প্রথম দিকে ছেলের নামের ব্যাপারে দ্বিধান্বিত থাকলেও গুগলের মা তাদের সিদ্ধান্তে এখন বরং আনন্দিত।

২০১৭ সালে গায়িকা বিয়ন্সে ও র‍্যাপার জে-যি তাদের কন্যাসন্তান ব্লু আইভি কার্টারের নাম ট্রেডমার্ক করিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভেরোনিকা মোরালেস নামের এক মহিলা তাদের সেই ট্রেডমার্কের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের মামলা করে দেন। কারণ ভেরোনিকা’র ইতোমধ্যেই “ব্লু আইভি” নামের একটি ওয়েডিং কোম্পানি আছে, যেটার নাম ট্রেডমার্ক করা। ২০১৯ সাল পর্যন্তও সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

বিয়ন্সে ও জে-যি’র মেয়ের নাম যদি ট্রেডমার্ক করানো হয়, তার অর্থ আইনের দৃষ্টিতে এমন দাঁড়াবে যে— সে একই সাথে একজন মানুষ ও একটি কমার্শিয়াল ব্র‍্যান্ড। তবে ব্লু আইভি যেহেতু এমন দুই সেলেব্রিটির সন্তান যাদের মোট সম্পদের আর্থিক মূল্য ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, তার নাম কপিরাইট করানো হোক বা না হোক, খ্যাতি তার কপালে এমনিতেই আছে। কিন্তু নবজাতক কারও নাম যদি বিখ্যাত কোন ব্র‍্যান্ডের নামে রাখা হয়, তখন ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে?

২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ায় অ্যান্ডি সাপুত্রা ও এলা কারিনের ঘরে জন্ম হয় গুগলের। তার বাবা-মা প্রথমে ভেবেছিলেন ছেলের নাম ইন্দোনেশিয়ার প্রথা অনুসারেই কিছু রাখবেন, কিংবা নাম রাখা হবে ইসলাম ধর্ম মোতাবেক। তবে এলা যখন সাত মাসের প্রেগন্যান্ট, সাপুত্রা ঠিক করলেন তাদের ছেলের নাম রাখা হবে কোন ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানির নামে। মাইক্রোসফট, আইফোন, আইওএস এবং উইন্ডোজ— এসব নাম নিয়ে আসা হয় তার স্ত্রীর কাছে। শেষ পর্যন্ত দু’জনে মিলে গুগল নামটার ব্যাপারে সম্মত হন।

তবে এলা স্বীকার করেন, ছেলের তিন মাস বয়স পর্যন্ত নামটি নিয়ে বেশ বিব্রত বোধ করতেন তিনি। তাই সেসময় সবার সামনে শুধু “বেবি বয়” বলেই ডাকতেন ওকে। তবে ২০১৯ সালে গুগল নামসহ ছেলের জন্ম সনদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহ জাগতে থাকে। বেশিরভাগই ইতিবাচক সাড়া দেন। অনেকে অবশ্য মজা করে বলেছিলেন, গুগল বড় হবার পর নিজের নামে গুগল সার্চ করতে গেলে বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে ওকে।

সাপুত্রা বলেন, একদিক দিয়ে দেখলে তার ছেলের নাম ইন্দোনেশিয়ান রীতি অনুযায়ীই রাখা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ান ধারা বলে, মানুষের নাম হলো প্রার্থনার মতো। কাজেই সাপুত্রার আশা, একদিন তার ছেলে গুগল সার্চের মতোই সবার কাছে অপরিহার্য ও দরকারি হয়ে উঠবে।

গুগলের জন্ম এখন একটি ইন্টারন্যাশনাল নিউজ। টেকনোলজি কোম্পানি গুগল তাদের তরফ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে গুগলের জন্য গিফট পাঠিয়েছে। সেই গিফটে রয়েছে গাঢ় নীল রঙের একটি জাম্পার, যেখানে সাদা রঙে গুগলের একটি লোগো বসানো।

প্রথম দিকে ছেলের নামের ব্যাপারে দ্বিধান্বিত থাকলেও গুগলের মা তাদের সিদ্ধান্তে এখন বরং আনন্দিত। তার ছেলের উদ্দেশ্যে দেয়া গুগল কোম্পানির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি তাদের গোটা পরিবারকেই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি।