page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

পুতিন-এরদোগান সম্পর্কে নতুন মোড়

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান গেল সপ্তাহে এক বৈঠকে মিলিত হন। গত নভেম্বরে তুর্কি বিমানবাহিনী একটি রাশিয়ান যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার পর এটাই তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।

তবে বৈঠকের আগেই তুর্কি সংবাদ মাধ্যম মস্কো-আংকারা সমঝোতা হচ্ছে বলে খবর ফাঁস করে। দৈনিক আল আরব -এ এমনটাই লিখেছেন লেবানিজ কলামিস্ট মোহাম্মদ কাওয়াস। লেখকের মতে, তারা খুব দ্রুতই সমঝোতার আনুষ্ঠানিক কাজ সেরে ফেলতে চাচ্ছিলেন যাতে আরও বড় ইস্যুতে এক সাথে কাজ করা যায়। দুই নেতার কেউই সিরিয়া যুদ্ধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে আগ্রহী নন। তারা চান না এটা তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াক।

রাশিয়া থেকে তুরস্ক পর্যন্ত ‘টার্কিশ স্ট্রিম’ গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের ব্যাপারে দুই দেশ একমত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী আলেক্সান্দার নোভাক। এর মানে দেশ দুটির সম্পর্ক গড়তে আর কোনো বাধা রইল না।

পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ দুটি। অর্থনীতিতে কৌশলগত দিক নির্ধারণই হবে এই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি।

এই দুই দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে জানান এরদোগান। অবশ্য বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পর তা ২৭ বিলিয়নে নেমে আসে।

russian-plane-12

দুই দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল বলে জানান এরদোগান। অবশ্য বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পর তা ২৭ বিলিয়নে নেমে আসে।

কাওয়াস বলেন, সংঘাত পরবর্তী সময়ের আর্থিক লেনদেনের দিকে তাকালেও দুই দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই লেনদেন ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছার যে ঘোষণা এরদোগান দিয়েছেন, তা কতটুকু সম্ভব তা-ও ধারণা করা যায়। এ থেকে বোঝা যায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই সিরিয়া ইস্যুতে দুই পক্ষের একমত হতে চাওয়ার পেছনে মূল কারণ।

সৌদি সংবাদ মাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আবদুল রাহমান আল রাশিদ বলেন, একটা রাষ্ট্রের সাথে আরেকটা রাষ্ট্রের সম্পর্ক তৈরিতে যে নীতি কাজ করে তা মানুষে-মানুষে সম্পর্কের থেকে আলাদা। প্রথমটিতে নীতির চেয়ে স্বার্থই বড় হয়ে দাঁড়ায়।

আল রাশিদ লন্ডন ভিত্তিক আরব দৈনিক আশার্ক-আল-আরব-এ নিয়মিত লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, এরদোগান ভাল ভাবেই জানেন বিপদ মোকাবিলায় রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক রাখা কতটা দরকার। কিছুদিন আগের সামরিক অভ্যুত্থান, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্রমাগত হুমকি, সীমান্তে বাড়তে থাকা সিরীয় শরণার্থী, আংকারা-ইস্তাম্বুলে পৌঁছে যাওয়া আইএসআইএল—ইত্যাদি বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি দেশটি

তিনি আরও বলেন, তুরস্কে ভ্রমণের ওপর রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা জারী করায় তা দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তার মতে অর্থনৈতিক কারণেই আংকারা মস্কোমুখী হয়েছে, ব্যর্থ অভ্যুত্থানের কারণে নয়।    

রাশিয়ার আক্রমণের ভয় থেকে তুরস্ক সমঝোতায় আসতে চাইছে—এমনটা মনে করেন না আল রাশিদ। দুটি দেশই ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় তা সম্ভব নয়। প্রত্যেক সদস্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ন্যাটোর মূলনীতিগুলির একটি। তার দৃষ্টিতে শত্রু দেশগুলির সাথে এরদোগানের সমঝোতা চেষ্টার একমাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এড়ানোর ইচ্ছা। সামনের দিনে এরদোগান সিরিয়া ইস্যুতে একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানে যেতে চাইবেন এমনটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আর সেটা খুব সম্ভবত আমেরিকার নির্বাচনের পরপরই চাইবেন তিনি।  

এই লেখক-সাংবাদিক বলেন, “সিরিয়ার মাটিতে সফল হতে না পারলেও রাশিয়ার সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনতে চেষ্টার কমতি রাখবেন না এরদোগান। অন্তত আরও নানা ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই চলছেন তিনি।”

এরদোগানের কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ আছে বলে মনে করেন আল রাশিদ।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক