page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

“এলিয়েনরা মানুষকে পরমাণু যুদ্ধ থেকে বাঁচাতে চায়”—ষষ্ঠ চন্দ্রবিজয়ী এডগার মিচেল

এইবার এলিয়েনদের পৃথিবীতে আসার দাবি তুলছেন এমন একজন যিনি নিজে একজন বিখ্যাত মহাকাশচারী। এডগার মিচেল চাঁদের বুকে পদচারনা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। অ্যাপোলো ১৪ মিশন ছিল সেটা।

মার্কিন এই মহাকাশচারীর দাবি, শান্তিপ্রিয় এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসীরা পৃথিবীতে এসেইছিল আমেরিকা আর রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ যাতে বেঁধে না যায়, তা নিশ্চিত করতে।

alien-103

শিল্পীর ইউএফও

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মিরর পত্রিকার অনলাইন সংস্করণকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিচেল দাবি করেছেন, যখনই কোথাও কোনো পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানো হয়েছে, সেখানে ইউএফও (অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু) দেখা গেছে। উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্তাব্যক্তিরা সেটা লক্ষ্য করেছেন। তবে এসব গোপন রাখা হয়েছে।

ভিনগ্রহবাসীদের পৃথিবীতে আসবার তত্ত্বে বিশ্বাসের কথা খোলামেলা ভাবেই প্রচার করে আসছেন মিচেল। সেটা তার চাঁদে পা রাখবার পর থেকেই। সেদিক থেকে ইউএফও-তে বিশ্বাসকারী সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল ব্যক্তি মিচেল।

এমনিতে ইউএফও-তে বিশ্বাস মূলধারার বিজ্ঞানমনস্কতার মধ্যে পড়ে না। ইউএফও দেখার ঘটনাকে ‘আরবান লিজেন্ড’ বা ‘আধুনিক কালের কিংবদন্তী’ মনে করা হয়।

ed-michel-1

এডগার মিচেল (জন্ম. টেক্সাস ১৯৩০)

১৯৪৫ সালে আমেরিকার হোয়াইট স্যান্ড স্থাপনায় বিশ্বের প্রথম নিউক্লিয়ার বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিচেল ডেইলি মিররকে বলেছেন, ওই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আশপাশে আকাশে আশ্চর্য সব উড়ন্ত বস্তু দেখতে পেয়েছিল সামরিক লোকজন। মিচেল নিজে বেড়ে উঠেছেন নিউ মেক্সিকোর ওই সামরিক ঘাটির আশপাশে। ইউএফও দেখা যাওয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পটিও এই এলাকার।

ডেইলি মিররকে তিনি বলেন, “এলাকাটা আমার চেয়ে ভালো তো আর চিনবেন না আপনারা। হোয়াইট স্যান্ডস পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার জায়গা—আর ভিনগ্রহবাসীরাও এই ব্যাপারেই কৌতূহলী। ওরা আমাদের সামরিক সামর্থ্য জানতে চায়। বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমার কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, একটা পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে আমাদের বিরত রাখাই ইটি-দের মূল লক্ষ্য, একটা শান্তিময় পৃথিবী গড়তে আমাদের সাহায্য করতে চায় তারা।”

মিচেল আরো জানিয়েছেন, বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় জুড়ে বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে অবস্থানকারী নানান জনের কাছ থেকে একই রকম আরো গল্প শুনেছেন তিনি। তিনি বলেন, “স্নায়ু যুদ্ধের সময় এইসব ভূগর্ভস্থ গর্তে বসবাসকারী বিমান বাহিনির অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তারা আমাকে জানিয়েছেন, ঘাটির আকাশে মাঝে মাঝেই ইউএফও দেখা গেছে এবং এরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন ঘাঁটির অন্য কর্মকর্তারাও আমাকে জানিয়েছেন, এলিয়েনদের আকাশযান তাদের পরীক্ষার ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভূপাতিত করে দিয়েছে। তখন ওদের অনেক তৎপরতা ছিল।”

White-Sands-5

হোয়াইট স্যান্ডস ন্যাশনাল মনুমেন্ট

মিরর-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইউএফও গবেষণা ইউনিটের নিক পোপের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় মিচেলের এইসব দাবির ব্যাপারে। জবাবে নিক পোপ বলেন, “এডগার মিচেল একজন শ্রদ্ধেয় ও সত্যবাদী ব্যক্তি। বিভিন্ন (উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ব্যক্তিদের সঙ্গে) দেখা করার সুযোগ তার ছিল। তবে আমি যুতটুকু জানি, এ বিষয়ে তার দেওয়া তথ্যের বেশিরভাগ তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাপ্রসূত নয়, তিনি অন্যের কাছ থেকে এগুলি শুনেছেন।”

নিক পোপ আরো বলেন, “এটা পরিষ্কার যে, ব্যক্তিপরিচয়ের কারণে সরকারি, সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ মিচেল পেয়েছেন। তবে যেহেতু তিনি তথ্যদাতাদের কারো নাম বলছেন না, কাজেই আমরাও নিশ্চিত বলতে পারছি না, ওই ব্যক্তিরা তাকে সত্যি কথা বলেছে কিনা কিংবা ইউএফও বিষয়ক কোনো গোপন দলিল সম্পর্কে জানার সক্ষমতা তাদের আছে কিনা।”

edgar-mitchell-3

চন্দ্রপৃষ্ঠে এডগার মিচেল

নিক পোপ মন্তব্য করেন, ভিনগ্রহবাসীরা মানুষকে আত্মধ্বংসী পথ থেকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করছে—এই বিশ্বাস তাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় যারা ইউএফও বিষয়ে নিউ এজ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। তিনি বলেন, “এটা গল্প হিসেবে সুন্দর, কিন্তু আমাকে যদি সন্দেহবাদী হতে দেন তো বলি, হুবহু এটাই ছিল ১৯৫১ সালের ক্লাসিক মুভি দ্য ডে দ্য আর্থ স্টুড স্টিল-এর প্লট। বিভিন্ন পরমাণু স্থাপনা, কিংবা আরো সাধারণভাবে বললে, বিভিন্ন সামরিক ঘাটির আশপাশে আকাশে ইউএফও দেখতে পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বটে, তবে এসবের একটা বিকল্প ব্যাখ্যা হলো, এর অনেকগুলিকেই গুপ্তচরবৃত্তির কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা যায়, যাতে গোপন উড়োজাহাজ বা ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।”

গবেষক নিক পোপের মতে, আমাদের মহাবিশ্ব ১৪শ কোটি বছরের পুরনো। কাজেই যদি মহাবিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে কেউ আমাদের গ্রহে অতিথি হিসেবে এসেই থাকে, তারা সভ্যতায় আমাদের চেয়ে মাত্র এক কি দুশ বছর এগিয়ে থাকবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। অতএব, ভিনগ্রহবাসীদের মানুষকে পারমাণবিক যুদ্ধের হাত থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টার কাহিনী অতিরঞ্জন।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক