page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

দীর্ঘসূত্রিতা কাটানোর খুব সহজ একটা উপায়

কাজ ফেলে রাখার বা ঢিলামির অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে এরকম বেশ সহজ আর চমৎকার একটা উপায় পাওয়া গেছে।

todoগেঁড়ে বসা ঢিলামি ছাড়াতে নানান অনুশীলন দেন সাইকোলজিস্টরা। তারা যে সব উপায় বাতলে থাকেন তার চাইতে এটি মেনে চলা সহজ। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে থাকা একটা গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে এই সমাধান।

দিন, মাস না বছর?
ইউএসসি ডরনসিফ মাইন্ড এন্ড সোসাইটি সেন্টার এর সহ পরিচালক ডাফনা অয়সারম্যান বেশ কটি গবেষণা দেখাশোনা করছিলেন যার বিষয় ছিল সময়ের যে একক ব্যবহারে আমরা অভ্যস্ত বা যেভাবে বছর ধরে আমরা হিসাব করি তা কীভাবে আমাদের মধ্যে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে আসে, কীভাবে আমরা এ থেকে ঢিলামি শুরু করি। আরেক ভাবে বলতে গেলে, আগে ঠিক করা সময়ে কাজ শেষ করতে ‘দিন’, ‘মাস’ বা ‘বৎসর’ এর ধারণা কি আলাদা ভাবে কোনো প্রভাবে ফেলে আমাদের মধ্যে?

যুক্তির দিক থেকে এই প্রভাব পড়ার কোনো কারণ নাই, কিন্তু মানুষ অতি বিচিত্র প্রাণী! সে এগুলির মাঝে বিরাট পার্থক্য তৈরি করতে পারে!

darphna_oysarman

ড. ডাফনা অয়সারম্যান

গবেষণা বলছে: “অংশগ্রহণকারীদের আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, কবে থেকে তারা কলেজ বা অবসর জীবনের জন্যে সঞ্চয় করতে শুরু করবে? এক দলকে বলা হলো, তাদের কলেজ শুরুর বাকি আর ১৮ বছর কিংবা ৬,৫৭০ দিন। অন্য দলকে আমরা বললাম, তাদের অবসরের বাকি আছে আর ৩০ থেকে ৪০ বৎসর মানে ১০,৯৫০ দিন কিংবা ১৪,৬০০ দিন।”

ফলাফল? “অংশগ্রহণকারীরা চারগুণ দ্রুত পয়সা জমানো শুরু করে যখন তারা ঘটনাটাকে বৎসরের বদলে দিনের হিসাবে ভাবে।”

কেন কাজ শেষ করার হিসাবের ক্ষেত্রে বছরের বদলে দিন এর এই সামান্য বদলে দেওয়াটুকু এত গভীর প্রভাব ফেলে?

ভবিষ্যতে কিছু একটা করার ক্ষেত্রে সময়ের অন্য এককগুলি বাদ দিয়ে দিন ধরে গুনলে তা কাছাকাছি চলে আসার অনুভূতি তৈরি করে, আমরা দ্রুত সচেতন হয়ে উঠি।

calender“এই গবেষণা থেকে যে সহজ কথাটা আমরা জানতে পেরেছি তা হলো, ভবিষ্যৎ যতক্ষণ পর্যন্ত না একদমই সামনে চলে আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত যত গুরুতরই হোক না কেন লোকে তাদের লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে শুরু করে না।” অয়সারম্যান মন্তব্য করেন, “আমরা যখন বছরের হিসাবে না দেখে দিনের হিসাবে দেখি… তখন মনে হয় ভবিষ্যৎ খুব কাছে চলে এসেছে।”

আজ যে কাজ আপনি ধরেছেন তা শেষ করতে ১ মাস লাগলে ঠিক করুন তাতে আসলে সময় লাগবে ৩০ দিন। এতে করে কাজ ফেলে রাখার মত কোনো অবসর আর দেখতে পাবেন না।

About Author

নাদিয়া নাহরিন রহমান
নাদিয়া নাহরিন রহমান

শিক্ষার্থী: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়