page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

‘ডানকার্ক’—নোলান কি স্পিলবার্গের চেয়েও ভাল যুদ্ধের ছবি বানাতে চলেছেন?

এই সময়ের সবচেয়ে বড়  সিনেমা পরিচালক যদি তাকে না-ও বলা যায়, তবে সবচেয়ে বড় পরিচালকদের একজন বলা যাবে ক্রিস্টোফার নোলানকে।

নোলান হলেন সেই পরিচালক যিনি কোনো স্টুডিওতে ঢুকে যদি বলেন আমি একটা ছবি নির্মাণ করতে চাই এবং আমার বিশাল বাজেট দরকার, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই তিনি তা পেয়ে যাবেন। এখনকার দিনে স্টিভেন স্পিলবার্গকেও যেখানে বাজেট পেতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, নোলান সেখানে অনায়াসে পেয়ে যান।

সমালোচকদের স্বীকৃতি ও বক্স অফিস এর সাফল্য দুই মিলিয়ে নোলান তার তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে আছেন এখন।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নোলান এবার তার পরবর্তী ছবি তৈরি করছেন।

এই ছবির চিত্রনাট্য নোলান নিজেই লিখেছেন।

dianamo-23r

অপারেশন ডায়ানামো। ব্রিটিশ বাহিনী কর্তৃক দানকের্ক বিচে আটকে পড়া সৈন্যদের উদ্ধার। ১৯৪০ সালের ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে ৮০০ বোটের মাধ্যমে মোট ৩৩৮,২২৬ জন সৈন্যকে উদ্ধার করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের দানকের্ক উপকূলে আটকে পড়া মিত্রবাহিনীর প্রায় চার সৈন্যকে ঘিরে ফেলেছিল জার্মান বাহিনি। ব্রিটিশ আর্মি পরিচালিত ‘অপারেশন ডায়নামো’র মাধ্যমে সেই সৈন্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

ইতিহাসের খুবই বিখ্যাত ঘটনা এটি। এই ঘটনা নিয়েই নোলানের এবারের ছবি ‘ডানকার্ক’।

২০১৫ সালে স্পিলবার্গের ব্রিজ অব স্পাইজ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কার পেয়েছেন অভিনেতা মার্ক রায়লান্স। ‘ডানকার্ক’ ছবিতে অভিনয় করছেন রায়লান্স। ‘ডানকার্ক’-এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন তিনি। রায়লান্স জানিয়েছেন, নোলান অসাধারণ কিছু নিয়ে কাজ করছেন।

রায়লান্স বলেন, ক্রিস হচ্ছে সবচেয়ে সিরিয়াস এবং ইন্টারেস্টিং ফিল্মমেকার। সব মহান চলচ্চিত্র নির্মাতাই একটা সময়ে যুদ্ধের ছবি তৈরি করে। কিন্তু ক্রিসের চিত্রনাট্য লেখা এতটাই ব্রিলিয়ান্ট যে আমি মনে করি অসাধারণ একটা ঘটনা নিয়ে খুবই সরল, শক্তিশালী ও খাঁটি যুদ্ধের ছবি তৈরির ক্ষমতা তার আছে। আমার মনে হয় এটার সম্ভাবনা রয়েছে দুর্দান্ত একটি সিনেমা হবার।

স্টিভেন স্পিলবার্গের পরবর্তী দুটি ছবি রেডি প্লেয়ার ওয়ানদ্য কিডন্যাপিং অব এদগার্দো মোরতারা-তেও মার্ক রায়লান্স কাজ করবেন বলে চূড়ান্ত হয়েছে।

raylan-43

ব্রিজ অব স্পাইজ (২০১৫) ছবিতে মার্ক রায়লান্স।

রায়লান্সের কথায় নোলানের ‘ডানকার্ক’কে স্পিলবার্গের যুদ্ধের ছবি সেভিং দ্য প্রাইভেট রায়ানের তুলনায় সেরা বলার আভাসও পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, পুরাতন কিছু যুদ্ধের ছবিতে অনেক কিছুই বানাতে হত। আপনাকে ধারণা করার খেলা খেলতে হত। এই ছবির সেগুলি কিছু নেই। ‘ডানকার্ক’ জাস্ট একটা বিস্ফোরণ। সরাসরি একটা ডেসপারেট অবস্থার মাঝখানে ঢুকে পড়েছে।

নোলান পুরো সিনেমা-ই আইম্যাক্স ৬৫ মিলিমিটার ও ৬৫ মিলিমিটার লার্জ ফরম্যাট ফটোগ্রাফিতে শুট করছেন। এই ছবিতেও নোলানের আগের ছবি ইন্টারস্টেলারের চিত্রগ্রাহক হয়তে ভ্যান হয়তেমা কাজ করছেন।

২০১৭ এর ২১ জুলাই ‘ডানকার্ক’ মুক্তি পাবে। ‘ডানকার্ক’-এ মার্ক রায়লান্স ছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন টম হার্ডি, কিলিয়ান মারফি, কেনেথ ব্রানাগ সহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য এর আগে দানকের্কের সৈনিকদের উদ্ধার নিয়ে ১৯৫৮ সালে একই নামে ছবি করেছিলেন লেসলি নরম্যান (১৯১১-১৯৯৩)। সে ছবিতে অভিনয় করেছিলেন স্যার জন মিলস (১৯০৮-২০০৫) ও লর্ড রিচার্ড অ্যাটেনবরো (১৯২৩-২০১৪)। আগ্রহীদের জন্যে সে ছবির ইউটিউব লিংক দেওয়া গেল। ছবির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।


Dunkirk (1958)

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক