page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

“বাংলাদেশের ঐতিহ্যটা ওভাবে আছে কিনা, আমি এগুলো নিয়ে ভাবি না।”—কালপুরুষ

সাদ রহমান: আপনার বই আসছে, বইমেলাতে?

কালপুরুষ: হ্যাঁ, মৌলিক একটা, অনুবাদ সংকলন একটা।

সাদ: এটা কি আপনার প্রথম বই?

কালপুরুষ: না, গতবছর একটা আসছে। ‘এই শহরে রাজহাঁস নিষিদ্ধ’। কুঁড়েঘর প্রকাশনী থেকে।

সাদ: আর এবারের বইটা?

কালপুরুষ: এবারের বই হচ্ছে, ‘রোহিণীর জন্য একটি রাষ্ট্র’, মৌলিকটা। আর ‘বিশ্বকবিতার নির্বাচিত অনুবাদ’—এটা হচ্ছে অনুবাদের সম্পাদনা।

boimela-logo-2016

সাদ: আপনি তো কবিতাই লিখছেন, নাকি আর কিছু লিখেন?

কালপুরুষ: কবিতা, কিছু গল্প আর আগামি বইমেলায় হচ্ছে উপন্যাস। এই একবছর কবিতা লিখব না।

সাদ: সারা বছর কবিতা লিখবেন না!

কালপুরুষ: না। ডিসিশনটা এরকম। এখন যদি খুব বেশি ইচ্ছা করে, ভুলে লিখে ফেলতে পারি। ইচ্ছা নাই। আগামি বইমেলায় উপন্যাস আসছে।

সাদ: কবিতায় কী ধরনের, কবিতা নিয়া আপনার কী বক্তব্য, আছে কিনা। থাকলে সেটা…?

কালপুরুষ: কবিতা নিয়ে খুব আলাদা কিছু করতে চাই—ওরকম কিছু না। তবে আমি চাই যে কবিতা খুব সুন্দর হয়ে উঠুক। পাঠক পড়লে তাদের কাছে ভালো লাগবে। কবিতার তো আসলে, একভাবে বলা যায়, কবিতার অনেক দায় আছে। আবার হচ্ছে কবিতার কোনো দায় নেই। যেমন কবি যদি অলওয়েজ মনে করে যে, আমার কবিতা দিয়ে আমি দেশকে চেন্জ করে দিব, পৃথিবীকে চেন্জ করে দিব, সমাজকে চেন্জ করে দিব—এই এত চেন্জের মধ্যে থাকলে কবিতা আসলে কবিতা হয়ে উঠবে না। তখন মনে হয় যে তার জন্য প্রবন্ধ লেখা ভালো।

সাদ: আপনি কি তাহলে বিদেশী কবি বা দেশের বাইরের কবি, উনাদের দ্বারা, বা উনাদের থেকে কিছু নিয়ে থাকেন কিনা?

কালপুরুষ: অনেক বেশি। আমি অনেক বেশি প্রভাবিত।

সাদ: দেশের তুলনায় বেশি কিনা?

rohini

রোহিণীর জন্য একটি রাষ্ট্র । কালপুরুষ । ঘাসফুল । ফেব্রুয়ারি ২০১৬ । ১৫০ টাকা । প্রচ্ছদ: নবী হোসেন ।

কালপুরুষ: হ্যাঁ। দেশের তুলনায় বেশি। কারণ তাদের কবিতা পড়তে গিয়ে আমার কাছে মনে হইছে যে, তাদের জায়গা থেকে আমরা—জীবনানন্দ দাশকে বাদ দিলে—যেমন জীবনানন্দ দাশের কথা যেটা আমার কথা, আমি তাকে শ্রেষ্ঠ কবি মনে করি, ওয়ার্ল্ডের মধ্যে। জাস্ট আমার মত। তাকে বাদ দিলে বাকি যারাই আছেন, সবার প্রতি রেসপেক্ট রেখেই, আসলে মনে হয় যে আমরা এখনো অনেক অনেক দূরে আছি, অনেক পেছনে আছি। তো এই কারণে মনে হয় যে, আমি যখন বলছি, হ্যাঁ, অনেক বেশি প্রভাবিত, যখন আমি বলছি, অনেক বেশি নিচ্ছি আমার খারাপ লাগে না। আমার কাছে মনে হয়, সমস্ত পৃথিবীটা মিলে আসলে কবিদের জন্য কোনো আলাদা দেশ নাই। সমস্ত পৃথিবীর সব দেশ মিলে একটা কান্ট্রি। এবং সব ভালো কবিতা, সব রাইটার মিলে যে লিখে, আসলে একটা কবিতাই সবাই মিলে লিখে। আমি আসলে চাই, ভালো লিখতে। যে কোনো ওয়েতে। সেটা কোন দেশের প্রভাবটা বেশি পড়ছে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যটা ওভাবে আছে কিনা, আমি এগুলো নিয়ে ভাবি না।

সাদ: আপনে কবি হিসাবে, আপনার বই বের করাটা আপনার জন্য কদ্দুর দরকারি মনে করেন?

কালপুরুষ: আমি মনে করি, বই বের করার চেয়েও বেশি যেটা, যেমন নেরুদার সময়ে একটা বিষয় ছিল। নেরুদা যখন ছিলেন, উনার জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে, উনার কবিতা, আমরা যেমন গ্রামে কোনো কঠিন কাজ করতে গেলে আল্লাহর নাম বা এরকম কোনো কিছু শব্দ উচ্চারণ করে আমরা কঠিন কাজগুলো করি। ধান চাষ করা বা বড় বড় গাছের গুড়ি ঠেলে ঠেলে সরানো, ওই সময় ছিল, যারা খনিতে কাজ করত, নেরুদার কবিতা আবৃত্তি করতে করতে কাজ করত। আমি চাই যে, আসলে সারা পৃথিবীতে ওই জায়গাটা চলে যাক। কবিতা থাকবে মানুষের মুখে মুখে। প্রত্যেকটা শ্রেণীতে। তো বই বের করছি, সেটা কিছু মুষ্ঠিমেয় পাঠকের কাছে যাচ্ছে। ওটা তো অবশ্যই দরকার আছে। কিন্তু তার পাশাপাশি আরো অনেক বেশি চ্যানেলে চ্যানেলে আবৃত্তি হওয়া, যেমন হেলাল হাফিজের সময়ে বা রুদ্রের সময়ে অনেক বেশি ছিল। এখন কি আমরা আসলে কোথাও আবৃত্তি করতে যাই ওভাবে? যাই না। কিন্তু তারা কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় যেতেন। চিন্তা করতেন, স্পন্সর করছে কী করছে না। নিজেরা কষ্ট করে করতেন। আমরা পারছি না। আমরা অপেক্ষা করছি এই বইমেলার জন্য, অপেক্ষা করে একটা বই বের করতেছি, মনে করতেছি দায় শেষ, কিছু বিক্রি হচ্ছে, আবার পরের বছরের জন্য অপেক্ষা, শেষ!

সাদ: আপনে তো তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, আপনি অনেকটা, মানে কবির কোনো সীমানা নাই, এই ধরনের একটা মত ধারণ করেন।

কালপুরুষ: অবশ্যই সীমানা নাই। হ্যাঁ।

সাদ: সেই হিসাবে আপনার কাছে কবির বয়সের সীমানা বা বয়সটা ফ্যাক্টর কিনা?

কালপুরুষ: অবশ্যই ফ্যাক্টর না।

সাদ: তাহলে আপনে তরুণ কবি বা প্রবীণ কবি আলাদা করবেন?

কালপুরুষ: না, আমি ওইভাবে আলাদা করব না। তবে হ্যাঁ, বলতে গেলে তো আসলে বলে আমরা ফেলি, ঠিক না? কিন্তু যেমন ধরো তুমি কোলকাতায় যদি দেখো, মলয় রায়চৌধুরী, এখনো যদি তুমি তার স্ট্যাটাস দেখো, বা কমেন্ট দেখো, তোমার কাছে মনে হবে এই লোকটা সে-ই বিশ বছরে পড়ে আছে। মাঝে মাঝে আমার কাছে মনে হবে যে, কী! এখনো কেন সে এরকম করছে? কিন্তু আমার বেশির ভাগ সময়ে মনে হয়, এই লোকটা এখনো সেই তরুণ জায়গায় আছে।

সাদ: মানে আপনে তারুণ্যকে তারপরেও, সবকিছুর পরেও তারুণ্যকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেন।

কালপুরুষ: আমি মনে করি যে, তোমার বয়স আশি হয়ে যাবে কিন্তু তুমি যখন লিখছো, তখন তোমার বয়স বিশের উপরে কখনো উঠবে না।—তুমি যদি লিখতে পারো।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ২/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাদ রহমান
সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।