শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে মনে করেন ক্রিকেটের নতুন প্রতিভাদের উত্থানের জন্য প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এশিয়া কাপ।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় তার কলামে জয়াবর্ধনে লিখেছেন, এশিয়াতে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য এশিয়া কাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজিত এইবারের টুর্নামেন্টে একটি পঞ্চম শক্তির উত্থানের মাধ্যমে এবারের আয়োজনে আরো বাড়তি মসলা যোগ হয়েছে—আফগানিস্তান—চাতুর্যের রহস্যে পরিপূর্ণ একটি দল।

মাহেলা জয়াবর্ধনে

নতুন প্রতিভাদের উত্থানের জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদানের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমার নিজের জন্য সেই ভূমিকাটি ছিল ২০০৮ সালে পাকিস্তানে অজন্তা মেন্ডিসের দুর্দান্ত আবির্ভাব, তার নিজস্ব স্টাইলের মাধ্যমে সব প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে দিচ্ছিল। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই বছরও আমরা নতুন কিছু তারকাকে উঠে আসতে দেখব। ২০১৯ আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপে অংশ নেওয়া সকল দলেরই তাদের নতুন প্রতিভাদের উঠিয়ে নিয়ে আসার আদর্শ সময় এখন।

ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের সম্ভাব্য তিনবার মুখোমুখি হওয়াটা এইবারের এশিয়া কাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তবে পাকিস্তান-ইন্ডিয়ার দুটি ম্যাচ মোটামুটি নিশ্চিত; একটি গ্রুপ পর্বে এবং আরেকটা সুপার ফোর পর্বে। ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের ভক্তরা চাইবে ২৮ তারিখের ফাইনালেও তারা মুখোমুখি হোক।

ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের পূর্বের ম্যাচগুলি বিবেচনা করে জয়াবর্ধনে লিখেছেন, এই টুর্নামেন্ট অবশ্যই  আরো একটি কারণে স্পেশাল, পাকিস্তান-ইন্ডিয়া ম্যাচের ড্রামা ও উত্তেজনা দেখার যে অল্প কয়টা উপলক্ষ আমরা পাই, এটা সেগুলির একটা। এটা অনেক লোভনীয় জিনিস এবং লাখ লাখ মানুষ বুধবারের এই ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে থাকবে। দুই দলই ফেভারিট হিসাবে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে, তবে একটা ব্যাপারের কারণে খুব খোলাখুলিভাবে প্রতিযোগিতা হবে যে কোনো দলই তার নিজের ঘরের মাঠে থেকে কর্তৃত্ব বিস্তার করতে পারছে না।

ইন্ডিয়া দলের জন্য এটা একটা পরীক্ষা কারণ তাদেরকে অধিনায়ক ভিরাট কোহলিকে ছাড়াই খেলতে হবে। ইংল্যান্ড ট্যুরে ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার পরে কোহলি বিশ্রামে থাকছেন।

জয়াবর্ধনে লিখেছেন, ভিরাট কোহলিকে ছাড়াও ইন্ডিয়ার অসাধারণ কিছু প্লেয়ার আছে, এবং তাদের ব্যালেন্স অসাধারণ।

পাকিস্তানও দল হিসাবে খুব ভাল অবস্থানে আছে। তাদের মোহাম্মদ আমির, হাসান আলী, ফাখার জামান, বাবর আজম ও হারিস সোহেলের মত বেশ কয়েকজন ম্যাচ উইনার আছে। আর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে পাকিস্তান দলের ইতিহাসও অনেক ভাল।

জয়াবর্ধনের মতে, এরই মধ্যে, পাকিস্তানের সবসময়ই এক্স-ফ্যাক্টর আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনের ব্যাপারে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। গত কয়েক দশক ধরে এটা তাদের দ্বিতীয় হোম, তবে এটা খুব তাদেরকে খুব বড় ধরনের সুবিধা দিবে না কারণ সব দলই এই কন্ডিশনের সাথে পরিচিত থাকবে। পাকিস্তান তাদের ফাস্ট বোলারদের ব্যবহার করতে পারে, তারা আগে যেমন করেছে। বহু-জাতিক টুরনামেন্টগুলিতে তাদের ফর্ম আছে, তারা আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও জিতেছে।

কভারের ছবি. সংবাদ সম্মেলনে ইন্ডিয়ার অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।   

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here