এই দুরকম বাধা’র একটাও কি আপনার কাছে পরিচিত লাগছে? লাগার কথা…

কোনো জরুরি কাজ হাতে নিলেই দেখা যায় দুই ধরনের বাধা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।

এক হলো, কাজটাকে বোঝা বলে মনে হয়। করতে গেলে কঠিন ও ক্লান্তিকর লাগে। তখন দেখা যায় আমরা সেই কাজ নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেছি। তাই তাড়াহুড়া করে শেষ করতে গিয়ে কাজটা আর করতেই ইচ্ছা করে না।

দুই নম্বর বাধা হলো, কাজটাকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ লাগে না। কেন কাজটা আসলে জরুরি না সেই যুক্তি খুঁজতে শুরু করি আমরা। তারপর ওই যুক্তি অনুসারে কাজটা না করে ফেলে রেখে দেই।

এই দুরকম বাধার একটাও কি আপনার কাছে পরিচিত লাগছে? লাগার কথা, কারণ প্রায় সবাই আমরা এধরনের সমস্যার মুখোমুখি হই।

প্রথম বাধার মতো করে কোনো কাজকে বোঝা মনে করলে কাজের প্রতি একটা নেগেটিভ মাইন্ডসেট তৈরি হয় আমাদের। যাকে কথা দিয়েছিলেন কাজ করে দিবেন বলে—সে আপনার ভাইবোন, স্ত্রী, বাবা-মা, স্কুল টিচার বা অফিসের কলিগ যেই হন না কেন—তিনি কিন্তু আপনার এই মাইন্ডসেট বুঝতে পারেন।

আর দ্বিতীয় ধরনের বাধার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতি মানুষজনের বিশ্বাস কমে আসে। কারণ এতে আমরা কোনো কাজের গুরুত্ব কমিয়ে দেবার চেষ্টা করি। যেহেতু কঠিন সব প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আমাদের একটা সহজাত অনীহা এসে পড়ে, তাই নিজের প্রতিও আমাদের আস্থা কমে যায়।

এ ধরনের মাইন্ডসেট থেকে নিজেকে বের করে আনতে চাইলে নিচের এই ৩ রকম পদ্ধতি ফলো করতে পারেন—

১. কাজটাকে কেবল কাজ নয়, বরং মানুষের প্রতি উপহার ভাবুন

কোনো কাজকে বোঝা মনে হতে থাকলে সেই কাজটির অন্য এমন সব অনুষঙ্গের দিকে নজর দিন, যাতে কাজটাকে অন্যের প্রতি আপনার গিফট মনে হয়।

যেমন আমি এই আর্টিকেলটা লিখছি; লেখার সময় আমি কাজটাকে বাড়তি ঝামেলা হিসেবে যেমন নিতে পারি, তেমনি এভাবেও ভাবতে পারি যে আমার এই লেখাটা পড়ে পাঠকরা একটু হলেও তাদের স্ট্রাগল থেকে রেহাই পেতে পারেন। এভাবে যেকোনো কাজকে দ্বিমুখী লেনদেনের দৃষ্টিতে দেখলে কাজের প্রতি একটা বাড়তি আগ্রহ কাজ করে।

২. কাজের গুরুত্ব সম্বন্ধে বার বার নিজেকে মনে করিয়ে দিন

কাজকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, তার কারণ—হয় আপনি ভুল কাজের পেছনে সময় নষ্ট করছেন, এমন কাজ করছেন যেটার প্রতি আপনার যথেষ্ট আগ্রহ ও প্যাশন নাই; নয়তো কাজটার সঠিক গুরুত্ব সম্বন্ধে আপনি জানেন না অথবা ভুলে গেছেন।

বাচ্চার জন্য লাঞ্চ তৈরি করবেন? প্রিয়জনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যেকোনো সম্পর্কের জন্যই অনেক বেশি দরকারি। ফোনে কথা বলতে বিরক্ত লাগে? কিন্তু কয়েক মিনিট ফোনে কথা বলাটা মোবাইলের অপর পাশের ব্যক্তির সাথে আপনার সম্পর্কের গভীরতা ধরে রাখার খুব ভালো ইঙ্গিত হিসাবে কাজ করে। মেসেজিং ও ইমেইলের ব্যাপারেও একই কথা খাটে।

৩. জীবন ছোট—এই কথাটা মাথায় রাখার চেষ্টা করুন

আমাদের জীবন সংক্ষিপ্ত, আমরা যেকোনও সময় মারা যেতে পারি। এই সহজ ভাবনাটা অযথা বেদনাদায়ক বলে মনে হলেও সরল এ ফিলোসফির উপর নির্ভর করেই কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী নিজের কাজের ধারাগুলি ঠিক করে নিতে পারবেন আপনি।

আমরা কেউই জানি না আমাদের হাতে ঠিক কতটা সময় বাকি আছে৷ এই অনিশ্চিত সময়টুকু অর্থপূর্ণ সব কাজে লাগাবেন নাকি সব কাজকে অগুরুত্বপূর্ণ ভেবে হাল ছেড়ে বসে থাকবেন, তা নির্ভর করছে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তবে আপনার মাইন্ডসেটে এই মৃত্যুভাবনা থাকাটা প্রয়োজন।