page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“কিছু কিছু মানুষের লেখার ভিতরে মিল চইলা আসে কিন্তু।”—মেসবা আলম অর্ঘ্য

সাদ রহমান: এটা কি আপনার কবিতার প্রথম বই?

মেসবা আলম অর্ঘ্য: না, এটা চার নাম্বার বই।

সাদ: এর আগের যেগুলা বের হইছে ওগুলা কত দিনের মধ্যে বের হইছে?

অর্ঘ্য: ওগুলা বের হইছে ধরেন দুই হাজার আট থেকে দশ, এর ভিতরে বের হয়ে গেছে তিনটা। তারপরে পাঁচ বছর কোনো বই করি নাই। পাঁচ বছর পরে ভাবলাম যে একটা বই করা দরকার।

সাদ: এই যে পাঁচ বছর পরে এই বইটা করলেন, তাহলে ওই তিনটা বই থেকে এই বইটা কি অনেক ডিফরেন্ট?

অর্ঘ্য: বয়স তো ডিফরেন্ট। তিনটা বই করছি, আমার বয়স তখন তিরিশের নিচে ছিল। তারপরে ধরেন বয়স বাড়ছে। অভিজ্ঞতা-টভিজ্ঞতা অনেক কিছু হইছে। আর পাঁচ বছরে ধরেন, অনেক লম্বা সময়। যে কারণে ডেফিনেটলি কবিতা ডিফরেন্ট, সময় ডিফরেন্ট।

সাদ: এই যে ডিফরেন্ট, এটা কি আপনি পরিণত বলবেন, এই কবিতার বইটাকে অন্য তিনটা থেকে?

boimela-logo-2016

অর্ঘ্য: হ্যাঁ, অবশ্যই, পরিণত তো বলবোই। পরিণত না হইলে তো হইল না। উল্টাদিকে তো মানুষ যায় না। সময়ের সাথে সাথে মানুষ চেইন্জ হয়। আমিও চেইন্জ হই। আবার উল্টাটাও হয়। মানে ধরেন, বলা যেতে পারে আমি এখন বেশি আশাবাদী। আগে একটু বেশি হতাশাগ্রস্ত ছিলাম। ইয়াং বেইজের যে, ফ্রাস্টেশন বেশি ছিল। এখন ফ্রাস্টেশন আস্তে আস্তে কন্ট্রোল করতে শিখছি। এরকম ব্যাপারটা।

সাদ: বইয়ের কবিতাগুলোর মধ্যে আপনি কী ধরনের কাজ করছেন, বা কথা বলছেন?

অর্ঘ্য: কী ধরনের বলতে, আমি মূলত নিজেকে নিয়ে লেখাই কবিতা। তো নিজের ব্যাপারটার ভিতর দিযা ধরেন সবকিছু বোঝার চেষ্টা। প্রথমে, মানে আমার সাথে সবচে ইম্পোর্ট্যান্ট, বা সবচে যেটা অবভিয়াস, বা সবচে যেটা কী বলবো, সামনাসামনি—সেটা হইতেছে আমি। এখন আমার দিয়াই তো সবকিছু। আমি না থাকলে তো দুনিয়া আর কিছু কোনো ম্যাটার করে না। এখন আপনি যদি রাজনীতি বলেন, বা আপনি যদি পরিবেশ বলেন, নারীপ্রেম বলেন, সবকিছুই বলেন, সবকিছুই আমার ভিতর দিয়াই হইতেছে। ওইভাবেই চিন্তা করছি। ওইভাবেই, নার্সিসিস্টিক হইতে পারে, অনেকে নার্সিসিস্ট বলে আমাকে। কবিরা মাত্রই হয়তো একটু নার্সিসিস্ট, কিন্তু ওইটা আমি আবার ঘৃণাও করি। পছন্দও করি না। এরকম একটা জায়গা।

সাদ: আমাদের কোনো কবির নাম, বড় কবি, উনাদের নাম মাথায় আসলে, মানে আমাদের ভিতর থিকা উনি কী ধরনের, এরকম একটা গন্ধ আমরা পাই, আপনি কি নিজেকে এভাবে নির্ধার‌ণ করতে পারেন?

argha

অর্ঘ্য: হ্যাঁ, কিছুটা তো পারি। এখন আমি বলবো না যে কী, বাট ওইটা আপনে হয়তো, বইটা পড়লে হয়তো ওই গন্ধটা আপনে পাইয়া নিবেন। কবিতার তো ধরেন জনরা থাকে, মানে সবাই তো সব ধরনের কবিতা লিখে না। বা চায় না লিখতে। অনেকে আছে পারেও না লিখতে। তো এখন ধরেন আবার স্তর তো আছে, ধরেন আপনি ইয়াং, আপনি লিখতেছেন, আপনি এলিমেন্টারি একটা জায়গাতে আছেন, আস্তে আস্তে… ব্যাপারটা হইতেছে যে, ডাক্তারি ইন্জিনিয়ারিংয়ে ইউনিভার্সিটিতে পইড়া কী হয়, আন্ডারগ্রেড করে, তারপর পিএইচডি করে, মাস্টার্স করে, তাদের একটা জ্ঞানের একটা ধাপ ধাপ ধাপ ধাপ আছে। কবিতার বেসিক্যালি তো ওই জিনিসগুলা নাই। মানে কবিতার এলিমেন্টারি জায়গাগুলা আছে, এলিমেন্টারির পরে বাকি যেইগুলা সেইগুলা—আপনি নিজে নিজে মাস্টার্স করবেন, পিএইচডি করবেন বা গাঞ্জা খাইবেন, যাই করবেন, আপনিই—আপনিই আপনি।

সাদ: এই যে, মানে সবাই সবার নিজের মতো পরীক্ষানিরীক্ষা করে, আপনিও তো একধরনের পরীক্ষা করছেন। সেটা সবার থেকে তো আলাদা। সেটা কীভাবে আলাদা সবার থেকে?

অর্ঘ্য: আমার লাইফের কারণে। আমার লাইফ তো আলাদা।

সাদ: না, এমনে কবিতার মেকাপ বা ভাষা এগুলার ক্ষেত্রে কি আপনে অন্যদের থেকে আলাদা করতে চাইছেন?

অর্ঘ্য: হ্যাঁ, সচেতনভাবে চাইছি। আবার ব্যাপারটা হইতেছে, কবিতা তো একত্রে গ্রুপে লেখার জিনিস না। কিন্তু আবার একটা পার্টিকুলার টাইমে দেখা যায় যে, কিছু কিছু মানুষের লেখার ভিতরে মিল চইলা আসে কিন্তু। মানে কবিতা আবার একা একা লেখাও যায় না। আবার একত্রেও লেখা যায় না। তো এই ক্ষেত্রে ধরেন, মানে আমার মনে হয়, যেকোনো লেখকরই তো ভাষাটা খুব ইম্পোর্ট্যান্ট। একটা ভাষার মধ্য দিয়ে ধরেন, একজন কবি আলাদা হয়ে যায়। তো ভাষার ব্যাপারে কিছুটা ইয়ের চেষ্টা তো থাকেই। এখন আমার ভিতরেও আছে। আমিও চেষ্টা করছি। এখন ওইটা একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। একটা বই দিয়া ওইটা ধরা, হয়তো ধরা যাবে না। ব্যাপারটা ওইরকমই।

সাদ: আমি যেটা জানতে চাইতেছি, যেমন ধরেন যে, পিছনের ভাষাকে ভঙ্গ কইরা নতুন একটা ভাষা, এটা যে ইয়ং কবিরা সাধারণত করছে, এই ব্যাপারটাকে আপনি কি আনতে চাইছেন?

অর্ঘ্য: হ্যাঁ, এই ব্যাপারটা আমার প্রথম কবিতা থেকেই আছে আসলে। প্রথম বই থেকেই আছে। দুই হাজার আট সালের বইটা থেকেই আছে।

সাদ: তাহলে ওই ভাষা যে, মানে আমাদের পিছনে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে, ওই যে ভাষাটা দাঁড়ায় ছিল, ওইটার বিরুদ্ধে আইসা যে এইভাবে লেখা, ওই জায়গাটাকে আপনি এখন কীভাবে দেখেন, পিছনের?

অর্ঘ্য: মানে ওইটা তো নাই। ব্যাপারটা হইতেছে যে, আমাদের সময়ের—সময়টাকে তো ধরতে হবে। এখন আমাদের সময়ে আমরা যেভাবে কথা বলি, সেটা ইম্পোর্ট্যান্ট। অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ডে, ওইটা খুবই ইম্পোর্ট্যান্ট।

সাদ: তো এই যে একটা চেন্জ হইল, বা আমরা চেন্জ চাইতেছি। তো এই যে একটা চেন্জ দাঁড়াইছে ইতিমধ্যে, এই চেন্জটাকে নিয়া কি আপনি সন্তুষ্ট? বা এটা কি বেটার মনে করেন?

অর্ঘ্য: মানে ভালো খারাপ ওইভাবে কিছু মনে করি না। আমার কাছে, মানে এই জিনিসটা তো জাজ করা যাবে অনেক পরে। এখনই এই মুহূর্তে জাজ করা সম্ভব না। আপনি, আমরা এখন ধরেন ওই যে মাছ আর কি। পানির ভিতরে আছি। ঠিক বুঝতে পারতেছি না। পারবোও না হয়তো। কেউই হয়তো ওইভাবে পারে না। বা অনেকে পারে। অনেকে যারা খুবই জিনিয়াস টাইপের তারা হয়তো পারে। বা একসময় হয়তো পারছে। আমি জানি না এখন কে পারে। আমার কাছে মনে হয় যে, অন্তত ওই নকল করার থেকে তো বেটার। নকল করার তো কোনো স্কোপ আমাদের নাই তো। ওইদিক থেকে বেটার।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ২৪/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাদ রহমান
সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।