বেশ সকালেই পৌঁছাইলাম পানাম নগরে। তখন ৮.৩০ বাজে। গুলিস্তান ভাসানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে দোয়েল বাসে করে। নামলাম মোগরাপাড়া চৌরাস্তায়। তবে বাস যে দিক দিয়ে যাওয়ার কথা ঢাকা-চিটাগাং মহাসড়ক ধরে, সে দিক দিয়ে না গিয়ে অন্য একটা সরু রাস্তা ধরে গেছে। মহাসড়ক দিয়ে গেলে হয়ত রাস্তার দু পাশে মুষ্টিমেয় দোকান ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ত না। এই রাস্তায় দেখেছি নদী, বালু তোলার দৃশ্য, বক, পাখি।

মোগরাপাড়া থেকে লোকশিল্প জাদুঘরের দূরত্ব প্রায় ২ কিমি। সেখান থেকে ০.৫ কিমি উত্তরে পানাম সিটি।

পানাম নগরে প্রবেশের আগে দক্ষিণ দিকে ভারি একটা সেতু আছে। পঙ্খিরাজ সেতু। যোগাযোগের জন্য এটি ব্যবহার করে সোনারগাঁর এক অংশের লোকজন। সেতুর একটা অংশে গর্ত রয়েছে, রেলিংও ভেঙে যাচ্ছে।

প্রথমে একটা ছোট মরিচাপড়া গেট দিয়ে ঢুকলাম। এই গেটে দাঁড়িয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি আরেকটা গেট। দূর থেকে লাল দালানও দেখা যাচ্ছে। একটু এগিয়ে দেখি একটা সিকিউরিটি গার্ড বসে আছে। লোকজন সে গেট অতিক্রম করে যাতায়াত করছে। ভাবলাম টিকিট লাগে না। ঢুকে পড়ি। কিন্তু গার্ড আমাদের ঢুকতে দিল না। বলে টিকিট কেটে আসেন। ওই দিকে কাউন্টার। বললাম টিকিট কাটব, কাউন্টারই তো বন্ধ।

জিজ্ঞেস করলাম খুলবে কয়টায়। উত্তর দিল ১০ টায়। টিকিটের মূল্যও বেশি না। ভাবলাম বেটাকে কিছু হাতে ধরিয়ে দিলে নিশ্চয়ই ঢুকতে দিবে। বকশিশ না বলে কায়দা করে বললাম আপনি টিকিটের টাকাটা রাখেন। আমাদের ঢুকতে দেন। ঢাকা থেকে আসছি। তেল-টেল দিলাম। কাজ হল না।

তখন জিজ্ঞেস করলাম, অন্যরা যে ঢুকছে। বলে তারা ট্যুরিস্ট না। মনে মনে ভাবছিলাম হাতে একটা ক্যামেরা না থাকলে হয়ত আটকাতো না। উপায় না পেয়ে বাইরেই ঘুরছিলাম।

বাহিরে একটা পুকুর আছে মজা। সেখানে কয়েক জন বসে আছে। তারাও হয়ত আমাদের মতো। ঢুকতে না পেয়ে সময় পার করছে।

গেটের সাথেই সিমেন্ট দিয়ে তৈরি একটা বই দেখলাম। পাথরের উপর ইতিহাস লেখা।

নগরীর একটা রাস্তাকে কেন্দ্র করে দুই পাশে গড়ে তোলা হয়েছে দালান। এক তলা দুই তলা তিন তলা পর্যন্ত। সবগুলা নকশা করা। ৪০০ বছর আগের বলে হয়ত স্থাপনাগুলি ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়ালের গায়ে লেখাও আছে: উপরে ওঠা নিষেধ। তবে কয়েকটি ভবনে দেখেছি লোকজন থাকে, রান্না হয়। একটা ভবনে ওঠার জন্যে পথ খুঁজলাম। তালা দেয়া ছিল। কিন্তু উপরে লোকজন ছিল, ঘুরতে গেছে এমন লোকজন। হয়ত কোন লিংকআপে উঠেছে তারা।

এই নগরীর পুরাটাই খাল দিয়ে বেষ্টিত। যার নাম পঙ্খীরাজ খাল। এই খাল পূর্বদিকে মেনিখালী নদ হয়ে মেঘনা নদীতে এসে মিশেছে। আর দুই দিকেই গেট দিয়ে আটকানো।

এখানে মোট ৫২টি ভবন। পুকুর, মাঠ, মন্দির মসজিদ আছে। লোকজন সকালে আড্ডা দিতে চায়ের দোকানে আসে।

রাজাদের আমির-ওমরাহদের জন্য পানাম নগর ও এর আশপাশের গ্রামগুলিতে গড়ে উঠেছিল কারুকাজখচিত পাকা ইমারত। দুইটা ছেলে আমাদের একটা বাড়ির কথা বলেছিল। কথা মত গেলাম। কিন্তু সেখানে ঢুকতে পারি নি। একটা লোক তাড়িয়ে দেয়। বলে, এটা সরকারী সম্পত্তি না।

একটা ছোট মাঠ, নারিকেল গাছ ও কিছু বিল্ডিং

 

পুকুর ও সিঁড়ি

 

দ্বিতল দালান, দূর থেকে দেখছিলাম ভেতরে একটা টেবিল আর কয়েকটি চেয়ার পাতা

 

দূর থেকে পানাম নগর

 

পঙ্খিরাজ খাল

 

নগরে ঢোকার আগে

 

নগরের প্রধান রাস্তা ও দু’পাশের ভবন

 

নগরের ৯ নম্বর বাড়ি

 

পেছনে যাবার রাস্তা

 

নগরের পার্শ্ব

 

নগর

 

নগর

 

পুকুর ও পেপে গাছ

 

মন্দির

 

বসবার স্থান

 

নগরের বাহিরের বিল্ডিং মাঝে একটা খাল আছে

 

খেলার মাঠ

 

আম গাছে ঝুলানো হাতপাখা

 

এলাকার লোকদের আড্ডা

 

দালানের শেষ

 

পেয়ারা বাগান

 

তেলে ভাজা খাবার
Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here