অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের বল টেম্পারিং এর ঘটনার উপর পুনরায় তদন্ত হয় এবং সেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ৩ দিন আগে। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এবার পদত্যাগ করতে হল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ডিভিড পিভারকে।

বল টেম্পারিং এর ঘটনার উপর সদ্য প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক বডি-কে বলা হয়েছে ‘দুর্বিনীত এবং নিয়ন্ত্রক’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সেই কলঙ্কজনক ঘটনার দোষের ভাগিদার ক্রিকেট বোর্ডও।

বল টেম্পারিং এর অপরাধের শাস্তি হিসাবে খেলোয়াড় স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে তো আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এবার নতুন করে প্রকাশিত হওয়া এই প্রতিবেদনের কারণে পদত্যাগ করতে হল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ডেভিড পিভারকে। যদিও এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরে পিভার সেই ঘটনার দোষ স্বীকার করেছিলেন কিন্তু পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্য এথিকস সেন্টার পুরো ঘটনাটি পুনরায় খতিয়ে দেখে ১৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সম্প্রতি ডেভিড পিভার আরো ৩ বছরের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরে ক্রমাগত চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হল।

পিভারের পদত্যাগ এর পরে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন আর্ল এডিংস।

আর্ল এডিংস

এডিংস এর প্রতিক্রিয়া, আমরা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে ঠিকঠাক ও পুনর্গঠন করার গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাব। বোর্ড খুব ভাল করেই জানে যে ক্রিকেট সম্প্রদায়ের আস্থা পুনরায় অর্জন করতে হলে আমাদের অনেকদূর যেতে হবে। আমরা এবং আমাদের নির্বাহী দল ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর।

নিষিদ্ধ হওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে অধিনায়ক স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নার আরো পাঁচ মাস পর মাঠে ফিরতে পারবেন। আর বল টেম্পারিং যিনি করেছিলেন, সেই ব্যানক্রফট নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামি ডিসেম্বরেই মাঠে ফিরতে পারবেন।

এই বছরের মার্চ মাসে, বল টেম্পারিং এর ঘটনার পরে অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ ড্যারেন লেহম্যান ও প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘মূল্য বিবেচনা করেই জিততে হবে’—ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন সংস্কৃতিই আসলে খেলোয়াড়দেরকে বল টেম্পারিং করার মত ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে।

এই প্রতিবেদনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ৪২টি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে তারা বেশিরভাগ পরামর্শ গ্রহণ করবে ও বাস্তবায়ন করবে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here