page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

নোভা

ক্লাস থ্রিতে মা আমাকে নতুন স্কুলে ভর্তি করায়ে দিলো। একটা বেশ নাম করা গার্লস স্কুল।

জানুয়ারি মাসের শীতের সকালে একদিন বহু কষ্টে ঘুম থেকে উঠে, নতুন ইউনিফর্ম পরে নতুন স্কুলের জন্য রওনা হইলাম। নতুন স্কুলটা আমাদের বাসার পাশেই তাই মা’র সাথে হেঁটে হেঁটেই স্কুলে গেলাম। স্কুলে যেতে আমার কখনোই ভালো লাগে না। আবার খারাপও লাগে না। ‘যেতে হয় তাই যাই’—এরকম একটা ব্যাপার।

নতুন স্কুলের নতুন ক্লাসে গিয়ে আমি চুপচাপ লাস্ট বেঞ্চে বসে আছি। ক্লাসের বেশির ভাগ মেয়েই অন্য মেয়েদের চিনে। আমার মতো নতুন যারা আছে তারাও বেশ কথাবার্তা বলতেছে। এক আমিই চুপচাপ বসে আছি। সবার কাজকর্ম দেখতেছি।

logo tithi 3

হঠাৎ দেখলাম এক মোটা মেয়ে ক্লাসে ঢুকলো। মেয়েটা ক্লাসে ঢুকেই একদম পিছনে এসে বসলো আমার পাশের বেঞ্চটায়। কালো আর মোটা একটা মেয়ে। অনেক লম্বাও। অদ্ভুত একটা চেহারা। ক্লাসে সবাই আড়চোখে তাকে একটু একটু দেখতেছে আর নিজেদের মধ্যে ফিস ফিস করে কী জানি বলতেছে। সেই মেয়ে পুরা ক্লাসটা একবার ভালোভাবে দেখে তারপর ব্যাগ থেকে একটা কাঠিওয়ালা ললিপপ বের করে, মুখে রেখে চুপচাপ বসে থাকলো।

ললিপপের সাদা কাঠিটা তার মুখ থেকে বের হয়ে আছে। চিকন একটা সাদা সিগারেট মনে হচ্ছে দেখে।

ক্লাসে টিচার আসার পরে সবাই চুপচাপ, ভালো মানুষ হয়ে বসে থাকল। আমাদের ক্লাস টিচার একজন আদিবাসী মহিলা। উনার নাম পিলোমিনো চাকমা বা এইধরনের কিছু একটা। উনি দেখতে খুবই সুন্দরী, হাসিখুশী। প্রথমে রোল কল করা হইল। মোটা মেয়েটার রোল সবার শেষেরটা। সবার শেষে সে প্রেজেন্ট দিল। নাম আফরিন সুলতানা নোভা।

আমরা আমাদের ডায়েরি খুলে ক্লাস রুটিন লিখে নিলাম। তারপর খাতা খুলে বোর্ড থেকে বিভিন্ন পড়া তুলতে থাকলাম। একসময় টিফিন ঘণ্টা পড়ে গেল।

টিফিনের সময় স্কুলের মেয়েরা খুব অদ্ভুত অদ্ভুত কতগুলি খেলা খেলত। হাই বেঞ্চের উপরে উঠে সেখান থেকে লাফ দিত। লাফানোর সময় স্কার্ট একটু উপরের দিকে উঠে যায়। সেইটা দেখে অন্য মেয়েরা হাসে, যে মেয়ে লাফ দেয় সে মেয়েও হাসে। আবার কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই এক মেয়ের পিছনে ৫ জন দৌড়ানো শুরু করে। মেয়েটা ধরার ইচ্ছা নাই কারো। মেয়েটাকে ধরে ফেলার পর কী হবে সেইটা নিয়ে কারোই মাথাব্যথা নাই। শুধু শুধু দৌড়ানোটাই হচ্ছে খেলা।

খেলাধুলা আমার কখনোই ভালো লাগত না। তাই আমি চুপচাপ ওদের অদ্ভুত খেলাগুলি দেখতাম। আমি ছাড়া ক্লাসে আরো দুইজন খেলাধুলা করত না। এক নোভা, আরেক ফাতেমা। ফাতেমা মাথায় হিজাব পড়ে। বেশ শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে। সে এসে আমার সাথে কথা বলল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে আমরা বেশ বন্ধু হয়ে গেলাম। ওর সাথে আমার বেশ মিল পাওয়া গেল। দুইজনেরই পছন্দের নায়ক সালমান খান আর প্রিয় নায়িকা প্রীতি জিন্তা।

এর পরের ক্লাসে সে আমার পাশে এসে বসল। আমরা দুইজন একসাথে নোভার কাজকর্ম দেখতেছিলাম। নোভা বসে বসে খাতায় গাছপালা, ঘরবাড়ি আঁকতেছিল। আমাদের কারোই নোভার সাথে কথা বলার ইচ্ছা ছিল না। ক্লাসের কেউই ওর সাথে কখনো কথা বলত না।

নোভা হাঁটার সময় আশেপাশের সবাই সরে যেত। আমরা কেউ ওর পাশের সিটে কখনো বসতাম না। সবাই আড়ালে ওর নামে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতাম। ও কত গরীব, ও কী রকম খ্যাত, ও ম্যাডামদের সাথে কী রকম হাস্যকর ভঙ্গিতে কথা বলে এইগুলি নিয়ে হাসাহাসি করতাম। ওর হাতের লেখা অনেক খারাপ ছিল আর সব সাবজেক্টে ও নাম্বারও পেত সবচেয়ে কম। দৈহিক আকৃতিতে আমাদের চেয়ে বেশ বড় আর অগোছালো আউটফিটের জন্য ওকে ক্লাসের মেয়েরা ‘হ্যাগরিড’ (হ্যারি পটারের গেমকিপার) ডাকত। সব মিলায়ে ও ক্লাসের সবচেয়ে আনপপুলার মেয়ে।

প্রতিদিন বিকালে বাচ্চাকাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে খেলাধুলা করত। আমি বিকালে ছাদে উঠে বসে থাকতাম। বড় আপুদের সাথে গল্প করতাম। দোতলা ছাদ। ছাদ থেকে রাস্তাঘাট দেখা যেত।

একদিন ছাদে উঠে দেখি একটা বড় ভ্যানে অনেক ধরনের ফার্নিচার বাঁধা। বুঝলাম কেউ বাসা ছেড়ে যাচ্ছে অথবা আসতেছে। এরপরে আরেক দিন আমি বিকালে ছাদে উঠে দেখি পাশের বিল্ডিং-এর ছাদে নোভা দাঁড়ায়ে আছে।

নোভারাই পাশের বিল্ডিং-এর নতুন ভাড়াটিয়া। বিল্ডিংটা বেশ সুন্দর। আমাদের এলাকায় সবচেয়ে সুন্দর আর দামি বিল্ডিং ঐটাই। আমি পরদিনই স্কুলে গিয়ে ফাতেমাকে কথাটা জানালাম। আমরা দুইজন বুঝলাম, নোভা গরীব বলে আমরা যে হাসাহাসি করতাম সেইটা ঠিক হয় নাই। নোভা গরীব না, উল্টা আমাদের চাইতেও বেশি বড়লোক।

এরপর থেকে আমি প্রায়ই ছাদে গিয়ে বসে থাকতাম। নোভার সম্পর্কে কোনো কিছু জানার জন্য। ছাদে অনেক দিন বসে থাকার পরে আমি শুধু একটা জিনিসই জানতে পারছি। সেটা হচ্ছে নোভার একটা পোষা বিড়াল আছে। ছোট সাদা একটা বিড়াল। এইটা স্কুলের বাকি সবারও জানা হয়ে গেল। নোভার বিড়াল নিয়েও আমরা কথাবার্তা, হাসাহাসি শুরু করলাম।

২.
একদিন স্কুল ছুটির পরে আমি দাঁড়ায়ে আছি। কেউ নিতে আসে নাই আমাকে। এমনিতে আমি একা একাই বাসায় যেতে পারি। কিন্তু দারোয়ান স্কার্ট পরা কাউকে মানে প্রাইমারি স্কুলের কাউকে গার্জিয়ান ছাড়া গেটের বাইরে যেতে দেয় না। পুরা স্কুল খালি হয়ে গেছে কিন্তু আমাকে কেউই নিতে আসে নাই বাসা থেকে। নোভাও গেটের পাশে বসে আছে। চুইংগাম চাবাচ্ছে। অনেক ক্ষণ পর আমাদের বাসায় যে আন্টিটা কাজ করে উনি আসছেন। আমি ভাবছিলাম, মা বোধহয় আর কাউকে না পেয়ে উনাকে পাঠাইছেন আমাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু পরে জানলাম, উনি আমাকে না, নোভাকে নিয়ে যেতে আসছেন। আর কোনো উপায় না দেখে, আমিও উনার সাথে বাসায় রওনা দিলাম।

আমি আর নোভা মমতাজ আন্টির দুই পাশে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছি না, কথাও বলতেছি না। নোভার ব্যাগটা মমতাজ আন্টির কাঁধে, আমারটা আমি নিজেই কাঁধে নিয়ে হাঁটতেছি। সেইদিন বাসায় এসেই আমি প্রচণ্ড কান্না শুরু করে দিলাম, “তোমরা এত খারাপ, এত স্বার্থপর! আমাকে স্কুল থেকে তোমরা বাসায়ও আনতে চাও না! ইত্যাদি ইতাদি…।”

এর পরদিন থেকে মমতাজ আন্টির সাথে আমার খুব খাতির হয়ে গেল। নোভাদের বাসায় কী হয় না হয় সব খবর আমি উনার কাছ থেকে পেতাম। ওরা কত পয়সাওয়ালা, ওদের বাসাটা কত সুন্দর, ওদের চকচকে টাইলসে আয়নার মত চেহারাও দেখা যায় ইত্যাদি তথ্য উনি আমাকে দিতেন।

একদিন উনি একটা বেশ শকিং নিউজ নিয়ে আসলেন। তখন আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে ‘থিওরি অফ রিলেটিভিটি’ পড়ার ভান করতেছিলাম। উনি এসে বললেন, “ছোট আপু, একটা ডেইমজারাজ ঘটনা!”

আমি তাড়াতাড়ি বই নামায়ে উনার দিকে তাকাইলাম। উনি তখনো বলে যাচ্ছেন, “ঐ ঘরের ঐ মেয়েটা ওর বিড়ালটারে মাইরা ফেলাইছে। এক ডেরাম পানিত বিড়ালটারে চুপায়ে চুপায়ে মারছে মাইয়াটা। তারপরে আবার বেসিঙ্কে পানি ভইরা বিড়ালটারে ডুপায়ে রাখছে।”

আমি খুব স্বাভাবিক গলায় বললাম, “সত্যি মেরে ফেলছে? বিড়ালটা কোথায় এখন?”

“কই আবার থাকব? ফেলায়ে দিয়া আইছি ডাস্টবিনে ঐটারে।”

আমি বেশ মাথা নেড়ে নেড়ে আস্তে আস্তে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। এক দৌড়ে রাস্তায় চলে আসলাম। ডাস্টবিনে গিয়ে ভালোভাবে দেখলাম বিড়ালটা আছে কিনা। কিন্তু ময়লা-আবর্জনার মাঝে আমি কিছুই বের করতে পারলাম না। মড়া বিড়াল না, আস্ত মড়া মানুষ ফেলে দিলেও সেইটা এত ময়লার মাঝখানে বের করা সম্ভব না।

এর পরদিনই আমি ক্লাসের সবাইকে ডেকে ডেকে এনে নোভার কাহিনী বললাম। সবকিছু শোনার পর ক্লাসের সবাই ওকে অনেক ভয় পাইতে শুরু করল। আর কেউ কখনো ওকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করত না। নোভার ব্যাপারে একধরনের ভয়ে ভয়ে থাকত সবাই।

৩.
দেখতে দেখতে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা চলে আসল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আমার খেয়াল হইল যে আমি সাধারণ জ্ঞান বইয়ের কোনো প্রশ্নই বইয়ে দাগাই নাই, পড়া তো দূরের কথা। এক প্রস্থ মাইর খাওয়া শেষে আর কোনো উপায় না পেয়ে আমি আর মা গেলাম নোভাদের বাসায়। নোভার সাধারণ জ্ঞান বই আনতে।

নিচে দারোয়ানের কাছ থেকে ওদের বাসা কয় তলায় সেইটা জেনে নিলাম। তিন তলায় ওদের বাসায় কলিং বেল চাপার পরে এক সুন্দরী মহিলা দরজা খুলে দিল। মহিলার চোখে-মুখে কেমন জানি একটা নায়িকা নায়িকা ভাব। ইচ্ছা করেই কেমন ভাবে জানি কথা বলেন তিনি।

আমার মা উনাকে বললেন যে আমি নোভার ক্লাসমেট। নোভার কাছ থেকে একটা বই নিতে আসছি। উনি আমাদেরকে ড্রয়িং রুমে বসতে দিলেন। কোন বই লাগবে সেইটা জিজ্ঞেস করলেন। তারপর ভিতরে চলে গেলেন। এরপরে নোভা এসে তার সাধারন জ্ঞান বইটা টি-টেবিলে রেখে প্রায় সাথে সাথে চলে গেল। মা হাসিমুখে নোভার সাথে কী যেন কথা বলতে চাচ্ছিলেন কিন্তু নোভার আচরণে মা এতই অবাক হইছে যে কী বলবে সেইটাই ভুলে গেছে।

অনেক ক্ষণ ড্রয়িং রুমে বসে থাকার পর আর কাউকে না পেয়ে আমরা বিদায় না নিয়েই বাসায় চলে আসলাম। এরপর দিন মমতাজ আন্টিকে দিয়ে বইটা ফেরত পাঠালাম। মমতাজ আন্টির কাছে ঐ সুন্দরী মহিলার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছিলাম। উনি বললেন, ঐ মহিলাই নাকি নোভার মা! নোভার মত একটা কুৎসিত মেয়ের মা কীভাবে ঐ সুন্দরী মহিলা হয় সেইটা আমি কোনো ভাবেই ভেবে পাইলাম না।

৪.
বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। ভয়ে ভয়ে প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষা দিতে গেলাম। প্রথম দিন পরীক্ষার হলে ঢুকেই আমি বেশ বড় একটা শক খাইলাম। নোভা যে সিটটাতে বসে আছে, তার পাশের সিটটাতেই আমার রোল লেখা। আমি চুপচাপ পরীক্ষা দিতে শুরু করলাম। চুপচাপ লিখে যাচ্ছি আর আড়চোখে একটু একটু দেখতেছি নোভা কী করে। নোভা কিছুক্ষণ লেখে, কিছুক্ষণ কলম কামড়ায়, আবার কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। একটু পরে খেয়াল করলাম ও আমার খাতায় উঁকি-ঝুঁকি দেয়ার চেষ্টা করতেছে। আমি সাথে সাথে বক্স দিয়ে আমার খাতাটা ঢেকে রাখলাম।

কিছুক্ষণ পর আমার হঠাৎ ওর বিড়ালের ঘটনাটা মনে পড়ল। আমি সাথে সাথে আমার খাতা থেকে বক্সটা সরায়ে ফেললাম। ও যাতে আমার খাতা থেকে দেখে লিখতে পারে সেজন্য একটু ওর দিকে সরে আসলাম। কিছুক্ষণ আমার খাতা থেকে দেখে, কিছুক্ষণ কলম কামড়ায়ে আবার কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে থেকে নোভা সব পরীক্ষা দিয়ে শেষ করল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে আমি সাথে সাথেই গ্রামের বাড়িতে উড়াল দিলাম। রেজাল্টের দিন ভয়ে ভয়ে স্কুলে গিয়ে হাজির হইলাম সবাই। মুখ কালো করে, গালি শুনতে শুনতে বাসায় ফিরলাম।

নতুন ক্লাসে উঠে, নতুন বইখাতা, ড্রেস আর আইডি কার্ড নিয়ে নতুন ক্লাসরুমে গিয়ে বসলাম। ক্লাস ফোরের সাথে ক্লাস থ্রিয়ের তেমন কোনো পার্থক্য নাই। পার্থক্য শুধু একটাই। নতুন ক্লাসে কোনো নোভাকে পাওয়া গেল না। নোভা ক্লাস ফোরে প্রোমোশন পায় নাই। কিন্তু ক্লাস থ্রিয়ের ক্লাসেও তাকে দেখা গেল না। মমতাজ আন্টি ওদের বাসায় আর কাজ করত না। দিনের পর দিন ছাদে উঠে বসে থেকেও ওর কোনো খবর পাওয়া গেলো না। কিছুদিন পরেই আমরা ঐ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বাসা নিলাম। আর নোভার কথা পুরোপুরি ভুলে গেলাম।

কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে চিটাগাং বেড়াতে গেলাম মা’র সাথে। কোথাও গেলেই আমার মা আগে সেই এলাকার মন্দির ঘুরতে যান। চিটাগাং-এ গিয়ে তিনি আমাকে নিয়ে সব মন্দির পরিদর্শনে বের হইছেন। একসময় আমরা আমাদের সেই পুরানো বাসার, পুরানো পাড়ার কাছাকাছি একটা মন্দিরে গেলাম। মন্দির থেকে বের হয়ে রিকশা খুঁজতেছি। তখন হঠাৎ এক মেয়ে আমাকে ডাক দিলো, “তুমি বাওয়া স্কুলের তিথি না?”

আমি বললাম, “হ্যাঁ।”

আমার চেহারা দেখেই সে বুঝছে আমি তাকে চিনি নাই। সে হেসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “তুমি আমাকে চিনো নাই? আমি ক্লাস থ্রিতে তোমার ক্লাসমেট ছিলাম।“

“অত ছোটবেলার কথা কীভাবে মনে থাকবে? তুমি কীভাবে চিনছো আমাকে?” আমি হেসে হেসে বললাম।

সে বলল, “তোমার আম্মুকে দেখে চিনছি। তুমি আর তোমার আম্মু একদিন আমাদের বাসায়ও আসছিলা।”

“ও আচ্ছা। আমি তো এখন ঢাকায় থাকি। আইডিয়াল কলেজ? তুমি কোন কলেজে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

সে হেসে উত্তর দিল, “আমি ক্লাস টেনে। আচ্ছা আমি যাই। ড্রাইভার ওয়েট করতেছে।”

সে যখন চলে যাচ্ছিল তখন তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার নামটা যেন কী?”

“নোভা”—বলেই চলে গেল।

রিকশায় ওঠার অনেকক্ষণ পর আমি নোভাকে চিনতে পারলাম। এরকম চিৎকার করে মাকে বললাম, মা ওকে চিনছো?

“না। কে ও?”

“ঐ যে নোভা। আমাদের দামপাড়া বাসার পাশের বড় বিল্ডিংটায় থাকতো। একদিন যে গেছিলাম ওদের বাসায়।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ। এইটা সেই মেয়ে? কেমনে সম্ভব! ও তো পুরাপুরি চেন্জ হয়ে গেছে! দেখতেও তো অন্যরকম হয়ে গেছে! আগের মতোই লম্বা আছে কিন্তু শুকাইলো কেমনে মেয়েটা!”

About Author

সুচিস্মিতা তিথি
সুচিস্মিতা তিথি

জন্ম. চট্টগ্রাম, জুন ১৯৯৮। চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুলে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশুনা। চকরিয়া থেকে জেএসসি এবং ঢাকার আজিমপুর গভমেন্ট গার্লস স্কুল খেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস। এখন ঢাকার মতিঝিলে আইডিয়াল কলেজে পড়ছেন।