page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

জেদি ও অবাধ্য বাচ্চারা পরবর্তীতে চাকরির বাজারে ভালো করে থাকে

স্কুলের বাচ্চাদের শেখানো হয় যে সব সময় নিয়ম মেনে চলতে হবে, বাবা-মা ও শিক্ষকদের কথা শুনতে হবে, তাহলে তারা জীবনে সফল হতে পারবে। কিন্তু আসলেই কি এটা ভালো উপদেশ?

নতুন একটি গবেষণা বলছে, জেদি ও অবাধ্য বাচ্চারা বড় হলে চাকরির বাজারে ভালো করতে পারে। পেশাগত জীবনের সাথে অন্য কয়েকটি বিষয়েরও সম্পর্ক আছে। যেমন, শিশু বয়সে তাদের আইকিউ, বাবা-মায়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি। তবে একটি শিশুর মধ্যে যদি নিয়ম ভাঙা ও বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে এটি তার ভবিষ্যৎ জীবনে ভালো উপার্জন করার সবচেয়ে বড় লক্ষণ।

শিক্ষার্থীদের বৈশিষ্ট্য, আচরণ ও পরবর্তী জীবনে পেশাগত সাফল্যের মধ্যকার সম্পর্ক পরীক্ষা করার জন্য গবেষকরা ৩ হাজার শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ১৯৬৮ সালে অন্য একটি গবেষণার জন্য লুক্সেমবার্গের সিক্সথ গ্রেডের ৩ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর একটি জরিপ করা হয়েছিল। বর্তমান গবেষণায় সেসব তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে।

আগের সেই গবেষণায় শিশুদের বুদ্ধিমত্তা, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও আর্থ-সামাজিক অবস্থানও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্কুলে এবং বাড়িতে তাদের দৈনন্দিন চিন্তা, আচরণ, অভ্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে সেগুলির উত্তর নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকেরাও এইসব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার প্রবণতা ও শেখার আগ্রহের ওপর বিভিন্ন মন্তব্য রেখেছেন এবং রেটিং করেছেন।

আর সাম্প্রতিক কালে, আরেক দল গবেষক আগের সেই স্যাম্পলটিকে ব্যবহার করে বর্তমানে পরিণত বয়সী সেই লোকগুলির সারাজীবনের শিক্ষা ও পেশাগত অর্জন বিশ্লেষণ করেছেন। সেই ৩ হাজার শিক্ষার্থী থেকে গবেষকরা ৭৪৫ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর জরিপ করেছেন। তারা তাদের ১২ বছর বয়সে থাকা তথ্যের সঙ্গে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পরের তথ্য মিলিয়ে দেখেছেন।

এই গবেষণার ফলাফল ডেভেলপমেন্ট সাইকোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে যদি নিয়ম ভাঙা ও অবাধ্যতার প্রবণতা থাকে এবং একইসাথে সেই শিশুদের যদি পড়াশোনা করার প্রবণতা থাকে তাহলে তাদের বেশি উপার্জন করার সম্ভাবনা খুবই বেশি। গবেষকরাও এতে অবাক হয়েছেন এবং এর পিছনের আরো কিছু সম্ভাব্য কারণের কথা বলেছেন।

ডেভেলপমেন্ট সাইকোলজিতে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা এই গবেষণাটিতে বেশি স্কোর করেছেন, তারা বেশি উপার্জন করেন কারণ তারা হয়ত বেতন নিয়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশনের সময় নিজেদের চাহিদা বাড়াতে ইচ্ছুক থাকেন। যারা গবেষণায় কম স্কোর পেয়েছেন অর্থাৎ, অবাধ্য ছিলেন তারাও বেশি উপার্জন করে থাকেন।

এর কারণ নিয়ম ভঙ্গকারীরা ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে প্রতিযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে, তারা নিজেদের পছন্দ বা মতামতকে অন্যের চেয়ে এগিয়ে নিতে ভয় পান না বা তাদের মধ্যে কোনো সংকোচ কাজ করে না।

আরেকটি কারণ হতে পারে যে, অতিরিক্ত নিয়ম ভঙ্গকারী ও শৈশবে পিতা-মাতার অবাধ্যদের নিজেদের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকে, এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই একজন ব্যক্তি এগিয়ে যায়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বেতন বা পদ নির্ধারণের সময় বা নেগোসিয়েশনের সময় তারা বেশি কৌশলী হয়ে থাকে।

৪০ বছর আগের অবাধ্যতা যে ব্যক্তির চরিত্রগত অবাধ্যতা, অবশ্যই এমনটা বলা যায় না। কিন্তু এখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আমরা নিতে পারি। যেসব বাবা-মা অবাধ্য ও স্বেচ্ছাচারী শিশুদের নিয়ে হতাশ, তাদের জন্য এটা সান্ত্বনার ব্যাপার যে এই জেদি মনোভাবই আপনার সন্তানের পরবর্তী জীবনে কাজে লাগবে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আছে যা এখানে প্রাসঙ্গিক। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমাদের অবশ্যই মনে করা উচিৎ না যে যারা নিয়ম ভাঙে বা নিয়ম ভাঙতে ইচ্ছুক তারা অনৈতিক কাজ করে হলেও বেশি আয় করবে। অর্গানাইজেশনাল সাইকোলজির ক্ষেত্রে যেসব গবেষণা হয়েছে সেগুলি থেকে দেখা যায়, যখন কর্মীরা তাদের ইনকাম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না এবং তাদের অর্থের প্রতি বেশি লোভ থাকে কেবল তখনই তারা অনৈতিক কর্মে জড়ায়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক