এখনো পর্যন্ত মধ্য দূরবর্তী দৌড়ে সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স ধরা হয় সেটিকে।

ফিলবার্ট বায়ি

তানজানিয়ার অ্যাথলেট ফিলবার্ট বায়ি। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ১৯৭৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষ বিভাগের ১৫০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতা ছিল সেটি। বায়ি শুরু থেকেই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থেকে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করেন। এখনো পর্যন্ত মধ্য দূরবর্তী দৌড়ে সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স ধরা হয় সেটিকে। বায়ি সময় নিয়েছিলেন মাত্র ৩ মিনিট ৩২.২ সেকেন্ড।


১৯৭৪ কমনওয়েলথ গেমসে ১৫০০ মিটার দৌড়, ফাইনাল – ইউটিউব ভিডিও

১৮ মে ২০১৪ ছিল সর্বকালের সেরা সেই ১৫০০ মিটার দৌড়ের ৪০ বছর। ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষ্যে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো গিয়েছেন বায়ি। তিনি গ্লাসগোর পথে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন কিন্তু প্রায় কেউই তাঁকে চিনতেই পারে নি।

৬০ বছর বয়সী বায়ি গ্লাসগো গিয়েছেন প্রতিযোগী দেশগুলির অংশগ্রহণে অ্যাথলেট হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক এক সেমিনারে অংশ নিতে। কিন্তু সবাই ভুলে গিয়েছে বায়ির সেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী দৌড়ের ৪০ বছর পূর্তি ছিল একই সময়ে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ক্রীড়া কর্মকর্তারা মনে রাখতে পারেন নি সেই দিনটিকে।

তানজানিয়ার ফিলবার্ট বায়ি, বিশ্বের সেরা মধ্য দূরবর্তী দৌড়বিদদের একজন; ছবি ১৯৭৫

বায়ি বলেছেন, আমার কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড ৪০ বছর ধরে টিকে আছে কিন্তু মানুষ কখনো ফিলবার্ট বায়িকে নিয়ে কথা বলে না। অনেক মানুষ হল অব ফেমে উঠলেও আমাকে কখনো ডাকা হয় নি। ১৫০০ মিটার দৌড়ের ক্ষেত্রে আমার দৌড় যে পরিবর্তন এনেছে তার কথা চিন্তা করলে এটা খুব হতাশাজনক।

তানজানিয়ার ফিলবার্ট বায়ি, বিশ্বের সেরা মধ্য দূরবর্তী দৌড়বিদদের একজন

বায়ি আরো বলেন, যখন আমি রেকর্ডটি করেছিলাম কর্তৃপক্ষ বিশ্বরেকর্ড হিসেবে এটাকে স্বীকৃতি দিতে এক বছর সময় নিয়েছিল।

এটা এখনো কমনওয়েলথ রেকর্ড কিন্তু আমি শত ভাগে বলতে পারি আমার প্রাপ্য কৃতিত্ব আমি পাই নি। হয়ত আমি যখন মারা যাব তখন তারা বলবে সে রেকর্ড ভেঙেছিল এবং যতদিন সে বেঁচে ছিল সেই রেকর্ডও তাঁর ছিল।

আমি অনেকবার গেমসে উপস্থিত ছিলাম, তারা কখনো বলে নি ১৫০০ মিটার রেকর্ডের মালিক এই স্টেডিয়ামেই বসে আছে। এটা স্বীকৃতি পেয়েছে এই অনুভূতি পেলে ভালো লাগত।

তিনি বলেন, যারা বলে কমনওয়েলথ গেমস গুরুত্বপূর্ণ না, তারা জানে না তারা কী বলছে।

বায়ি তাঁর ক্যারিয়ার জুড়ে অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন।

৫ বছর পরে ব্রিটেনের সেবাস্তিয়ান কো সেই রেকর্ড ভাঙতে পারলেও বায়ির রেকর্ডটি কমনওয়েলথে এখনো কেউ ভাঙতে পারে নি।

বায়ি দৌড়ানোর ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বায়ি বলেন, আমি দৌড়ানোর সিস্টেম পরিবর্তন করেছিলাম। শুধু আমি অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জিততে পারি নি বলে খুব বেশি লোক সেটি অ্যাপ্রিশিয়েট করেনি।

বায়ি জন্মেছিলেন তাঞ্জানিয়ার রিফট ভ্যালেতে। রিফট ভ্যালে অঞ্চল পৃথিবীর সেরা সেরা অ্যাথলেট জন্ম দেওয়ার জন্য বিখ্যাত।

বায়ি ছোটবেলায় ছিলেন গরুর রাখাল। তিনি বলেন, যখন ছোট ছিলাম তখন জঙ্গলে শিকার করতে দৌড়াতাম, কুকুরের সাথে দৌড়াতাম, পশুদের সাথে দৌড়াতাম, গরুর সাথে দৌড়াতাম। এভাবেই আমার কিছু স্ট্যামিনা হয়েছে।

৬ বছর বয়সে তিনি স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। স্কুল তাঁর বাড়ি থেকে ২ মাইল দূরে ছিল। তিনি বলেন, তাই প্রতিদিন আমাকে দৌড়ে স্কুলে যেতে হত। দুপুরে খাওয়ার জন্য দৌড়ে বাড়ি আসতে হত। তারপর আবার বিকালের ক্লাসের জন্য দৌড়ে যেতে হত। প্রতিদিন আমাকে ৮ মাইল দৌড়াতে হত। এতে আমার প্রচুর স্ট্যামিনা গঠিত হয়েছে।

ফিলবার্ট বায়ির স্কুল

বর্তমানে বায়ি একটি স্কুল চালান। নিজের নামে স্কুল খুলেছেন তিনি তাঁর স্ত্রীর সহযোগিতায়। স্কুলের নাম ‘ফিলবার্ট বায়ি স্কুল’। ২০০৪ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন বায়ি। স্কুলের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৩০০।
বায়ি বলেন, আপনি জানেন, মাঝে মাঝে আমি যখন আমার স্ত্রীর সাথে বসি এবং আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। এটা অলৌকিক।

বায়ির পরবর্তী লক্ষ্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, হয়ত আমার একদিন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও থাকবে যেখানে আমি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদেরও শিক্ষাদান করতে পারব। অথবা আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানকে স্পোর্টস একাডেমি হিসাবে প্রসারিত করব। সেখানে আমরা বিদেশীদের গ্রহণ করতে পারব।

বায়ি তাঁর স্কুলের ছাত্রদের কোনো একজনকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তিনি বলেন, বেশিরভাগ টিনএজার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে না। তারা বর্তমানের কথা ভাবে। তাই আমরা সবসময় তাদের শেখাই, বর্তমান কেটে যাবে এবং ভবিষ্যৎ আসবে। এবং তুমি যদি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত না থাকো তাহলে তুমি কিছুই করতে পারবে না।

আত্মপ্রত্যয়ী ফিলবার্ট বায়ি বলেন, আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আপনার নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা রাখতে হবে।

সূত্র: সিএনএন ও অন্যান্য