page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

নিভে আসছে মহাবিশ্ব

বুড়ো হয়ে যাচ্ছে আমাদের এই মহাবিশ্ব। আর যতই বয়স বাড়ছে, ততই এটি নিষ্প্রভ হয়ে পড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে নক্ষত্রের ঝিকিমিকি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক টিম দুই লাখ গ্যালাক্সি থেকে পাওয়া নক্ষত্রের আলো পরীক্ষা করে দেখতে পেয়েছেন, একশ কোটি বছর আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে এগুলির উজ্জ্বলতা।

পুরনো নক্ষত্রেরা মরে যাচ্ছে। অনবরত নতুন নক্ষত্রেরও জন্ম হচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, যে হারে পুরনো নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটছে, সেই হারে জন্ম নিচ্ছে না নতুন তারা। এর অর্থ হলো, মহাবিশ্ব এখন যতটা আলোকোজ্জ্বল, আগামী কয়েকশ কোটি বছর পরে তা আর থাকবে না। অনেক ম্রিয়মান হয়ে পড়বে ভবিষ্যতের মহাবিশ্ব। বিজ্ঞানীরা এই বাস্তবতার নাম দিয়েছেন ‘ইউনিভার্সাল ডিমিং’ বা ‘সার্বজনীন নিষ্প্রভতা’।

গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিমন ড্রাইভার বলেন, “মহাবিশ্ব এখন থেকে ধীরে ধীরে বুড়িয়ে যেতে শুরু করবে, ক্ষয়ে যেতে শুরু করবে।” উপমাপ্রেমী এই বিজ্ঞানীর ভাষায়, মহাবিশ্ব এখন, বলতে গেলে, একটা সোফায় শুয়ে পড়েছে, কম্বল টেনে নিয়েছে গায়ের ওপর, প্রস্তুতি নিচ্ছে এক অনন্ত ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার।

twinkle-2

মহাবিশ্ব এখন যতটা আলোকোজ্জ্বল, আগামী কয়েকশ কোটি বছর পরে তা আর থাকবে না।

বিজ্ঞানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব অনুসারে, ১২শ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং নামে এক বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের সকল শক্তির জন্ম হয়। এই শক্তির কিছু অংশ আবদ্ধ হয়েছে ভরের ফাঁদে। এই ভর ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে এখানে-সেখানে দপ করে জ্বলে উঠছে নক্ষত্র। নক্ষত্রগুলি জ্বলে জ্বলে ভর ভেঙে শক্তি ফিরিয়ে দিচ্ছে মহাবিশ্বে।

আটশ কোটি বছর আগে নতুন নতুন নক্ষত্রের জন্মের এ উৎসব ছিল সবচেয়ে তুঙ্গে। ওটাকে মহাবিশ্বের যৌবনকাল বলা যায়। এখনকার সময়কে প্রৌঢ়ত্ব বললে সেক্ষেত্রে দোষ থাকবে না। কেননা নতুন নক্ষত্রের জন্ম নেওয়ার ঘটনা অনেক কমে এসেছে এখন। ফলে সার্বজনীন নিষ্প্রভতার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাকাশে ১০ লাখ আলোকবর্ষ দৈর্ঘ্য আর প্রস্থের একটি করে চৌকোণা ঘনক বেছে নিয়ে সেগুলোর উজ্জ্বলতার হিসাব নিয়েছেন। সবচেয়ে পুরনো ঘনকটি প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি বছর আগেকার সময়কে ধারণ করছে। সেটির উজ্জ্বলতা ১ কোটি ৯০ লাখ নক্ষত্রের উজ্জ্বলতার সমান। আর যেসব ঘনক ৫০ কোটি বছরের কম অতীতের, সেগুলোর উজ্জ্বলতা ১ কোটি ১ লাখ নক্ষত্রের সমান।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের জ্যোতির্বিদ উইল সাদারল্যান্ড অবশ্য বলছেন, “মহাবিশ্ব খুব শিগগিরই অন্ধকারে তলিয়ে যাবে, এমনটা নয়। তবে এটা ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যেতে থাকবে। একটা সময় আসবে যখন বহু বছর ধরে কেবল পুরনো লাল (বামন) নক্ষত্রেরা টিম টিম করে জ্বলতে থাকবে, উজ্জ্বল কোনো নক্ষত্রই আর অবশিষ্ট থাকবে না।”

মহাবিশ্বের নিষ্প্রভ হয়ে আসার তথ্য ১৯৯০-এর দশক থেকেই মোটামুটি চাউর হয়ে যাওয়া। তবে নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, এই বুড়িয়ে যাওয়াটা আলোর সবগুলি তরঙ্গদৈর্ঘ্যেই ঘটছে, অতিবেগুনি থেকে শুরু করে অবলোহিত পর্যন্ত।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক