খাবার লবণের ৯০ ভাগ ব্র‍্যান্ডেই প্লাস্টিক দূষণ

  • ২১টি দেশের ৩৯টি ব্র‍্যান্ডের লবণ পরীক্ষা করে দেখা হয়
  • একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০০০ পিস মাইক্রোপ্লাস্টিক খেয়ে থাকেন
  • দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ার লবণেই সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন

প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব বোঝার জন্য ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সমুদ্র লবণ পরীক্ষা করে তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নমুনা পেয়েছিলেন। সেই দূষণ কতটা ছড়িয়ে পড়েছে তা জানালেন এবার দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক।

সারা বিশ্বে বিভিন্ন কোম্পানির যেসব খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় ৯০% লবণে ছোট ছোট প্লাস্টিকের কণা থাকে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ‘এনভায়রেনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এ রিসার্চ পেপার মতে, সমুদ্র ও পুকুরে প্লাস্টিক দূষণের কারণে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০০০ পিস মাইক্রোপ্লাস্টিক খেয়ে থাকেন।

খাবার লবণের এ দূষণ পৃথিবীব্যাপী হলেও, যেসব অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণ বেশি, সেই অঞ্চলগুলিতে মানুষেরা অধিক পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক খেয়ে থাকে

ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়ার ২১ টা দেশের ৩৯ টা ব্র‍্যান্ডের লবণ পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মধ্যে ৩৬ টা ব্র‍্যান্ডের লবণে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। যে তিনটা ব্র‍্যান্ডের লবণে প্লাস্টিক পাওয়া যায় নি, সেগুলি মূলত ফ্রান্স, তাইওয়ান ও চায়নায় বিক্রি করা হয়।

এর মাঝে তাইওয়ানের লবণটি হল পরিশোধিত সামুদ্রিক লবণ, চায়নায় পরিশোধিত শিলা লবণ এবং ফ্রান্সের লবণটি অপরিশোধিত সামুদ্রিক লবণ। এরকম নানা প্রকার লবণের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির লবণে প্লাস্টিকের ঘনত্বেও ব্যাপক পার্থক্য আছে। তবে সব মিলিয়ে এশিয়ার প্লাস্টিক দূষণ গুরুতর বলে জানিয়েছেন তারা।

খাবার লবণের এ দূষণ পৃথিবীব্যাপী হলেও, যেসব অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণ বেশি, সেই অঞ্চলগুলিতে মানুষেরা অধিক পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক খেয়ে থাকে বলে গবেষণাপত্রটি থেকে জানা গেছে। সামুদ্রিক লবণে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা সবচাইতে বেশি; তালিকায় এর পরেই রয়েছে লেক সল্ট ও শিলালবণ।

২০১৫ সালের ভিন্ন একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার প্লাস্টিক দূষণ পৃথিবীতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ার লবণেই সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন।

গত পাঁচ বছরে এ নিয়ে পাঁচটি লবণ সম্পর্কিত গবেষণা চালানো হল। সাম্প্রতিক গবেষণাটি নিয়ে ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর ওয়েবসাইটে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়।

তবে একই দিনে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় পরিবেশের ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের জন্য আসলেও কতটা ক্ষতিকর, তা বোঝার জন্য উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক ধারণা পাওয়া যায় নি। ৩২০টা স্টাডি রিভিউ করার পরও এ নিয়ে ‘নলেজ গ্যাপ’ রয়ে গেছে।

গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্কের প্রফেসর অ্যালিস্টার বক্স্যাল জানান, এমন অনেক পরিবেশ দূষণের নমুনা রয়েছে যেগুলি সহজেই চিহ্নিত করা যায়, যেমন গাড়ির চাকা থেকে নির্গত হওয়া ক্ষতিকর ছোট আকারের বিভিন্ন পার্টিকেল। যেহেতু মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রতিকূলতার ব্যাপারে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নাই, তাই এর ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় অন্যান্য দূষণ থেকে আমাদের মনোযোগ বরং সরে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here