page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

“ছোটবেলা থেকে আমি একটু ভাবুক ছিলাম।”—ঝর্না রহমান

সাঈদ রূপু: আপনার শৈশব কোথায় কাটছে?

ঝর্না রহমান: আমার শৈশব ঢাকাতেই কেটেছে।

সাঈদ: আপনি লেখালেখিতে আসছেন কীভাবে, মানে এই সাহিত্য জগতে আসাটা হইল কীভাবে?

ঝর্না: এইটা আমার ইচ্ছা থেকেই আসা হয়েছে। ছোটবেলা থেকে আমি একটু ভাবুক ছিলাম। পরিবেশ প্রকৃতি মানুষের জীবন এগুলো আমার মনের মধ্যে বিশেষভাবে রেখাপাত করতো। আলোড়ন তুলতো। ভাবনা জাগতো। মনে হতো আমার এই ভাবনাগুলিকে প্রকাশ করি। আমি যখন স্কুলে পড়ি তখন থেকেই আমি একটু একটু লিখি। প্রকাশ হয় নি। কিন্তু আমার খাতা ছিল, খাতার মধ্যে লিখে রাখতাম।

সাঈদ: তখন থেকে লেখাগুলা কি কোনো জায়গায় আপনি পাবলিশ করছেন?

ঝর্না: না, আমি যখন মানে স্কুলের ছাত্রী ছিলাম তখনকার লেখা পাবলিশ করি নাই।

boimela-logo-2016

সাঈদ: আপনার এই পর্যন্ত কতগুলা বই বের হইছে?

ঝর্না: আমার এ পর্যন্ত ৩৮টা বই বেরিয়েছে।

সাঈদ: এইবার আপনার কতগুলা বই আসছে?

ঝর্না: এবার আমার ৪টা বই বেরুবে। একটা চলে এসেছে মেলার প্রথম দিনেই। প্রবন্ধের বই, ওটা প্রকাশ করেছে বটেশ্বর  বর্ণন। বইয়ের নাম রৌদ্র জলের গদ্য। আর যুক্ত থেকে আমার একটা গল্পের বই আজ অথবা কালকে চলে আসবে। বইটার নাম বিষ পিঁপড়ে। প্রকাশক যুক্ত। আর বেহুলা বাংলা বলে একটা নতুন প্রকাশনী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৭১টি বই প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে আমার একটি বই আছে, উপন্যাস পিতলের চাঁদ। আর একটা কবিতার বই প্রকাশ করবে ৭১ প্রকাশনী।

bishpipreসাঈদ: আপনার এই গল্পের বই-এর গল্প শুনতে চাই। মানে কী নিয়ে লিখছেন?

ঝর্না: বিভিন্ন জিনিস। মানুষের জীবন। আমাদের চার পাশের মানুষজন, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, সামজিক সমস্যা —নানান কিছু নিয়ে লেখা। একজন লেখকের তো জীবনে সব কিছুই তার মনের মধ্যে ছায়াপাত ঘটে। মনের মধ্যে রেখাপাত ঘটে। তবে সেখানে মুক্তিযুদ্ধ, তারপর ভাষা, একুশে —এসব নিয়ে গল্প আছে।

সাঈদ: আপনার কবিতার বই আসছে, আপনার কবিতার বইয়ে কতগুলা কবিতা আছে?

ঝর্না: আমার এই বইটার মধ্যে… এটা একটা নতুন ধরনের কবিতার বই। আসে নি এখনো, আসবে। এটা প্রতিচিত্রী কবিতা। কন্ট্রা ইমেজ পোয়েম। এই ধরনের কবিতা আমি আর আগে লিখি নি, এবারই প্রথম লিখেছি। পরীক্ষামূলক বই। ওখানে আটচল্লিশটা কবিতা থাকবে। বইয়ের নাম চন্দ্রগ্রহণ?

সাঈদ: আপনি কবিতা লিখছেন, আবার উপন্যাস গল্প লিখছেন তো এই দুইটার পার্থক্য কি দেখতে পাচ্ছেন? কোনটা ভালো লাগে লিখতে?

ঝর্না: না শিল্প হিসেবে তো পার্থক্য আছেই। গল্প এক রকম, কবিতা আরেক রকম, উপন্যাস আরেক রকম। কিন্তু একজন বিভিন্ন জিনিস লিখতে পারবে না এমনটা ঠিক না। আমার ওই সব কিছুই লিখতে ভালো লাগে। কবিতাও ভালো লাগে, গল্পও ভালো লাগে।

সাঈদ: আচ্ছা বইমেলাতে আপনার চারটা বই আসতেছে বা আসছে। তো এই চারটা বই আপনার প্রকাশ করার জন্যে কত দিন ধরে লিখছেন?

ঝর্না: সারা বছরই একটা চেষ্টা থাকে। তবে আমার প্রবন্ধগুলো ঠিক এক বছরের লেখা না, আগের লেখাও আছে। বিভিন্ন সময়ের লেখা গুছিয়ে নিয়েছি আমি।

সাঈদ: তরুণ লেখক যারা অনেকেই তারা তাদের লেখার মান ভালো না তারা টাকা দিয়ে বই পাবলিশ করে, এ ব্যাপারে কী বলবেন?

ঝর্না: না না, এটা সব ক্ষেত্রে ঠিক না। হয়েছে কী, কারণ হয়েছে কী, এখন তো প্রযুক্তির যুগ, মানে প্রযুক্তি আমাদের হাতের মুঠোয়। ইচ্ছা করলেই আমরা রেকর্ড করে ফেলতে পারি।  ইচ্ছা করলেই বই ছাপিয়ে ফেলতে পারি। এই সুযোগটা কেউ কেউ নেয় যাদের টাকা আছে, কিন্তু এর মানে এই না যে তরুণ প্রজন্ম সবাই এরকম। কথাটা ঠিক না।

সাঈদ: আপনার কার লেখা ভালো লাগে, মানে প্রিয় লেখক?

ঝর্না: ও রকম করে তো বলা সম্ভব না। যারা বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক আছেন তাদের সবার লেখাই ভালো লাগে। তবে আমার খুব প্রিয় লেখক হুমায়ুন আজাদ। উনি আমার শিক্ষকও।

সাঈদ: উনার পছন্দের বই?

ঝর্না: আমার খুব পছন্দের বই হচ্ছে শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা—শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা।

সাঈদ: এইটা কতো দিন আগের পড়া।

ঝর্না: ধরুন বছর দশেক, কী সাত বছর আগে পড়েছি।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ৬/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স।