লরেনসন মনে করেন ইয়ুর্গেন ক্লপ প্রতিপক্ষের কোয়ালিটির নিয়ে বেশি ব্যস্ত না হয়ে বরং নিজেদের খেলার যে ধরন সেটাই প্রয়োগ করবেন এই ম্যাচে।

বাংলাদেশ সময় ২ মে রাত ১টায় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ লিগের ক্লাব বার্সেলোনা ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুল। এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সম্ভবত বার্সেলোনা বনাম লিভারপুলের সেমিফাইনালের ম্যাচ দুটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। দুই দলের মধ্যে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ম্যাচটি যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে সেটা অবশ্যম্ভাবী।

বার্সেলোনার প্রধান খেলোয়াড় মেসি এই মৌসুমে অবিশ্বাস্য রকম ফর্মে থাকায় ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে।

তবে লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার মার্ক লরেনসন মনে করছেন অন্যরকম কথা। লরেনসন বলেছেন, লিভারপুলের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ মেসিকে থামানোর উদ্দেশ্যে লিভারপুলকে মাঠে নামাবেন না, সালাহ এবং লিভারপুলের অন্যান্য খেলোয়াড়েরা নিজেরাই নিজেদেরকে বার্সেলোনার জন্য সমস্যা করে তুলবে।

গত মৌসুমেও লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছিল। গতবার যেহেতু চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই তারা এবার চেষ্টা করবে আগের বারের ব্যর্থতা এবার পুষিয়ে নেওয়ার।

অন্যদিকে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সেলোনা যে রকম খেলেছে এবং লিওনেল মেসি একাই যে পারফরমেন্স দেখিয়েছেন, তাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে মেসিকে নিয়ে লিভারপুলের পরিকল্পনা কী।

লরেনসন মনে করেন ইয়ুর্গেন ক্লপ প্রতিপক্ষের কোয়ালিটির নিয়ে বেশি ব্যস্ত না হয়ে বরং নিজেদের খেলার যে ধরন সেটাই প্রয়োগ করবেন এই ম্যাচে।

লরেনসনের কথায়, আমি মনে করি সে তার শক্তি অনুযায়ী দলকে খেলাবে, প্রিমিয়ার লিগের খেলায় যেটা করে।

মেসির ব্যাপারে লরেনসন বলেছেন, আপনি যদি সবসময় মেসির পিছনে তাদের একজনকে লাগিয়ে দেন তাহলে তারা যেভাবে খেলে সেটা থেকে তাদেরকে বিচ্যুত করছেন।  আমি মনে করি সে মেসির সবচেয়ে কাছের খেলোয়াড়টার দিকে নজর রাখবে তাকে থামানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

লিভারপুলের শক্তি সম্পর্কে লরেনসন বলেছেন, লিভারপুলের মূল শক্তি হল আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়, তাদের পিছনের আরো দুইজন খেলোয়াড়। তাহলে তারা যে কাজে বিশেষভাবে ভালো না সেটা তাদেরকে কেন করতে বলছেন।

লরেনসন আরো বলেছেন, লিভারপুল বল পেয়েছে মানে মেসি পায় নি। লিভারপুল ভালভাবেই আক্রমণ নির্ভর একটা দল, এবং ক্লপের একটা মাইন্ডসেট আছে। তাহলে তিনি সেটা বদলাবেন কেন। তিনি খুব কম সময় কোনোকিছু বদলান। তিনি সাধারণত ৪-৩-৩ ফরম্যাটে রাখেন দলকে, কখনো হয়ত ৪-৩-২-১ এ যান, সেটা একটা সম্ভাবনা। তার মূল শক্তি হল আক্রমণ করা, তাহলে বার্সেলোনার মত দলের সাথে সে তার শক্তি কেন কাজে লাগাবেন না! ফুটবল জ্ঞানে এটার কোনো যুক্তি নেই।

লিভারপুলের জন্য কেমন ফলাফল সন্তোষজনক হবে সেই প্রশ্নের উত্তরে লরেনসন বলেছেন, বার্সেলোনার মাঠে একটা গোল দেওয়াটা অসাধারণ হবে। এমনকি আমি বলব ২-১ ব্যবধানে তাদেরকে হারাতে পারলে আরো চমৎকার, কারণ তখন দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের মাঠে একটা গোল করলেই হবে।

লরেনসন বলেছেন, আসল কথা হল, আমরা মেসি এবং বার্সেলোনাকে নিয়ে কথা বলছি আর তারা লিভারপুলের সামনের তিনজনকে নিয়ে কথা বলছে। দুই দলই এতটা শক্তিশালী যে তারা এতটা বোকা নয় যে তারা ভাবছে মাঠে নামবে আর খেলবে। আমি মনে করি দুই দলই এটার দিকে তাকিয়ে আছে এবং এবং মনে করছে তারা জিততে পারে, দুই দলের পরস্পরের প্রতি এটাই সম্মান।

এক ম্যাচ বিশ্রামে থাকার পর লিভারপুলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবার্তো ফিরমিনো এই ম্যাচে দলে ফিরছেন। লিভারপুলের জন্য অবশ্যই এটা খুশির খবর।

ফিরমিনোর প্রসঙ্গে লরেনসন বলেছেন, সে হয়ত মানে এবং সালাহ’র মত দুর্দান্ত না, তবে কোচ এবং দলের কাছে সে ওই দুইজনের মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ। দলের বাকিরা তার ভূমিকা বোঝে এবং সেটার জন্য তাকে গুরুত্ব দেয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লিভারপুলের সালাহ এবং মানে আক্রমণভাবে অসাধারণ খেলা খেলছেন। যদিও সালাহ এই মৌসুমের শুরুতে খুব ভালো পারফরমেন্স দেখাতে পারছিলেন না, তবুও এখন পর্যন্ত মোট ২৫টা গোল করেছেন তিনি।  লরেনসন জানিয়েছেন তিনি সালাহ’র ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নন।

সালাহ প্রসঙ্গে লরেনসন বলেছেন, তিনি কয়টা গোল করেছেন? গত বছর করেছিলেন ৪৪টা। এই বছরের শুরুতেই আমরা বলেছিলাম তিনি যদি ১৫টা গোল করেন তাহলে বলতে হবে তিনি অসাধারণ খেলেছেন। এই পৃথিবীতেই আমরা বাস করছি না? তিনি প্রতি সপ্তাহে গোল করতে পারছিলেন না দেখে মানুষ মনে করেছে তার কোনো সমস্যা হয়েছে এবং তিনি আগের মত নাই। তিনি এখনো দুর্দান্ত।

লিভারপুলের আক্রমণভাগের তিন খেলোয়াড়ের প্রসঙ্গ টেনে লরেনসন আবারও বলেছেন, এই তিনজনকে নিয়ে মূল কথা হল তারা তিনজন মিলে যে পরিমাণ গোল করেছে সেটা অবিশ্বাস্য। এরকম তিনজনের নাম বলুন যারা মিলে তাদের মত এত গোল করেছে।