page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ছি ছি এত্তা জঞ্জাল

নানা রকম স্যাটেলাইট পাঠিয়ে পৃথিবীর চারপাশের কক্ষপথকে জঞ্জালে ভরে ফেলেছে মানুষ। বেশিরভাগ স্যাটেলাইটের আয়ু পনের-বিশ বছর। আয়ু ফুরালে সেটা ভেসেই থাকছে সেখানে। তাছাড়া এগুলির শরীর থেকে নানারকম নাটবল্টু খুলে ছড়িয়ে থাকে কক্ষপথে।

মস্কোর মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ক্রমবর্ধমান জঞ্জাল নতুন এক যন্ত্রণার জন্ম দিতে পারে। কোনো সচল স্যাটেলাইটের চিপাচাপায় লেগে যেতে পারে পরিত্যক্ত স্যাটেলাইটের জঞ্জালের টুকরা। তাতে মাঝে মাঝেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে কর্মক্ষম স্যাটেলাইটগুলি। আর যদি মাতব্বরস্থানীয় কোনো দেশের সামরিক স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তো সেটা পৃথিবীতে বিরাট ঝগড়া-ফ্যাসাদের কারণ ঘটাবে। কেননা কিছুতেই বোঝার উপায় থাকবে না জঞ্জালের টুকরা কাণায় লেগে এই কাণ্ড হয়েছে, নাকি কেউ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে স্যাটেলাইট নষ্ট করে দিয়েছে।

মস্কোর রাশান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের গবেষকরা বলছেন, এইসব জঞ্জাল একটা ‘বিশেষ রাজনৈতিক আপদ’ হয়ে উঠছে।

রুশ আর মার্কিন মহাকাশ সংস্থার লোকজন আঁতিপাতি খুঁজে এরকম বহু জজ্ঞাল চিহ্নিত করে রেখেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো যেসব জঞ্জালের টুকরার দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটারের বেশি, সেগুলিই কেবল চিনে রাখা গেছে। এর চেয়ে ছোট টুকরা শনাক্ত করার উপায় নাই। অথচ এ রকম ছোট টুকরা অজুত-লক্ষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কক্ষপথে। এগুলির যে কোনোটা ঘণ্টায় ৩০ হাজার মাইল বেগে ছুটে শরীরে বিঁধে গেলে অক্কা পাবে সচল স্যাটেলাইট।

blits21

২০১৩ সালে চীনা স্যাটেলাইটের জঞ্জাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রুশ স্যাটেলাইট ‘ব্লিৎস’।

অ্যাকটা অ্যাস্ট্রোনটিকা নামে রুশ জার্নালে লেখা এক নিবন্ধে মহাকাশবিজ্ঞানী ভিতালি আদুশকিন সাবধান করে দিয়েছেন এই বলে যে, ‘এরকম অঘটন ঘটে গেলে তা মহাকাশ-প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক এমনকি সামরিক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।’

২০১৩ সালে এরকমই এক কাজিয়া বেঁধে গিয়েছিল প্রায়। ওই বছর ব্লিতৎস নামে একটি রুশ স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পরিত্যক্ত একটি চীনা স্যাটেলাইটের জঞ্জাল থেকে। চীনের ওই স্যাটেলাইট কক্ষপথে তিন সহস্রাধিক জঞ্জাল সৃষ্টি করেছিল।

আদুশকিন বলছেন, জঞ্জাল সাফ করার উদ্যোগ না নিলে এরকম দাঙ্গা-ফ্যাসাদের ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক