page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

ধ্বংসাবশেষ মালয়েশীয় বিমানেরই, কিন্তু অনুসন্ধান চলবে ৪০০০ কিলোমিটার দূরে!

মাদাগাস্কারের কাছে রিইউনিয়ন দ্বীপে পাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানেরই। এটা নিশ্চিত করেছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু তাতে কী? অনুসন্ধান দল বলছে, এই তথ্যে তাদের অনুসন্ধান এলাকায় বদল ঘটাবে না তারা।

রিইউনিয়ন দ্বীপে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও তারা সেখানকার আশেপাশে অনুসন্ধান না চালিয়ে সেখান থেকে চার হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের তলদেশে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবেন।

অনুসন্ধান কাজ তদারকি করছে জয়েন্ট জয়েন্ট এজেন্সি কোঅরডিনেশন সেন্টার। তারা সাগর তলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এ মুহূর্তে অনুসন্ধান চলছে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের একটা এলাকায়। জায়গাটা রিইউনিয়ন দ্বীপ থেকে এ মুহূর্তে চার হাজার কিলোমিটার দূরে।

debris-3452

রিইউনিয়ন দ্বীপে পাওয়া নিখোঁজ বিমানের ডানার অংশ বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

অনুসন্ধান দল বলছে, রিইউনিয়ন দ্বীপে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেল, এ থেকে আরো ভালো করে প্রমাণিত হলো যে অনুসন্ধান দল ঠিক জায়গাতেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

সেটা কীভাবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রে কোনো জিনিস ভেসে থাকলে সেটা এক জায়গায় থাকে না। সমুদ্রস্রোত সেটাকে টেনে নিয়ে যায়।

নদীর স্রোতের মতোই সমুদ্রেও নানারকম স্রোত আছে, সেটা খালি চোখে ধরা পড়ে না। গত এক বছরে স্রোতের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষগুলি। ফলে রিইউনিয়ন দ্বীপে কোনো টুকরো পাওয়া গেলে এমন মনে করার কারণ নেই, দুর্ঘটনাটি ওই দ্বীপের কাছাকাছি কোথাও ঘটেছে।

অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন এইসব ধ্বংসাবশেষের ভেসে বেড়ানোর একটা মডেলও বের করেছে হিসাব কষে। ওই মডেল অনুযায়ী আরো বিভিন্ন জায়গায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যাওয়ার কথা। বিমানের মূল দেহটি অবশ্য সাগর তলাতেই পড়ে আছে কোথাও।

australian-vessel-4

গত বছর (২০১৪) নিখোঁজ মালয়েশীয় বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার আর ককপিট ভয়েস রেকর্ডার খোঁজার মিশনে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা জাহাজ ওশান শিল্ড

২০১৪ সালের ৮ মার্চ রাডারের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ২২৭ জন যাত্রীবাহী মালয়েশীয় বিমান এমএইচ-থ্রি সেভেন জিরোর। বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাচ্ছিল।

বহুদিন অনুসন্ধান চালিয়েও এটির সন্ধান পাওয়া যায় নি। অনুমান করা হয়ে থাকে, এটি সাগরের পানিতে আছড়ে পড়ে গভীরে কোথাও তলিয়ে গেছে।

কোন জায়গায় সাগরের তলায় এটি পড়ে আছে, তা শনাক্ত করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রায় সোয়া বছর পর আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে ফরাসি দ্বীপ রিইউনিয়নের সৈকতে গত বুধবার একটি বিমানের ডানা উদ্ধার করা হয়। এর দুদিনের মধ্যে একটি ভাঙা দরজাও পাওয়া যায় একই দ্বীপ থেকে। ধারণা করা হচ্ছিল এগুলি ওই নিখোঁজ বিমানটির। পরে প্যারিসে নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন, টুকরাগুলি নিখোঁজ বিমান এমএইচ-থ্রি সেভেন জিরোর।

পড়ুন: নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমান—এবার মিললো দরজা

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক