page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

নারী বন্দিকে পিটিয়ে নগ্ন করে অফিসারদের সামনে হাঁটতে বাধ্য করেছে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ান করাপশন ওয়াচডগের একটি রিপোর্টে দেশটির পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে ২০১৩ সালের এপ্রিলে একজন বন্দি নারীকে তারা পিটিয়েছে এবং অন্যান্য অফিসারদের সামনে তারা তাকে নগ্ন করে একটি ওয়াচ হাউজের হল দিয়ে হাঁটিয়েছে।

দি করাপশন এবং ক্রাইম কমিশন রিপোর্ট ২০ আগস্ট, ২০১৫ তে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাঁচজন পুলিশ অফিসার জোয়ান মার্টিন নামের একজন নারীর সাথে ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল অহেতুক রূঢ় ব্যবহার করেন।

রিপোর্টের সাথে একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তখন ৩৩ বছর বয়সী জোয়ান মার্টিনকে রিসেপশন এরিয়া দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তার শরীরে কেবল একটি কম্বল জড়ানো, এবং তিনি চিৎকার করে কাঁদছেন। অভিযোগে আরো দাবি করা হয়, বন্দি অবস্থায় তাকে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার আঙুলে মারাত্মক আঘাত লাগে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, পৌঁছানোর পরপরই মিস মার্টিনকে নগ্ন করা হয়, মুখ নিচের দিকে দিয়ে মেঝেতে শোয়ানো হয়। কয়েকজন অফিসার তাকে জোর করে আঘাত করতে থাকে, একজন হাতুড়ি দিয়ে কাঁধের ব্লেডের দিকে আঘাত করে, আরেকজন তাকে আঘাত করতে থাকে, তখন অন্য আরেকজন জোর করে তার আঙুল থেকে একটি রিং খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে ফলে তার আঙুলে মারাত্মক আঘাত লাগে।

জোয়ান মার্টিনকে ওইদিনই অসংলগ্ন আচরনের দায়ে নর্থব্রিজ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাকে পূর্ব পার্থের ওয়াচ হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়। রিপোর্টের ভাষায়, কোনো কিছু থেকেই বোঝা যায় না তিনি কারো জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিলেন।

australia-5

পুলিশ জোয়ান মার্টিনকে লকআপে নিচ্ছে।

মার্টিনকে পেটানোর এবং তাকে ওয়াচ হাউজে হাঁটানোর পরে অফিসাররা তার পোশাক ফেরত না দিয়েই তাকে একটি সেলে বন্দি করে রাখে। ভিডিও ফুটেজে শোনা যায় একজন অফিসার তাকে বলছে যে তার আচরণ ভালো করতে হবে। তবে সেলের ভিতরের কোনো ভিডিও রেকর্ড নেই। দি করাপশন অ্যান্ড ক্রাইম কমিশন পুলিশের এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটা উদ্বেগের বিষয় যে কেউ ২০১৩ সালে পার্থের মত জায়গায় মিস মার্টিন ২০১৩ সালের এপ্রিলের ৭ তারিখ যে অবস্থায় পড়েছিলেন সেই অবস্থায় পড়তে পারে।

রিপোর্টটিতে সেই অফিসার এবং তাদের উর্ধ্বতনদের জবাবদিহীতার আওতায় আনার আহবান জানানো হয়েছে। রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়েছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের চেইন অব কমান্ডে ‘প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা’ এই ঘটনাটি।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ কমিশনার কার্ল ও’ক্যালাঘান রিপোর্টটির দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, রিপোর্টের দাবির সাথে পুলিশ ‘মৌলিকভাবে অস্বীকৃতি’ জানাচ্ছে এবং পুলিশদের অ্যাকশন তখন আইনানুগ ছিল।

একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াকে বলেছেন, অফিসারেরা তাদের এখতিয়ারের মধ্যেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—যে কাউকে লকআপে নিতে হলে তাকে সম্পূর্ণ তল্লাশি করে নিতে হবে। তারা বন্দির সাথে পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে আচরণ করবে সে ব্যাপারে তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা মনে করি না যে সেই নারীটিকে স্ট্রিপ সার্চ না করার কোনো কারণ ছিল।

কার্ল ও’ক্যালাঘান আরো বলেন যে সিসিসি রিপোর্টে যেসব দাবি করা হয়েছে তার অনেকগুলিই এখন আর প্রাসঙ্গিক না, কারণ এই ঘটনার পরে ২০১৪-এর এপ্রিলে পুলিশ নতুন ওয়াচ হাউজে স্থানান্তরিত হয়।

তিনি বলেন, নতুন ওয়াচহাউজটির একসেস সুবিধা ভালো, এতে লোকজনকে ভালোভাবে তল্লাশি করার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। বন্দিদের ওপর নজর রাখা এখানে সহজ। নতুন ওয়াচহাউজে আমাদের ম্যানেজমেন্ট ভিন্ন কাঠামোর। তিনি আরো জানান, পুলিশ স্ট্রিপ সার্চের পরিবর্তে স্ক্যানার ব্যবহার শুরু করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তবে তিনি সেই পুরাতন ওয়াচ হাউজটিতে মিস মার্টিনকে পেটানো এবং নগ্ন অবস্থায় হাঁটানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন নি, যদিও তিনি এই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা দেন নি।

রিপোর্টটিতে পুলিশের ওয়াচ হাউজ পার্থের নর্থব্রিজে স্থানান্তরের কথা উল্লেখ আছে এবং স্ট্রিপ সার্চের পরিবর্তে পুলিশের স্ক্যানার ব্যবহার করতে চাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করা হয়েছে।

পুলিশের এই অন্যায় আচরণের ঝুঁকি নিরসনের জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে সিসিসি নামের এই ওয়াচডগ সংস্থাটি সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। তারা বলেছে, পুলিশের ট্রেনিং এবং পুলিশের কাজকর্ম দেখাশোনার ব্যাপারে দ্রুত মনোযোগ দেয়া দরকার।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার কলিন বার্নেটের নজরেও ঘটনাটি এসেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এটা খুবই সিরিয়াস ঘটনা। তিনি মনে করেন পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ মিনিস্টারও এই ব্যাপারে তাদের মতামত জানাবেন।

কলিন বার্নেট ব্লেন, সিসিসি তাদের কাজ করছে—পুলিশের ওপর নজরদারি করছে।


ভিডিও: West Australian woman stripped, beaten on police custody

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক