১.
ফেসবুকে যারা লেখালেখি করেন সদর্থেই তাদের সবাই লেখক। তাদের নিজ নিজ টোটাল লেখালেখির দৈর্ঘ্য বিচার করতে গেলে প্রত্যেকেরই মোটামুটি দশটা বিশটা বই হইয়া যাবে ইতিমধ্যে।

অপ্রকাশিত সব সারমর্ম মূলক বই। আমি এই লেখালেখির পক্ষে আছি সব সময়।

এই যে এত এত লেখক তাদের প্রত্যেকেরই একটা একটা নিজস্ব ওয়ে অব এক্সপ্রেশন আছে। তা থাকবেই। লেখকদের ভিন্ন ভিন্ন বলার ভঙ্গি তো থাকবেই। কিন্তু তাদের মধ্যে কমন কিছু জিনিস আছে। তাগুলি কী কী?

দুর্ভাগ্যজনক একটা হইল: সবার প্রকাশভঙ্গিরেই বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড দিয়া বিচার করা যায়।

অর্থাৎ স্মার্ট বুদ্ধিবৃত্তির ‘উইট’ নামক মাপক দিয়া এরা নিজেদের গড় কইরা রাখতেছেন। উইটের বাংলা অনেক আছে, আমি আপাতত করলাম—বুদ্ধিহাসি। বা টেটনাহাসি।

তীক্ষ্ণতা বা টেটনামির কারণে উইটরে মনে হবে হাস্যরস ও বুদ্ধির সমন্বয়। বস্তুত তা নয়। উইট হইল অন্যের সঙ্গে, বা বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগের পরিহাস পদ্ধতি। আত্মপরিহাস। তাতে হাস্যরস নামে যা আছে তা হাসির কঙ্কাল। রুচির নামে এই কঙ্কাল স্বাস্থ্য হিসাবেই গৃহীত আছে আর্টের জগতে। তা থাকা মনে হয় সমস্যাজনকই।

২.
ক্ষমতা, অর্থ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মিডল ক্লাস নিজের অভাব পূরণের চেষ্টা করে উইট দিয়া। উইট জিনিসটা মিডল ক্লাসরে ক্ষমতাসীন বা বিত্তশালীদের বন্ধু থাকতে হেল্প করে। উইট দিয়া মিডল ক্লাস বিত্তশালীদের আউটস্মার্ট কইরা তাদের প্রিয়ভাজনও হইতে পারে। ঢাকাই টকশোতে এর দেখা পাইবেন অহরহই।

উইটই সেই কারণ যার কারণে বিত্তশালী নিজের নিচে হইলেও নিজেদেরই আপাতত একজন ধইরা নেয় উইটসমৃদ্ধ মিডল ক্লাস বা মিক্লারে।

তাই উইট একটি বিকল্প ধারা। যারা উইটের শরণ লন তারা মূলত নিজেদেরকে গ্রেটার্থে পরিহাসই করতেছেন উইটসর্বস্ব হওয়ার মাধ্যমে।

৩.
মিডল ক্লাসের যদি নিজের পন্থা না থাকে বা তার উদ্ভাবন সম্ভব না হয় তবে উইট দিয়াই বিকল্প ক্ষমতার সাধ লইতে হবে। কারণ ক্ষমতা দরকার। চেঞ্জের জন্যেই দরকার। উইট কেন্দ্রিকতার সম্ভাব্য অ-ফলাফল: রাজনৈতিক ভাবে সমাজের রূপান্তর সম্ভব হবে না।

ক্ষমতার বারান্দায় অল্পে তুষ্ট থাইকাই বুদ্ধিজীবীদের জীবন শেষ করতে হবে।

নয়তো?

নয়তো নিজেদের জন্যে নিজেদের যে সামাজিক ভ্যালু তাতে উইটরে বা বিকল্পরে অত জায়গা দেওয়া যাবে না। উইট টুইট করেন ঠিক আছে, নিজের অনুভূতিটা না লুকাইয়া বা নিজেরে ছোট না ভাইবাই বলতে পারতে হবে। হীনম্মন্যতা ঢাকার টুল বানাইয়েন না উইটরে।

এবং তা ফেসবুকেও। বিত্তশালীদের অনুভূতিহীন ডিটাচমেন্টের চারা উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসাবে ফেসবুক বা শিল্পকলা বা লেখালেখিরে কেবল উইটের চাষাবাদে বর্গা দেওয়া যাবে না।

নিজের কান্দনটাও মাঝে মাঝে হাসিহীন, হাসির কঙ্কালহীন কানতে পারতে হবে।

তেমনি হাসি-কান্না-টিভি নাটকের বাইরে আর আর যে রস আছে তারও চর্চা চলতে পারে এখানে।

কেবলই বুদ্ধি মারাইলে হবে না।

২৬/২/২০১৯