page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

তরমুজের সেকাল-একাল

তরমুজ নামক ফলটি আমরা এখন যে রকম দেখি, ৩০০ বছর আগেও সেটার চেহারা কিন্তু মোটেও এরকম ছিল না। সপ্তদশ শতকে শিল্পী জিওভান্নি স্তানচির আঁকা তৈলচিত্রটি দেখলেই বোঝা যাবে, তরমুজ কতোটা বদলে গেছে।

তৈলচিত্রে আস্ত এবং ফালি করে কাটা তরমুজ দেখা যাচ্ছে। বাইরেটা তো বটেই ভেতরটাও যে কতোটা আলাদা ছিল, ছবিতেই স্পষ্ট।

তরমুজের চেহারা এতটা বদলে গেল কী করে?

এর কারণ আমরা তরমুজ চাষ করতে শুরু করেছি। যখনই আমরা কিছু বাণিজ্যিকভাবে চাষ করি, তখনই ফসলের মধ্যে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। চাষ করা মানেই একটি জাতের মধ্যে অভিষ্ট গুণাগুণ আরোপ করা। এটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে সিলেক্টিভ ব্রিডিং।

Giovanni-Stanchi-1

জিওভান্নি স্তানচি (১৬৪৫-১৬৭২)। ক্যানভাসে তেল রঙ। ৯৮ x ১৩৩.৫ সেমি।

আমরা বেছে বেছে সেই গুণগুলিকে আনুকূল্য দেখাই, যেগুলি আমাদের অভিষ্ট। তখন জাতের বদল ঘটে। আজকের ধানগাছ আর পাঁচ হাজার বছর আগের ধানগাছ একরকম ছিল না।

শিল্পী জিওভান্নি যখন তরমুজের ছবি এঁকেছেন, তখনও এটির বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয় নি। প্রকৃতিতে তরমুজ এভাবেই বিরাজ করতো।

তবে তিনশ বছর আগেকার তরমুজ দেখতে যত ভিন্নই হোক, অনুমান করা হচ্ছে, ওগুলির স্বাদ তত আলাদা ছিল না। এর কারণ তরমুজের মধ্যে সুগারের উচ্চ মাত্রার উপস্থিতি। সেযুগেও তরমুজ থেকে মদ তৈরির চল ছিল।

মানুষ তরমুজের সিলেক্টিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ফলটির ভেতরকার মাংসল অংশের আয়তন বাড়িয়ে নিয়েছে। রঙও হয়েছে টকটকে লাল। আগে ফ্যাকাশে লাল ছিল। আগে বিচিঅলা আঁশযুক্ত অংশটি ছোট ছিল। এত লাইকোপেনের মাত্রাও কম ছিল। বাইরের আকৃতির চেহারা বদলের পেছনে এটাও একটা বড় কারণ।

water-melon-3

পথের পাশে তরমুজ খাওয়া

তবে এটা ভাবার কারণ নেই যে, তরমজু তার বিবর্তনের যাত্রা শেষ করেছে। তরমুজের চেহারার বদল এখনও ঘটে যাচ্ছে। মানুষ এখন বীজমুক্ত তরমুজ চাষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

কে জানে আজকের জমানার তরমুজের ছবি দেখে আজ থেকে দুশ বছর পরের প্রজন্মের কেউ হয়তো এরকমই বিস্মিত হবে।

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক