page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

পারফেকশনিস্টদের দম ফুরিয়ে যায়

আপনি যদি ‘টাইপ এ’ ক্যাটেগরির মানুষ হন, অর্থাৎ আপনার যদি কর্মক্ষেত্রে খুঁতখুতে বা পারফেকশনিস্ট স্বভাব থাকে, তাহলে আপনার জন্য ডাবল দুঃসংবাদ।

একে তো ‘টাইপ এ পারসোনালিটি’ লোকেদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে বলে তত্ত্ব চালু আছে। এবার আরেক ধরনের গবেষণা জানাচ্ছে, এক পর্যায়ে গিয়ে পারফেকশনিস্ট স্বভাবের লোকেরা উদ্যম হারিয়ে বসে। তাদের দম ফুরিয়ে যায়।

পারসোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, যেসব মানুষ সবকিছুতে নিখুঁত হওয়ার বাতিকে ভোগে, তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের ওপর চাপ ফেলে তো বটেই, সেই সঙ্গে তাদের সামাজিক সম্পর্কগুলিও আর ঠিক থাকে না। কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দু জায়গাতেই তাদের একপর্যায়ে হতোদ্যম হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

ওই গবেষণা বলছে, পারফেকশনিস্ট স্বভাবের কিছু ভালো দিক তো আছেই। পারফেকশনিস্টরা তাদের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের মানদণ্ড তৈরি করে। তাদের লক্ষ্যও থাকে উঁচুতে। সেই উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার বদলে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাতে তাদের আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা থাকে, সন্দেহ নেই। কিন্তু একই কারণে দেখা দেয় নেতিবাচক দিকগুলিও। এগুলিকে বলে ‘পারফেকশনিস্ট উদ্বেগ’।

কী সেগুলি?—ভুল করার ভয়, অন্যদের হতাশ করার শঙ্কা আর অন্যের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার উদ্বেগ।

এগুলি পারফেকশনিস্টদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ তৈরি করে। ভর করে হতাশা, উদ্বেগ আর ক্লান্তি।

Andrew-P.-Hill

গবেষক অ্যান্ড্রু পি. হিল

ওই গবেষণা পরিচালনা করেছেন ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় ইয়র্ক সেইন্ট জন ইউনিভার্সিটির একটি দল। গবেষণা নিবন্ধের প্রধান লেখক অ্যান্ড্রু হিল বলেছেন, “পারফেকশনিস্টরা তাদের ব্যক্তিগত পারফরমেন্স নিয়ে শঙ্কা আর দ্বিধায় ভোগে, যা তাদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করে। পরিণামে লোকটির মানসিক শক্তি নিঃশেষ হয়ে সে হতাশাবাদী হয়ে পড়তে পারে, কিছুতেই-কিছু-যায়-আসে-না মানসিকতা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে।”

গবেষকরা বলছেন, স্কুল-কলেজ বা খেলাধুলায় জড়িতদের চেয়ে বরং কর্মক্ষেত্রে জড়িত পারফেকশনিস্টদের ভেঙে পড়ার হার বেশি। এর একটা কারণ হচ্ছে, পড়াশোনা আর খেলাধূলায় সাফল্যের গ্রেডিং হয় তাৎক্ষণিকভাবে। কর্মক্ষেত্রে মানে অফিস-আদালতে সেটা সহসা হয় না। এ কারণে পারফেকশনিস্টের হতাশা বাড়ে।

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক