page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

পৃথিবীকে ঘিরে আছে এক্স-রে, বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন না এগুলি কোত্থেকে এসেছে!

আমাদের চারপাশে এমন অনেক কিছু আছে যা আমরা দেখতে পাই না। মানুষের পক্ষে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর বাইরে কিছু দেখা সম্ভব না। এই দৃশ্যমান আলোর বাইরের তরঙ্গদৈর্ঘ্য যদি মানুষ দেখতে পারত তাহলে এই পুরো মহাকাশ বা মহাবিশ্বকে একটা উজ্জ্বল, জ্বলজ্বলে আলোর বলের মত মনে হত।

আমরা যেসব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দেখতে পাই না সেইসব আলোর অনেকগুলি এক্স-রে দিয়ে গঠিত। এবং সেগুলি নিয়মিতভাবেই পৃথিবীর অ্যাটমোস্ফিয়ার বা বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে।

এইসব এক্স-রে নিয়ে নাসা’র একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বিস্ময়কর কিছু তথ্য এবং বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে।

পৃথিবীকে এক্স-রে ঘিরে আছে, আর  বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন না এগুলি কোথা থেকে এসেছে।

নাসার ডিএক্সএল (DXL) সাউন্ডিং রকেটের কাজ হলো আমাদের গ্যালাক্সি থেকে যেসব এক্স-রে নির্গত হয় সেগুলির বিকীরণ ঘটানো। এই ডিএক্সএল সাউন্ডিং রকেট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা এক্স-রে গুলি পরীক্ষা করে দেখেছে যে সোলার উইন্ড এর ফলে কিছু এক্স-রে আসে, আমাদের সোলার সিস্টেম বা সৌর জগতকে ঘিরে থাকা কিছু উত্তপ্ত বস্তু থেকে কিছু এক্স-রে আসে।

এই উত্তপ্ত বস্তুগুলিকে হট বাবল বলা হয়।

তবে সেই এক্স-রে গুলি পরীক্ষা করে দেখা গেছে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন অনেক এক্স-রে আছে যেগুলিওকে সোলার উইন্ড বা হট বাবল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে না এগুলি কোথা থেকে আসছে।

নাসা আপাতভাবে একটা রহস্য সমাধান করলেও, আরেকটা রহস্যতে আটকে আছে।

নতুন এই গবেষণাটির প্রধান ব্যক্তি, ইউয়ারাজ উপ্রেটি বলেছেন, এইসব লোকাল হট বাবল এত শক্তিশালী এক্স-রে উৎপাদন করতে সক্ষম না। সুতরাং এইসব এক্স-রে’র উৎস কী সেটা আমাদের কাছে একটা প্রশ্ন।

 

যেসব এক্সরে সম্পর্কে আমরা জানি

আমরা জানি সূর্য সবসময়ই তার ভিতরের বিভিন্ন বস্তু স্পেসে নিক্ষেপ করছে। এইগুলি সোলার ম্যাটেরিয়াল।

এই ম্যাটেরিয়ালগুলি চার্জড পার্টিকেল দিয়ে তৈরি। এই চার্জড পার্টিকেল বা ক্ষুদ্র কণিকাগুলিকেই সোলার উইন্ড বলে।

যখন চার্জ না থাকা নিউট্রাল গ্যাসের মধ্য দিয়ে এইসব চার্জ থাকা সোলার উইন্ড যায় তখন এগুলি এক্স-রে উৎপন্ন করে। এইসব এক্সরের কিছু আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। নাসা এটা বলছে।

আর হট বাবলগুলি কিছু এক্সরের আরেকটা উৎস। বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই ধারণা করে আসছেন এই ধরনের হট ম্যাটেরিয়াল আছে। তবে ডিএক্সএল সাউন্ডিং রকেটের এই মিশনের আগে এটার সরাসরি কোনো প্রমাণ ছিল না।

আরেকজন গবেষক, ম্যাসিমিলিয়ানো গ্যালেয়াজি বলেছেন, আমাদের গ্যালাকটিক সমতলে সোলার উইন্ড চার্জ থেকে এক্সরে পাওয়া যায় ৪০ শতাংশ, কোথাও কোথাও তার চেয়ে কম। সুতরাং বাকি এক্সরেগুলি আসে হট বাবল থেকে, এতে প্রমাণিত হয় এগুলি আছে।

 

যেসব এক্স-রে এখন পর্যন্ত রহস্য

সোলার উইন্ড থেকে আসা এবং হট বাবল থেকে আসা, এই দুই ধরনের এক্স-রে গুলিকে আলাদা করতে পেরেছে ডিএক্সএল সাউন্ডিং। অদ্ভুত হল, এটা আরো এক ধরনের এক্স-রে কে ধরতে পেরেছে যেগুলি উপরের দুটি উৎসের কোনোটা থেকেই আসছে না।

এখন পর্যন্ত এই এক্স-রে গুলি কোথা থেকে আসছে তা সম্পূর্ণ অজানা। এগুলি কোথা থেকে আসছে তা জানার জন্য গবেষণা চলছে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক