page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

নিউজিল্যান্ডের মাতাতা শহরের নিচে আগুনের লাভা

নিউজিল্যান্ডের ছোট শহর মাতাতা’র তলদেশে বিপুল পরিমাণ লাভা জমেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এটা হয়ত নতুন একটা আগ্নেয়গিরির সংকেত। তবে খুব তাড়াতাড়ি অগ্ন্যুৎপাতের বা লাভা বের হয়ে আসার আশঙ্কা নেই।

ভূতত্ত্ববিদ ইয়ান হ্যামলিং বলেছেন, ১৯৫০ সাল থেকে উপকূলবর্তী শহর মাতাতার তলদেশে প্রচুর পরিমাণ লাভা সঞ্চিত হয়েছে। মাতাতা শহরের মাটির নিচে ৮০ হাজার অলিম্পিকের সুইমিং পুলের সমান এলাকা জুড়ে লাভা জমেছে। অকল্যান্ড থেকে এই শহরের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার বা ১২০ মাইল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ২০০৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত কয়েক বার ভূমিকম্প হয়েছে এই কারণে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস নামের একটি অনলাইন জার্নালে ৪ জুন,২০১৬ এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হ্যামলিং আরো বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অংশে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকলেও কমপক্ষে ৪ লাখ বছর ধরে মাতাতার আশেপাশে কোনো আগ্নেয়গিরি নেই। এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয়।

জিপিএস ডাটা এবং স্যাটেলাইট ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে ১৯৫০ সাল থেকে ৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি জায়গা ৪০ সেন্টিমিটার বা ১৬ ইঞ্চি উপরের দিকে উঠেছে।

হ্যামলিং বলেছেন এই উপরের দিকে ওঠার কারণেই ২০০৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত হাজার হাজার ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে। এর আগে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন টেকটোনিক সরে যাওয়ার কারণে এই ভূমিকম্প হয়েছে। তা ভুল ছিল।

হ্যামলিং জানিয়েছেন, বর্তমানে ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার বা ৬ মাইল নিচে ম্যাগমা রয়েছে। তবে তার জীবদ্দশায় এই লাভা নির্গত হওয়া বা অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই। এখানে কয়েকশ বা হাজার বছর পরে আগ্নেয়গিরি তৈরি হতে পারে আবার আগ্নেয়গিরি তৈরি হওয়ার আগেই লাভা ঠাণ্ডা হয়ে শক্ত হয়ে যেতে পারে।

মাতাতায় ৬৫০ লোক বাস করে। হ্যামলিং জানিয়েছেন আরো গবেষণা করলে বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্ক করার একটি সিস্টেম দাঁড়া করাতে পারবেন। ম্যাগমা বা লাভা ছড়িয়ে পড়া এবং ভূ গর্ভের শিলা ভেঙে যাওয়ার কারণে ভূমিকম্প বার বার হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কোনো আগ্নেয়গিরি ছাড়াই ম্যাগমা সঞ্চিত হওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে আর নেই। সেই দিক থেকে বিষয়টি অস্বাভাবিকও। হ্যামলিং বলেছেন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে তারা উপকূল অঞ্চলের সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হরাইজন্টাল ও ভার্টিকাল পরিবর্তনগুলি মেপে দেখেছেন।

সমুদ্র সৈকতের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা এবং প্রাপ্ত ফলাফল থেকে সাগরের তলদেশের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার ভূবিজ্ঞানের আগ্নেয়গিরিবিদ ভিক্টোরিয়া মিলার এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানিয়েছেন এই অঞ্চল নিয়ে আগ্রহের কারণ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির বাইরে এই অঞ্চল। এই গবেষণা ও ফলাফল খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক