page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

দরজা বন্ধ কেন কার্নেগি ডেলির

নিউইয়র্ক সিটির সব চাইতে বিখ্যাত ডেলি ( খাবারের দোকান ) হলো কার্নেগি ডেলি (Carnegie Deli)। ১৯৩৭ সালে পৃথিবী সেরা কর্ন বিফ স্যান্ডউইচ, পাস্ত্রামি স্যান্ডউইচ খাওয়ার রেস্তোরা এই ডেলি ব্যবসা শুরু করে।

দেয়াল জুড়ে ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে অটোগ্রাফ সহ পৃথিবীর সব বিখ্যাত মানুষদের ছবি, যারা এই ডেলিতে খেয়েছেন এবং অনেকেই নিয়মিত যান।

বাইরে ভিতরের চেহারা দেখলে আহামরি কিছু মনে হবে না। বরং মান্ধাতা আমলের কাঠের চেয়ার টেবিল দিয়ে সাজানো এই ডেলি দেখলে বাংলাদেশের গুলিস্থান কিংবা নিউমার্কেটের হিন্দি গান বাজানো চা সিঙ্গারা, ডাল ভাতের হোটেলের মতই মনে হবে।

murad hai 3 logo

কিন্তু এর খাবার রেটিং এতই উপরে যে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে থেকে বেড়াতে আসা, ব্যবসায়িক কাজে আসা মানুষ এই ডেলিতে ঢু দিতে ভোলে না।

রাত নাই দিন নাই শীত গ্রীষ্ম কোনো ফারাক নাই দেখা যায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভিতরে ঢুকে বসার জায়গা পাওয়ার জন্য। গত ২৪ বছর ধরে এই এলাকায় কাজের সুবাদে যাতায়াতের কারণে একই চিত্র দেখি।

কার্নেগি ডেলি, নিউ ইয়র্ক

কার্নেগি ডেলি, নিউ ইয়র্ক

কী এমন মধু আছে এদের খাবারে পরীক্ষা করার জন্য গিয়েছি ওখানে। মেন্যু দেখে একটা বিফ পাস্ত্রামি স্যান্ডউইচ অর্ডার দিয়েছিলাম।

ওয়েটার যখন খাবার টেবিলে দিয়ে গেল, দেখে আমার চোখ কপালে উঠল। সাইজ এত বড় হবে বুঝি নাই। একটা স্যান্ডউইচ আমার মত দুই/তিনজন মিলে খেয়েও শেষ করতে পারবে না। শুধু এই ডেলির জন্য স্পেশাল অর্ডারে বানানো কর্ন বিফ, পাস্তরামি এতই মজার যারা খায় নাই তাদের বলে বোঝানো যাবে না। সাথে থাকে রাই ব্রেড, পিকল্ড কিউকাম্বার এবং বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু সস। একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছা করবে এমন কিছু।

বাংলাদেশের অনেকে কাজ করে এই ডেলিতে। পারিবারিক ব্যবসা হিসাবে ডেলি ম্যানহাটানের একই জায়গায় আজ এত যুগ ধরে জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের পরে আশেপাশে আরো অনেক রেস্তোরা এসেছে চলে গেছে, কেউ তাদের ব্যবসা এক বিন্দু কমাতে পারে নাই। খোলার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনোদিন বন্ধ হয় নাই এই খাবারের দোকান।

carnegie deli 11

ডেলির কফি ও স্ন্যাকস

কিন্তু আজ কয়দিন ধরে ওদের দরজা বন্ধ। কন এডিসন (con edison) মানে গ্যাস কোম্পানি ওদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ পেয়ে।

এত প্রভাবশালী মানুষের আনাগোনা এখানে। কিন্তু আইনের কাছে কারো প্রভাব খাটে না এখানে। আসলে যতই খাতির থাকুক, বেআইনি কাজে কেউ কারো জন্যে নাক গলায় না।

মানুষের লোভের কোনো শেষ নাই। বিখ্যাত এই ডেলি যারা চালাচ্ছেন তারা হয়ত থার্ড জেনারেশনের কেউ হবেন। মালিক পক্ষ এই ব্যবসা হয়ত দেখাশোনাও করেন না। লোকজন দিয়ে চালান। তাদের কেউ হয়ত এই কুকর্মটি করেছে।

কার্নেগি ডেলির ভেতরে

কার্নেগি ডেলির ভেতরে

বেআইনি উপায়ে গ্যাস লাইন মিটার থেকে বের করে সরাসরি লাইন দিলে বিল অনেক কম আসবে তাই এই কাজ। এমন কুকর্ম করে মাত্র কিছুদিন আগে বিস্ফোরণে শহরতলির একটা বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। গ্যাস কোম্পানির মিটার রিডার এসে কোনোভাবে এই কুকর্ম ধরে ফেলে রিপোর্ট করলে গ্যাস কোম্পানি কার্নেগি ডেলির দরজায় সিলগলা লাগিয়ে দিয়েছে।

হয়ত এক সময় জরিমানা, মুচলেকা দিয়ে ব্যবসা আবার শুরু করবে। কিন্তু মানুষ জেনে গেছে তাদের কুকর্মের কথা। হারিয়ে ফেলবে অনেক মানুষের ভালবাসা বহু বছরের এই বিখ্যাত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক, ৮/৫/২০১৫

About Author

মুরাদ হাই
মুরাদ হাই

জন্ম হাতিয়ায়। ১৯৬০ সালের ৯ অক্টোবর। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পড়তেন মার্কেটিং বিভাগে। থাকতেন সূর্যসেন হলে। ১৯৮৯ সালে পাড়ি জমান নিউইয়র্কে। সে অবধি সেখানেই আছেন। দুই ছেলে রেশাদ ও রায়ান ছাত্র, স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্কুলের শিক্ষিকা।