এফিডেভিট অন্যান্য বিবৃতির মত না। যদি এটাকে খণ্ডন করা না যায় তাহলে এটা আইনগত ভাবে সত্য হয়।

একজন সাবেক সিআইএ পাইলট তার হলফনামায় দাবি করেছেন, নাইন ইলেভেনে কোনো বিমান টুইন টাওয়ারে আঘাত করে নাই। বস্তুগতভাবে তা অসম্ভব ব্যাপার।

লিয়ারজেট* এর আবিষ্কারক বিল লিয়ারের ছেলে জন লিয়ার। তিনি বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখাচ্ছেন ফ্লাইট এএ১১ এবং ইউএ১৭৫ এর মত বোয়িং ৭৬৭ এর জন্য টুইন টাওয়ারে আঘাত করাটা অসম্ভব একটা ব্যাপার। আর যখন সে বিমান কোনো অনভিজ্ঞ চালক চালাচ্ছে তখন তা আরো অসম্ভব।

তার এফিডেভিট বা হলফনামায় তিনি বলেছেন, কোনো বোয়িং ৭৬৭ টুইন টাওয়ারে আঘাত করে নি। সরকার, মিডিয়া, এনআইএসটি এবং তার কন্ট্রাক্টররা এই অভিযোগ এনে জালিয়াতি করছে।

‘যে রকম দেখানো হয় এরকম কোনো সংঘর্ষ ঘটে নাই কারণ বস্তুগতভাবে তা অসম্ভব। এই কারণগুলি — ইউএএল ১৭৫ এর দক্ষিণ ভবনে আঘাত করার ক্ষেত্রে, একটি সত্যিকার বোয়িং ৭৬৭ পর্যবেক্ষণ করলে দেখত বিমানের নাক যখন ১৪ ইঞ্চি স্টিলের কলামে আঘাত করে সেটির কেন্দ্র ৩৯ ইঞ্চি।

জন লিয়ার।

বিমানের ভার্টিকাল এবং হরাইজন্টাল লেজ সাথে সাথে বিমান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্টিল বক্স কলামে আঘাত করত এবং মাটিতে পড়ে যেত।

‘স্টিল কলামে আঘাত করলে ইঞ্জিনগুলির আকৃতি আগের মতই থাকত এবং হয় মাটিতে পড়ে যেত অথবা ভবনটির ধ্বংসাবশেষ থেকে সেগুলি উদ্ধার করা যেত।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ ফুট উপরে কোনো বোয়িং৭৬৭ প্রতি ঘণ্টায় ৫৪০ মাইল স্পিড আনতে পারে না, এতে বিমানের ‘প্যারাসাইট ড্র্যাগ গতিবেগের স্কয়ার হয়ে যায় এবং প্যারাসাইট পাওয়ার গতিবেগের কিউব হয়ে যায়।

  • ইঞ্জিনের যে অংশে ফ্যান রয়েছে সেগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা যে এই উচ্চতায় এবং এই গতিতে তা ঘন বাতাস গ্রহণ করতে পারে না।
  • বিমানের বাইরের কাঠামোতে ৪ টি উইন্ডো কাটআউট থাকে যেগুলি বিমানের সাথে খুব দৃঢ়ভাবে লাগানো নয়। ১৪ ইঞ্চি স্টিল বক্স কলামে প্রতি ঘন্টায় ৫০০ মাইল বেগে আঘাত করলে এগুলি দুমড়ে মুচড়ে যেত।
  • বোয়িং৭৬৭ এর বা ইঞ্জিনের কোনো উল্লেখযোগ্য অংশ ভবনটির ১৪ ইঞ্চি কলামের এবং ৩৭ ফিট নিচে ভবনটির আসল জায়গায় তীব্র আঘাত করেছে অথচ বিমানের কোনো অংশ মাটিতে পড়ে নি এমন হতে পারে না।

বোয়িং ৭৬৭ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভবনটির ধ্বংসাবশেষে থাকার কথা ছিল। তিনটি ইঞ্জিনের একটি সম্মিলিত অংশের ওজন ৯০০০ পাউন্ড যেটা কোনো ভাবেই লুকানো সম্ভব না। WTC তে ৭৬৭ এর বিরাট কাঠামোর কোনো চিহ্নই পাওয়া যায় নি। ৭৬৭ এর এরকম পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া অসম্ভব একটি ব্যাপার!

দৃশ্যত বিমান আঘাত করেছে টুইন টাওয়ারে। কিন্ত সাবেক সিআইএ পাইলট জন লিয়ার এই মর্মে হলফনামা জমা দিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে যে নাইন ইলেভেনে টুইন টাওয়ারে কোনো বিমান আঘাত করে নি। তার হলফনামা অপ্রমাণিত করা না গেলে তার দাবি মেনে নিতে হবে।

হলফনামায় তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ জানুয়ারি ২০১৪। নিউ ইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মরগান রেনল্ড হলফনামায় স্বাক্ষর করেছেন।

জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সাবেক অর্থনীতিবিদ রেনল্ড ২০০৭ সালের মার্চ মাসে ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটকে তার ধারণা জানান, বাণিজ্যিক জেট বিমান (বোয়িং) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভবন দুটিতে আঘাত করে নি। তিনি এই ব্যাপারে সংশোধনীর জন্য তাদের অনুরোধ করেন।

এফিডেভিট অন্যান্য বিবৃতির মত না। যদি এটাকে খণ্ডন করা না যায় তাহলে এটা আইনগত ভাবে সত্য হয়। সমালোচকদের এখন এটাকে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট খণ্ডন করার জন্য প্রমাণসহ বিশ্লেষণ পেশ করতে হবে। যদি তারা তা না করে অথবা না পারে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে স্বীকার করে নিতে হবে ৯/১১ কমিশন যে মতামত দিয়েছিল তা ভুল।

৬৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এয়ারলাইন ক্যাপ্টেন এবং সাবেক সিআইএ পাইলট জন লিয়ারের ফ্লাইট টাইম ১৯০০০ ঘন্টারও বেশি। যারা বিমান চালিয়েছিল তাদের অনভিজ্ঞতার ব্যাপারেও তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নিউ ইয়র্কে ডিসেন্ট রেট এবং ডিসেন্ট স্পিড নিয়ে তুলনামূলক সোজা কোর্সে বিমান চালানো একজন নবিশ পাইলটের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

‘ইলেক্ট্রিক ফ্লাইট ইন্সট্রুমেন্ট ডিসপ্লে বোঝা খুব দক্ষ এবং অভিজ্ঞ একজন পাইলটের কাজ। কোনো হাইজ্যাকার পাইলটরা এই বিষয়টার সাথে পরিচিত না এবং তাদের এই বিষয়ে ট্রেনিংও দেওয়া হয় না।

ইউটিউব ভিডিও – Retired Expert Pilot John Lear – No Planes Hit the Towers on 9/11; শুরুতেই জন লিয়ার এয়ারবোর্ন হলোগ্রাফিক প্রজেক্টরের উল্লেখ করেছেন।

লিয়ারের হলফনামা অনুসারে তিনি ১শ’রও বেশি ধরনের বিমান চালিয়েছেন তার চল্লিশ বছরের পাইলট জীবনে। আর যেকোনো FAA সনদপ্রাপ্ত এয়ারম্যানের চেয়ে তার FAA এয়ারম্যান সার্টিফিকেট বেশি আছে। তিনি সিআইএ’র হয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকাতে প্রচুর গোপন মিশনে নিয়োজিত ছিলেন ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। তারপর ক্যাপ্টেন, চেক এয়ারম্যান এবং ইন্সট্রাক্টর হিসাবে ১৭ বছর কাজ করেছেন অনেকগুলি প্যাসেঞ্জার এবং কার্গো এয়ারলাইনে।

তিনি Pilotsfor911truth.org এর একজন সদস্য। এই প্রতিষ্ঠানটি সবসময় বলে আসছে ৯/১১ কমিশন যেভাবে বলে সেভাবে কোনো জেট বিমানের পক্ষে টুইন টাওয়ারে আঘাত করা অসম্ভব একটি ব্যাপার। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে যখন কমিশন তদন্ত কার্য পরিচালনা করে তখন তারা পাইলটদের কাছে থেকে কোনো সাক্ষ্য বা প্রমাণ নেয় নি।
___

*লিয়ারজেট: লিয়ারজেট সাধারণ ও সামরিক কাজে ব্যবহারোপযোগী বিজনেস জেট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান। উইলিয়াম পাওয়েল লিয়ার এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯০ থেকে লিয়ারজেট বোম্বারডারের সঙ্গে একীভূত হয়ে বোম্বারডার লিয়ারজেট ফ্যামিলি হিসাবে পরিগণিত হয়ে আসছে।

সূত্র: neonnettle.com