ওয়েইটিং ইন দ্য উইডস

১.
– তুমি এখনো নায়িকা দেখ?

– না, আমি তো এখন সিনেমা-ই দেখি।

– তাহলে চলে কীভাবে? বিকল্প পাইছ?

– পাই নাই তো। এই ধরো টিনেজ দেখি। কী একটা পরীক্ষা হইল না মেয়েদের, ক্লাস এইটের…।

– ছেলেদেরও হয়

– হু, আমি ওই সময় প্রতিদিন বাইর হইতাম।

– টিনেজ দেখতে?

– না, অন্য কাজে নিশ্চয়ই। আচ্ছা, তোমার ছোটবোন, অফেনসিভ হয়ো না, সে কি এইটের ওই পরীক্ষা দিছে, এমনি জিজ্ঞেস করতেছি।

– ও এখন ক্লাস টেনে উঠছে।

– দুঃখজনক!

– কেন?

– সময় কত তাড়াতাড়ি যায়! মনে হইতেছে এই সেদিন সে ক্লাস থ্রিতে পড়ত। আমি ফোন করলাম, আর সে ফোন ধরে বলল, হ্যালো, কাকে চাচ্ছেন?

নায়িকা দেখার কথা জিজ্ঞাসা করার বিষয়টা চিন্তার। সিনেমা অবশ্য আগেও দেখা হইত। এও জিজ্ঞাসা করতে পারত, আগের মতই ইমোশনাল কিনা?

আগের মত কনফিডেন্স দেখাইতে সচেতনভাবে যে কোনো উপলক্ষ্য তৈরি করে বলে নাই, “আই উইল গিভ ইউ এ স্ল্যাপ।” কনফিউজিং!

যদিও কথা বলার সময় স্থিরভাবে মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল, ঘাড় বাঁকা। ম্যাচিউরিটি সম্ভবত! টিনেজ দেখার কথা শুনে করুণা দেখাতে চাইল? অন্য কিছু বলা উচিৎ ছিল? তার বাম হাতের আঙুল অল্প ভাঁজ করা ছিল। তর্জনী অল্প নড়তেছিল। নেইলপালিশ দিছিল? কালো রঙের?

২.
একটা ফোয়ারা। রাস্তার মাঝখানে। সুন্দর। পানি পড়তেছে না ফোয়ারায়। ফলে বসা যায় ফোয়ারার ধারে।  ফোয়ারার পাশেই একটা গাছ। অনেক বড়। পুরাতনও মনে হয়। বটগাছ না। তাহলে কী গাছ? ফোয়ারার মত গাছটারও গোড়ার দিকে চারদিক উঁচু, এবং বাঁধানো।

ফোয়ারার চারদিকে চারটা রাস্তা। সামনে এবং পিছনে, ডানে এবং বাঁয়ে। পিছনের রাস্তাটি গলির মত। ডানেরটা আঁকাবাঁকা এবং বামেরটাও আঁকাবাঁকা। কিছুদূরে যেয়ে তারা অন্যান্য রাস্তায় ঢুকে পড়েছে। একমাত্র সামনের রাস্তাটিই অনেকদূর পর্যন্ত সোজা হয়ে আছে দেখা যায়। তাই সামনের রাস্তাটিই সামনের রাস্তা। তাই সামনের রাস্তায় যানবাহন যেগুলি দিনের বেলা সূর্যের আলোতে এবং রাতের বেলা সোডিয়াম লাইটের নিচ দিয়ে আসে, মনে হয়  ফোয়ারার দিকেই করেই তারা আসছে। ভুল মনে হয় হয়ত। বসা যায় যেকোনো সময়, ফোয়ারার পাশে। বা দাঁড়ানোও যায়।

তাই সামনের রাস্তা দিয়ে প্রথমেই যে হেঁটে আসছিল, একটি অল্প বয়স্ক মানুষ। এ বয়। ডাকা হলো তাকে।

– এই রাস্তা কোথায় গেছে?

– এই রাস্তা তো যায় নাই, আসছে। এই রাস্তা আসছে।

তাকে জিজ্ঞাসা করার আগে যেরকম দেখা গিয়েছিল, অল্প বয়স, তা না আসলে। ভালো করে দেখা গেল তিনি একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ। তিনি তার ডান হাত তার প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রেখেছেন। আর বাম হাত এমন ভাবে ঝুলিয়ে রেখেছেন শরীরের বামপাশে মনে হচ্ছিল পকেটের অভাবে তিনি হাত ঢুকাতে পারছেন না। কিন্তু তার পকেট ছিল।

– কোথা থেকে আসছে এই রাস্তা?

– কোথা থেকে আসছে তা বলতে পারব না। কোথায় আসছে সেটাই কথা!

– আপনে তো সুবিধার না। আপনারে নিয়া তো ঝামেলা।

– মানে!

– আপনেরে গল্পে আনার পরে তো কোনো মোমেন্ট ক্রিয়েট হইতেছে না। আপনেরে গল্পে আনলাম যে একটা যাওয়ার জায়গা পাওয়া যাবে। তা আপনে শুরু করছেন ক্লিশে ফিলোসফিক্যাল ডায়লগ!

– তাহলে আপনেরে একটা পরামর্শ দেই।

– দ্যান, নিব না হয়ত।

– আপনে ক্লিশে কোনো মেমোরিতে বা ক্লিশে কোনো ঘটনায় চলে যান। তাহলে মোমেন্ট তৈরি হইতে পারে।

– সেইটা আমি এমনিতেও যাইতাম। আপনে বললে কি আর আসে যায়!

৩.
সে বারান্দায় বসে বৃষ্টি দেখে। বারান্দার মেঝেতে। যেন বৃষ্টি দেখবে সেটা দেখানোর জন্য দোয়া করে বৃষ্টি নামাইছে।

সে শুধু ঘাড়টা অল্প বাঁকা কইরা রুমের ভিতরে তাকাইয়া বলল, বৃষ্টি হইতেছে। যে টোনে বলল সেইটাও যেন আগে থেকে ঠিক করা।

তারে বলা হল, এই কথা আগে অনেক অনেক বার বলা হইছে!

সে বলল, বারিষ হো র‍্যাহি হ্যায়।

তারে এইবার বিস্মিত কণ্ঠে বলা হল, না, কেমন জানি মনে হইতেছে ব্যাঙ্গালোরে থাকতে যাইতেছ।

সে টোনে একটু হতাশাজনক আহ্লাদ আইনা বলল, ইটস রেইনিং।

তারে বলা হইল, না, কেমন ফিলিংলেস ফিলিংলেস। তাও যদি বলতা ইয়েস! ইটস রেইনিং, তাইলে একটা কেয়ার লেস টিনেজ টিনেজ ভাব আসার পসিবিলিটি ছিল।

কয়েক সেকেন্ড  কি? পরে  তারে বলা হল, বাদ দাও! তার চেয়ে ভিতরে আসো। ধরো তোমার চুল নিয়া কথা বললাম, তোমার চুলে হাত দিলাম। বা পাশাপাশি শুয়ে থাকলাম গান শুনতে শুনতে।

সে ঘুরে বসছে বারান্দায়। পিঠ বাইরের দিকে।  ভ্রু উঁচু করছে। তার নিচের ঠোঁট সামনে আসছে, সে বলল, তার চেয়ে আমরা রিভার্স করি। বৃষ্টি নিয়ে আমি যেভাবে শুরু করলাম, তুমি তা করো, হাউ ফার উই ক্যান গো সেটা দেখি।

তারে বলা হল, ঠিক আছে।

তারপর তারে বলা হল,  এখানে বৃষ্টি হইতেছে।

সে তিনঘণ্টা পরে বলল, আমারে কী বলছ তুমি! এইসব আজেবাজে কথা আমারে বলবা না।

তারে বলা হল, আজেবাজে কথা তো বলি নাই, বলছি বৃষ্টি হইতেছে।

সে তার টোনে রাগ আনার চেষ্টা ঢাকতে চাইল, বৃষ্টি আমার অসহ্য লাগে।

তারে হাসিমুখে বলা হল, বৃষ্টি অসহ্য লাগার কী আছে!

সে বলল, এইসব কথা শুনে আমার শরীর জ্বলতেছে।

তারে বলা হইল, আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল আর তোমার শরীর জ্বলা থামলো না! ঠাণ্ডা লাগার কথা তো!

কিছুক্ষণ চুপ থাকার পরে সে বলল, আমাদের কথাবার্তা যখন এরকম হল তখন তো আমাদের দুই জায়গায় থাকার কথা।

তারে বলা হইল, ব্যাপার না, ঠিক হয়ে যাবে। অপেক্ষা করে দেখা যাক।

সে বলল, কেন, অপেক্ষা করতে হবে কেন?

তারে বলা হল, খুবই হেল্পলেস টোনে, না, মানে সাইকোলজ্যিকাল প্রোবলেম হইতে পারে। ধরো তুমি কিছুই করতেছো না, বা মন খারাপ করে বসে থাকলা, আমি ভাবলাম তুমি কথা বলতেছো ফোনে কী জানি ওনার নাম!

সে বলল, খবরদার নাম বলবা না, সবাই তো আর তোমাদের মত না যে বিপদের দিনে ছেড়ে যাবে।

তারে বলা হল, বিপদের দিনে না বৃষ্টির দিনে!

বোঝা গেল এই স্যাটায়ার সে নিতে পারবে না। আরো বোঝা গেল যা হওয়ারই কথা ছিল!

এবং সে যেন ছিলই না কখনো।

এবং সে যেন ছিল না এবং সে ছিল। আর তারে  নাম ধরে ডাকা হইল, ফোনে না অবশ্যই, মনে মনে, গান শুনতে শুনতে:

“ব্যাক রোডস রানিং থ্রু দ্য ফিল্ডস
লায়িং অন দ্য আউটস্কার্টস অব দিস লোনসাম টাউন
অ্যান্ড আই ইমাজিন সানলাইট ইন ইয়োর হেয়ার”

 

৪.
সিনেমা দেখতে বসে অস্থির লাগে। তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হয়। তারে নিঃসঙ্গ মনে হয়। বৃষ্টির কারণে হিউমিডিটি ফিল হয়। তাই তার সাথে কথা বলতে হয়।

সে জিজ্ঞাসা করে, কী ছবি দেখো?

তারে বলা হয়, দেখি একটা?

সে বলে, নাম কি? ওই ছোট ছোট চুলের অদ্ভুত মেয়েটা আছে যে ওইটা? আবার?

– আরে না, এইটাতে কোনো মেয়ে নাই। হিথ লেজার, গে-রিলেশন।

কথা আগায় না। কনভার্সেশন থ্রিলারের দিকে টার্ন করে। সে বলে, তুমি তো আমারে খুনই করবা।

তারে বলা হয়, করবোই।

– এইটারে ভালোবাসা বলে না, এইটা সাইকোগিরি। জেলাসি।

– জেলাসি নোজ মোর দ্যান দ্য ট্রুথ ডাজ। কেউ একজন বলছে।

– আর কী! এইগুলাই তো বলবা!

– না তো, আমি অন্য কথা বলি। আমি বলি—জেলাসি হেল্পস লাভ টু এক্সিস্ট মোর দ্যান ইট শ্যুড।

 

একবার টার্ন করা যথেষ্ট! যথেষ্টই না, মোর দ্যান এনাফ! তাই বাইরে যাওয়া হোক। জোরে দৌড়ানো হোক। এবং বের হয়ে আসা যাক এটা থেকে। দেখা হোক পরিচিত কারো সাথে। মানে বন্ধুর বন্ধু। তার সাথে তারও বন্ধু, একজন।

তারা বলে, ব্যস্ত মনে হচ্ছে?

তাদেরকে বলা হয়, না, ব্যস্ত না।

সবারই চুপ করে থাকা হয়।

তারপর তাদের একজন বলে, চুল কাটাইছো নাকি? কাল বা আজ?

– না, শেভ করছি।

চা খেতে যাওয়া হয় তাদের সাথে। তারা বলল তারা পর পর তিনবার চা খাইছে একটু আগে। তাদেরকে ভালো লাগে। তাদের সাথে থাকতে ইচ্ছা হয়।

তার কথা মনে হলে তারে বলা হয় , জেলাসি ঠিক আছে। ভালো লাগতেছে।

“ দ্য ফ্লেভার অব দ্য উইক ইজ মেল্টিং
ডাউন ইয়োর প্রীটি সামার ড্রেস
বেবি, হোয়াট আ মেস ইউ আর মেইকিং”

 

৫.
রেষ্টুরেন্ট। সন্ধ্যা তাই হাল্কা ভিড়। সে নিয়মিত আসে। আগস্ট মাস, তাই? একা একা আসে সে। সে ভাবে, “হোয়্যার দেয়ার ইউজড টু বি রেইন?”

আসলে সে আসে আগস্ট মাসে সন্ধ্যায় বৃষ্টি হয় কিনা এটা দেখতে। সে জানালার বাইরে বৃষ্টি দেখবে। বিষণ্ন মুডে খাইতে খাইতে বৃষ্টি দেখবে, অন্ধকারে পড়তেছে। কিন্তু তা আর ঘটে না। সে আশা নিয়ে আসে। আশা নিয়ে বসে থাকে।

একদিন তার এক বান্ধবীর সাথেও দেখা হয়। সে চেষ্টা করে হাসে। অল্প কথা বলে।

বান্ধবী বলে কারো সাথে তার আর দেখা হয় না। বান্ধবী জিজ্ঞাসা করে,  তুই খাইতে আসছিস? বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

সে কি বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ডের স্ট্যান্ডার্ড মাপতে চাইল? বা বয়স?

বান্ধবীর চাইতে নিজেকে সুন্দর দেখানোর কারণে তার ভালো লাগে।

তার বান্ধবী তাদের আরেক বান্ধবীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা বলে। বলে, কী মিডল ক্লাস!  সে কিছু বলে না। হাসে হয়ত। মনে মনে ভাবে পৃথিবীতে শুধু মিডলক্লাসরাই মিডলক্লাসদের এভাবে মিডল ক্লাস বলে গালি দেয়।

এরপরেও বৃষ্টি আসে না। তার জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখা হয় না। সে অপেক্ষা করে।

সে কথা বলার কথা চিন্তা করে।

সে বলে, আমরা কী নিয়ে কথা বলবো?

তারে বলা হয়, কীভাবে খুন করব সেটা নিয়ে কথা বলি।

সে বলে, এটা ফান ছিল?

– সিরিয়াস।

– আমরা অন্য কথা বলি?

– তাহলে আমরা ঘুমানোর কথা বলি। আমি যেহেতু কম ঘুমাই।

– আমি অল্পক্ষণ ঘুমাইছিলাম আজকে।

তারে জিজ্ঞাসা করা হয়, ঘুমের মধ্যে বান্ধবীরে দেখছো? স্বপ্নে?

সে বলে, না, মনে হয়।

 

সে বিরক্ত হয়। তার মেজাজ খারাপ হয়ে আসে। তাই সত্যি সত্যি কথা বলা হয়ে উঠে না।

 

৬.
সে ঘুম থিকা উঠে বাইরে বের হয়। যদিও এখনো আগস্ট মাস শেষ হয় নাই, সে রেষ্টুরেন্টে যায় নি। বাইরে সে দেখে রাস্তা ভেজা। বৃষ্টি হইছে, তার সন্দেহ হয়। তার অনুতাপ হয়, কেন সে ঘুমাইল। ঘুমাইলোই যখন তবে কেন সে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুমাইল। তার মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে কান্না আসতে চায়। সে হয়ত কানত যদি সে বাইরে না থাকত। বা বাইরে থাকলেও সে কানত, যদি সে মেয়ে না হত। যেহেতু সে মেয়ে, তাই সে নিজেকে সামলাতে পারে। এবং এর জন্য নিজেকে ভাল লাগতে শুরু করে তার। সে বলে, আমি জানি আমি কতটা ভাল মেয়ে। এবং এই অবসরে তার অনুতাপ কমে আসে।

সে দেখে অন্ধকার এবং ভেজা রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে। এবং যেহেতু কালো পিচের রাস্তা এবং ভেজা, গাড়িদের আলো নিচে রাস্তায়ও দেখা যাচ্ছে। রিফ্লেকশন। রিফ্লেকশনের পরে আলো ছড়াইয়া যাচ্ছে রাস্তায়। বাইরে মানুষজন কম। তাই যথেষ্ট একা ভাবতে পারে সে নিজেকে। এবং বলে, আমি জানি আমি কতটা একা মেয়ে।

এবং তখনি দেখা হল তার সাথে। সে হাসলো। ভদ্রতার হাসি।

সে জিজ্ঞাসা করল, তোমার কি নার্ভাস লাগতেছে?

তারে বলা হল, না। ছোটবেলায় লাগত।

সে আবার জিজ্ঞাসা করল, এখন কি বড় হইছো?

– না, মনে হয় চার মাস ছোট আছি।

সে কি দুঃখ পাইল?

তারে জিজ্ঞাসা করা হইল, আমি তোমার নাম ধরে ডাকব?

সে বলল, বলো, তবে দূরত্ব অর্থে।

তারে বলা হল, ঠিক আছে…।

সে জিজ্ঞাসা করল, তুমি এখনো নায়িকা দেখো?

– না আমি তো এখন সিনেমা-ই দেখি।

সে কেন নায়িকা দেখার কথা জিজ্ঞাসা করল, ব্যাপারটা চিন্তার। সে চলে আসতে বলল।

শুনতে ইচ্ছা করতেছিল? নাকি মাথার ভিতরে বাজতেছিল?
“নোয়িং দ্যাট দ্য সিজনস আর স্লোলি চেইঞ্জিং
ইভেন দো ইউ আর উইদ সামবডি এলস
হি উইল নেভার লাভ লাইক আই ডু”

 

৭.
রাতে একজন লোক আসে। সে বলে, একসময় আপনার পাশের বাসায় থাকতাম। আপনি হয়ত চিনবেন না আমারে, আমার বন্ধুরা আপনারে চিনে।

ভালোই হল। গল্পে কেমন লোকজন কম মনে হচ্ছিল। আরেকটা ক্যারেক্টার যে আসবে, অথচ সব পরিচিতজনদেরকে বিরক্ত লাগে। যাই হোক, একটা ক্যারেক্টার পাওয়া গেল।

আমি বলি, কেন আসছেন?

সে উত্তর দেয়, কনভার্সেশনের জন্য… এই রিয়ালিটির এনট্রপি বাড়াইতে।

আমি বলি, ওকে, দ্যাটস গুড।

সে যখন কথা বলে তখন ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। কথা বলার সময়,  ঘাড় সোজা করে আমার পিছনে তাকায়। তার সাথে কখনোই আমার আই-কন্টাক্ট হয় না। মনে হয় সে দেখতে সুন্দর।

সে বলে আমারে সে একটা জরুরি কথা বলতে চায়।

আমি বলি, বলেন।

সে বলে, আপনার সাথে তার আসলে সেদিন আর দেখা হয় নাই। আপনারা একই রাস্তায় একই সময় দুইটা আলাদা আগস্টে ছিলেন।

আমি বলি, আচ্ছা।

সে বলে, আপনে রুমে দুইটা লাইট জ্বালাইয়া রাখছেন কেন?

আমি একটা লাইট বন্ধ করে দেই।

সে চুপ থাকে।

সে বলে, আপনে কবুতর পালতে শুরু করেন।

আমি বলি, কেন?

সে বলে, কবুতর থাকলে প্রোবলেম হয় না। সাইকোলজিক্যাল ইল্যুশন হয় না।

আমি বলি, ভাবব।

সে চলে যেতে চায়। আমি তাকে রাতে থাকতে বলি।

সে বলে তার স্ত্রী আছে।

আমি জিজ্ঞাসা করি তার স্ত্রী একা থাকতে ভয় পান কিনা?

সে জানায় স্ত্রীরা দিনের বেলা একা থাকলেও, রাতে একা থাকতে চায় না।

আমি তাকে বলি, একা থাকতে ভয় পাইলে, রাতে একটা বা দুইটা লাইট জ্বালাইয়া ঘুমাবেন।

সে বলে সে এবং তার স্ত্রী প্রথমে লাইট জ্বালায়ে শোয় এবং কিছুক্ষণ পর লাইট বন্ধ করে শুয়ে থাকে।

সে আবারও তার জরুরি কথা বলে এবং চলে যায়।

এবং আমি আর এই লোককে মনে করতে পারি না, যেহেতু মনে করতে চাই না। আমি এই লোকের বাড়ানো এনট্রপি ফিল করতে থাকি। আমার মনে হয় ও এটা জানতে পারলে অবাক হবে, বিশ্বাসও করবে হয়ত। ঘরে খুব আস্তে গানের শব্দ শোনা যায়। সম্ভবত সে আসার আগে থেকে চলতেছিল। সে যেহেতু নাই তাই এখন বোঝা যায়:

“ইট’স কামিং অন দ্য এন্ড অফ অগাস্ট
অ্যানাদার সামার’স প্রমিজ অলমোস্ট গন
অ্যান্ড দো আই হিয়ার্ড সাম ওয়াইজ ম্যান সে
দ্যাট এভরি ডগ উইল হ্যাভ হিজ ডে”

 

৮.
আমি তারে ডাকি, কাছে আসতে বলি।

সে বলে, তোমার কথাবার্তা অন্যরকম হয়ে যাইতেছে।

সে কাছে আসে।

আমি বলি, ঠিক আছে।

সে আরো কাছে আসে।

সে বলে, চশমা না পড়লে বোঝা যায় তোমার চোখ সুন্দর।

আমি বলি, চশমা পড়লে কাঁদতে সমস্যা হয়।

সে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বলে, কান্নাকাটি করার মত তো কিছু হয় নাই। এই যে দেখো আমি আছি, কথা বলতেছি।

সে বলে, তার ব্যাগ ছিনতাই হইছে।

সে এই ঘটনা বলতে বলতে রুমের কোণায় চইলা যায়। আমি অস্থির হয়ে উঠি।

দূরে যাওয়ার সাথে সাথে তার কথা বলার টোনও পাল্টাইতে থাকে।

সে বলে, কানবা না। ঢং করার কিছু নাই।

এবং সে যেন ছিলই না। বড়জোর হয়ত ফোর্থ ডাইমনেশনে এটা ঘটতে পারে, রিয়ালিটি স্ট্রেচিং ফ্রম দ্য পাস্ট টু দ্য ফিউচার শোয়িং দ্য মেমোরিস অ্যাট ডিফারেন্ট মোমেন্টস ইন টাইম । আমি বুঝতে পারি এভাবে গল্প লেখা বেশ সমস্যার। বিশেষ করে গল্গ যখন  ঈর্ষা, প্রি-ম্যাচিউরড থ্রিলার, জোকস, ডাইমেনশন এগুলির কোনো একটা গর্তে পড়ে যাইতেই থাকে। এগুলি থাকা না-থাকায় হয়ত তেমন কিছুই আসে যায় না, তবু অন্তত গল্পের চরিত্রদের জন্য এইগুলি থাকে। এবং এইগুলির কারণেই হয়ত তাদের জীবনে অনেক কিছু আসে যায়। এবং তাই তারা দুজন এই আসা-যাওয়া দেখতে গান শোনে। এবং একটি লাইন তারা বারবার শোনে—“হি নেভার মেনশনড দ্যাট দিজ ডগস ডেইজ গেট সো লং।”

এই লাইন শুনে তারা জানালার বাইরে কুকুর খুঁজতে থাকে। একটা কুকুর এইসময় আসলেই দেখা যায়। এবং তাদের নিজেদেরকে কুকুরের মত অসহায় ভাবতে ভাল লাগে। কিন্তু কুকুরের মাথায় তখন অন্য লাইন—”সাম ওয়াইজ ম্যান সে, এভরি ডগ উইল হ্যাভ হিজ ডে।”

২০১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here