের অকপট এবং সরল হওয়ার সামর্থ্য কতখানি?

মিজান

রাজনীতিবিদদের, আমি মনে করি, দেশবাসীর কাছে তাদের সরল থাকা উচিত।

রাজু

যদি তাই হয়, আপনি তো অনেক প্রশ্নেরই সরাসরি উত্তর দিতে পারতেন?

মিজান

না, সরাসরি উত্তর দেব কেন, যেই উত্তর সমাজের জন্য ক্ষতিকর হবে, পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বিনষ্ট করবে এবং পারস্পরিক ঘৃণার উদ্রেক করবে, শত্রুতার সৃষ্টি করবে সেগুলা তো না বলাই ভাল। তবে এইখানটায় একটা ইংরেজি কথাই ভালো—ট্রুথ ইজ স্ট্রেনজার দ্যান ফিকশান।

রাইসু

ট্রুথ তো আমরা প্রায় কখনোই জানতে পারি না?

মিজান

ট্রুথ ইজ স্ট্রেনজার দ্যান ফিকশান—এর বেশি আমি বলবো না।

রাইসু

জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, আপনার দিক থেকে?

মিজান

আমার দিক থেকে আমি সম্পূর্ণভাবে এখন গ্রাসরুট লেভেলে—তৃণমূল পর্যায়ে এইটাকে সংগঠিত করার চেষ্টা করতেছি। এবং এইটা একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে যাতে দেশের জন্য কাজ করতে পারে, সঠিক রাজনীতি করতে পারে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ব্যাপারে অবদান রাখতে পারে সেটাই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

রাজু

এখন কী ধরনের বই টই পড়ছেন আপনি?

মিজান

বই পড়ার সময় তো কেউ দেয় না। ঐ ম্যাগাজিনগুলো একটু দেখি। আমি সাধারণত কবিতার বই পছন্দ করি। আজকাল তো কবিতা আধুনিক কবিতা। আমার কাছে এখনও ঐ তারাই—নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, ডিএল রায় এমনকি অক্ষয়কুমার বড়াল, নবীনচন্দ্র সেন—পুরানো যা আছে। আধুনিকের সাথে আমার একটু সম্পর্ক কম। আমি নিজেও আধুনিক মানুষ না। আমি মানুষই আধুনিক না তো। আমার কাছে কেন যেন এখনকার কবিতাগুলোকে ছন্দের প্রশ্নে বলেন, ভাবের কথা বলেন, ভাষার কথা বলেন কেমন যেন মনে হয় কতগুলো শব্দ একসাথে করে তারপর একটা লাইন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আগের মতো… যেমন কবিতার একটা ছন্দই ছিল আরেক রকম। যে কোনো কবিতাই। ধরেন, “সুদূরের সুগন্ধ ধারা, বায়ুবহে পরানে আমার পথহারা/ ঘুরে ঘুরে” এ রকম কবিতা নাই কেন? “আমার হইয়া গেল রাইত, যাওয়া হইল না বাইত”—এ ধরনের মনে হয়। আজকাল গীতিরচনা যেগুলা করে ওগুলাও তো অত ভাবসমৃদ্ধ না।

রাইসু

গান শোনেন নাকি?

মিজান

আমি গান দুইবেলা শুনি।

রাইসু

পাঁচ বেলা নামাজ পড়েন, দুইবেলা গান শোনেন?

মিজান

হ্যাঁ, পাঁচবেলা নামাজ পড়ি, দুইবেলা গান শুনি, একবেলা কোরান তেলাওয়াত শুনি।

রাজু

কী ধরনের গান শোনেন?

মিজান

প্রধানত রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, অতুল প্রসাদী। যেই সমস্ত গান সুর এবং ভাবে সমৃদ্ধ। সোজা কথা ভাব এবং সুরে সমৃদ্ধ। সুরেলা কণ্ঠ। এগুলি আমি পছন্দ করি। ভাবপূর্ণ কাওয়ালী আছে, পছন্দ করি—এমনকি শ্যামাসঙ্গীতও।

রাইসু

আপনাদের সময়ে তো আপনারা টেলিভিশনে এই ধরনের গান তেমন প্রচার করেন নাই।

মিজান

ভাই, একটা কথা বলতে হবে যে আপনি জুতা সিলাই হইতে চণ্ডি পাঠ পর্যন্ত মন্ত্রী দিয়া আশা করতে পারেন না। সমাজকে সম্পূর্ণভাবে ওলটপালোট করে দেয়ার মতো কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও আসে নাই।

রাজু

শেখ মুজিবের পরে?

মিজান

ওলটপালোট কথাটা কিন্তু অনেক বড় কথা। সমস্ত সমাজ ওলটপালোট করা—সমস্ত সমাজ। সেটার জন্যে সমগ্র জনগোষ্ঠীর যে মরালের দরকার—চাকরিজীবী, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, বিবৃতিজীবী, রাজনীতিজীবীর—সম্মিলিতভাবে, আমাদের এখানে সেটা হয় নাই তো। জাতীয় ঐক্যই তো বলতে গেলে হয় নাই দেশে। বঙ্গবন্ধুর আমলে কিছুটা জাতীয় ঐক্য আমরা সৃষ্টি করতে পারছিলাম কিন্তু সেটা আমরা ধরে রাখতে পারি নাই। তার জন্যে যেমন কিছু লোকের দোষ আছে, আমরা যারা নেতৃত্বে ছিলাম আমাদেরও দোষ আছে। এগুলি অকপটে আমি বলতে পারি। আমি নিজের কথাই বলি। অন্যের দোষটা আমি বলি না। আমি যেটা করি একটা ডিফেন্স দাঁড় করাবার চেষ্টা করি। আমি তো আর মূল নায়ক না।

রাইসু

আপনি পার্শ্বনায়ক ছিলেন?

মিজান

না পার্শ্বনায়ক না। কনট্রিবিউটারি। কমপ্লিমেন্টারি এন্ড কনট্রিবিউটারি। তারপরে আরেকটা বলতে পারেন, যেটা আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিন, ৬০-এর দশকে, আমি তখন একা এটার হাল ধরেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তো একথা স্বীকার করে নি, এখনও করে না। ১৩ই জুন আমিই করলাম। ৭ই জুন পালন করে একটা দিন তারা আমার নামটা নেয় না। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন কইরা দিছে জিয়া সাহেব ঘোষক হইয়া গেছে—বঙ্গবন্ধুর নাম নেয় না। জিয়া সাহেব মইরা গেছে, এখন জিয়া সাহেবের যত অপকর্ম আছে সব আস্তে আস্তে ভাইসা উঠবে। আমাদের অ্যাটিচিউডই কেমন জানি নেগেটিভ হইয়া গেছে। বঙ্গবন্ধু যেটা ভাল করছে আসেন সেই গুণটা আমরা উল্লেখ করি, উদাহরণ হিসেবে। জিয়া সাহেব যেটা ভাল করছে উদাহরণ হিসেবে সেটা উল্লেখ করি। এরশাদ যেটা ভাল করেছে উদাহরণ হিসাবে সেটা উল্লেখ করি। যেটা খারাপ করেছে সেটার কাছ থেকে আমরা শিক্ষা নেই। দ্যাটস অল।

দিস শ্যূড বি মোস্ট প্র্যাকটিকাল অ্যাপ্রোচ অফ অল দি পলিটিক্যাল লিডারস। এটা আমার মত। কিছুদিন পরে তো এইটাই কনফিউশান থাকবে যে দেশটা স্বাধীন করছে কে। এখনই তো অলরেডি কিছু হয়ে গেছে। দেখেন, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একজন মেজর স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে আমাদের দেশের, আর সেই হিসেবে আমরা স্বাধীন হইছি এইটা খুবই লজ্জার কথা। অত্যন্ত লজ্জার কথা। উনার মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান… বাট খালেদ মোশারফ অ্যান্ড আদার ফ্রিডম ফাইটারস ওয়র কিল্ড অ্যাট হিজ ইন্সট্যান্স। এইটা কী করে আপনি অস্বীকার করবেন। জেলখানায় চারজন লোকেরে যে মারছে তার জন্যে যে আইন হইছে, বঙ্গবন্ধুরে যে মারছে তার জন্যে যে আইন হইছে—মোশতাক কইরা গেছে জিয়া সাহেব রাইখা গেছে এগুলি! জাতীয় ঐক্য কীভাবে করবেন আপনি?

আপনি জাতীয় ঐক্য করতে গেলে মনটা বড় করে সমস্ত জাতিটাকে এক হিসেবে আমাদের দেখতে হবে। দেখে, যেটা যাদের জন্য সম্পদ, আমরা তুলে ধরবো, প্রচার করবো। যেটা জাতির জন্যে ক্লেদাক্ত অধ্যায় সেটাকে আমরা চাপা দিয়ে রাখবো এবং তার ওপর সংশোধন করে আমরা সমাজটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তারপর ধরেন নাইনটিন সেভেনটি, সেভেনটি ওয়ানে তো আমি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে ছিলাম। যুদ্ধক্ষেত্রেও আমি ছিলাম। কার কী অবদান কে কী করেছে তাও তো দেখেছি। এগুলা কি দেখি নাই? দেখছি। প্রত্যেকেরই কনট্রিবিউশন আছে। এবং চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে জিয়া সাহেব গিয়া যে অ্যানাউন্স করছেন সেইটা এবং কুষ্টিয়ার হান্নান… কীভাবে তারা জিয়া সাহেবকে রেডিও সেন্টারে নিছে, কীভাবে অ্যানাউন্স করিয়েছে সব তো আমি জানি। এগুলা বলা তো ভাল না। ওনাদেরও জিয়া সাহেবকে ঘোষক বলা উচিত না। আমাদেরও এটার বিরোধিতা করা উচিত না। তার আদর্শ নিয়া রাজনীতি করতেছো—করো। কিন্তু তিনি যা নন তা বলে নিজেও অসত্য ভাষণ দিও না, জনগণকেও বিভ্রান্ত কোরো না। ইতিহাসকে বিকৃত কোরো না। কিন্তু উনি যেটা করেছেন সেটা বলবো। ঘোষক হিসেবে, হি ওয়াজ নট দি ঘোষক। হি ওয়াজ নট। ঘোষণা শেখ মুজিব করেছেন। সেভেন্থ মার্চে করেছেন—“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এইটাই তো ঘোষণা।

স্বাধীনতা কি একজন মেজরের হুইসেল থেকে হয়ে যায় নাকি। এখন দেউক না, পাঁচ সাত জন মেজর মিলে একটা হুইসেল দেউক দেখি!

রাইসু

রাজনীতিতে তো স্থায়ী শত্রুতা কিছু নাই। এ রকম কোনো সুদূর সম্ভাবনা আছে নাকি যে আপনি আবার আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিতে যোগ দিলেন?

মিজান

আমি সেই কথা বলি না। আমি বলি যে আমি একজন আশাবাদী লোক। দেশ এবং দশের কল্যাণে একটা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হউক এটা আমি চাই। এবং সেই ঐক্যের মাধ্যমে সবাই এত পথ এবং মতের মধ্যে না থেকে সরাসরি বক্তব্য থাকা দরকার আমাদের, গঠনমূলক বক্তব্য। এবং সেইখানটায় যদি ঐক্য হয়ে যায়—কার সাথে কার হলো সেটা বড় কথা নয়। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্যে যদি কোনো ঐক্য হয় এটা তো অত্যন্ত, মোস্ট ওয়েলকাম। সেটাকে আমি অভিনন্দন জানাই।

রাজু

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবেন, না দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করবেন, জাতি তো একই আছে।

মিজান

আমরা ভাগ করে রাখতেছি না। আমি কিন্তু অনেক বড় কথা বলছি এইখানটায়। আমি এক্সপ্লেইন করবো না।

রাইসু

জাতি যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় তাহলে রাজনৈতিক নেতারা খাবে কী?

মিজান

না, রাজনৈতিক নেতা যাদের কোনো পেশা নাই শুধু রাজনীতি করে তাদের জন্য অসুবিধা হবে। শুধু চান্দা উঠাইয়া যারা খায়। ঢাকা শহরে এমন লোক রাজনীতি করে যারা ইনকাম ট্যাক্স দেয় না। যাদের নোউন রিজনেবল কোনো সোর্স অফ ইনকাম নাই। বাড়ি গাড়ি হাঁকাইয়া দল চালাইয়া খাইতেছে। সমস্ত সামাজিক অবক্ষয় এসে গেছে। ছাত্রদের হাতে এখন রাইফেল। আমরা যদি একটা রেজিমেন্ট খাড়া করতে চাই, ইউনিভার্সিটি থেকে তাদের অস্ত্রের ট্রেনিং দিতে হবে না।

রাইসু

তো, জাতির জন্যে আপনার কোনো বক্তব্য আছে কি?

মিজান

আমার বক্তব্য হলো যে বহু কষ্ট, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে। আসুন সকলে মিলে আমরা দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্যে কিছু রাস্তা বের করি। যাতে মানুষের এই দুঃখ-কষ্টের ভিতরে কিছুটা হলেও শান্তি আমরা এনে দিতে পারি। আর আরেকটা জিনিস আমার প্রত্যাশা যে, আমি আমার জীবনের শেষ দিনটা পর্যন্ত যেন এই বিশ্বাসটা নিয়ে মরতে পারি যে দেশে যারা রাজনীতি করেন, তারা সকলেই দেশপ্রেমিক, সকলেই দেশকে ভালোবাসেন। আর আমি নিজেও চেষ্টা করতেছি। আমার দেহটা থাকুক বিনাশের জন্যে—দেহটা সংরক্ষিত থাকুক বিনাশের জন্যে আর আমার বিবেকটা থাকুক পস্টারিটির জন্যে। কথাটা মারফতি, হাই ফিলোসফিক্যাল। তবে এইটা আমার মনের কথা। আমার ডাইরিতে এই কথাটা লিখে রেখেছি। অ্যান্ড বিলিভ মি, আমার ডাইরিটা চুরি হইয়া গেছে।

রাইসু

আপনের দর্শন চুরি হইয়া গেল?

মিজান

আমার দর্শন নয়। এটা তো ডাইরি, কতগুলো বক্তব্য আমার।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক