page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

কীভাবে আপনি নিজেকে ফেসবুক অ্যাডিকশান থেকে মুক্ত করবেন

আমাদের অনেকের ইন্টারনেট বা ফেসবুকের আসক্তি আছে। আছে আর বিভিন্ন ধরনের ব্যাড হ্যাবিট যেমন, সিগারেট খাওয়া, বেশি খাওয়া, কাজের আগে সময় নষ্ট করা বা প্রকাসটিনেট করা। আছে বিভিন্ন ধরনের আসক্তি।

এই গুলো থেকে বের হওয়া খুবই কঠিন।

বইটার নাম পাওয়ার অফ হ্যাবিট। বইয়ে চার্লস ডুহিগ, এই অভ্যাসগুলো থেকে কীভাবে বের হতে হবে তার ডিটেল বর্ণনা করেছেন। লেখক একজন সাংবাদিক। পড়ে বোঝা যায় লেখক একজন সাংবাদিক, রিসার্চার না।fb-addiction-2

মোটামুটি গল্প বলে বলে উনি দেখাইছেন, মানুষ কীভাবে অভ্যাসের দাস হয় এবং অভ্যাস থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে হয়।

এই বই পড়লে বুঝতে পারবেন, আমরা নিজেদেরকে যেসব কঠিন কঠিন টার্গেট দেই এবং সেইগুলোরে নিয়মিত ফেইল করে গিলটি ফিল করি, সেইগুলোর দোষ আমাদের ইচ্ছার না, অভ্যাসের দোষ।

এবং সমাজ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও কীভাবে রুলস, স্ট্রাটেজি এবং রিসার্চের বদলে মূলত অভ্যাস দ্বারা চালিত হয়। এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আপনার আচরণকে ম্যানিপুলেট করে আপনার মধ্যে অভ্যাসগুলো ঢুকায় দেয়—তাও এই বইয়ে আছে।

zia-hassan-logo

চার্লস ডুহিগ কিছু সিস্টেম টেকনিক দেখিয়েছেন, কীভাবে অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে হয়।

তাই, আপনেরা যারা সিগারেট ছাড়তে চাইতেছেন, আপনেরা যারা মনে করতেছেন, অবসরে বিশাল বিশাল রিসার্চ কইরা বিশাল বিশাল বই লিখবেন কিন্ত তার বদলে টিভিতে সালমান শাহের সিনেমা দেখতেছেন আর গিলটি ফিল করতেছেন, আপনেরা যারা ডায়েট কইরা ওজন কমাইতে চান, আপনেরা যারা ফেসবুক ছাড়তে চান, আপনেরা যারা এক্সারসাইজ করতে চান কিন্ত করতে পারতেছেন না, আপনেরা যারা বিশাল প্রতিজ্ঞা করছেন—কালকের থেকেই আপনের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনবেন, সবার জন্যে অভ্যাস সম্পর্কে এই বইয়ের তথ্যগুলো জানা জরুরি এবং জানলে দেখতে পাবেন, আসলে এই অভ্যাসগুলো থেকে বের হয়ে আসা কত কঠিন।

তাই ফেসবুক অ্যাডিকশন হোক বা সিগারেট আসক্তি হোক সবার জাগে জানতে হবে আপনার অভ্যাসটা কী এবং এইটা কীভাবে কাজ করে।

 

এই বইয়ের শুরুতে এক ভদ্রলোকের কথা বলা হয়েছে, যার মাথার ব্রেইনের একটা অংশ একটা ভুল অপারেশানের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়েছিল। এই অংশটা লজিক, রিজন এবং টেম্পোরারি মেমরির হিসাব রাখে। লোকটার নাম হইল ইউজিন।

তো, এইটা কেটে ফেলার পরে ইউজিন কোনো কিছু আর মনে রাখতে পারে না। তার ১০ বছর আগের মেমরি আছে কিন্ত রিসেন্ট কোনো মেমরি নাই। এবং সেইটা সে জমাও রাখতে পারে না।

মনে করেন, ইউজিনের সাথে যদি আপনার পরিচয় করায় দেয়া হয়, তো এক মিনিট মনে রাখবে, কিন্ত এক মিনিট পরে সে আপনাকে চিনতে পারবে না।

তো এই ইউজিনকে হ্যাবিট বা অভ্যাসের রিসার্চে একটা ইম্পরট্যান্ট মানুষ হিসেবে দেখা হয়। কারণ, এই লোকটাকে স্টাডি করে সায়েন্টিস্টরা অভ্যাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।

সায়েন্টিস্টরা দেখল, ইউজিন কিছু মনে রাখতে পারে না কিন্ত তাকে যদি বলা হয়, কফি বানাও সে পাক ঘরে গিয়া কফি বানাতে পারতেছে।

কেমনে কী? যদি তার মেমরি, রিজন বা লজিক কাজ না করে সেইটা সে কীভাবে পারছে।

সায়েন্টিস্টরা তার মাথার মধ্যে স্ক্যানিং করে দেখল। তার মাথার একটা অংশ, যেইটা হইল বাসাল গ্যাংগালিয়া। (এইটা একটা সুন্দর ব্যান্ডের নাম হয়। কেউ ট্রাই করে দেখতে পারেন।:P) যেইটা মানুষের মস্তিষ্কের অনেক গভীরের অংশ, সেইটা এই কাজ করতেছে। বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই সন্দেহ করত, বাসাল গ্যাংগালিয়া অংশটা মানুষের অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করে।

এর থেকে সায়েন্টিস্টরা বুঝতে পারল, মানুষের অভ্যাস মস্তিষ্কের স্মৃতি এবং লজিক যেই অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তার সাথে সম্পর্কিত না। এইটার নিজের একটা অংশ আছে। সেই খানের নিয়ম মত মানুষ চলে।

অভ্যাস সম্পর্কিত রিসার্চে, ইউজিনের এই আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ডিসকাভারি।

কারণ সায়েন্টিস্টরা বুঝল মস্তিষ্কের গভীরতম অংশ বাসাল গ্যাংগালিয়া মানুষের অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। এবং এইটা লজিক ও মেমরি দিয়া চালিত হয় না।

তার মানে হইল, আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশান থেকে মুক্তি চাইলেই বা আপনের কাছে লজিকাল মনে হইলেই, বা তার কারণে আপনার অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা হলেও, বা ব্যক্তিগত পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রে সাফার করলেও এর থেকে মুক্তি পেতে চাইলেও আপনার অভ্যাসের উপরে আপনি নিয়ন্ত্রণ সহজে আনতে পারবেন না।

কারণ, এইটার জায়গাটাই আলাদা। এবং এইটা আপনার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নাই।

duhig-1

তো একেবারেই কি কোনো উপায় নাই? কেউ কি কখনো সিগারেট ছাড়ে নাই, এক্সারসাইজ ধরে নাই, মাদক থেকে মুক্তি পায় নাই, ফেসবুক থেকে বের হইতে পারে নাই।

পেরেছে।

কীভাবে?

তো অভ্যাস সম্পর্কে আলোচনায় সব চেয়ে ইম্পরট্যান্ট বোঝার জিনিস হইলো, অভ্যাস কীভাবে কাজ করে।

এইটার তিনটা অংশ।

কিউ—রুটিন—রিওয়ার্ড।

এইটাকে বলা হয়, হ্যাবিট লুপ।

কিউ—রুটিন—রিওয়ার্ড।

কিউ এর বাংলা কী হবে? ধুর। জানি না। কিউ হইল কিউ। QUE। এই কিউটা হইল, একটা সংকেত।

মনে করেন, আমি সিগারেট খাই। (ছাড়ি, ধরি, ছাড়ি। এখন ছাড়া পিরিয়ড যাইতেছে।) তো আমার সিগারেটের কিউ হইলো, চা।

মনে করেন, আমি চা খাইলে তার পরে যদি সিগারেট না খাই তো খুব খারাপ লাগে। আমার সিগারেট খাওয়ার একটা কিউ হইল চা। আবার মনে করেন, আমি ভাত খাওয়ার পরে, একটা সুইট খেতে পছন্দ করি। এইখানে আমার সুইটসের কিউ হইল ভাত খাওয়া।

আবার মনে করেন সকালে উঠে আপনি ব্রাশ করেন। সো আপনার কিউটা টাইম। সকাল। ঘুম থেকে ওঠা।

আবার মনে করেন, আপনি খুব ফ্রাস্ট্রেটেড হইলে ফ্রিজ খুলে স্নাক্স খান। তো আপনার ফ্রাস্ট্রেশনটা কিউ।

আপনি বিকেল হলে নাস্তা করেন। এইখানে বিকেলটা কিউ।

মনে করেন, আপনি ঘুম থেকে উঠে জগিং করেন। সো সকালটা আপনার কিউ।

মনে করেন, আপনি গাড়িতে উঠলে, মোবাইল খুলে ফেসবুক চেক করেন। তো, আপনার গাড়িতে ওঠাটা কিউ। তো বুঝছেন তো কিউ কী?

fb-addict-6

কিউ—রুটিন—রিওয়ার্ড

তো। নেক্সট হইল রুটিন। রুটিন হইল আপনি কিউ-এর সিগনালটা পেলে, যেই কাজটা করেন। মনে করেন ফেসবুকে ঢুকলে প্রথমে লাল অংশে চেক করেন, কোনো মেসেজ আসছে কিনা, লাইক পড়ছে কিনা। তারপরে হোমে যান। পড়েন। লাইক দেন। বন্ধ করেন। আবার ঢুকেন। এই যে কাজগুলো করেন, এইটা হচ্ছে রুটিন।

রিওয়ার্ড হচ্ছে, আপনি যে রুটিনটা করলেন, তার ফলে আপনার ব্রেইনে কিছু সিগনাল যাবে, যেইটার ফলে আপনার মধ্যে একটা সাটিসফেকশান ফিলিংস হবে। এইটা রিওয়ার্ড।

মনে করেন, সেইটা হইতে পারে আপনি সিগারেট খাইলেন, আপনার নিকোটিন ঢুকল, যেইটা আপনার শরীর ক্রেভ করতেছিল—এই আর্জটা পূর্ণ হইল।

মনে করেন, আপনি ফেসবুকে ঢুকলেন, আপনে দেখলেন আপনার একটা বন্ধু মেসেজ দিছে। আপনার ব্রেইনের মধ্যে ডোপামিন রিলিজ হইল।

মনে করেন, আপনি চা খাইলেন। সুগারটা একটা টেস্ট দিল। মনে করেন, আপনি মিষ্টি খান, সেইটা মজা লাগল। তো এইটা হইল রিওয়ার্ড।

অভ্যাস সব সময়ে এই কিউ, রুটিন, রিওয়ার্ড ফলো করে। এইটাকে বলা হয় হ্যাবিট লুপ।

অভ্যাস পরিবর্তনের প্রথম কাজ হইল, এই হ্যাবিট লুপকে বোঝা। আপনি হ্যাবিট লুপের যে কোনো একটাকে ডিজরাপ্ট করে হ্যাবিট লুপকে পরিবর্তন করতে পারবেন।

আপনি কিউটাকে ইন্টারাপ্ট করতে পারেন, রুটিনকেও পাল্টাতে পারেন অথবা রিওয়ার্ডটাকে চেন্জ করতে পারেন। কিন্ত, বিজ্ঞানীরা বার বার বলছেন, অভ্যাসকে চেন্জ করা যায়, অভ্যাস থেকে স্বেচ্ছায় বের হয়ে আসা খুবই কঠিন। যেইগুলো দীর্ঘ দিনের অভ্যাস, সেইগুলো প্রায় অসম্ভব।

কত দিন নতুন অভাসের চর্চা করতে হবে?

মিনিমাম ৯৬ দিন।

একটা নতুন আচরণকে অভ্যাসে পরিণত করতে হলে, তাকে সর্বনিম্ন ৯৬ দিন চর্চা করতে হয়। তাহলে সেইটা অভ্যাসে পরিণত হবে। যদি ১০ দিন করে ছেড়ে দেন তবে একদিন ধুম করে বাসাল গাংগালিয়া আপনাকে আবার পুরাতন অভ্যাসে নিয়ে যাবে। সংখ্যাটা খেয়াল রাখবেন। মিনিমাম ৯৬ দিন। মানে তিন মাস।

 

বিজ্ঞানীরা কিন্ত এই অভ্যাসের কারণটাও ব্যাখ্যা করছেন। তারা দেখাইছেন, অভ্যাসের কারণে, কিছু কিছু কাজে আমাদের ব্রেইনকে কম খাটতে হয়। ফলে, আমাদের ব্রেইন কম এনার্জি নেয়। তাই আমাদের মাথার সাইজ ছোট থাকে, যেইটার কারণে মায়ের পেট থেকে আমাদের ন্যাচারাল বার্থটা সহজ হয়। প্লাস কম এনার্জি খরচ হওয়ার কারণে, আপনার কম খাইলে চলে।

মনে করেন, প্রতিবার সকালে উঠে যদি আপনার চিন্তা করতে হইত আপনি ব্রাশ করবেন কি করবেন না। অথবা আপনি যদি গাড়ি চালান, তাইলে চিন্তা করে দেখেন, প্রথমে গাড়ি স্টার্ট করা, গিয়ার, ক্রাচ, ব্রেক, রিয়ার ভিউ মিরর এইগুলো সম্পর্কে আপনি কত সচেতন ছিলেন। ব্রেইনকে ফুল অ্যালার্ট থাকতে হইত। কিন্ত অভ্যাসের পরে এইগুলো আপনি ইজিলি করেন। মানে আপনার ব্রেইনকেও কম খাটতে হয়। তাই আপনার নিজের প্রয়োজনেই আপনার মন অভ্যাস সৃষ্টি করে।

ব্রেইন আপনার মতই ফাঁকিবাজ, সে চায় সব কাজে শর্টকাট। এবং একবার যখন এইটা সেট হয়ে যায় তখন সে আর এইটা থেকে বের হইতে চায় না। আপনার ব্রেইন জানে না গুড হ্যাবিট কী, ব্যাড হ্যাবিট কী। তার কাছে সব হইল শর্টকাট। অ্যানার্জি প্রিজারভেশান।

তো যাক, বাংলাটা খুব সিম্পল।

অভ্যাস আপনার জীবনের জন্যে প্রয়োজনীয়। এবং আপনার ব্রেইন অভ্যাস মেনে চলার জন্যেই ডিজাইন করা।

তো আপনি যদি অভ্যাস চেন্জ করতে চান সেইটা ব্যাড হ্যাবিট হোক আর গুড হ্যাবিট হোক, আপনি আপনার প্রবৃত্তির সাথেই যুদ্ধ করতেছেন।

এবং পাওয়ার অফ হ্যাবিটে পুরো একটা চ্যাপ্টার আছে, হ্যাবিট চেন্জ করতে বিলিফ কী গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ফেসবুক বা ইন্টারনেট অ্যাডিকশান থেকে বের হতে চান ইউ নিড টু বিলিভ আপনি পারবেন। এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই বইয়ে একটা জিনিস আসে নাই, যেইটা ভিন্ন কিছু পড়াশোনা থেকে অভ্যাস পরিবর্তনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। এইটা হইল, প্যাশন এবং ডিজায়ার। আপনার অভ্যাস চেন্জ করাটার ইচ্ছাটা তীব্র হইতে হবে।

আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশান থেকে বের হতে চান, আপনার চাওয়াটা তীব্র হতে হবে। আপনার চাওয়া যদি এখনো তীব্র না হয়, আগে নিজের সাথে বোঝাপড়া করেন, কেন আপনি বের হতে চান। বের হলে আপনি কী হারাবেন। আসলেই কিছু হারাবেন কিনা। আগে যখন ফেসবুক ছিল না তখন আপনি কীভাবে চলতেন? কী হারাতেন? এখন কী পাচ্ছেন। এইটা আগে ঠিক করেন। আপনার চাওয়াটাকে তীব্র করেন।

এবং আপনি যে নতুন অভ্যাস দিয়ে পুরাতন অভ্যাসকে রিপ্লেস করবেন সেইটার ব্যাপারে প্যাশনেট না হইলে আপনি কোনো মতেই বাসাল গ্যাংগালিয়ার উপরে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারবেন না।

এই নতুন রুটিনটাকে নিয়েও চিন্তা করেন। কেন, এইটা আপনের প্রয়োজন। যদি আপনার নতুন রুটিনে যা আপনার অ্যাচিভ করবেন, সেইটার রিওয়ার্ড যদি আকর্ষণীয় না হয় তবে খুব সম্ভবত আপনি হেরে যাবেন। এক দিন পারবেন, দুই দিন পারবেন, তৃতীয় দিনে বাসেল গ্যাংগা লিয়া আপনার নতুন রিওয়ার্ডকে দখল করে নেবে।

তো এই যুদ্ধ কেমনে করবেন?

আপনি বেস্ট যেইটা করতে পারেন, সেইটা হইল—

এক. আপনার অভ্যাসটাকে রিপ্লেস করতে পারেন, নতুন একটা অভ্যাস দিয়ে।

দুই. আপনের নিজের জন্যে নতুন একটা রিওয়ার্ড তৈরি করেন।

তিন. আপনার কিউগুলো চেন্জ করেন।

চার. রুটিনটা পালটে নিয়ে নতুন রুটিন বানান।

মনে করেন, আমি আমার জীবনে অনেকবার সিগারেট ছাড়ছি, জাস্ট কিউটা পালটে। মনে কারণ, চা যেহেতু আমার সিগারেটের কিউ। আমি চায়ের বদলে, পানি খেলাম। সেইটা আমার হ্যাবিট লুপে ডিজরাপ্ট করে।

অথবা, আপনি ফেসবুকে আসক্ত। আপনি অফিসের ব্রেকে গেলেন। মন সিগনাল দিল, ফেসবুক ফেসবুক! এইটা আপনার কিউ। আপনি তখন ফেসবুকে না গিয়ে, ইউটিউবে ইন্টারেস্টিং কিন্ত শিক্ষামূলক ভিডিও দেখলেন। টেড দেখার অভ্যাস করলেন।

মানে রুটিনটা চেন্জ করলেন।

কিন্ত, আপনি যদি অতিরিক্ত অভ্যস্ত হয়ে যান তখন আপনার খারাপ লাগবে। অস্বস্তি লাগবে। মনে হবে ধুর কী হবে?

ওয়েল তখন, আপনি একটা দুই মিনিটের টাইমার সেট করে ফেসবুকে যান এবং এই শেষ করার জন্যে নিজেকে একটা রিওয়ার্ড দেন। মনে করেন, এইটা যদি পারেন, তবে আপনি একটা আইসক্রিম খাইলেন। অথবা আপনার কাছের কাউকে বলেন, একটা রিওয়ার্ড ডিজাইন করতে।

 

সফল অভ্যাস পরিবর্তনের করার জন্যে পরিবারের, বন্ধুদের সাহায্য নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে অনেক অভ্যাস নিরাময় গ্রুপ আছে যারা সপ্তাহে এক দিন বসে, আলোচনা করে। নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। অনেক গ্রুপ আছে যেইখানে একজনকে আরেক জনের সাথে অ্যাসাইন করে দেয়।

আপনার কিউ হিট করছে। তো এখন রুটিনে না গিয়ে, বন্ধুকে কল দেন। ডিসকাস করেন। এইগুলো সিরিয়াস রিসার্চের ফাইন্ডিং। আমার বানানো কথা না। হেল্প নেন। একলা একলা পারবেন না। কাছের কাউকে সাথে নেন। সে যেন আপনার, কিউ রুটিন রিওয়ার্ডে ইন্টারাপ্ট করে। এবং ইন্টারাপ্ট করলে হবে না, নতুন হ্যাবিট গড়তে হেল্প করে। আপনার স্মার্ট ফোনের পাসওয়ার্ড আরেকজনকে দিয়ে রাখেন। অথবা ডাম্ব ফোন ব্যবহার করেন।

যাক, অনেকগুলো আলাপের পুনঃ বাংলা সামারি হলো—

১. অভ্যাস পরিবর্তন করতে হইলে, কিউগুলো পরিবর্তন করেন। দেখেন আপনি কীসের থেকে কিউ পাচ্ছেন। সময়, মানসিক অবস্থা, কোনো আচার, আচরণ সব কিছুই কিউ হতে পারে। আপনি দেখেন, আপনার অভ্যাসের কিউগুলো কী। এইগুলোকে পরিবর্তন করেন।

২. রুটিন যেইটা চেন্জ করতে চান সেইটা লিখে ফেলেন। যদি না লিখেন তাহলে আপনার হ্যাবিটে যখন কিউ করবে তখন, বাসাল গ্যাংগালিয়া আপনার উপরে কন্ট্রোল নিয়ে ফেলবে। তখন যদি আপনাকে চিন্তা করতে হয় রুটিন নিয়ে, আপনি বাসাল গ্যাংগালিয়ার সাথে হেরে যাবেন। যদি আপনার রুটিনগুলো লেখা থাকে, তবে আপনি সেইটা দেখে অনুসরণ করেন। সেইটা ফলো করেন।

মনে করেন, আমার ফেসবুকে না ঢোকার জন্যে রুটিনের মধ্যে আছে ইউটিউবে কিছু ভালো লার্নিং ভিডিও দেখা, আছে টেড দেখা, আছে কিছু ভালো সাইটে যাওয়া, আছে কিছু ভালো ডকুমেন্টারি দেখা। আমি মোবাইলে এই ভিডিওগুলো ডাউন-লোড করে রেখেছি যেন আমি কিউ পেলেই রুটিনটা পালটে নিতে পারি।

কিন্ত লিখে রাখেন। লেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিউ হিট করবে, লেখাটা পড়েন। যেইটা বেছে নেবেন, সেইটার জন্যে আগেই যেন প্রস্তুতি থাকে। সেই রুটিনে চলে যান।

৩. রিওয়ার্ড তৈরি করেন। এমন একটা রিওয়ার্ড দেন, যেইটা আপনার মন ক্রেভ করে।

৪. পুরো পরিবেশ পালটে ফেলেন এবং অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারবেন না ভেবে পরিবেশ সাজান। যদি আপনার অভ্যাস থাকে রাতে খাওয়ার পরেও ফ্রিজ থেকে খুলে জাঙ্ক খাওয়া, তবে ফ্রিজ খালি রাখেন।

 

যদি অনলাইনে ঢুকে সময় নষ্ট করার অভ্যাস পাল্টাতে না পারেন, তবে স্মার্ট ফোন ছেড়ে ডাম্ব ফোন ব্যবহার করেন। খেয়াল রাখবেন, বাসাল গ্যাংগালিয়ার সাথে পারার চান্স খুবই কম। সো, হারবেন ভেবেই জয়ের রাস্তা তৈরি করেন।

duhig-2

চার্লস ডুহিগ

পাওয়ার অফ হ্যাবিট পড়লে, আপনি বুঝবেন, অভ্যাস হয়ে গেলে যেহেতু এর থেকে মুক্তি খুবই কঠিন। তাই অভ্যাস ফরমিং এর সময়েই এই গুলো থেকে সতর্ক থাকা ভালো। বাচ্চাদেরকে শাসন করা এবং জ্ঞান দান করার চেয়ে ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার জন্যে বাবা মায়ের সতর্ক থাকা উচিত ।

কারণ, ছোট বয়সে আপনি যদি ভালো অভ্যাস গড়ে তোলান সেইটা তাকে সারা জীবন হেল্প করবে। একদম ছোট বয়সেই, শিশুদের হাতে স্মার্ট ফোন দিলে বা তাকে কার্টুনের মধ্যে ডুবিয়ে রাখার মত খারাপ অভ্যাস দিয়ে গড়ে তুললে সে সারা জীবন সাফার করবে।

তাই যারা ফেসবুক, অনলাইন বা ভিন্ন কোন এডিক্সান থেকে মুক্তি পেতে চান।

নিজের সাথে সময় নিন। যাচাই করে দেখুন, কিউ টা কি, রুটিন টা কি এবং রিওয়ার্ড টা কি দেখুন। জেনে রাখুন, আপনি শুরু করার আগেই হেরে বসে আছেন। কিউ আসলে কি কি রুটিন হবে, সেইটা লিখে রাখুন। এবং কিউ হিট করলেই, রুটিন টা পড়ুন এবং নতুন রুটিনে চলে যান। বন্ধুদের হেল্প নিন। কিউ গুলোকেই বন্ধ করে রাখুন।

স্মার্ট ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক এডিকশান দূর করতে পারবেন না। বাসাল গাঙ্গালিয়ার সাথে পারবেন না। ডাম্ব ফোন ব্যবহার করুন। ৯৬ দিন। তারপরে আবার ফিরে যেতে পারবেন।

এইটা কঠিন একটা কাজ। কিন্ত, আপনি যদি বিশ্বাস করেন, সম্ভব এবং এই গুলো থেকে দূর হওয়ার প্যাশন যদি আনার সত্যি প্রকৃত প্যাশন হয়ে থাকে তবে, শুরু করুন। পারবেন।

আমি পেরেছি, আপনিও পারবেন।

About Author

জিয়া হাসান
জিয়া হাসান

সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট এক্টিভিস্ট। সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক বিশ্লেষক। প্রথম উপন্যাস: 'দুর্ঘটনায় কবি'। গ্রন্থ: 'শাহবাগ থেকে হেফাজত: রাজসাক্ষীর জবানবন্দি'।