মানুষের কিভাবে ঘুমানো উচিৎ? প্রতিরাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৮ ঘণ্টা? নাকি এই ৮ ঘণ্টা সময়কে ভাগ করা উচিৎ দুইভাগে? অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমালেই চলবে?

আমরা জানি মানুষের ঘুমের অভ্যাস গত কয়েক হাজার বছর ধরে ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি না কিভাবে এই পরিবর্তন মানব চৈতন্য, সমাজ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। আমাদের এটাও জানা নেই এই পরিবর্তনগুলো মানুষের বিশ্রামের ‘ন্যাচারাল মুড’ বা ‘স্বাভাবিক ধরন’ বিষয়ে কি ঈঙ্গিত করে।

সঠিকভাবে ঘুমের আয়োজন করা ও উপভোগ করার পদ্ধতি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছেই। এক্ষেত্রে দুইটি প্রধান চিন্তাধারা বিতর্কটির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। প্রথম চিন্তাধারার সমর্থনকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘স্বাভাবিক’ বিশ্রাম সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণাটি, অর্থাৎ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একটানা ঘুমের ধারণাটি আসলে আধুনিকতার একটা বাইপ্রোডাক্ট এবং মানুষের বিবর্তনের রাস্তায় নেয়া একটি ভুল মোড়।

অন্য মতের সমর্থকরা বলেন, আমরা পূর্বপুরুষদের ঘুম নিয়ে জল্পনাকল্পনা করা বন্ধ রাখি। কারণ এটা স্পষ্ট নয় যে উজ্জ্বল আলো ও ‘বিগ টেক’ বা বৃহৎ প্রযুক্তিগুলো থেকে দূরে থাকলেই আমরা ‘বাইফেসিক স্লিপ’ বা দিনে দুইবার ঘুমানোর অভ্যাস পুনরুদ্ধার করতে পারব কি না।

গবেষকরা নিজেদের অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রমাণ ব্যবহার করেন। বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ঘুমের মধ্যে পার্থক্যগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে গ্রেট এপস (আকা হমিনিডস) হিসেবে শ্রেণীভুক্ত ছয়টি প্রজাতির সাথে মানুষের ঘুমের পার্থক্যের উপরে তাঁরা বেশি জোর দেন।

অন্যান্য গবেষকেরা সমকালীন শিকারী-সংগ্রহকারী (হান্টার-গেদারার) গোত্রগুলোর ঘুমের ধরণকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। আবার অন্য একদল গবেষক মানুষের ঘুমের ঐতিহাসিক দলিল নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। তাঁদের লক্ষ্য হলো কিভাবে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মানুষের বিশ্রামের সময়কে প্রভাবিত করেছে তা খুঁজে বের করা। স্বাভাবিকভাবেই, একেক গবেষণা পদ্ধতির ফলাফল হয়েছে একেক রকম।

প্রতিটি পক্ষেরই বিশ্বাসযোগ্য প্রবক্তা এবং শক্তপোক্ত প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু কারোর কাছেই একদম শতভাগ নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ডিউক ইউনিভার্সিটির একদল এনথ্রোপোলজিস্ট এবং সাইকিয়াট্রিস্ট এই বিতর্কের সারমর্ম তুলে ধরেন। এতে ঘুমের বিবর্তন সম্পর্কিত সব মতবাদই উঠে এসেছে।

প্রায় দুই মিলিয়িন বছর আগে হোমো ইরেকটাস গোত্রটি শারীরিকভাবে এতটাই বেড়ে ওঠে যে এদের পক্ষে গাছের উপর ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে এরা মাটিতে ঘুমানো শুরু করে। গাছের ডাল থেকে মাটিতে নেমে আসার এই পরিবর্তনকে মানুষের চেতনা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিচেবচনা করা হয়। ডিউক প্রতিবেদনের সহ-রচয়িতা চার্লস নান, ডেভিড স্যামসন এবং এনড্রু ক্রিস্টাল এই বিষয়ে লিখেন, “গাছের উপর ঘুমানোর অসুবিধাগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার ফলে তারা আরো দীর্ঘমেয়াদী ও উচ্চমানের ঘুম অর্জন করলো, যা হয়ত তাঁদের জাগ্রত চৈতন্যকে উন্নত করবে”।

মানুষের সাথে অন্যান্য গ্রেট এপসদের ঘুমের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। ইভল্যুশনারি এনথ্রোপোলোজির দাবী অনুযায়ী, এই প্রজাতিটি মানুষের সবচেয়ে নিকটবর্তী পূর্বপুরুষ যারা ১৪ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বিচরন করত। তো, এদের সাথে মানুষের ঘুমের মিলের ব্যাপারে একটি উদারহরণ দেয়া যাক। পৃথিবীতে মানুষেরাই একমাত্র প্রাণী যারা ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ দেয়। কিন্তু আমরাই একমাত্র প্রজাতি নই যারা ঘুমানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করি। গ্রেট এপস প্রজাতির সবগুলো প্রাণীই ঘুমানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা বাছাই করে নিত এবং প্ল্যাটফর্মের মত কিছু একটা তৈরি করত ঘুমানোর জন্য। এই অভ্যাসটি সম্ভব্ত চৌদ্দ থেকে আঠারো মিলিয়ন বছর আগেই শুরু হয়েছিল।

কিন্তু কিছু দিক দিয়ে মানুষের ঘুম অন্যান্য প্রাণীদের থেকে স্বতন্ত্র। সব মানুষই ভূমিতে ঘুমায়। কিন্তু অন্যান্য গ্রেট এপসদের মধ্যে পুরুষেরা তখনই ঘুমানোর জন্যে মাটিতে নামে যখন অন্যের শিকারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

স্লিপ আর্কিটেকচারের অনুযায়ীও মানুষের ঘুম অন্যদের তুলনায় বিশিষ্ট। স্লিপ আর্কিটেকচার বলতে বুঝায় ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ের গঠন ও বিন্যাস। অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় মানুষ অনেক কম সময় ঘুমায়। তাদের বিশ্রামের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে থাকে রেম (REM: রেপিড আই মুভমেন্ট)। রেম হলো ঘুমের একটা নির্দিষ্ট পর্যায় যখন মানুষ স্বপ্নের সবচেয়ে স্পষ্ট অংশটুকু দেখতে পায়।

সকল গ্রেট এপসদের ঘুমের ক্ষেত্রেই পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিবর্তন এসেছে মানুষের ঘুমেই। আমরা এটা জানি কারণ বিজ্ঞানীরা একটা গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে তুলনা করে দেখাতে পারেন যে এদের মধ্যে কোনো একটি প্রজাতি অন্যান্যগুলোর চাইতে বিশেষভাবে বিবর্তিত হয়েছে কি না। উদাহরণস্বরূপ, মানুষেরা গ্রেট এপস গোত্রের প্রাণী। আবার অন্যান গ্রেট এপসদের তুলনায় মানুষের ঘুমের বিবর্তন ঘটেছে অনেক বেশি। বিবর্তনের উপর ভিত্তি করে তাই মানুষের ঘুম নিয়ে সঠিক ভবিষ্যতবাণী করা যায় না।

অন্যভাবে বলা যায়, গত কয়েক শত বছর ধরে শিম্পাঞ্জিদের ঘুমের ক্ষেত্রে যেসব পরিবর্তন এসেছে তার উপর ভিত্তি করে কি আমরা মানুষের ঘুমকে যাচাই করতে পারি? অবশ্যই পারি না। তার কারণ মানুষের ঘুমের বিবর্তন ঘটেছে অনেক বেশি স্বতন্ত্রভাবে, যা অন্যদের সাথে খাপ খায় না।

আমরা জানি শারীরিক আকৃতি, সামাজিক কাঠামো, জীবনধারণের পরিবেশ এবং অন্যান্য আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সাথে মানুষের ঘুমেরও বিবর্তন ঘটেছে ব্যাপকভাবে। এখন আমরা বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। মানুষের ঘুম কি এতটা বিবর্তিত হওয়ার কথা ছিল? আমরা কি ইতিহাসের এমন একটি পর্যায়কে চিহ্নিত করতে পারি যখন মানুষেরা সেভাবেই ঘুমিয়েছে যেভাবে আমাদের আসলেই ঘুমানো ‘উচিৎ’?

ইতিহাসবিদ ই. রজার এরিক ২০০৫ সালে এই বিষয়ে একটি থিয়োরি প্রদান করেন। তাঁর মতে, বাইফেসিক অথবা দিনে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত ঘুমই ‘ন্যাচারাল’। কৃত্রিম আলো মানুষের বাইফেসিক ঘুমের অভ্যাসকে নষ্ট করেছে। মানব সভ্যতার কোনো একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে আমাদের পূর্বপুরুষেরা বাইফেসিক ঘুমের নিয়ম মেনে চলতেন। তাঁরা রাত নটা’র দিকে ঘুমাতে যেতেন আর মাঝরাতের দিকে উঠে পড়তেন। কয়েকঘণ্টা এই কাজ সেই কাজ করে আবার দ্বিতীয়বার ঘুমাতে যেতেন। বাইফেসিক ঘুম বিলুপ্ত হয় শিল্প বিপ্লবের সময়ে, যখন কৃত্রিম আলো সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

বাইফেসিক ঘুম কিভাবে বিলুপ্ত হলো সে বিষয়ে আমরা ইতিহাস থেকে স্পষ্ট ধারণা পাই। কিন্তু কিভাবে এটির উৎপত্তি হলো তা এখনো স্পষ্ট নয়। এটা নিশ্চিত যে মেশিন টুলস এর আবির্ভাবের আগে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত ঘুমের প্রচলন ছিল। কিন্তু এর আগে কি ছিল? এমনটা মনে করার মত যথেষ্ট কারণ কি আমাদের রয়েছে যে প্রাচীন যুগে মানুষের ঘুম দিনে একাধিক পর্যায়ে বিভক্ত ছিল? বিববর্তনবাদী বৈজ্ঞানিকেরা এই বিষয়ে এখনো ততটা নিশ্চিত নন।

এক্ষেত্রে আরো একটি তত্ত্বের উল্লেখ করা যেতে পারে যা বিবর্তনবাদীদের চোখে বেশি সমর্থনযোগ্য এবং যা প্রাচীন ও আধুনিক সমাজের মধ্যে তুলনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক আলো আবিষ্কৃত হওয়ার আগেও মানুষ প্রতি রাতে একটানা প্রায় ৭ ঘণ্টা ঘুমাতো, ঠিক যেমন এখনকার দিনের মানুষেরা ঘুমায়। কয়েকবছর আগে প্রকাশিত ইউ সি এল এ গবেষণায় উঠে এসেছে এই তত্ত্বটি।

সাইকিয়াট্রিস্ট ও ঘুম বিশেষজ্ঞ জেরোমি সিয়েগেল এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আধুনিক যুগের তিনটি শিকারী-সংগ্রহকারী (হান্টার-গেদারার) গোত্রের মানুষের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে যারা ‘টেক-ফ্রি’ বা ‘শিল্প-বিযুক্ত’ জীবন কাটাতো যা প্রাক শিল্পায়ন যুগের মানুষদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গবেষোণায় উঠে এসেছে যে, তিনটি গোত্রের মানুষেরা আজকের দিনের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মতই প্রতি রাতে প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতো।

আমরা যদি এই তত্ত্ব গ্রহণ করি, তাহলে প্রাক শিল্পায়ন যুগের বাইফেসিক ঘুমের বাতিক সম্পর্কে আমরা কি বলব? দুটি পর্যায়ে বিভক্ত ঘুম সম্ভবত এসেছে বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মানুষের অভিপ্রয়াণের ফলে। কারণ এই অভিপ্রয়াণের ফলে মানুষ পৃথিবীর এমন প্রান্তে এসে হাজির হয় যেখানে দিনের চাইতে রাত দীর্ঘতর। এই বিষয়ে ২০১৫ সালে সিয়েগেল দ্য আটলান্টিক কে বলেন, “রাত দীর্ঘ হওয়ার ফলেই ঘুমের এই বিশেষ ধরণ তৈরি হয়েছিল। আবার বৈদ্যুতিক বাতির আবির্ভাবের ফলে মানুষ প্রাচীন অভ্যাস পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে”।

এই তত্ত্বের সমর্থনে আরো কিছু যুক্তি হাজির করা যাক। ডিউক টিম “স্লিপ ইনটেনসিটি হাইপোথিসিস” এর কথা বলে, যেখানে দাবী করা হয় যে প্রাচীন মানুষেরা যখন ঘুমানোর জন্য ভূমিকে বেছে নেয় তখন তাঁদের ঘুমের পরিমাণ কমে যায়।

ভূমিতে বসবাস করার ফলে মানুষ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, যেমন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, শিকারী পশুদের সাথে মোকাবিলা ইত্যাদি। এরফলে তাঁদের বেশিক্ষণ জেগে থাকার এবং উন্নত মস্তিষ্কের প্রয়োজন পড়ে এবং গভীর ঘুম তাঁদের সামাজিক ও চৈতন্যগত উন্নয়নকে অব্যাহত রাখে। তাই তাঁরা পূর্বপুরুষদের সাত ঘণ্টার “মনোফেসিক স্লিপ” বা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমকে বিবর্তনের একটি অত্যাবশ্যকীয় ধাপ হিসেবে বিবেচনা করে।

যাহোক, যেসব গবেষকেরা মনে করেন যে আধুনিক যুগের মনোফেসিক ঘুমের পিছনে কোনো যুক্তি সঙ্গত ব্যাখ্যা রয়েছে, তাঁরা হয়ত এই ধারণাকে বাতিল করে দিবেন যে কৃত্রিম আলো আমাদের স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাসকে ব্যাহত করেছে। কিন্তু তাঁরা ঠিকই লক্ষ্য করছেন কিভাবে প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়ন আমাদের ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করছে। ডিউক প্রতিবেদনে গবেষকেরা তিনটি পূর্বানুমান উপস্থাপন করেছিলেন। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি ছিল, উন্নত বিশ্বে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বৃদ্ধি, পৃথক বেডরুমের প্রচলন এবং দিনের বেলা ঘুমের পরিমাণ কমে যাওয়াকে আমরা ঘুমের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটানোর জন্য দায়ী করতে পারি।

একটি মধ্যবর্তী অবস্থান অবশ্য রয়েছে যা বিভিন্ন সমাজ ও গোত্রের মানুষের ঘুমের ঐতিহাসিক দলিল ও সাম্প্রতিক ঘুমের নিদর্শনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই মতবাদ অনুযায়ী, ঘুমের ক্ষেত্রে মানুষ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের চাইতে অনেক বেশি নমনীয় (ফ্লেক্সিবল)। একটু আগে উল্লেখ করা ইউ সি এল এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আধুনিক যুগের তিনটি শিকারী-সংগ্রহকারী সমাজের কথা। কিন্তু প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন সব সামাজিক গোত্রই এই সাত ঘণ্টা ঘুমের নিয়ম মেনে চলে না। যেমন, পিরাহা নামক উত্তর আমেরিকার শিকারী-সংগ্রহকারী গোত্র। এই গোত্রের মানুষেরা দিনে ও রাতে দুইবার ঘুমায় এবং তাঁদের দৈনন্দিন কাজ সাধারণত রাতেই করে থাকে। গবেষণায় আরো উঠে এসেছে যে, পেনসিলভানিয়া ওল্ডার অ্যামিশ গোত্রের লোকেদের অর্ধেকের বেশিই সপ্তাহে অন্তত একদিন দিনের বেলা ঘুমায়।