দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে উত্তর সীমান্তে প্রতিরক্ষা দুর্গ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইতালি।

প্রতিবেশী দেশ সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার সাথে তাদের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে নিরাপত্তার জন্যে কেবল উত্তরের পাহাড়ি এলাকাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করে তারা। এছাড়া ওই সময়ে একই আদলে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু দুর্গ নির্মাণ করা হয়। ফ্রান্সের ম্যাজিনো লাইন, জার্মানির সিগফ্রিড লাইন ও সুইজারল্যান্ডের ন্যাশনাল রিডাউট সেসবের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থাপনা।

পদাতিক বাহিনী ও ট্যাংকের চলাচল আটকে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো  ‘ড্রাগন টিথ’

ইতালির তৎকালীন একনায়ক বেনিতো মুসোলিনির নির্দেশনায় ১৯৩১ সালে প্রায় ১১০০ মাইল পার্বত্য এলাকা জুড়ে এ দুর্গ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রতিরক্ষার জন্য উত্তর সীমান্ত থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে তিনটি আলাদা আলাদা ‘অঞ্চল’ চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মাঝে বড় আকারের দুর্গগুলি ছিল ‘প্রতিরোধ অঞ্চলে’। শত্রুদের প্রাথমিক আক্রমণ ঠেকানোর জন্য তার ঠিক সামনেই ছিল ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’। আর তার পরের ধাপে ছিল ‘কাউন্টার-অ্যাটাক অঞ্চল’, প্রতিপক্ষ বাহিনীর গতিপথ পাল্টে এই অঞ্চলে প্রবেশ করিয়ে তারপর আক্রমণ করা হত তাদের।

মন্তে ক্রচে কোমেলিকো গিরিপথে নির্মিত বাংকার

এই তিন অঞ্চল মিলিয়ে মোট দুর্গ ছিল তিন ধরনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের দুর্গগুলি পাহাড়ের ঢালে নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ছোট আকারের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হত পয়েন্ট-ডিফেন্স সিস্টেম। আর আশ্রয় ছাউনি, র‍্যালিয়িং পয়েন্ট ও বাংকারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ভিন্ন আরেক প্রকার দুর্গ।

ট্যাংক ব্যারিয়ার

অ্যাল্পাইন ওয়ালের নির্মাণ কাজ গোপনে সম্পন্ন করা হয়। তাই শুধুমাত্র ইতালিয়ান শ্রমিকদেরকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এ কাজে। কাজ শেষ হয় ১৯৪২ সালে।

বাংকার; ক্রয়েজবার্গ গিরিপথ

দুর্গগুলি নির্মাণে ইতালিয়ান সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধকালীন সময়ে এসব তেমন কোনো কাজেই আসেনি। এর বেশ কিছু অংশ পরবর্তীতে ধ্বংস করে ফেলা হয়। এছাড়া কয়েকটি দুর্গ সামরিক শাস্তির নিদর্শন হিসেবে যুগোস্লাভিয়ান সরকারকে দিতে হয়েছিল ইতালির।

বাংকার; অ্যাল্পাইন ওয়াল

১৯৯০ সালে স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হবার পর অ্যাল্পাইন ওয়াল পুরোপুরিভাবে পরিত্যক্ত ও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পর্যটকদের গন্তব্যস্থল ছাড়া এসব দুর্গের আর কোনো কার্যকারিতা নেই। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মনোরম নিসর্গের সম্মিলন হিসেবে অ্যাল্পাইন ওয়াল পর্যটকদের আকর্ষণ করে থাকে।

কাসামাত্তা মন্তে লিগা গুহায় স্থাপন করা হয়েছিল কামানশ্রেণী

Recommended Posts

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *