লুইস জয় ব্রাউন, প্রথম টেস্ট টিউব বেবি
১৯৭৮ সালের জুলাই মাসের পঁচিশ তারিখ, রাত এগারটা সাতচল্লিশ মিনিটে, রয়াল ওল্ডহ্যাম হাসপাতাল, ইংল্যান্ডে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে এক শিশুর জন্ম হয়। মা-বাবা ব্রাউন দম্পতি তার নাম রাখেন লুইস। এই লুইস জয় ব্রাউন এর জন্ম একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, সে পৃথিবীর প্রথম টেস্ট টিউব বেবি।

প্রাকৃতিকভাবে একটি শিশুর জন্মের জন্যে নর ও নারীকে শারীরিকভাবে মিলিত হতে হয়, নারীর ডিম্বাণু ও নরের শুক্রাণু যদি মিলিত (নিষিক্ত) হতে পারে, তবে গর্ভধারণ, এবং গর্ভাশয়ে অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে এক সময় শিশুর জন্ম হয়।

অনেক যুগলের শারীরিক অসুবিধা-অক্ষমতার কারণে, যা নর কিংবা নারী যে কারো, বা উভয়েরই হতে পারে, তারা প্রকৃতিকভাবে সন্তান উৎপাদন করতে পারেন না। কিন্তু সন্তান জন্মদান ও লালনের আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরায়ত।

৩০ বছর বয়সে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস জয় ব্রাউন ও ড. এডওয়ার্ড, ২০০৮

অসফল যুগলদের অনেকের জন্যে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বা টেস্ট টিউব বেবি নামে যেটি বেশি প্রচলিত, আশার আলো হয়ে এসেছিল। একেবারে সরলতমভাবে বলা যায়, নরের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণু নারীর দেহে নয়, ল্যাবরেটরিতে নিষিক্ত করার প্রক্রিয়া হলো, আইভিএফ।

চল্লিশ বছর আগে লুইস জন ব্রাউন এর জন্ম দিয়ে শুরু, এখন পৃথিবীতে প্রায় আশি লক্ষ টেস্ট টিউব বেবি আছেন।

শুরুতে গবেষণার পর্যায়ে থাকার দিনগুলোতে অনেকেই এর ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। টেকনোফোবিক মানুষের অভাব মানবসমাজে কোনোদিনই হয় নাই, সেই দিনগুলোতেও হয় নাই। তারা আশঙ্কা করেছেন, এর ফলে বিকলাঙ্গ, দানবাকৃতি অসুস্থ শিশু জন্ম নিতে থাকবে। টেকনোফোবিকরা ছাড়াও, আরেকদল ছিলেন, তারা সন্তান উৎপাদনের ‘প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া’য় হাত দেয়ার বিরোধিতা করেছেন। তারা একে ঈশ্বরের কাজে হস্তক্ষেপ করার অপবাদ দিয়েছেন।

কিন্তু, আইভিএফ এর মাধ্যমে যা করা হয়, তা খুবই সরল একটি কাজ বলা যায়, নর ও নারীর মিলন ঘটিয়ে দেয়া, ডিম্বাণুতে শুক্রাণু নিষিক্ত করিয়ে দেয়া। প্রক্রিয়াটি জটিল, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে ল্যাবকে এগুতে হয়, উন্নত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হয়, ধাপে ধাপে চ্যালেঞ্জ থাকে; কিন্তু মূল কাজটি সরলভাবে বললে ঐ নর ও নারীর জৈবিক মিলন ঘটানো মাত্র।

চল্লিশ বছরে আশি লক্ষ শিশুর জন্ম হয়েছে, যাদের জন্ম প্রাকৃতিকভাবে সম্ভব ছিল না। কত বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই আইভিএফ, সেই হাসি অমূল্য। তবে, এই পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদানে এখনও ল্যাবের বিল অনেক বেশি, উচ্চ মধ্যবিত্তের জন্যেও সহজ নাগালের মধ্যে নয়। নইলে, এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতো হয়তো।

আইভিএফ: তিনটি মরীয়া ‘সমাধান’
স্বাভাবিক ক্ষেত্রে আগ্রহী নর ও নারীর সক্ষমতা যাচাই করে, সমস্যার জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়। তারপর প্রাকৃতিকভাবে যে সমস্যা হচ্ছে, সেটা/সেগুলো অতিক্রমণের চেষ্টা করার ধাপগুলো নির্ধারণ করে কেইস বাই কেইস প্লান করা হয়। সাফল্যের হার যথেষ্ট। তবে, আইভিএফ সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ সকল যুগলের জন্যে সমাধান নিশ্চিত করতে পারে না। কিছু অনতিক্রম্য সমস্যার ক্ষেত্র আছে।

সন্তান জন্মদানে আগ্রহী যুগলের নানা রকম অক্ষমতার বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে, শুধু সংক্ষেপে তিন রকম চূড়ান্ত অক্ষমতার কথা আমরা মাথায় রাখি —

  • নারীর ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার উপযুক্ত নয়
  • নরের শুক্রাণু নিষিক্ত করতে অক্ষম
  • নারীর গর্ভাশয় গর্ভধারণে অক্ষম

এখানে অক্ষমতা চূড়ান্ত অর্থেই ধরে নিই, কারণ এই তিনটি ক্ষেত্রেই কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসকেরা সহায়তা করতে পারেন। এই তিন অক্ষমতা দূর করতে তিনটি ‘সমাধান’ প্রচলিত হয়েছে —

  • এগ (ডিম্বাণু) ব্যাংক
  • স্পার্ম (শুক্রাণু) ব্যাংক
  • স্যারোগেট মাদার (গর্ভাশয় ভাড়া করা)

কোনো নারীর ডিম্বাণু যদি গর্ভধারণের একেবারেই অনুপযোগী হয়, সেক্ষেত্রে অন্য নারীর দান করা (বা বিক্রি করা) ডিম্বাণু নিয়ে তার সঙ্গীর শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করানো হয়।

কোনো নরের বীর্যে যদি নিষিক্ত করতে সক্ষম কোনো শুক্রাণু না থাকে তবে  স্পার্ম ব্যাংক থেকে অন্য কোনো নরের শুক্রাণু নিয়ে তার সঙ্গীর ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করা হয়।

কোনো নারীর গর্ভাশয় যদি ভ্রুণ লালনে (সন্তান পেটে ধরতে) অক্ষম হয়, তবে তাদের সন্তানের ভ্রুণ অন্য কোনো নারীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করে তা লালন শেষে সন্তান জন্মদান করানো হয়।

আকাঙ্ক্ষা ক্লিনিকে স্যারোগেট মায়েদের সঙ্গে ড. নায়ানা পাটেল

আইভিএফ এর সাফল্য, কিছু ব্যবসার দ্বার খুলে দিয়েছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে প্রায় পনের-বিশ হাজার ডলার খরচ হয় চিকিৎসা ও ঔষধ বাবদ। কেইস ভেদে এর সাথে আনুষঙ্গিক অন্য খরচও যোগ হতে পারে। এর প্রেক্ষিতে, ভারতে ডা. নায়ানা পাটেলের ‘আকাঙ্ক্ষা’ ক্লিনিক পৃথিবীর সবচাইতে বড় আইভিএফ ক্লিনিক হিসেবে ব্যবসা করছে। তারা তুলনামুলক সাশ্রয়ে এই সেবা দিচ্ছে, ফলে উচ্চ আয়ের দেশগুলো থেকে অনেকে এখানে এসে ভিড় করছেন।

এগ ব্যাংকের ব্যবসাও রমরমা। আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে তিরিশ বছর আগে শ্যালি স্মিথ প্রথম এগ ব্যাংক শুরু করেছিলেন। এখন সেটি পৃথিবী সবচাইতে নামকরা ও বৃহৎ এগ ব্যাংক। এখানে একজন নারী তার ডিম্বাণু বিক্রি করে পঁচিশ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

স্পার্ম ডেলিভারির বিশেষ ব্যবস্থা: কাঠের বাক্সের মধ্যে লিকুইড নাইট্রোজেনের ছোট ট্যাংকে ক্যানেস্তারার মধ্যে সংরক্ষণ করা হয় স্পার্ম স্ট্র; ছবি. ক্রায়স ইন্টারন্যাশনাল স্পার্ম ব্যাংক, আর্হুস , ডেনমার্ক, ডিসেম্বর ২০১৬

পৃথিবীর সবচাইতে বড় স্পার্ম ব্যাংক ক্রায়স ডেনমার্কে অবস্থিত। অনলাইনে এর ক্যাটালগ থেকে ডোনারের চামড়ার রঙ, চোখের রঙ, চুলের রঙ উচ্চতা, শারীরিক গড়ন ও গঠন, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, এমনকি কন্ঠস্বর ও হাতের লেখা দেখে বেছে নেয়ার সুযোগ আছে।

আগে কেউ তেমন মাথা ঘামায় নি, কিন্তু ইদানীং স্যারোগেট মাদারের ব্যাপারে আইনকানুনে কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত শিথিল আমেরিকা, যদিও সেখানে সাতটি স্টেটে স্যারোগেসি নিষিদ্ধ; কিন্তু খরচ অনেক বেশি, প্রায় ৭৫ হাজার ডলার। প্রায় নয়মাস সন্তান গর্ভে ধারণ কম কষ্টের ব্যাপার নয়। আগে বেটার অপশন হিসেবে ছিল, এবং পৃথিবীর সবচাইতে বড় বাজার ছিল ভারত, সেখানে বারো হাজার ডলারে গর্ভ ভাড়া নেয়া যেত। কিন্তু ২০১৫ সালে বিদেশীদের জন্যে গর্ভ ভাড়া নেয়া নিষিদ্ধ করে আইন হয়েছে ভারতে। ফলে এই বাজার এখন সরে গেছে, প্রায় কোনো নীতিমালা না থাকা কম্বোডিয়া বা গুয়াতেমালার দিকে। ইউক্রেন ভালো বিকল্প বাজার হয়ে উঠছিল, কিন্তু সেখানে আইন করে, স্যারোগেসি কেবলমাত্র বিবাহিত হেটারোসেক্সুয়াল যুগলের জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

শুরুতে আইভিএফ অক্ষম দম্পতির হতাশা দূর করতে আশার আলো হয়ে এসেছিল। কিন্তু, এর অনেক রকম ব্যবহার, ব্যবহারকারীর কারণে বিতর্কিত হচ্ছে।

এখন, সমকামী দম্পতিরা সন্তান পেতে আইভিএফ এর সাহায্য নিচ্ছে। যেমন, সমকামী নারীযুগল সন্তান পেতে কোনো ডোনার নরের শুক্রাণু সংগ্রহ করে, তাদের একজনের ডিম্বাণু নিষিক্ত করে, অপরজনের গর্ভে স্থাপন করে। এতে উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এই ডোণার শুক্রাণুর বেলায় ‘পিতার বংশগত প্রভাব’ পেতে, সমকামী নারীযুগলের মধ্যে একজনের কাজিন বা ভাইয়ের শুক্রাণুকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

সমকামী নরযুগলের বেলায়, একজনের শুক্রাণু ও ব্যাংক থেকে নেয়া ডিম্বাণু কোনো ভাড়া করা (স্যারোগেট) গর্ভে ফেলে সন্তান উৎপাদন করা হয়।

অনেক অবিবাহিতা নারী মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষায় স্পার্ম ব্যাংক থেকে শুক্রাণু নিয়ে মা হচ্ছেন। দুটি গোলমেলে কেইস স্টাডি উল্লেখ করি —

এক ব্যক্তির স্পার্ম ব্যাংকে ছিল, তার মৃত্যুর পর ব্যাংক থেকে স্পার্ম নিয়ে এক নারী মা হয়ে মিডিয়া গরম করতে চেয়েছিলেন। তার এই ঘটনা, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিও সন্তান জন্ম দিতে পারেন — এটা চমক বটে, তবে খুব অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। সায়েন্টিফিক কমিউনিটি ঐ নারীর মিডিয়া তৎপরতা পাত্তা দেয় নি।

আরেক নারী, ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সেই স্বামীকে না জানিয়ে স্পার্ম ব্যাংক থেকে তার স্পার্ম নিয়ে গর্ভধারণ করেছেন। এই নারী দাবি করলেও প্রাক্তন স্বামী ঐ সন্তানের ভরণপোষনের খরচ দিতে অস্বীকার করে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন।

আইভিএফ এর প্রয়োগে শারীরিকভাবে মিলনের আবশ্যিকতা ঝেড়ে ফেলতে পারায়, এই রকম কিছু অভিনব অবস্থা দেখা দিচ্ছে। এতে কে কার বায়োলজিকাল মাদার বা ফাদার, কে কার নাড়িছেঁড়া ধন এসব বিষয়ে নানা রকম প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

এক দম্পতির কেইস স্টাডি এরকম, মেয়ের ডিম্বাণু মেয়ে জামাইর শুক্রাণুতে নিষিক্ত ভ্রুণ মা স্যারোগেট করেছেন। লালনের “ঝিঁয়ের পেটে মায়ের জন্ম” ঠিক নয়, কিন্তু কেমন যেন গোলমেলে নয় কি ব্যাপারটি? “নানির পেটে নাতনির জন্ম” বলে ফেলতে চাইছিলাম, কিন্তু কে মা? যে না দেখা এক মাইক্রোস্কপিক ডিম্বাণু দিয়েই দায় শেষ, নাকি যে নয় মাস পেটে ধরলো?

সমকামী নারীযুগলের বেলায় ভাইয়ের শুক্রাণু নিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত করলে সেটা অযাচার হলো কি না? ব্যাংক থেকে ডিম্বাণু নিয়ে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে মা কে? একই রকমভাবে ব্যাংক থেকে শুক্রাণু নিয়ে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে বাবা কে? ডোনারের শুক্রাণু/ডিম্বাণু থেকে জন্ম নেয়া সন্তান তার নিজের স্বাভাবিকভাবে জন্ম দেয়া সন্তানের সাথে, বা তার নিজের সাথে যৌনকর্ম করলে সেটা অযাচার নয়?

অর্থাৎ, বিবাহিত নরনারীর নিজেদের ডিম্বাণু-শুক্রাণু নিষিক্ত করণে আইভিএফ এর ব্যবহার পর্যন্ত, বিতর্ক দেখা দেয় নাই, বরং যেন আশীর্বাদ হিসেবেই এটিকে দেখা হতো। ঐ সীমা অতিক্রম করামাত্র বিতর্ক শুরু হয়েছে, এবং সমকামীদের দ্বারা এর বিকৃত ব্যবহার চূড়ান্তে পৌঁছেছে।

শুরুতে বলেছিলাম, আইভিএফ যে কাজটি করে, সরলভাবে বললে তা খুবই সাধারণ ব্যাপার। যারা ডিম্বাণু-শুক্রাণু প্রাকৃতিকভাবে নিষিক্ত করতে পারছেন না তাদেরকে ল্যাবরেটরিতে সেইটুকু করে দেয়া। কিন্তু নিশ্চয় ব্যাপারটি এত সরল নয়। তারা ডিম্বাণুর উপযোগিতা, শুক্রাণুর সক্রিয়তা, নিষিক্ত ডিম্বাণুর স্বাস্থ্য, ভ্রুণের পরিচর্যা — নিষিক্তকরণের আগে-পরে এসব নানাবিধ কাজও করেন।

এই পরিচর্যা করতে গিয়ে অবশ্যম্ভাবী যে তাগিদ তৈরি হয়েছে, সেটা হলো, সিলেকশন, এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে মডিফিকেশন।

সিলেকশন ও মডিফিকেশন: জিন প্রযুক্তি
প্রথম ও সরল সিলেকশন, লিঙ্গ। কোনো কোনো সমাজে ছেলেশিশু ও কন্যাশিশুর চাহিদা প্রায় সমান সমান হলেও, অনেক সমাজে কন্যাশিশু অনাকাঙ্ক্ষিত। ভ্রুণের পর্যায়েই বেছে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত লিঙ্গেরগুলো ফেলে দেয়া যাচ্ছে।

মানুষ অল্পে সন্তুষ্ট নয়, এবং থেমে থাকার প্রকৃতি প্রযুক্তির নেই। যেমন এই জায়গাতে এসে মানুষ জিন প্রযুক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা শুরু করে।

জিন হলো প্রাণীর প্রকৃতি নির্দেশিকা, জৈবিক সব বৈশিষ্ট্য কোনটি কেমন হবে, তা প্রাণিকোষের ডিএনএ’তে লেখা থাকে। এই নির্দেশিকা সন্তান উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় মা-বাবা থেকে সন্তানে সঞ্চারিত হয়। সেই নির্দেশিকাকে জিনোম বা জিন বলে। মানুষ জিনোম পড়তে শিখেছে।

এই নির্দেশিকা পরিবর্তনের চেষ্টা, বা সহজভাবে বললে, বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের চেষ্টা সেই আদিযুগ থেকেই মানব সমাজ করে এসেছে। আগে সেটা করেছে তাজা ষাঁড়ের সাথে সুস্থ গাভীর মিলনে উৎকৃষ্ট বাছুর পেতে। কিংবা খর্বকায় ছেলের জন্যে ‘গড়ন ভাল’ মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে এনে শংকরায়ণের মাধ্যমে উন্নত জাতের নাতি-নাতনির মুখ দেখতে।

ময়লাটে মুলা রঙের ছিল যে গাজর, সেটাকে, কিছুটা কমলাটে গাজর দেখতে সুন্দর বলে, পুনঃ পুনঃ বাছাইকৃত প্রজননের মাধ্যমে ডাচরা কমলা রঙ বানিয়ে ফেলেছে।

অনুজীব বিজ্ঞানী ইশিনো ইয়োশিজুমি

১৯৮৭ সালে জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞানী ইশিনো ইয়োশিজুমি প্রথম প্রাণিকোষের ডিএনএ’তে লেখা সেই নির্দেশিকা, জিনোম সিক্যুয়েন্সের ব্যাপারটি (CRISPR) আবিষ্কার করেন। গবেষণা অনেক এগিয়েছে, মানুষ জিনোমে সিক্যুয়েন্স পড়তে এবং এডিট করার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জিন গবেষণার প্রথম লক্ষ্য ছিল, যে জিনগুলো বংশবাহিত রোগের কারণ, সেগুলো চিহ্নিত করে, বাদ দেয়া, বা পরিবর্তন করে দেয়া। কিন্তু মানুষ থেমে থাকতে চায় না, প্রযুক্তিকেও সে টেনে সামনে নিয়ে যেতেই থাকে। রিপ্রোডাকশনের সময় কত ভাল গুণ আরোপ করে দেয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সেই কোডগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জিন এডিটিং এর একটি টুল ক্রিসপার-সিএএস নাইন (CRISPR-Cas9) এখন বিজ্ঞানিদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কম্পিউটার এখন অনেক শক্তিশালী হয়েছে, এর সুবাদে ক্রিসপার-সিএএস নাইন নিয়ে কাজ করার সুবিধা বেড়েছে।

আলোচনা সহজবোধ্য রাখতে, এবং মূল পরিসীমা বজায় রাখতে, মানব সন্তানে সীমাবদ্ধ থাকি।

ক্রিসপার জিন এডিটিং যেভাবে কাজ করে

সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে ভ্রুণের লিঙ্গ বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে কোনো কোনো ল্যাব, এ কথা আগে লিখেছি। ক্যালিফোর্নিয়ার ড. জেফ্রি স্টেইনবার্গ এ কাজের পথিকৃৎ। তবে উনি সেখানেই থেমে থাকেন নি, তার ক্লিনিকে উৎপাদনের বেলায় সন্তানের চোখের রঙ নির্ধারণের অপশন আছে, বাড়তি চার্জ দিয়ে পছন্দ মতো চোখের রঙের সন্তান বানিয়ে নেয়া যায়।

এইরকম অর্ডার মেইড বেবির ধারণা নতুন নয়। যদিও, ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোতে সন্তানের চামড়ার রঙ, বাড়তি আইকিউ, অ্যাথলেটিক শরীর, রোগমুক্ত দেহ অর্ডার করতে মুখিয়ে থাকা দম্পতির অভাব নেই। তবে, এখনও সেই সেবা দেয়া শুরু হয় নাই।

আইভিএফ যেহেতু ‘পরিবারে’ সন্তান জন্মদানের আকাঙ্ক্ষায় ব্যর্থ দম্পতিদের জন্যে যাত্রা শুরু করেছিল, এখনও এর মূলধারা সেটাই রয়ে গেছে। এ কারণে, একটি নতুন পদ্ধতির জন্ম হয়েছে। অনেক নারীর ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়, কিন্তু এর মাইটোকন্ড্রিয়া (কোষের শক্তিকেন্দ্র যাকে বলা যায়) দুর্বল থাকে। এতে নিষিক্ত ডিম্বাণু ভ্রুণের পর্যায়ে যাওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যায়, বা ভ্রুণের পর্যায়ে গেলেও সেটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এই সমস্যা দূর করতে দুজনের ডিম্বাণু-শুক্রাণু মিলনে নিষিক্ত হলে, সেই ডিম্বাণুর দুর্বল মাইটোকন্ড্রিয়া বের করে ফেলে তৃতীয় এক নারীর ডিম্বাণু থেকে সামর্থ্যবান মাইটোকন্ড্রিয়া নিয়ে নিষিক্ত ডিম্বাণুতে স্থাপন করা হয়।

এই পদ্ধতিতে জন্ম নেয়া শিশু, এই ‘থ্রি প্যারেন্ট বেবি’ নিয়ে এথিকাল (নৈতিক) বিতর্ক যথেষ্ট হয়েছে। কিন্তু, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট থ্রি প্যারেন্ট বেবি তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। হ্যাঁ ভোট ছিল ৩৮০, না ভোট ১২৮। পৃথিবীতে এইরকম আইন করে অনুমোদন সেটাই প্রথম।

জন হ্যারিস যুক্তি দিয়েছেন, জেনেটিক বা আংশিক জেনেটিক কারণে বছরে প্রায় ৭.৯ মিলিয়ন ‘অস্বাভাবিক শিশু’ জন্মায়। এটি মোট শিশুজন্মের ৬%।

আইনটি পাশ করার আগে হাউজ অব লর্ডস সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, লর্ড অ্যালায়েন্স প্রফেসর দার্শনিক জন হ্যারিস (ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি)। এ বিষয়ে উনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনামূলক মত দিয়েছেন। জন হ্যারিস যুক্তি দিয়েছেন, জেনেটিক বা আংশিক জেনেটিক কারণে বছরে প্রায় ৭.৯ মিলিয়ন ‘অস্বাভাবিক শিশু’ জন্মায়। এটি মোট শিশুজন্মের ৬%। যদি কোনো রেগুলেটরি কাউন্সিলকে বিবেচনা করতে দেয়া হতো, তা হলে, তারা এই পরিমাণ অস্বাভাবিকতার কারণে প্রাকৃতিকভাবে শিশু জন্মকেই তো নিষিদ্ধ করে দিত। উনি বলেন, আমরা কোনো গবেষণা মানব জাতির জন্য নিরাপদ কি না এই প্রশ্নে বেশি জোর দিয়ে ফেলি; অথচ, মোরাল প্রশ্ন হওয়ার কথা, গবেষণাটি মানব জাতির কল্যাণের লক্ষ্যে কি না।

আমরা স্মরণ করব, ১৯৯৪ সালে প্রথম জেনেটিকালি মডিফায়েড টমেটোর খবর শোনা গেছে; তারপর অনেক আশঙ্কা, আপত্তি, বাধা, আন্দোলনের মুখোমুখি হলেও আজকের পৃথিবীতে জেনেটিকালি মডিফায়েড (জিমও) ফুড এড়িয়ে যাবার উপায় নাই। এখন বরং ‘অর্গানিক’ ফুড নিয়ে একটিভিজম হয়, মাত্র এই কয়েক বছরে জিএম ফুডই যেন মূলধারা হয়ে উঠছে, অন্তত, যোগানের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, সন্দেহাতীতভাবে!

ক্রিসপার সিএএস নাইন জিন এডিটিং কাজটিকে এত সহজসাধ্য করেছে যে এর অপব্যবহার নিয়ে আশঙ্কা যথেষ্ট জোরালো হয়ে উঠেছে। বিশেষত, মানুষের জিন এডিটিং এর ব্যাপারে অনেকেই রক্ষণশীল।

যেমন, এখন যারা এই নিয়ে উৎসাহী, সেই গবেষকরা কাজ করছেন, বংশবাহিত রোগের জিনোমে কোড চিহ্নিত করতে। এর ফলে ক্যান্সার, রক্তের বিশেষ অসঙ্গতি, কিছু বিশেষ রকম অন্ধত্ব, এইডস, শ্বাসক্রিয়ার কিছু রোগ, পেশী ও স্নায়ুর কিছু অসঙ্গতি ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হতে পারবেন বলে জানা যাচ্ছে।

মানব ভ্রুণের জিন এডিটিং
তবে, মানব ভ্রুণের জিন এডিটিং অনেক দেশেই অনুমোদিত নয়; যেটুকু অনুমোদন, সেটুকুতেও যথেষ্ট জটিলতা আছে। এবছর জুলাইয়ে বৃটেনের প্রভাবশালী বায়োএথিক্স ওয়াচডগ নালফিল্ড কাউন্সিল একটি বিশদ রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে, সায়েন্টিফিক কম্যুনিটিকে জিন এডিটিং বৈধ করার ব্যাপারে আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রকাশনার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়। বলা হয়, এখনই বৈধতার দাবি নয়, তবে অবশ্যই বৈধতা দেয়া উচিত — এই বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন। নালফিল্ড কাউন্সিল সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তবে এই কাউন্সিলের মতামত সরকারের নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

জুলাইয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং জগতে, বিশেষত মানব ভ্রুণে জিন এডিটিং করতে আগ্রহী গবেষকদের মধ্যে অচিরেই ইতিবাচক কিছু ঘটতে যাচ্ছে ভেবে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এ বছর আমেরিকায় আইপিও সিজনে চীনের বায়োটেক স্টার্টআপগুলো অস্বাভাবিক রকম পুঁজি সংগ্রহ করেছে। চীন-আমেরিকা ট্রেড ওয়ার চলমান অবস্থাতেও চীনের প্রতিষ্ঠানে আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের এই বাড়তি অংশগ্রহণ নিয়ে আমেরিকার অনেকের বাঁকা দৃষ্টি ছিল, কিন্তু বাজারের ট্রেন্ড সেসবকে উড়িয়ে দিয়েছে।

চীনের গবেষকরা সফলভাবে মানব ভ্রুণের জিন এডিটিং করতে পেরেছেন, এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, ২০১৫ সালে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে, তাদের গবেষণা ভ্রুণেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, কোনো জেনেটিকালি মডিফায়েড মানব শিশু জন্ম দেয়ার পরিকল্পনা সে গবেষণায় ছিল না।

পৃথিবীর প্রথম জিএম মানব
এর মধ্যে, এই ২৫ নভেম্বর চীন থেকে এক ঐতিহাসিক সংবাদ এসেছে। পৃথিবীর প্রথম জিএম মানব শিশুর জন্ম হয়েছে। সেখানে শেনঝেনের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হে জিয়ানকুই এর নেতৃত্বে গবেষকরা ভ্রুণের ডিএনএ থেকে সিসিআর৫ জিন ছেঁটে ফেলেছেন, উদ্দেশ্য, এইচআইভি, স্মলপক্স ও কলেরা সংক্রমণ ঠেকানো।

এই নিয়ে আরেক দফা আশঙ্কা ও উদ্দীপনা পাল্টাপাল্টি ঢেউ তুলেছে। অতি পুরাতন যুক্তি, এটি এখনও প্রমাণিত কোনো পদ্ধতি নয়। এবং, এর অপব্যবহার হতে পারে।

প্রফেসর হে জিয়ানকুই

আজ (২৮ নভেম্বর ২০১৮) দ্বিতীয় বিশ্ব জিন এডিটিং সামিটে প্রফেসর হে জিয়ানকুই বক্তব্য রেখেছেন। যে বিষয়ে তার প্রেজেন্টেশন পূর্বনির্ধারিত ছিল, তা বাদ দিয়ে এই জিন এডিটেড বেবিদেরকে নিয়েই তার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

অত্যন্ত দৃষ্টিকটূ ভাবে তাকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্নের বিষয় যতটা গবেষণাকেন্দ্রিক, তারচেয়ে বেশি নৈতিক দিক নিয়ে। অনেকের প্রশ্নের ধরনে তাকে গবেষকের মর্যাদা দেয়া হয় নাই, এবং প্রায় সবার টোন ছিল অত্যন্ত কর্কশ, যেন কোনো সিঁদেল চোরকে তারা জেরা করছেন।

প্রফেসর হে তার চৈনিক বিনয় বজায় রেখে কথা বলে গেছেন। প্রথমেই উনি দুঃখ প্রকাশ করেন, তার এই গবেষণার বিষয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায়। আমরা লক্ষ্য রাখব, এটি প্রথম ফাঁস করেছে এমআইটি টেকনোলোজিকাল রিভিউ, এর পরে রয়টার্স! যাই হোক, প্রফেসর হে জানিয়েছেন, বিধি মোতাবেক তার গবেষণা যথাযথ মানের জার্নালে পেশ করা হয়েছে, তাদের বিশেষজ্ঞ প্যানেল সেটি পর্যালোচনা করছে।

যে কাজ করতেই দেয়া হয় না, সেটার ভালো-মন্দ বোঝা যাবে কীভাবে? কাজেই, এই রকম জিন এডিটিং আসলেই রোগ প্রতিরোধ করতে পারে কি না, সেই প্রমাণ পেতে হলে জিন এডিটিং করতে দিতে হবে তো! এবং, প্রযুক্তি যেখানে এসে পৌঁছেছে, তাতে এই কাজ ঠেকানো যাবে না। এবং এটাও নিশ্চিত, সমাজে বদলোকের অভাব কোনোদিন হয় না, জিন এডিটিং-কে কোনো মতলব হাসিলে কাজে লাগানো গেলে, কেউ না কেউ সেটা লাগাবেই।

শুরুতে নিশ্চয় রোগ প্রতিরোধ ও রোগ মুক্তির গবেষণাগুলো বেশি বেশি জানান দেয়া হবে। মানবজাতি অনেক রোগযন্ত্রণা থেকে মুক্ত হবে। এগুলো বাহবা কুড়িয়ে গবেষণাগুলো ক্লিনিকে প্র্যাকটিসের পর্যায়ে পৌঁছলেই এই নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম অপব্যবহার শুরু হবে।

বহুল প্রতিক্ষিত ব্যবহার, হবে, টেইলর মেইড বেবি বানাতে। ক্লিনিকগুলো ভোক্তা আকৃষ্ট করতে বিজ্ঞাপন দিবে, এখানে অভিজ্ঞ কারিগর দ্বারা পছন্দের লিঙ্গ, চামড়ার রঙ, চোখের রঙ, চুলের রঙ, সুস্বাস্থ্য, দেহের কাঙ্ক্ষিত গঠন, নির্দিষ্ট মাত্রার আইকিউ, কাঙ্ক্ষিত কণ্ঠস্বর ইত্যাদি চাহিদা অনুযায়ী যাবতীয় গুণাগুণ সম্পন্ন বাচ্চা যত্ন সহকারে প্রস্তুত করা হয়।

এবং, মাই টু সেন্টস, লোকে দলে দলে একদিন ক্লিনিকগুলোতে লাইন দিবে, ন্যাচারাল প্রসেসে আস্থা রাখবে না।

আমরা মনে রাখি, প্রযুক্তি এই পর্যায়ে মানবসভ্যতাকে প্রায় পৌঁছে দিয়েছে; উচিত-অনুচিতের তক্কে একে আটকে রাখা যাবে না, কোনো উদ্ভাবনকেই যায় নাই।

প্রফেসর হে জিয়ানকুই তার গবেষণাকর্মের বাস্তব প্রয়োগে পৃথিবীর প্রথম জিন এডিটেড বেবি জন্ম নেয়া বিষয়ে যে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন, সেখানে তার মন্তব্যটি বেশ সুন্দর। উনি বলেছেন, আমার মাথায় ছিল, এই ধরনের গবেষণা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ; যেহেতু এক্ষেত্রে এটিই প্রথম, কোনোরকম ত্রুটি এই গবেষণার ক্ষেত্রটিকেই নষ্ট করবে। এই প্রযুক্তিতে লোকের আস্থা হারিয়ে যাবে। এ কারণে গবেষণার সময় আমি দৃঢ়ভাবে এই দায়িত্ব অনুভব করেছি যে, এই পর্যায়ের গবেষণায় ‘প্রথম’ হওয়ার সাথে সাথে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

Facebook Comments
মুনতাকীম চৌধুরী
ব্লগার, তথ্যপ্রযুক্তিজীবী

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here