page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

ইকুয়েডরে আকৃতি বদলাতে পারে এমন ব্যাঙের সন্ধান!

স্টিক ইনসেক্ট দেখতে অনেকটা লাঠির মত, স্টোনফিশ পাথরের মত। আবার কিছু কিছু প্রাণী যেমন গিরগিটি বা সামুদ্রিক কাটলফিশ খুব দ্রুত পরিবেশ অনুযায়ী রঙ বদলাতে পারে। এখন এই কপিক্যাট প্রাণির তালিকায় যোগ হওয়ার মত আরেকটি প্রাণির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এটি ব্যাঙের একটি বিশেষ প্রজাতি।

কপিক্যাট হিসাবে এই প্রজাতির ব্যাঙের বিশেষ গুণ এটি পরিবেশের ধরন অনুযায়ী নিজেদের চামড়ার আকার বদলাতে পারে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর আগে চামড়ার আকার বদলাতে পারে তেমন কোনো উভচর প্রাণির সন্ধান না পাওয়া গেলেও এখন এই ব্যাঙের সন্ধান পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আবিষ্কারকারী বিজ্ঞানীদের সহকর্মীরা খেয়াল করেন যে আরেকটি প্রজাতির প্রাণির মধ্যেও আকার বদলানোর এই ক্ষমতা ছিল। বিজ্ঞানীরা আগে এই গুণটি খেয়াল করেন নি।

punkrocker 4

একই পাঙ্ক রকার: উপরে কাঁটাওয়ালা, নিচে আকৃতি বদলে মসৃণ হয়েছে।

লিনেয়ান সোসাইটির প্রাণিবিদ্যার জার্নালে নতুন সন্ধান পাওয়া এই ব্যাঙের ব্যাপারে বর্ণনা করা হয়েছে। ক্যাথেরিন এবং টিম ক্রাইনাক নামের দুজন গবেষক এই প্রজাতিটির সন্ধান পেয়েছেন।

২০০৯ সালে তারা দুজন দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিয়ান বনে বসবাসকারী প্রাণী নিয়ে কাজ করছিলেন। সেখানে বসবাসকারী প্রাণিদের কয়েক বছর ধরে তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা শৈবালের ওপর বসে থাকা গায়ে কাঁটাওয়ালা অপরিচিত এক ধরনের ব্যাঙ দেখে সন্দেহ করেন যে এই প্রজাতিটির সন্ধান এর আগে পাওয়া যায় নি। তারা মার্বেল আকৃতির এই ব্যাঙটিকে ধরেন এবং এর ছবি তুলে রাখেন। কাঁটাওয়ালা ত্বকের জন্য তারা নাম দেন ‘পাঙ্ক রকার’।

কিন্তু যখন তারা ছবি তোলার জন্য ক্ষুদ্রাকৃতির ব্যাঙটিকে মসৃণ কাপড়ের ওপর রাখেন তারা অবাক হয়ে দেখেন, ব্যাঙটির চামড়া একদম মসৃণ হয়ে গেছে।

তারা তখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন, তারা সঠিক প্রাণিটিকে এনেছেন কিনা। অনিশ্চয়তার কারণে তারা ব্যাঙটিকে আবার শৈবালের মধ্যে রাখেন। এবার দেখেন, ব্যাঙটির চামড়া আবার আগের মত কাঁটাওয়ালা হয়ে গেছে।

ক্যাথেরিন বলেন, আমরা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারি নি… কাঁটাগুলি আবার দেখা যাচ্ছিল। আমাদের ব্যাঙটি চামড়ার ধরন বদলে ফেলছে। আমি আবার ব্যাঙটিকে মসৃণ কাপড়ের ওপর নিয়ে এসে দেখি এর ত্বক আবার মসৃণ হয়ে গেছে।

ক্রাইনাক বলেন, ব্যাঙটির কাঁটা এবং চামড়ার কম্বিনেশন ব্যাঙটিকে শৈবালের সাথে মিশে যেতে সাহায্য করে, ফলে ত্বকের আকৃতি পরিবর্তনের এই ক্ষমতা অপরিচিত আক্রমণকারী প্রাণী থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।

Pristimantis-mutabilis

একটি নির্দিষ্ট পাঙ্ক রকারের চামড়ার টেক্সচারের পরিবর্তন। ৩৩০ সেকেন্ডের মাথায় চামড়ায় কাঁটাওয়ালা ব্যাঙটি মসৃণ ব্যাঙে পরিণত।

ইউনিভার্সিদাদ টেকনোলজিকা ইন্দোআমেরিকা (Universidad Tecnológica Indoamérica) নামক প্রতিষ্ঠানে তাদের সহকর্মীরা এই ঘটনার পরে কয়েক বছর ব্যাঙটির এই বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেছেন। এর ফলে জানা গেছে, তিন মিনিটের মত সময়ে ব্যাঙটি ত্বকের আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে।

ব্যাঙটির অঙ্গসংস্থান এবং জিনগত পরীক্ষা করেও দেখা যায় প্রাণিবিদ্যায় জগতে ব্যাঙটি পরিচিত নয়। পরে এই ব্যাঙের প্রাণিবিদ্যায় নাম হয়েছে ‘প্রিস্টিমানটিস মিউটাবিলিস’ (Pristimantis mutabilis)। যার অর্থ পরিবর্তনশীল বৃষ্টিব্যাঙ।

পরে গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আরো দেখতে পান যে এই ব্যাঙের কাছাকাছি একটি প্রজাতি P. sobetes-এরও এই ত্বক পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে। ফলে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন, Pristimantis গোত্রের অন্যান্য ব্যাঙেরও এই বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। এর ফলে আরেকটি বিষয়ও সামনে চলে এসেছে, আগে যেভাবে প্রজাতি শনাক্ত করা হত তাতে একটি প্রজাতিকে ভুল করে দুইটি বৈশিষ্ট্যের কারণে আলাদা আলাদা দুইবার শনাক্ত করার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

গবেষকরা এই প্রাণী দুইটিকে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাবেন। তারা দেখতে চাইছেন প্রাণী দুইটির আলাদা আলাদাভাবে এই বৈশিষ্ট্য পেয়েছে নাকি পূর্বসূরী কোনো প্রাণী থেকে আসার ফলে এই বৈশিষ্ট্য এসেছে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক