আমি আবার নীলা আপুর কাছে গেলাম। গিয়া জিজ্ঞেস করলাম, শাহেদ ভাই কি তোমার প্রেমিক?

আমি তখন স্কুলে পড়ি। আমার প্রথম যে প্রেম-প্রেম হইল তখনকার কথা। আমার প্রেমিক না হওয়া ছেলেটা কলেজে পড়ে। সে আমার বোনের ক্লাসমেট। তবে আমার বোন তার চেয়ে এক বছরের বড়। আপুর এক বছর গ্যাপ ছিল মাঝে। অসুস্থতার জন্য ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারে নাই ক্লাস এইটে।

ঊন-প্রেমিক, শাহেদ, আমার বোন, নীলা আপুর ভালো বন্ধু ছিল। আপু সদ্য মেট্রিক পাশ করে কলেজ যাওয়া শুরু করছে। তখন শাহেদের সাথে তার পরিচয়। শাহেদ সায়েন্সে ছিল, আপু হিউম্যানিটিজে। কলেজের দুই প্রান্তের দুই বিল্ডিংয়ে দুই বিভাগের ক্লাস হইত। কলেজের দ্বিতীয় দিন কলেজের অফিস রুমে দেখা হইছে নীলা আপুর আর শাহেদের। অফিস রুমের দায়িত্বে থাকা বিদঘুটে স্বভাবের লোকটা তাদের দু’জনকে শাসিয়েছিল ফর্ম ঠিকঠাক পূরণ না করায়। এরপর লাইব্রেরিতে বই খুঁজতে খুঁজতে আরও আলাপ চলতে থাকে। তারপর তারা কিছুদিন বাধ্য ছাত্রের মত ক্লাস করছে। পরিচয় বাড়তে থাকলে পর আর ক্লাস করা হয় নাই। সকাল থেকে সন্ধ্যাবধি তারা শহর থেকে শহরতলী, পুরোনো এয়ারপোর্ট বা কলেজের পাশের রাস্তায় ঘুরে বেড়াইত।

আমার মা এইসবের কিছু জানতেন না। সারাদিন সংসার আর নামায-রোযা নিয়া ব্যস্ত থাকেন। তবু সন্দেহ করতেন। আপুর হঠাৎ সাজগোজে আগ্রহী হয়ে ওঠা তার সন্দেহের কারণ। চুলায় মাছ কষাইতে কষাইতে সে তার বিভিন্ন সন্দেহের কথা একলা একলা বলতেন। নীলা আপুর সাথে স্বাভাবিক ব্যবহার করতেন, কিন্তু চলাফেরার দিকে খুব খেয়াল করতেন। আপু বাসা থেকে বের হইলে ড্রেসিং টেবিলের সামনে ছড়ায়া ছিটায়া রাখা লিপস্টিক, কাজলের গায়ের প্রাইস ট্যাগ দেখতেন। মাঝেমধ্যে এক দৃষ্টিতে চোখ মুখ কুচকায়া আপুর দিকে তাকায়া থাকতেন।

একদিন মা খুব রেগে গেলেন। সন্ধ্যা তখন। মাগরিবের আযান হইতেছে। নীলা আপু সবেমাত্র বাসায় আইসা ফেসওয়াশ মুখে ডলতেছিল আর গান গাইতেছিল। হঠাৎ ডাক দিয়া বললেন, নীলা! অযু কইরা আমার ধারে আয়।

—কী হইছে মা?

—তর কাছে আমি কৈফিয়ত দিমু মাগি? আমি তর গোলাম? হারামজাদি!

নীলা আপুর মুখ শুকায়ে গেল। অযু কইরা মাথায় সুতির ওড়না প্যাচাইয়া মা’র কাছে গিয়া বসল।

মা বললেন, “কোরান শরিফ নামা।”

নীলা আপু নামাইল।

মা তারে কোরান শরিফ ছুঁইয়া বলতে বললেন যে, সে এই কয়মাসে মা’রে কোনো মিথ্যা কথা বলে নাই।

নীলা আপু পাথর হইয়া মাথা নিচু করে বসে রইল। নড়ল না, চড়ল না। কোনো কথা বলল না।

মা গালিগালাজ করতে শুরু করলেন।

একপর্যায়ে আপুরে চড় মারলেন গালে।

আপু কাঁদল। কিন্তু কথা বলল না।

তারপর সারাটা সময় থ’ হইয়া রইল। আমি কথা বলতে চাইলাম। কথা বলল না। আপুর ফোন বাজতে থাকল। শাহেদ ফোন করছে। আপু ধরল না। আমারে রিসিভ কইরা বলতে বলল যে, সে ব্যস্ত।

আমি তাই করলাম। ফোন রিসিভ করলাম। শ্বাস বন্ধ করে দ্রুতগতিতে বললাম, “নীলা আপু ব্যস্ত।”

তিনটা শব্দ বলতে গিয়া আমার হাত-পা ঘামায় গেল। কলিজা কোটা শুরু হইল।

পরের দিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি, পহেলা বসন্ত। শাহেদ নীলা আপুরে ফোন করলে আমি রিসিভ করলাম। নীলা আপু আমাকে রিসিভ করতে বলল।

—হ্যালো!

—তোমার নাম যেন কী?

—ইনিসী।

—ইনিসী মানে কী?

—A mysterious relationship that binds two people together.

—আবার বলো। বুঝি নাই।

আমি আবার বললাম।

শাহেদ আমার নামের মিনিংয়ে অভিভূত হইল। জিজ্ঞেস করল, “আমরা কি একসাথে আছি?”

আমি তুমুল বিস্ময়ে বললাম, “না।”

শাহেদ খানিক চুপ করে রইল।

—“In winter in the woods alone
Against the trees I go.
I mark a maple for my own
And lay the maple low” — কার লেখা জানো?

—উহু।

—“In Winter in the Woods Alone”—রবার্ট ফ্রস্টের লেখা কবিতা। শীত চলে যাইতেছে, তাই শেষবারের জন্য পড়ে রাখলাম।

আরও কিছুক্ষণ কথা হইল। আপু ঘুরতে যাবে না বলে শাহেদের আফসোস হইল। শাহেদ বলল, সেও যাবে না। সারাদিন সে বাসায় থাকবে। আর আমার নামের আদি থেকে অন্ত ভাববে।

—নামের ব্যাপারে ভাবার কী আছে?

—আছে। অনেক আছে। এই নাম আমি প্রথমবার শুনলাম।

—সবাই প্রথমবারই শোনে, যেহেতু আমার নাম আনকমন।

শাহেদ নামের ব্যাপারে একগাদা কথাবার্তা বলে ফোন রাখল।

আমি প্রথম কারও সাথে এত কথা বললাম। আমার যত না ভালো লাগছে, তার চেয়ে বেশি ভয় ভয় লাগছে। আমি বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতেছিলাম। নীলা আপু রুমে আধশোয়া হয়ে ছিল। কথা শেষে আপুর কাছে ফোন ফেরত দিতে গেলাম।

আপু বলল, শাহেদের ছবি দেখবি?

—না।

—এমা! ক্যান?

—ইচ্ছা করে না।

নীলা আপু ভাবলেশহীন হইয়া চোখ বন্ধ করল।

আমি মা’র রুমে গেলাম। মা ঘরের কোণার ঝুল ঝাড়তেছিলেন। আমি সাহায্য করতে চাইলাম। মা রাজি হইলেন না। পড়তে বসতে বললেন।

আমি আবার নীলা আপুর কাছে গেলাম। গিয়া জিজ্ঞেস করলাম, শাহেদ ভাই কি তোমার প্রেমিক?

—ধুর!

—বলো প্লিজ!

—নাহ। আমার প্রেমিক আছে। তবে শাহেদ না।

—তাইলে ক্যান সারাদিন শাহেদ ভাইয়ের সাথে ঘোরো?

—ভাল্লাগে। আর আমার প্রেমিক এইখানে থাকে না। মাঝেমধ্যে আসে। কিন্তু আমার তো ঘুরতে যাইতে হয়। না হইলে ভাল্লাগে না। শাহেদরে নিয়া যাই তাই।

—তোমরা ভালো বন্ধু?

—হুম। কিন্তু শাহেদ আমারে পছন্দ করে। বলছিলও।

—তারপর কী বললা?

—বললাম যে, আমার প্রেমিক আছে। আমি লয়্যাল প্রেমিকা। আর অন্যত্র প্রেম সম্ভব না।

আমি খুশি হইলাম না দুঃখ পাইলাম তা বুঝলাম না। রাতে আপুর ফোন থেকে শাহেদের নাম্বার নিয়া তারে ফোন দিলাম। শাহেদ বলল, সে ব্যস্ত। পরে ফোন দিবে।

পড়তে বসলাম। কিন্তু পড়তে পারলাম না। বার বার ফোনের দিকে চোখ যাইতেছিল।

অনেকক্ষণ পরে শাহেদ ফোন দিল। আমি ফোনে রিং হইতে একটু সময় দিলাম। তারপর ধরলাম।

শাহেদের সাথে কথা বলে নীলা আপুর কথার সত্যতা টের পাইলাম। সে নীলা আপুরে পছন্দ করে সেই কথা অকপটে বলল। তারপর তার নিজের কথা। আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল। আমার সমন্ধে অনেক কিছু সে জানে। আপু বলছে।

তারপর আমাদের প্রায় ডেইলি কথা হইতে শুরু হইল। সকাল-বিকাল-রাতে। নীলা আপু জানত, বুঝত, কিন্তু কিছু বলত না। কোনো দিন শাহেদের ব্যাপারে আমাদের আলোচনা হয় নাই। আগে শাহেদের সাথে কোথায় কোথায় ঘুরতে গেল তা আমাকে বাসায় আইসা বলত। এখন তা বন্ধ।

একদিন আমারে ডেকে নীলা আপু বলল, আমার ওই প্রেমটা আর নাই।

—কী হইছে?

—ওর সাথে আমার যায় না। হবে না।

—তাইলে? ব্রেকআপ?

—হু।

—কিন্তু …

—আমি শাহেদের ব্যাপারে ভাবতেছি। ও আমার জন্য সবচেয়ে পার্ফেক্ট। ওর সাথে সিরিয়াসলি কথা বলা দরকার। আমি… আমাদের পরিচয়… সম্পর্কের ব্যাপারে।

আমি চিৎকার করে বললাম, আমারে ক্যান বলতেছো?

এই প্রশ্নের উত্তরে নীলা আপু কী বলল তা আমি শুনতে পাই নাই। আমার কান তব্দা খেয়ে গেছিল। আমি আর কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম না। বুঝতে পারছিলাম না।

শাহেদকে ফোন দিলাম। বললাম, কালকে সকালে দেখা করতে চাই।

শাহেদ রাজি হইল। গলা শুনে কিছু আঁচ করতে পারল হয়ত। আমি আর কথা বাড়ালাম না।

সেদিন সকাল-সকাল উঠলাম। রেডি হলাম।

বাসা থেকে বের হইয়া শাহেদকে ফোন দিলাম। ফোন দিলাম বেশ কয়েকবার। বেশ কয়েকবার কি? বোধহয় একশোবার, হাজারবার। রিং বাজছে। শাহেদের ফোনে রিং হচ্ছে। আমি ভীষণ রোদে একা দাঁড়ায়ে আছি।

শাহেদ কল রিসিভ করল।

বলল, তার মা’র সাথে কোথাও একটা বেরুতে হবে এখন। সে আজ দেখা করতে পারবে না। দুইবার “স্যরি” বলে তাড়াহুড়ো করে লাইন কেটে দিল।

অভিমানে আমার চোখে পানি চলে আসল। কপালের টিপটা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম রাস্তায়। তারপর হাঁটতে শুরু করলাম বাসায় যাওয়ার উল্টা পথে। থামলাম না, ভাবলাম না, কারও দিকে তাকালাম না।

বাসায় গিয়া দাঁড়াতে মা বললেন, নীলা আপুকে দেখতে আসছে।

এত তাড়াতাড়ি তো আপুরে বিয়া দেবার কথা না। হু, আমি অবিশ্বাস করছি মা’কে সেই মুহূর্তে। ভীষণ অবাক হইয়া তাকায়ে রইলাম তার দিকে।

শাহেদের ওপরে যে অভিমান হইছিল তা ভুলে গেলাম। কয়েকটা ট্রেতে খাবার সাজানো হইতেছে। মা নাস্তা রেডি করতেছেন মেহমানদের জন্য। আমারে দেখে বিষচোখে তাকাইলেন। বললেন, নীলার নাহান সাজন শুরু করছোস? ঠোঁডে রঙ আর গালে পাউডার? দাঁড়া, ওই মাগিরে বিদায় কইরা তোরেও বিদায় করমু। আমার মান-সম্মানের ডর আছে। তোগো লেহনপড়োনের দরকার নাই।

আমার রাগ হইল না মা’র ওপর।

নীলা আপুর রুমে গেলাম।

পাশের বাসার খালা আসছেন। শাড়ি পরাইতেছেন আপুরে। লাল রঙা কাতান শাড়ি। আপুরে খুশি-খুশি মনে হইল। আমারে কুচি ঠিক কইরা দিতে বলল।

আমি কুচি ঠিক করতে করতে শাহেদরে ভাবতে শুরু করলাম। সে কি মিথ্যা বলছে আমারে? সে কি আজকে আমার সাথে দেখা করতে চায় নাই? চায় নাই যখন আগে কেন বলল না?

ভাবতে ভাবতে আমার চোখ দিয়া পানি গড়ানো শুরু হইল। পাশের বাসার খালা ভাবলেন নীলা আপুর বিয়া হইলে সে চলে যাবে এইজন্য আমি এখনই কান্নাকাটি করতেছি।

—বিয়া কি ঠিক হইছে? হিহি! হবায় দেখতে আইছে। এহনই বুইনের জন্য কানলে চলব?

আমি চোখ মুছলাম।

জামাকাপড় বদলাতে আমার রুমে গেলাম।

নীলা আপুকে সেই খালাই নিয়া গেলেন ছেলেপক্ষের সামনে। ছেলে, ছেলের মা আর বোন আসছেন।

আমি জামাকাপড় বদলাইয়া পর্দার পাশে দাঁড়ায় রইলাম কী হয় তা শোনার জন্য। নীলা আপুরে তারা তেমন কিছু জিজ্ঞেস করল না। আব্বা কবে মারা গেছেন জানতে চাইলেন মা’র কাছে।

বিয়ার পাকা কথা হইয়া গেল। ছেলের মা আপুরে স্বর্ণের চেইন পরায় দিয়া গেছেন।

ছেলে ভালো চাকরি করে। ফ্যামিলি ভালো। ছেলে দেখতেও ভালো। মা’র দ্বিমতের সুযোগ নাই ।

নীলা আপুও করল না।

ধুমধাম করে বিয়া দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই ছোট আয়োজন করা হইল। খুব কাছের আত্মীয়স্বজন ছাড়া কাউরে বলা হইল না।

শাহেদের সাথে আমার পরে কথা হইছে। আমি অভিমান নিয়াই কথা বলছি। শাহেদ হয়ত বুঝছে, খুব বুঝে কথা বলছে কিন্তু ভাঙানোর চেষ্টা করে নাই।

আপুর বউভাত হবে না। একবারেই বিদায় দেওয়া হবে। গায়ে হলুদও হয় নাই। এগুলি মা’র সিদ্ধান্ত। মা চান না বাবার পেনশনের টাকার অযথা খরচ হোক। আমরা বিয়ার ব্যাপারে তাই কেউ কিছু বলি নাই।

নীলা আপু সব মেনে নিছে। প্রাক্তন প্রেমিক বা শাহেদের কথা তুলল না একবারও। হবু জামাইয়ের সাথে ফোনে আলাপ হয় তখন। প্রায় সারারাত কথা হয়।

১৫ই মার্চ।

দুপুরে আপুর বিয়া পড়ানো হইছে। সন্ধ্যায় নীলা আপুকে ফুলটুল দিয়া সাজানো মাইক্রোবাসে করে নিয়া গেল। মা কাঁদলেন কিন্তু স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সমস্ত কাজ শেষ করলেন।

আমি রুমে এসে কী করব বুঝতে পারতেছিলাম না। মা স্বাভাবিক। তার সান্ত্বনার দরকার নাই। কাজের জন্যও আমারে দরকার নাই। আমি শাড়ি বদলাইলাম না। কিছুক্ষণ পর বারান্দায় পায়চারি করতে থাকি।

তখন শাহেদের কল আসল। হুট করে যেন আমার দুঃখ কমে গেল।

কল রিসিভ করলাম।

শাহেদের সাথে কথা হইল না। শাহেদের এক বন্ধু কথা বলল। নীলা আপুর নাম্বার বন্ধ পাইয়া সে আমাকে ফোন করছে।

শাহেদের বন্ধু বলল, শাহেদ হাসপাতালে আছে। ঘুমের ওষুধ খাইয়া সুইসাইড করতে চাইছে। সবুজবাগের রাস্তায় একটা ডাস্টবিনের পাশে পড়ে ছিল। রাস্তার মানুষজন তারে হাসপাতালে ভর্তি করছে। তার অবস্থা ভালো না।

শাহেদের কথা আমাকে সে আপুকে জানাইতে বলল।

আমি বললাম, “আপু চলে গেছে।”

—কই?

—শ্বশুরবাড়ি।

শাহেদের বন্ধু “bogus” বলে ফোন রাখল।

আমি ছাদে গেলাম। মা দেখলেন। কিছু বললেন না। আমি হাউমাউ করে কাঁদতে চাইতেছি। চিৎকার করতে চাইতেছি। কিন্তু গলা থেকে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না। মনের মধ্যে শব্দের ঝড় বইতেছে। শাহেদের গলা শুনতে পাইতেছি। কী কী যেন বলতেছে। সব কথা আমি বুঝতেছি না। যেন সব অস্পষ্ট আর ধোঁয়াশা।

শাহেদকে আমিই বলছিলাম নীলা আপুর বিয়ার ব্যাপারে। তখন তো শাহেদ কিছু বলল না। এত কষ্ট হচ্ছিল ওর? শাহেদও কি চিৎকার করে কাঁদতে চাচ্ছিল? বা হয়ত এখনও চাচ্ছে। পারতেছে না।

অনেক দিন…।

শাহেদের সাথে আমার আর কথা হয় নাই। খবর পাইছি বেশ কয়েকদিন পরে শাহেদের জ্ঞান ফিরছিল। শাহেদ আমাকে আর কখনো ফোন করে নাই। আমিও না।

আমার যে প্রেম ছিল, তা আর কোনোদিন আমাদের হইয়া উঠল না।