সঠিক পরিমাণ ঘুমের বিকল্প নাই। নানা কারণেই আমাদের যথেষ্ট সময় ধরে ঘুমানো উচিত।

শরীর ও মন সুস্থ্য রাখতে চাইলে, মনোযোগ সহকারে কাজ করতে চাইলে, সঠিক পরিমাণ ঘুমের বিকল্প নাই। নানা কারণেই আমাদের যথেষ্ট সময় ধরে ঘুমানো উচিত।

নতুন কিছু শেখা ও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখার জন্য

ব্রেইনের যেসব কোষ স্মৃতি তৈরি করে, তাদের মধ্যকার সংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে ঘুম। ডাক্তাররা এই প্রক্রিয়াকে ‘কনসোলিডেশন’ বলেন। কাজেই কোনো কাজে ফোকাস করা ও নতুন জিনিস মনে রাখার জন্য কাজের আগে ও পরে—দুইবারই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমের দরকার।

মুড ঠিক রাখার জন্য

রাতের বেলা ঘুম ভালো না হলে মেজাজ খিটখিটে থাকাটা নরমাল। এক রাতের খারাপ ঘুম আপনার ক্লান্তি, রাগ, স্ট্রেস বা হতাশা সবকিছু বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার রুটিনের জন্য যদি দিন দিন ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিতে থাকেন, তাহলে কিন্তু ডিপ্রেশনের মতো স্থায়ী কোনো রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়াও অস্বাভাবিক কিছু না।

হার্টের সুস্থতার জন্য

রাতে কি ৬ ঘণ্টারও কম ঘুমাচ্ছেন? তাহলে আপনার হার্টের অসুখ হবার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ঘুম কম হলে ব্লাড প্রেশার যেমন বেড়ে যায়, তেমনি অ্যাড্রেনালিন হরমোনও নিঃসরিত হয় বেশি এবং স্ট্রেস বাড়তে থাকে—এর সবগুলিই আপনার হার্টের জন্য ক্ষতিকর।

ডায়বেটিসের সম্ভাবনা কমানোর জন্য

রাতে ৫ ঘণ্টার কম ঘুম হলে আপনার শরীর ঠিকমতো ও যথেষ্ট পরিমাণ গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, আর গ্লুকোজ আপনার দৈহিক শক্তির জন্য প্রচণ্ড দরকারি। গ্লুকোজ ব্যবহারে এই ঘাটতির জন্য সময়ের সাথে ডায়বেটিস হবার সম্ভাবনাও তাই বেড়ে যাবে।

বেটার সেক্স লাইফের জন্য

ঘুমের অভাবে পুরুষদের সেক্স হরমোন ‘টেস্টোস্টেরন’ এর মাত্রায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে অবশ্য নারী ও পুরুষ উভয়েরই সেক্স লাইফে ব্যঘাত ঘটে। তাছাড়া মাত্র ১ ঘণ্টার বাড়তি ঘুমও নারীদের সেক্সুয়াল উদ্দীপনা বাড়াতে সাহায্য করে।

চামড়ার কুঁচকে যাওয়া কমাতে

যখন আপনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না, আপনার শরীর তখন স্ট্রেস হরমোন ‘কোরটিসল’ নিঃসরণ করে বেশি। এতে ‘কোলাজেন’ নামক প্রোটিন ভেঙে যাওয়া শুরু হয়, আর এই কোলাজেন আমাদের চামড়া স্মুথ রাখে। ফলে কম ঘুম চামড়ার ঝুলে যাওয়া এবং কোঁচকানো বাড়িয়ে দেয়।

ওজন ঠিক রাখা

কম ঘুমালে আপনার শরীর ইনসুলিন উৎপাদন করে বেশি, যা আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি ঘুমের অভাবে আমাদের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলির সমন্বয়ে সমস্যা হয়। এতে আপনি চিনি ও ফ্যাট বেশি আছে এমন সব খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন।

অসুস্থতার মাত্রা কমাতে

রোগবালাইয়ের ইনফেকশন মোকাবেলা করার জন্য দেহে যেসব কোষ এবং অ্যান্টি-বডি থাকে, সেগুলি প্রস্তুত করার জন্যও যথেষ্ট ঘুম ও বিশ্রাম দরকার। কারণ রোগ প্রতিরোধকারী কিছু প্রোটিন কেবল ঘুমের মধ্যেই অবমুক্ত হয়। অল্প ঘুম তাই আপনার অসুস্থতার আশঙ্কা যেমন বাড়াতে পারে, তেমনি এতে রোগ থেকে মুক্তি পেতেও সময় লাগবে বেশি।

হুট করে ঘুমিয়ে না পড়া

আমরা যে কাজের মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে যাই, সেটার একটা ডাক্তারি নাম আছে: ‘মাইক্রো-স্লিপ’; যা কিনা আধা সেকেন্ড থেকে শুরু করে কয়েক মিনিটের ঘুম হতে পারে। এধরনের ঘুম আমাদের মনোযোগ ও অ্যানার্জি ধরে রাখতে বাধা দেয়। বিশেষ করে গাড়ি চালানো ও মিটিংয়ে থাকার মতো কাজের সময় মাইক্রো-স্লিপ রীতিমতো ভয়ঙ্কর হতে পারে। সাধারণত রাতের বেলা ঘুমের অভাবেই এমনটা হয় আমাদের।

***

তাহলে আমাদের কতক্ষণের ঘুম দরকার?

ঘুমের প্রয়োজন আমাদের বয়সের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত:

  • ১১ বছরের কম বয়সীদের জন্য অন্তত ১০ ঘণ্টা
  • টিনএজারদের জন্য ৯ থেকে ১০-১০.৫ ঘণ্টা
  • আর পূর্ণবয়স্কদের ৭-৮ ঘণ্টা অন্তত ঘুমানো দরকার

বেশিরভাগ মানুষই তাদের ঘুমের কোটা পূরণ করেন না। পূর্ণবয়স্করা বলেন, তাদের অনেকেই দিনে মাত্র ৬ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান। আর বাচ্চারা স্কুল থাকলে প্রায়ই ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পারে না। সার্ভে থেকে জানা গেছে, স্কুলগামী বাচ্চাদের মাত্র তিন ভাগের একভাগ দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমায়।

সূত্র. ওয়েবএমডি