জব ইন্টারভিউ বা যে কোনো ধরনের ইন্টারভিউর ক্ষেত্রেই উদ্বেগ এড়ানো প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে সেই ইন্টারভিউ যদি হয় আপনার বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত বা একান্ত প্রয়োজনীয় কোনো চাকরির জন্যে।

এ চাপ নিয়ন্ত্রণে শুরুতেই আপনাকে মেনে নিতে হবে, এসব ব্যাপারে নার্ভাসনেস অনিবার্য ও স্বাভাবিক ঘটনা। প্রস্তুতি যতই ভাল হোক, পরিস্থিতির আকস্মিকতা আপনাকে কিছুটা হলেও ভীত করে ফেলতে পারে। এ ধরনের ভীতি দূর করার কয়েকটি সহজ উপায়:

১. কোম্পানি সম্পর্কে জানুন

এতে করে প্রশ্নোত্তর পর্বে কোম্পানি সম্পর্কিত অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন এড়ানো সহজ হবে। ইন্টারভিউ গ্রহীতা বুঝতে পারবেন, আপনি নিজের কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস।

যেমন ধরেন, হাসপাতালে চাকরির আবেদন করেছেন। তাহলে সেই হাসপাতালে কয়টা বেড আছে, ডিপার্টমেন্ট কয়টা ও কী কী, কোন কোন সুপরিচিত ডাক্তার সেখানে বসেন — ইন্টারভিউর আগে এসব জেনে রাখা ভাল।

২. নিজেকে জানুন

নিজের দক্ষতার জায়গাগুলি জেনে নিন। আর অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলি দেখাতে পারার কৌশলও রপ্ত করুন। কাঙ্ক্ষিত চাকরির জন্য নির্দিষ্ট যেসব স্কিল রয়েছে, সেসবের পাশাপাশি আপনার নিজের অন্যান্য দক্ষতাগুলি সম্পর্কেও অাপনাকে ভালভাবে জানতে হবে। এবং সব অভিজ্ঞতাকে গল্পের আদলে গুছিয়ে নেওয়া ভাল। এতে করে সেগুলি বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ইন্টারভিউয়ারদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।

৩. মক বা ছদ্ম জব ইন্টারভিউ আয়োজন করুন

কয়েকটা মক বা মিথ্যা জব ইন্টারভিউ আয়োজন করুন। আপনার বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের লোকজনকে ইন্টারভিউ গ্রহীতার ভূমিকায় রেখে কমন সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্র‍্যাকটিস করতে থাকুন, যেমন “আপনি কেন এই পদে কাজ করতে আগ্রহী?”, ” এ কোম্পানিতেই কেন কাজ করতে চান?” ইত্যাদি।

আবার চাইলে ভূমিকা উল্টে দিয়ে কারো জব ইন্টারভিউ নিতেও পারেন৷ এতে তার রিঅ্যাকশনগুলি দেখে অাপনি কোথায় ভুল করতে পারেন তা সহজে ধরতে পারবেন।

৪. মুখস্থ উত্তর নয়

জব ইন্টারভিউ-র সময় পজিটিভ অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ আপনার স্বতঃস্ফূর্ততা প্রকাশ করে। প্রশ্নের উত্তর নিখুঁতভাবে মুখস্থ রাখার চেষ্টা করবেন না। কথা বলার সময় মুখস্থ লাইন আওড়ানো আপনার স্বাভাবিক বলার ভঙ্গি নষ্ট করে। তাছাড়া যা মুখস্থ করেছেন তা থেকে সামান্য এদিক সেদিক হওয়া অযথাই আপনার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিবে। ইন্টারভিউয়ারও কিন্তু আপনাকে যতটা সম্ভব ব্যক্তি হিসাবেই চিনতে চান, কোনো ভূমিকায় অভিনয় করা পারফেক্ট ক্যান্ডিডেট হিসাবে না।

৫. স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ করবেন না

নির্ধারিত দিনের আগ পর্যন্ত সব রকম কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। প্রস্তুতির ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নিয়ে আপনার নিয়মিত কাজগুলিতে সময় দিন। দরকার হলে হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস করে ফেলুন। এতে শারীরিক-মানসিক দুই রকম স্ট্রেস থেকেই দূরে থাকা যায়।

৬. চাপমুক্ত ভাবে ধীর গতিতে কথা বলুন

চাপমুক্ত বোধ করার সবচে কার্যকর উপায় হল লম্বা শ্বাস নেওয়া। নার্ভাস হয়ে গেলে লম্বা ও গভীর কয়েকটা শ্বাস নিন। এছাড়া পুরো ইন্টারভিউয়ের সময়টায় চেষ্টা করবেন স্বাভাবিকতা বজায় রেখে যতটা সম্ভব ধীর গতিতে কথা বলতে।

প্রশ্ন ঠিকমত না শুনে বা না বুঝে দ্রুত উত্তর দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। সময় নিন। প্রশ্নটা নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ভাবুন প্রয়োজন হলে। মনে রাখবেন, ইন্টারভিউ মানে শেষ পর্যন্ত কারো সঙ্গে কথা বলাই। যত বেশি অাত্মবিশ্বাসী ও ধীরস্থির থাকবেন, এ আলাপ ততটাই কম নার্ভাসনেসের হবে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here